ইমোশনালি ব্লাক মেইল
গল্পটি তারিখে Shakil Babu লিখেছেন · ৩ মিনিট পড়ার সময় ·
মানুষের মাঝে ইমোশন থাকাটা দোষের নাকি গুনের সেটা আজ অবধি বুঝতে পারলাম না। ধরুন, আপনি কারো কষ্ট দেখে কেঁদে ফেলেন, তার মানে হলো আপনার ইমোশন আছে। আর এই ইমোশনটা হবে আপনার দুর্বল পয়েন্ট। এটা নিয়ে কেউ আপনাকে বেশি কষ্ট দিয়ে মজা পাবে। আবার যদি আপনার মাঝে কোনো ইমোশন নাই থাকে তাহলে আপনি হতে পারেন উগ্র স্বভাবের। তাহলে এখন বলুনতো ইমোশন থাকাটা দোষের নাকি গুনের? যাইহোক, ইমোশন নিয়ে লেখার ইচ্ছা ছিলনা। কিন্তু লিখছি নিজের ইমোশন থেকেই। কারণ হলো আমারওতো ইমোশন আছে। আর সেই ইমোশনই বলছে যে, এটা নিয়ে লেখা উচিত। এবার একটা ঘটনা বলা যাক। কোন ক্লাসে পড়তাম সেটা বলছি না। একজন বান্ধবীর কথা বলি এবার। সে খুবই নম্র, ভদ্র, শান্ত স্বভাবের। বাহিরে যতটুকু চিনি আরকি। ভেতরেতো মানুষের অনেক রুপই থাকে। বাহির থেকে আমার মনে হয়েছে সে সবদিক দিয়েই ভালো। একদিন শুনলাম সে কারো সাথে সম্পর্কে জড়িয়েছে। তার বয় ফ্রেন্ড তার সমবয়সীই হবে। আমি রীতিমতো অবাকই হলাম। ভাবলাম মেয়েটিতো কারো সাথে এত সহজেই সম্পর্কে জড়িয়ে যাওয়ার কথা না। আবার মনে হলো, না হতেই পারে এটা স্বাভাবিক। যে মেয়ে ফেসবুকে পোস্টই করতো না। সেই মেয়েটিই কিছুদিন পরে ফেসবুকে বয় ফ্রেন্ডের সাথে ছবি উঠে সেগুলো ফেসবুকে আপলোড দিত। দেখে একটু একটু কেমন জানি লাগতো। বলতে পারেন, সে ছবি আপলোড দিচ্ছে তাহলে আমার কি। কিন্তু ঔযে মেয়ে মানুষ দিচ্ছেতো, এইজন্যই আরকি! একটু হলেও মনে গিয়ে লাগে। পছন্দ করতাম কিনা জানিনা। তবে অপছন্দ করার মতোও না। এবার আসি আসল কথায়। ওর সম্পর্কের জড়ানোর আগে কিছু একটা বিষয় নিয়ে আমার সাথে ঝামেলা হওয়ার কারণে তেমন কথা হতো না। আমার খোঁজ-খবর সে রাখতো কিনা জানিনা। তবে আমার কাছে তার খবর ঠিকই চলে আসতো। ভালোই যাচ্ছিল ওদের সম্পর্ক ও দিন। আমার মনে আগে থেকেই একটা সন্দেহ ছিল ছেলেকে নিয়ে। আরেকটা বিষয় বলি, বেশিরভাগ মেয়েরা ঝাপ মারে গিয়ে সেই পঁচা পুকুরেই। যা উপর থেকে স্বচ্ছ পানি মনে হলেও ভেতরের মাটিযে কাঁদায় ভরা। তা পানির নিচ পর্যন্ত যাওয়ার আগে বুঝে না। শেষ পর্যন্ত আসল ঘটনাটিই ঘটলো। একদিন কোনো এক কারণে বন্ধু-বান্ধবীদের আড্ডায় ঔ বান্ধবীটিও উপস্থিত ছিল। আড্ডাতেই একসময় ওর সাথে কেন যেন মিল হয়ে গেল আমার সাথে। কথা বলার একপর্যায়ে জানতে পারলাম বেশ কিছুদিন আগেই তার ব্রেক আপ হয়েছে। কারণ জানতে চাইলাম। অনেক কারণই বললো, ঔসব আর এখানে নাই বলি। তবে ছেলেটি যে তাকে ইমোশনালি ব্লাক মেইল করেছিল সেটা বান্ধবী স্বীকার করেছিল। এই ঘটনাটি বললাম ইমোশন সম্পর্কে কথা বলার প্রেক্ষাপটেই। গল্প এখানেই শেষ টানতে পারতাম। তবে আরেকটি ঘটনা বোনাস হিসেবে বলি। ফেসবুক স্ক্রোল করছিলাম। হঠাৎ দেখতে পেলাম এক মেয়ে সদ্য উপহার পাওয়া একটি ছবি আপলোড করেছে। সেখানে কমদামী বেশকিছু উপহার ছিল। কেউ একজনকে সে ধন্যবাদ দিয়েছে উপহার দেওয়ার জন্য। আমার সাদা মনে একটু জানার আগ্রহ জন্মালো। তাই মেয়েটিকে জিজ্ঞেস করলাম, "কে দিয়েছে উপহার?" সে আমার সাথে একরকম মজা নিয়ে বললো, "আপনি বলুনতো কে দিতে পারে"। আমি বললাম, " আমি কিভাবে বলবো?" এরপর সে আর ইন্ট্রো না বাড়িয়ে সরাসরি বলে দিলো, "আমার বিএফ (বয় ফ্রেন্ড) দিয়েছে।" বললাম, "কতদিন ধরে সম্পর্কে জড়িয়েছেন?" বললো, "এইতো এক সপ্তাহ হলো।" আমি আর কিছু জিজ্ঞেস করলাম না। শুধু ভাবলাম নতুন নতুনতো ইমোশন একটু বেশি। এইজন্যই সহজেই জানান দিচ্ছে। একসময় আবার এরাই ব্রেক আপ করে ফেসবুকে স্যাড স্টোরি দিবে। জানিনা তাদের সম্পর্ক কতদিন থাকবে। তবে ইমোশন দিয়ে সম্পর্ক হয়না। সেটা বুঝার বয়স হয়তো তার হয়নি। আজকে একটি উপহার পেয়ে যে খুশি সে হয়েছে। সেই পরিমাণ কষ্ট পেতে বেশি সময় লাগেনা সেটা তার বুঝা উচিত। প্রথম ঘটনার পরিণতি দ্বিতীয় ঘটনায় হওয়ার এখনো বাকী। ইমোশন দিয়ে জগৎ চলবেনা। বাস্তবতা না বুঝলে এই সস্তা সম্পর্কগুলো একসময় তাদের জন্য কাল হয়ে দাড়াবে। সন্মান করি সেইসব মানুষদের যারা তাদের সম্পর্ককে শো আপ করে না। তারা নিজের ব্যক্তিগত লাইফকে ব্যক্তির মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখে। এখন প্রশ্ন করতে পারেন, না বললেতো আপনি জানতেন না। এই প্রশ্নের উত্তর বলে রাখি। হ্যাঁ জানতাম না। তবে কিছু কিছু বিষয় না জানানো আর না জানাই ভালো। কাল্পনিক দুটি ঘটনা দিয়ে শুধু ইমোশন জিনিসের পরিণতিটাই বুঝাতে চেয়েছি। এবার কিন্তু একটা ফলাফলে যাওয়া যায়, তা হলো মানুষের মাঝে ইমোশন থাকাটা দোষের। তবে না থাকাটাও দোষের। কি বুঝলেন? আমিও কিছু বুঝি নাই। এবার কথা হলো এসব না বুঝাই ভালো। "জাদুঘরে কেন যাব" প্রবন্ধটির শেষের প্যারাটি পড়েছেন নিশ্চই। যে এতকিছুর পরও যদি কেউ বলে, "যাদুঘরে কেন যাবে?" সুক্ষ্ম কৌতুক সঞ্চার করে প্রাবন্ধিক পরিশেষে লিখেছেন যে, তাহলে তার একমাত্র উত্তর বোধ হয় এই "কে বলছে আপনাকে যেতে।" ঠিক তেমনি এই বিষয়টিও বুঝতে কেউ বলে নাই।
লগইন করুন প্রতিক্রিয়া জানাতে
নিউজলেটার
নতুন লেখা সম্পর্কে আপডেট পেতে সাবস্ক্রাইব করুন
আপনি লগইন করে মন্তব্য করতে পারবেন।