বিভাগঃ কবিতা
যোগীনদা
যোগীনদাদার জন্ম ছিল ডেরাস্মাইলখাঁয়ে। পশ্চিমেতে অনেক শহর অনেক গাঁয়ে গাঁয়ে বেড়িয়েছিলেন মিলিটারি জরিপ করার কাজে, শেষ বয়সে স্থিতি হল শিশুদলের মাঝে। "জুলুম তোদের সইব না আর" হাঁক চালাতেন রোজই, পরের দি...
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
নামটা যেদিন ঘুচাবে, নাথ
নামটা যেদিন ঘুচাবে, নাথ, বাঁচব সেদিন মুক্ত হয়ে- আপনগড়া স্বপন হতে তোমার মধ্যে জনম লয়ে। ঢেকে তোমার হাতের লেখা কাটি নিজের নামের রেখা, কতদিন আর কাটবে জীবন এমন ভীষণ আপদ বয়ে। সবার সজ্জা হরণ করে আপনাকে সে সা...
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
নারী
তুমি এ মনের সৃষ্টি, তাই মনোমাঝে এমন সহজে তব প্রতিমা বিরাজে। যখন তোমারে হেরি জগতের তীরে মনে হয় মন হতে এসেছ বাহিরে। যখন তোমারে দেখি মনোমাঝখানে মনে হয় জন্ম-জন্ম আছ এ পরানে। মানসীরূপিণী তুমি, তাই দিশে দিশ...
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
নিরাপদ নীচতা
তুমি নীচে পাঁকে পড়ি ছড়াইছ পাঁক, যে জন উপরে আছে তারি তো বিপাক। (কণিকা কাব্যগ্রন্থ)...
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
নিন্দুকের দুরাশা
মালা গাঁথিবার কালে ফুলের বোঁটায় ছুঁচ নিয়ে মালাকর দুবেলা ফোটায়। ছুঁচ বলে মনদুঃখে, ওরে জুঁই দিদি, হাজার হাজার ফুল প্রতিদিন বিঁধি, কত গন্ধ কোমলতা যাই ফুঁড়ে ফুঁড়ে কিছু তার নাহি পাই এত মাথা খুঁড়ে। বিধি-পায়...
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
নিদ্রিতা
একদা রাতে নবীন যৌবনে স্বপ্ন হতে উঠিনু চমকিয়া, বাহিরে এসে দাঁড়ানু একবার--- ধরার পানে দেখিনু নিরখিয়া । শীর্ণ হয়ে এসেছে শুকতারা, পূর্বতটে হতেছে নিশিভোর । আকাশকোণে বিকাশে জাগরণ, ধরণীতলে ভাঙে নি ঘুমঘোর...
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
নির্জন রোগীর ঘর
নির্জন রোগীর ঘর। খোলা দ্বার দিয়ে বাঁকা ছায়া পড়েছে শয্যায়। শীতের মধ্যাহ্নতাপে তন্দ্রাতুর বেলা চলেছে মন্থরগতি শৈবালে দুর্বলস্রোত নদীর মতন। মাঝে মাঝে জাগে যেন দূর অতীতের দীর্ঘশ্বাস শস্যহীন মাঠে। মনে পড়ে ...
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
নূতন চাল
এক দিন গরজিয়া কহিল মহিষ, ঘোড়ার মতন মোর থাকিবে সহিস। একেবারে ছাড়িয়াছি মহিষি-চলন, দুই বেলা চাই মোর দলন-মলন। এই ভাবে প্রতিদিন, রজনী পোহালে, বিপরীত দাপাদাপি করে সে গোহালে। প্রভু কহে,চাই বটে! ভালো, তাই হোক...
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
নূতন
হেথাও তো পশে সূর্যকর!ঘোর ঝটিকার রাতে দারুণ অশনিপাতেবিদীরিল যে গিরিশিখর,বিশাল পর্বত কেটে পাষাণহৃদয় ফেটেপ্রকাশিল যে ঘোর গহ্বর,প্রভাতে পুলকে ভাসি বহিয়া নবীন হাসিহেথাও তো পশে সূর্যকর!দুয়ারেতে উঁকি মেরে ফি...
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর