মূল বিষয়বস্তুতে যান

বিভাগঃ কবিতা

বজাও রে মোহন বাঁশি

বজাও রে মোহন বাঁশি । সারা দিবসক বিরহদহনদুখ , মরমক তিয়াষ নাশি । রিঝমনভেদন বাঁশরিবাদন কঁহা শিখলি রে কান ? হানে থিরথির মরমঅবশকর লহু লহু মধুময় বাণ । ধসধস করতহ উরহ বিয়াকুলু , ঢুলু ঢুলু অবশনয়ান ; কত কত ...

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

যে-মাসেতে আপিসেতে

যে-মাসেতে আপিসেতে হল তার নাম ছাঁটা স্ত্রীর শাড়ি নিজে পরে, স্ত্রী পরিল গামছাটা। বলে, “আমি বৈরাগী, ছেড়ে দেব শিগ্‌গির, ঘরে মোর যত আছে বিলাস-সামিগ্‌গির।’ ছিল তার টিনে-গড়া চা-খাওয়ার চাম্‌চাটা, কেউ তা কেনে ...

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

যোগিয়া

বহুদিন পরে আজি মেঘ গেছে চলে , রবির কিরণসুধা আকাশে উথলে । স্নিগ্ধ শ্যাম পত্রপুটে আলোক ঝলকি উঠে পুলক নাচিছে গাছে গাছে । নবীন যৌবন যেন প্রেমের মিলনে কাঁপে , আনন্দ বিদ্যুৎ - আলো নাচে । জুঁই সরোবরতীরে নিশ্...

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

বউ নিয়ে লেগে গেল

বউ নিয়ে লেগে গেল বকাবকি রোগা ফণী আর মোটা পঞ্চিতে, মণিকর্ণিকা-ঘাটে ঠকাঠকি যেন বাঁশে আর সরু কঞ্চিতে। দুজনে না জানে এই বউ কার, মিছেমিছি ভাড়া বাড়ে নৌকার, পঞ্চি চেঁচায় শুধু হাউহাউ,– “পারবিনে তুই মোরে বঞ্চি...

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

ফুলদানি হতে একে একে

ফুলদানি হতে একে একে আয়ুক্ষীণ গোলাপের পাপড়ি পড়িল ঝরে ঝরে। ফুলের জগতে মৃত্যুর বিকৃতি নাহি দেখি। শেষ ব্যঙ্গ নাহি হানে জীবনের পানে অসুন্দর। যে মাটির কাছে ঋণী আপনার ঘৃণা দিয়ে অশুচি করে না তারে ফুল, রূপ...

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

রবিবার

সোম মঙ্গল বুধ এরা সব আসে তাড়াতাড়ি , এদের ঘরে আছে বুঝি মস্ত হাওয়া - গাড়ি ? রবিবার সে কেন , মা গো , এমন দেরি করে ? ধীরে ধীরে পৌঁছয় সে সকল বারের পরে । আকাশ - পারে তার বাড়িটি দূর কি সবার চেয়ে ? সে বুঝি মা...

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

যৌবনের প্রান্তসীমায়

যৌবনের প্রান্তসীমায় জড়িত হয়ে আছে অরুণিমার ম্লান অবশেষ;-- যাক কেটে এর আবেশটুকু; সুস্পষ্টের মধ্যে জেগে উঠুক আমার ঘোর-ভাঙা চোখ স্মৃতিবিস্মৃতির নানা বর্ণে রঞ্জিত দুঃখসুখের বাষ্পঘনিমা স'রে যাক সন্ধ্যামে...

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

রজনী প্রভাত হল

রজনী প্রভাত হল— পাখি, ওঠো জাগি, আলোকের পথে চলো অমৃতের লাগি। (স্ফুলিঙ্গ)...

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

ফুলের অক্ষরে প্রেম

ফুলের অক্ষরে প্রেম লিখে রাখে নাম আপনার— ঝ’রে যায়, ফেরে সে আবার। পাথরে পাথরে লেখা কঠিন স্বাক্ষর দুরাশার ভেঙে যায়, নাহি ফেরে আর। (স্ফুলিঙ্গ)...

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

রাজা ও রানী

এক যে ছিল রাজা সেদিন আমায় দিল সাজা । ভোরের রাতে উঠে আমি গিয়েছিলুম ছুটে , দেখতে ডালিম গাছে বনের পিরভু কেমন নাচে । ডালে ছিলেম চড়ে , সেটা ভেঙেই গেল পড়ে । সেদিন হল মানা আমার পেয়ারা পেড়ে আনা , রথ দেখতে যাও...

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

Loading...