দুর্গা পূজা
এই কবিতাটি লিখেছেন ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত · ১ মিনিট পড়ার সময় ·
ধর্ম হেতু কর্মযোগে পৌত্তলিক পূজা।
নির্মাণ করহ সুখে দেবী দশভুজা।।
প্রথমত মৃত্তিকায় প্রতিমা করিয়া।
অর্চনা করহ যাঁরে ঈশ্বর স্মরিয়া।।
অন্তরে অচলা ভক্তি করিয়া ধারণ।
ধূপ দীপ দেহ যারে মুক্তির কারণ ।।
নিজমতে শাস্ত্রমত করিয়া খণ্ডন।
তাঁর কাছে কর কেন ম্লেচ্ছ নিমন্ত্রণ।।
পূজাস্থলে বিপরীত আয়োজন নানা।
মন্দিরের মধ্যভাগে কেন দেহখানা।।
ধর্মমতে পাপকর্ম মনেতে জানিয়া।
মিছে জাঁক কেন কর সাহেব আনিয়া ।।
হায় হায় মিছে খেদ মর্ম হয় ভেদ।
হিন্দুমতে পূজা করি নষ্ট কর বেদ।।
পূজাস্থলে কালীকৃষ্ণ শিবকৃষ্ণ যথা।
ঈশুকৃষ্ণ নিবেদিত মদ্য কেন তথা।।
রাখ মতি রাধাকান্ত রাধাকান্ত পদে।
দেবী পুজা করি কেন টাকা ছাড় মদে।।
বিকট প্রকট ভঙ্গি ধর্ম সব গায়ে।
দেবীর সমীপে আছ তা দিয়া পায়ে।।
ভবানী ভাবিয়া যাঁর ভাবনা প্রকট।
ভাঁড়ে মা ভবানী কেন তাহার নিকট।।
ভবানী কোথায় আছ ধর্ম সত্য নিয়া।
তোমার সাক্ষাতে হয় এই সব দিয়া।।
পূজা করি মনে মনে ভাব এই ভাবে।
সাহেবে খাইলে মন মুক্তি পদ পাবে।।
যতনে প্রণয়ে আন আপনার পুরি।
সে নয় প্রণয় শুধু প্রণয়ের ছুরি।।
যতক্ষণ বর্তমান মর্তমান খেয়ে।
ততক্ষণ থাকে বটে প্রেম গুণ গেয়ে।।
মুখ মুছে যায় শেষ বিদায় হইয়া।
ফুলিস্ ফুলিস্ ড্যাম্ নিগার বলিয়া।।
অতএব নৃপগণ এই নিবেদন।
পূজায় করো না আর ম্লেচ্ছ নিমন্ত্রণ।।
লগইন করুন প্রতিক্রিয়া জানাতে
নিউজলেটার
নতুন লেখা সম্পর্কে আপডেট পেতে সাবস্ক্রাইব করুন
আপনি লগইন করে মন্তব্য করতে পারবেন।