চাঁদ
ছোট গল্পটি তারিখে ফয়সল অভি লিখেছেন · ৪ মিনিট পড়ার সময় ·
রাস্তার পশ্চিম পাশে দুটো একতলা বিল্ডিং। তার সামনে বেশ বড়সড় একটা মাঠ । মাঠের উত্তরে দক্ষিণ মুখী একটা লম্বা টিনশেড ঘর । এই তিনে মিলে হল ৮নং শালীহর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় । উত্তর দিকের ঘরটার সাথে রাস্তার পাশে যে দোকানটা আছে, স্কুলের বাচ্চারা টিফিনের সময় সেখান থেকে হয় চারআনা দামের শাবানা চকলেট অথবা আটআনা দামের নোনতা বিস্কুট খায় । বিকেল বেলায় গায়ের বুড়োরা বসে বসে পান চিবায় আর পুরোনো দিনের গল্প করে। সন্ধ্যা হতে না হতেই দোকানের সামনের বেঞ্চি দুটো দখল করে নেয় আশেপাশের উঠতি বয়সের ছেলেরা । হাতে এককাপ চা নিয়ে সুরুৎ সুরুৎ শব্দ করে খায় আর নানারকম শয়তানি ফন্দি আটে। এদের অবশ্য আদব লেহাজ খুবই ভাল । মুরুব্বি কাউকে দেখলে চট করে হাতের বিড়ি অথবা সিগারেটটা লুকিয়ে দাঁড়িয়ে পড়ে । মুরুব্বি হয়ত ভাবেন ছেলেটা বড় ভাল । এদের এই আড্ডায় নিজেকে বেমানান মনে করে “বও বাবা বও” বলে কেটে পড়েন । তিনি চলে যাওয়ার সাথে সাথে বড় ভাল ছেলেটা বেশ আয়েশ করে বসে বলে “শালার বুইড়্যা”।
এরকমই একজন বুড়ো আজগর আলী পড়ন্ত বিকেলে দোকনের সামনের বেঞ্চিতে বসে বোয়ামের ভিতর রাখা মচমচে টোষ্ট বিস্কুটগুলোর দিকে তাকচ্ছিলেন আর সময়ের হিসাব করছিলেন।
ইফতারির আর কত দেরি?
পেটের ভিতরটাতে চিনচিন করছিল । কিন্তু রোজা রেখে তো আর খাওয়া যায়না। তাই বাধ্য হয়েই সহ্য করতে হচ্ছিল। আজকেই শেষ রোজা, কালকে ঈদ। কথাটা মনে হতেই আজগর আলীর ক্ষুধা অর্ধেক কমে গেল ।
“চাচা, দরবারের তো সময় অইয়া গেলো। আফনে অহনো বইয়া রইছুইন? যাইতাইন না?”
রতনের কথাগুলো বন্দুকের গুলির মত কানে ঢুকল । আজগর আলী মুহূর্তে সম্বিৎ ফিরে পেলেন ।
“এইতো বাপ, যাইতাছি। ”
বেঞ্চি থেকে উঠে আস্তে আস্তে হাটা শুরু করলেন মসজিদের দিকে । স্কুলের উত্তর দিকে বড় রাস্তার পাশে যে মসজিদটা আছে তার আর স্কুলঘরটার মধ্যেখানে আছে একটা মাত্র ধানক্ষেত। গ্রামের সবচেয়ে পুরাতন মসজিদ। আজ যদি ঈদের চাঁদ ওঠে তবে কাল গ্রামের সব পুরুষ জমা হবে মসজিদের মাঠে নামাজ পড়ার জন্য। রঙিন কাগজ দিয়ে খান বাড়ীর ছেলেরা মাঠটাকে সাজাচ্ছে। প্রবেশ মুখে কাপড় দিয়ে যে গেইটটা তৈরি করা হয়েছে তার একপাশে আর্টপেপারে বড় বড় করে লেখা “ঈদ মোবারক”। আজগর আলী বিষণœ মনে মাঠের ভিতর ঢুকলেন । কাইজ্জা ক্যাচাল তার একদম ভাল লাগেনা। ঈদের আগেই ঝগড়া ফ্যাসাদ মিটিয়ে ফেলার জন্য গ্রামের মাতব্বরেরা আজ দরবারের দিন ধার্য করেছেন।
ঘটনাটা ঘটেছিল গত পরশু দিন । আজগর আলীর বড় ছেলে হাশেমের একমাত্র ছেলে মন্টু আর দবির মোল্লার নাতি অপু ডাংবাড়ি খেলছিল। এরা দুজন সমবয়সী। ছোটবেলা থেকেই একসাথে থাকতে পছন্দ করে। একজনকে না দেখলে আরেকজনের পেটের ভাত হজম হতে চায় না। মন্টু যেদিন স্কুলে যায় না সেদিন হাজার পিটিয়েও অপুকে স্কুলে নেওয়া যাবে না। অপু যদি লাল শার্ট পড়ে পরদিন মন্টুকেও একটা লাল শার্ট কিনে দিতে হবে । নইলে আজগর আলীর বাড়ি আর আগের অবস্থায় থাকবে না। একসাথেই ওরা স্কুলে ভর্তি হয়েছিল । গতবছর দ্বিতীয় শ্রেণীর বার্ষিক পরীক্ষায় অপু ফেল করল । কিন্তু অপুকে ছেড়ে কিছুতেই তৃতীয় শ্রেণীতে গেল না মন্টু । ফলে দুজন সেই আগের জায়গাই রইল। দ্বিতীয় শ্রেণীর প্রথম বেঞ্চ। ডাংগুলি খুবই মজার খেলা কিন্তু কিছুটা বিপদ্জনক । অবশ্য এরা দুজন খুবই পাকা খেলোয়ার। কোনদিনই যে ঘটনাটা ঘটেনি গত পরশু তাই ঘটল। দান ছিল মন্টুর। গর্ত থেকে ডাঙের সাহায্যে আস্তে একটা টোকা দিয়ে গুলিটা উপরে তুলে শরীরের সমস্ত শক্তি দিয়ে দিল বাড়ি। অপু সরে যাওয়ার সময় পেল না। বিদ্যুৎ বেগে গুলিটা গিয়ে লাগল ওর পায়ে। কেটে গিয়ে রক্ত বের হতে লাগল। ভয়ে কান্না শুরু করে দিল। আর মন্টু তখন আশেপাশে দুর্বাঘাস খোঁজায় ব্যস্ত। রক্ত বন্ধ করতে দূর্বা ঘাস অব্যর্থ ঔষধ। ঠিক সেই সময়ই দবির মোল্লা যাচ্ছিলেন সে পথ দিয়ে। নাতির এ অবস্থা দেখে তার মেজাজ গেল বিগড়ে। কাঁচা বাশের একটা কঞ্চি দিয়ে ইচ্ছামত পেটালেন মন্টুকে। এই নিয়ে দুদিন ধরে দুই পরিবারে কুরুক্ষেত্র।
সবাই এসে গেছে। দরবার শুরু হল। সমস্ত ঘটনার পর্যালোচনা শেষে মাতব্বরেরা বললেন বাচ্চাদের ঝগড়া নিয়ে দবির মোল্লার এমন পাগলামি করা উচিত হয়নি। মন্টুকে মারাটা তার অন্যায় হয়েছে। শুনে দবির মোল্লার মাথায় রক্ত উঠে গেল। পরের কথাগুলো শোনার কোন প্রয়োজনই মনে করলেন না তিনি। ভরা দরবারে দাড়িয়ে তিনি একটা চিৎকার দিলেন “আবুল বল্লমডা লইয়া আয় তো। আইজ একটারেও ছারতাম না।” বলেই তিনি দৌড় দিলেন বাড়ির দিকে। সাথে গেল তার ছেলেরা। আর যারা ছিল সবাই নিজ নিজ বাড়ির দিকে দৌড় দিল। কিছুক্ষণের মধ্যেই গ্রামের মানুষগুলো দুইভাগে বিভক্ত হয়ে গেল। দবির মোল্লার জ্ঞাতিগুষ্টি ছাড়াও পশ্চিম পাড়ার কিছু লোক একপক্ষে আর অন্য সবাই আর এক পক্ষে। মানুষের চিৎকার ছাড়া আর কোন শব্দই শোনা যাচ্ছিল না। কারও হাতে লাঠি,কারও হাতে বল্লম, কারও হাতে রামদা। সবার রক্তে খুনের নেশা। ভাবসাব দেখে মনে হচ্ছিল দুনিয়ার সবেেচয়ে ভয়ানক যুদ্ধটা আজই হবে। দবির মোল্লার ফুটানি থেমে গেছে। সে এতটা আশা করেনি। ভেবেছিল তার ষণ্ডামার্কা সাত ছেলের সামনে তো আজগর আলীর চার ছেলে মাছির সমান। কিন্তুু গ্রামের এত লোকের সামনে সে নিজেই এখন ইদুর হয়ে গেল । তবুও সম্মান বজায় রাখার জন্য নিজের বাড়ির সীমানার মধ্যে থেকে চেচামেচি করছিল। আজগর আলীর মাথাটা চক্কর দিয়ে উঠল। এসব কি হচ্ছে? তিনি সবাইকে বুঝিয়ে বাড়িতে ফেরত পাঠাতে চেষ্টা করছিলেন।
মাথার উপর দিয়ে একঝাক পাখি উড়ে গেল। পশ্চিম আকাশে সূর্য ঢলে পড়ছে। সবাই ভুলেই গেছে একটু পরেই চাঁদ উঠবে, ঈদের চাঁদ। হঠাৎ একটা বেয়াড়া বল্লম দবির মোল্লার ছেলে আবুলের হাত থেকে ছিটকে ছুটে এলো। সোজা এসে বিধল আজগর আলীর বুকে। সমস্ত চিৎকার থেমে গেল। কেউ ভাবেনি এমন ঘটবে। সূর্যটা ডুবে গেল। দূরের কোন মসজিদ থেকে ভেসে আসছে আজানের ধ্বনি। পাশের মসজিদটাতে কেউ নেই আজান দেওয়ার জন্য। এতদিন আজগর আলীই কাজটা করত। সবাই যখন আজগর আলীকে হাসপাতালে নেওয়ার জন্য ব্যস্ত তখন চুপি চুপি চাঁদটা উঠল । কেউ দেখল না।
ঘণ্টাখানেক পর…………………………………………………………………
বুড়োটা মরে গেল।
এরকমই একজন বুড়ো আজগর আলী পড়ন্ত বিকেলে দোকনের সামনের বেঞ্চিতে বসে বোয়ামের ভিতর রাখা মচমচে টোষ্ট বিস্কুটগুলোর দিকে তাকচ্ছিলেন আর সময়ের হিসাব করছিলেন।
ইফতারির আর কত দেরি?
পেটের ভিতরটাতে চিনচিন করছিল । কিন্তু রোজা রেখে তো আর খাওয়া যায়না। তাই বাধ্য হয়েই সহ্য করতে হচ্ছিল। আজকেই শেষ রোজা, কালকে ঈদ। কথাটা মনে হতেই আজগর আলীর ক্ষুধা অর্ধেক কমে গেল ।
“চাচা, দরবারের তো সময় অইয়া গেলো। আফনে অহনো বইয়া রইছুইন? যাইতাইন না?”
রতনের কথাগুলো বন্দুকের গুলির মত কানে ঢুকল । আজগর আলী মুহূর্তে সম্বিৎ ফিরে পেলেন ।
“এইতো বাপ, যাইতাছি। ”
বেঞ্চি থেকে উঠে আস্তে আস্তে হাটা শুরু করলেন মসজিদের দিকে । স্কুলের উত্তর দিকে বড় রাস্তার পাশে যে মসজিদটা আছে তার আর স্কুলঘরটার মধ্যেখানে আছে একটা মাত্র ধানক্ষেত। গ্রামের সবচেয়ে পুরাতন মসজিদ। আজ যদি ঈদের চাঁদ ওঠে তবে কাল গ্রামের সব পুরুষ জমা হবে মসজিদের মাঠে নামাজ পড়ার জন্য। রঙিন কাগজ দিয়ে খান বাড়ীর ছেলেরা মাঠটাকে সাজাচ্ছে। প্রবেশ মুখে কাপড় দিয়ে যে গেইটটা তৈরি করা হয়েছে তার একপাশে আর্টপেপারে বড় বড় করে লেখা “ঈদ মোবারক”। আজগর আলী বিষণœ মনে মাঠের ভিতর ঢুকলেন । কাইজ্জা ক্যাচাল তার একদম ভাল লাগেনা। ঈদের আগেই ঝগড়া ফ্যাসাদ মিটিয়ে ফেলার জন্য গ্রামের মাতব্বরেরা আজ দরবারের দিন ধার্য করেছেন।
ঘটনাটা ঘটেছিল গত পরশু দিন । আজগর আলীর বড় ছেলে হাশেমের একমাত্র ছেলে মন্টু আর দবির মোল্লার নাতি অপু ডাংবাড়ি খেলছিল। এরা দুজন সমবয়সী। ছোটবেলা থেকেই একসাথে থাকতে পছন্দ করে। একজনকে না দেখলে আরেকজনের পেটের ভাত হজম হতে চায় না। মন্টু যেদিন স্কুলে যায় না সেদিন হাজার পিটিয়েও অপুকে স্কুলে নেওয়া যাবে না। অপু যদি লাল শার্ট পড়ে পরদিন মন্টুকেও একটা লাল শার্ট কিনে দিতে হবে । নইলে আজগর আলীর বাড়ি আর আগের অবস্থায় থাকবে না। একসাথেই ওরা স্কুলে ভর্তি হয়েছিল । গতবছর দ্বিতীয় শ্রেণীর বার্ষিক পরীক্ষায় অপু ফেল করল । কিন্তু অপুকে ছেড়ে কিছুতেই তৃতীয় শ্রেণীতে গেল না মন্টু । ফলে দুজন সেই আগের জায়গাই রইল। দ্বিতীয় শ্রেণীর প্রথম বেঞ্চ। ডাংগুলি খুবই মজার খেলা কিন্তু কিছুটা বিপদ্জনক । অবশ্য এরা দুজন খুবই পাকা খেলোয়ার। কোনদিনই যে ঘটনাটা ঘটেনি গত পরশু তাই ঘটল। দান ছিল মন্টুর। গর্ত থেকে ডাঙের সাহায্যে আস্তে একটা টোকা দিয়ে গুলিটা উপরে তুলে শরীরের সমস্ত শক্তি দিয়ে দিল বাড়ি। অপু সরে যাওয়ার সময় পেল না। বিদ্যুৎ বেগে গুলিটা গিয়ে লাগল ওর পায়ে। কেটে গিয়ে রক্ত বের হতে লাগল। ভয়ে কান্না শুরু করে দিল। আর মন্টু তখন আশেপাশে দুর্বাঘাস খোঁজায় ব্যস্ত। রক্ত বন্ধ করতে দূর্বা ঘাস অব্যর্থ ঔষধ। ঠিক সেই সময়ই দবির মোল্লা যাচ্ছিলেন সে পথ দিয়ে। নাতির এ অবস্থা দেখে তার মেজাজ গেল বিগড়ে। কাঁচা বাশের একটা কঞ্চি দিয়ে ইচ্ছামত পেটালেন মন্টুকে। এই নিয়ে দুদিন ধরে দুই পরিবারে কুরুক্ষেত্র।
সবাই এসে গেছে। দরবার শুরু হল। সমস্ত ঘটনার পর্যালোচনা শেষে মাতব্বরেরা বললেন বাচ্চাদের ঝগড়া নিয়ে দবির মোল্লার এমন পাগলামি করা উচিত হয়নি। মন্টুকে মারাটা তার অন্যায় হয়েছে। শুনে দবির মোল্লার মাথায় রক্ত উঠে গেল। পরের কথাগুলো শোনার কোন প্রয়োজনই মনে করলেন না তিনি। ভরা দরবারে দাড়িয়ে তিনি একটা চিৎকার দিলেন “আবুল বল্লমডা লইয়া আয় তো। আইজ একটারেও ছারতাম না।” বলেই তিনি দৌড় দিলেন বাড়ির দিকে। সাথে গেল তার ছেলেরা। আর যারা ছিল সবাই নিজ নিজ বাড়ির দিকে দৌড় দিল। কিছুক্ষণের মধ্যেই গ্রামের মানুষগুলো দুইভাগে বিভক্ত হয়ে গেল। দবির মোল্লার জ্ঞাতিগুষ্টি ছাড়াও পশ্চিম পাড়ার কিছু লোক একপক্ষে আর অন্য সবাই আর এক পক্ষে। মানুষের চিৎকার ছাড়া আর কোন শব্দই শোনা যাচ্ছিল না। কারও হাতে লাঠি,কারও হাতে বল্লম, কারও হাতে রামদা। সবার রক্তে খুনের নেশা। ভাবসাব দেখে মনে হচ্ছিল দুনিয়ার সবেেচয়ে ভয়ানক যুদ্ধটা আজই হবে। দবির মোল্লার ফুটানি থেমে গেছে। সে এতটা আশা করেনি। ভেবেছিল তার ষণ্ডামার্কা সাত ছেলের সামনে তো আজগর আলীর চার ছেলে মাছির সমান। কিন্তুু গ্রামের এত লোকের সামনে সে নিজেই এখন ইদুর হয়ে গেল । তবুও সম্মান বজায় রাখার জন্য নিজের বাড়ির সীমানার মধ্যে থেকে চেচামেচি করছিল। আজগর আলীর মাথাটা চক্কর দিয়ে উঠল। এসব কি হচ্ছে? তিনি সবাইকে বুঝিয়ে বাড়িতে ফেরত পাঠাতে চেষ্টা করছিলেন।
মাথার উপর দিয়ে একঝাক পাখি উড়ে গেল। পশ্চিম আকাশে সূর্য ঢলে পড়ছে। সবাই ভুলেই গেছে একটু পরেই চাঁদ উঠবে, ঈদের চাঁদ। হঠাৎ একটা বেয়াড়া বল্লম দবির মোল্লার ছেলে আবুলের হাত থেকে ছিটকে ছুটে এলো। সোজা এসে বিধল আজগর আলীর বুকে। সমস্ত চিৎকার থেমে গেল। কেউ ভাবেনি এমন ঘটবে। সূর্যটা ডুবে গেল। দূরের কোন মসজিদ থেকে ভেসে আসছে আজানের ধ্বনি। পাশের মসজিদটাতে কেউ নেই আজান দেওয়ার জন্য। এতদিন আজগর আলীই কাজটা করত। সবাই যখন আজগর আলীকে হাসপাতালে নেওয়ার জন্য ব্যস্ত তখন চুপি চুপি চাঁদটা উঠল । কেউ দেখল না।
ঘণ্টাখানেক পর…………………………………………………………………
বুড়োটা মরে গেল।
লগইন করুন প্রতিক্রিয়া জানাতে
নিউজলেটার
নতুন লেখা সম্পর্কে আপডেট পেতে সাবস্ক্রাইব করুন
আপনি লগইন করে মন্তব্য করতে পারবেন।