নাটক
নাটক লিখেছি একটি। বিষয়টা কী বলি। অর্জুন গিয়েছেন স্বর্গে, ইন্দ্রের অতিথি তিনি নন্দনবনে। উর্বশী গেলেন মন্দারের মালা হাতে তাঁকে বরণ করবেন ব'লে। অর্জুন বললেন, ``দেবী, তুমি দেবলোকবাসিনী, অতিসম্পূর্ণ তোমার মহিমা, অনিন্দিত তোমার মাধুরী, প্রণতি করি তোমাকে। তোমার মালা দেবতার সেবার জন্যে। উর্বশী বললেন, ``কো...
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
নাগিনীরা চারি দিকে ফেলিতেছে বিষাক্ত নিশ্বাস
নাগিনীরা চারি দিকে ফেলিতেছে বিষাক্ত নিশ্বাস, শান্তির ললিত বাণী শোনাইবে ব্যর্থ পরিহাস— বিদায় নেবার আগে তাই ডাক দিয়ে যাই দানবের সাথে যারা সংগ্রামের তরে প্রস্তুত হতেছে ঘরে ঘরে। (প্রান্তিক কাব্যগ্রন্থ)...
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
নাম তার ভেলুরাম ধুনিচাঁদ শিরত্থ
নাম তার ভেলুরাম ধুনিচাঁদ শিরত্থ, ফাটা এক তম্বুরা কিনেছে সে নিরর্থ। সুরবোধ-সাধনায় ধুরপদে বাধা নাই, পাড়ার লোকেরা তাই হারিয়েছে ধীরত্ব– অতি-ভালোমানুষেরও বুকে জাগে বীরত্ব॥ (খাপছাড়া কাব্যগ্রন্থ)...
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
নাম তার চিনুলাল
নাম তার চিনুলাল হরিরাম মোতিভয়, কিছুতে ঠকায় কেউ এই তার অতি ভয়। সাতানব্বই থেকে তেরোদিন ব’কে ব’কে বারোতে নামিয়ে এনে তবু ভাবে, গেল ঠকে। মনে মনে আঁক কষে, পদে পদে ক্ষতি-ভয়। কষ্টে কেরানি তার টিঁকে আছে কতিপয়।...
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
নিধু বলে আড়চোখে কুছ নেই পরোয়া
নিধু বলে আড়চোখে, “কুছ নেই পরোয়া।’– স্ত্রী দিলে গলায় দড়ি বলে, “এটা ঘরোয়া।’ দারোগাকে হেসে কয়, “খবরটা দিতে হয়’– পুলিস যখন করে ঘরে এসে চড়োয়া। বলে, “চরণের রেণু নাহি চাহিতেই পেনু।’– এই ব’লে নিধিরাম করে পায়ে...
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
নানা দুঃখে চিত্তের বিক্ষেপে
নানা দুঃখে চিত্তের বিক্ষেপে যাহাদের জীবনের ভিত্তি যায় বারংবার কেঁপে, যারা অন্যমনা,তারা শোনো আপনারে ভুলো না কখনো। মৃত্যুঞ্জয় যাহাদের প্রাণ, সব তুচ্ছতার ঊর্ধ্বে দীপ যারা জ্বালে অনির্বাণ, তাহাদের মাঝে ...
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
নানা গান গেয়ে ফিরি নানা লোকালয়
নানা গান গেয়ে ফিরি নানা লোকালয়; হেরি সে মত্ততা মোর বৃদ্ধ আসি কয়, “তাঁর ভৃত্য হয়ে তোর এ কী চপলতা। কেন হাস্য-পরিহাস, প্রণয়ের কথা, কেন ঘরে ঘরে ফিরি তুচ্ছ গীতরসে ভুলাস এ সংসারের সহস্র অলসে।’ দিয়েছি উত্তর ...
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
নিজের হাতে উপার্জনে
নিজের হাতে উপার্জনে সাধনা নেই সহিষ্ণুতার। পরের কাছে হাত পেতে খাই, বাহাদুরি তারি গুঁতার। কৃপণ দাতার অন্নপাকে ডাল যদি বা কমতি থাকে গাল-মিশানো গিলি তো ভাত– নাহয় তাতে নেইকো সুতার। নিজের জুতার পাত্তা না পা...
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
যোগীনদা
যোগীনদাদার জন্ম ছিল ডেরাস্মাইলখাঁয়ে। পশ্চিমেতে অনেক শহর অনেক গাঁয়ে গাঁয়ে বেড়িয়েছিলেন মিলিটারি জরিপ করার কাজে, শেষ বয়সে স্থিতি হল শিশুদলের মাঝে। "জুলুম তোদের সইব না আর" হাঁক চালাতেন রোজই, পরের দি...
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
নামটা যেদিন ঘুচাবে, নাথ
নামটা যেদিন ঘুচাবে, নাথ, বাঁচব সেদিন মুক্ত হয়ে- আপনগড়া স্বপন হতে তোমার মধ্যে জনম লয়ে। ঢেকে তোমার হাতের লেখা কাটি নিজের নামের রেখা, কতদিন আর কাটবে জীবন এমন ভীষণ আপদ বয়ে। সবার সজ্জা হরণ করে আপনাকে সে সা...
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
নারী
তুমি এ মনের সৃষ্টি, তাই মনোমাঝে এমন সহজে তব প্রতিমা বিরাজে। যখন তোমারে হেরি জগতের তীরে মনে হয় মন হতে এসেছ বাহিরে। যখন তোমারে দেখি মনোমাঝখানে মনে হয় জন্ম-জন্ম আছ এ পরানে। মানসীরূপিণী তুমি, তাই দিশে দিশ...
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর