পুরাতন
এই কবিতাটি লিখেছেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর · ১ মিনিট পড়ার সময় ·
হেথা হতে যাও পুরাতন,হেথায় নতুন খেলা আরম্ভ হয়েছে ।আবার বাজিছে বাঁশি, আবার উঠিছে হাসি,বসন্তের বাতাস বয়েছে ।সুনীল আকাশ-'পরে শুভ্র মেঘ থরে থরেশ্রান্ত যেন রবির আলোকে,পাখিরা ঝাড়িছে পাখা, কাঁপিছে তরুর শাখা,খেলাইছে বালিকা-বালকে।।সমুখের সরোবরে আলো ঝিকিমিকি করে,ছায়া কাঁপিতেছে থরথর--জলের পানেতে চেয়ে ঘাটে বসে আছে মেয়ে,শুনিছে পাতার মরমর ।কী জানি কত কী আশে চলিয়াছে চারি পাশেকত লোক কত সুখে দুখে,সবাই তো ভুলে আছে, কেহ হাসে কেহ নাচে--তুমি কেন দাঁড়াও সমুখে!বাতাস যেতেছে বহি তুমি কেন রহি রহিতারি মাঝে ফেল দীর্ঘশ্বাস!সুদূরে বাজিছে বাঁশি, তুমি কেন ঢাল আসিতারি মাঝে বিলাপ-উচ্ছ্বাস!উঠিছে প্রভাতরবি, আঁকিছে সোনার ছবি,তুমি কেন ফেল তাহে ছায়া!বারেক যে চলে যায় তারে তো কেহ না চায়,তবু তার কেন এত মায়া!তবু কেন সন্ধ্যাকালে জলদের অন্তরালেলুকায়ে ধরার পানে চায়,নিশীথের অন্ধকারে পুরানো ঘরের দ্বারেকেন এসে পুন ফিরে যায়!কী দেখিতে আসিয়াছ-- যাহা-কিছু ফেলে গেছকে তাদের করিবে যতন!স্মরণের চিহ্ন যত ছিল পড়ে দিন-কতঝ'রে-পড়া পাতার মতন--আজি বসন্তের বায় একেকটি করে হায়উড়ায়ে ফেলিছে প্রতিদিন,ধূলিতে মাটিতে রহি হাসির কিরণে দহিক্ষণে ক্ষণে হতেছে মলিন ।ঢাকো তবে ঢাকো মুখ, নিয়ে যাও দুঃখ সুখ,চেয়ো না, চেয়ো না ফিরে ফিরে--হেথায় আলয় নাহি-- অনন্তের পানে চাহিআঁধারে মিলাও ধীরে ধীরে।।
লগইন করুন প্রতিক্রিয়া জানাতে
নিউজলেটার
নতুন লেখা সম্পর্কে আপডেট পেতে সাবস্ক্রাইব করুন
আপনি লগইন করে মন্তব্য করতে পারবেন।