মূল বিষয়বস্তুতে যান

ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত এর রচনাবলি

আচারভ্রংশ

কালগুণে এই দেশে, বিপরীত সব। দেখে শুনে মুখে আর, নাহি সরে রব।। এক দিকে দ্বিজ তুষ্ট, গোল্লাভোগ দিয়া। আর দিকে মোল্লা বসে, মুর্গি মাস নিয়া।। এক দিকে কোষাকুষী, আয়োজন নানা। আর দিকে টেবিলে, ডেবিলে খায় খানা।। ...

ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত

ভক্তাধীন

যে হও, সে হও, তুমি, যে হও সে হও। ভক্তাধীন ভগবান ভক্ত ছাড়া নও।। ভাবময় ভাবরূপে, অন্তরেই রও। অন্তর-অন্তর তুমি, কদাচ না হও।। বাক্যরূপে রসনায়, তুমি কথা কও। সর্বসহারূপে তুমি, সমুদয় সও।। ভারী হলে ভবভার, মস্ত...

ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত

গ্রন্থপাঠ

পুঁথি পাঠ করে কিন্তু, নাহি তার মন। কেমনে পাইবে সে জ্ঞানরুপ ধন? প্রদীপে না তেল দিয়া, বাতি যদি জ্বালো। কোথায় প্রতিভা তার, কিসে হবে আলো?...

ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত

এলাহাবাদের যুদ্ধ

প্রয়াগেতে ছিল যত, সিফারের দল। একেবারে সকলেতে, হল হতবল ।। অধিকার করেছিল তরণীর সেতু। হয়েছে তাদের তায় মরণের হেতু।। ঝুসিঘাটে ঘুষি খেয়ে মারা যায় প্রাণে। ছারখার হইয়াছে অনলের বাণে।। এখন গোরার মুখে এইমাত্র কথ...

ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত

শাস্ত্রপাঠ

লও তুমি যত পার শাস্ত্রের সন্ধান। হও তুমি পৃথিবীর, পণ্ডিত প্রধান।। ঈশ্বরের প্রতি যদি, প্রেম নাহি রয়। যত পড়, যত শুন, কিছু কিছু নয়।।...

ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত

বিদ্রোহী নানা সাহেব

নানার কি, নানাকেলে, আজো আছে ধন? নানার কি, নানাকেলে, আজো আছে জন? নানার কি, নানাকেলে, আজো আছে মন? নানার কি, নানাকেলে, আজো আছে পণ? নানার কি, নানাকেলে, আজো আছে ডাক? নানার কি, নানাকেলে, আজো আছে জাঁক? প্রকা...

ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত

ভারত-সন্তানের প্রতি

পরাধীন ভারতের, প্রিয়পুত্র যত। ভ্রান্তিরূপ নিদ্রাবশে, রবে আর কত।। ক্রমেতে হইল শূন্য, সুখের কলস। এখনো হরিছ কাল, হইয়া অলস।। উঠ উঠ, শয্যা ছাড়, শুয়ে কেন আর। বাহিরেতে কি হয়েছে, দেখ একবার।। কেন আর ঘুমাইয়া, স...

ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত

গুরু

গুরু গুরু গুরু গুরু, সকলেই কয়। গুরু রব গুরু বটে, ফলে গুরু নয়।। গুণে গুরু লঘু হয়, গুণে গুরু গুরু। বিচারেতে গুরু লঘু, হয় লঘু গুরু।। শিষ্যের সম্পদ হলে যে করে হরণ। গুরু বলে কিসে তারে, করিব বরণ? শিষ্যের সন...

ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত

দুর্গা পূজা

ধর্ম হেতু কর্মযোগে পৌত্তলিক পূজা। নির্মাণ করহ সুখে দেবী দশভুজা।। প্রথমত মৃত্তিকায় প্রতিমা করিয়া। অর্চনা করহ যাঁরে ঈশ্বর স্মরিয়া।। অন্তরে অচলা ভক্তি করিয়া ধারণ। ধূপ দীপ দেহ যারে মুক্তির কারণ ।। নিজমতে ...

ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত

ভাষা

হায় হায় পরিতাপে পরিপূর্ণ দেশ। দেশের ভাষার প্রতি সকলের দ্বেষ।। অগাধ দুঃখের জলে সদা ভাসে ভাষা। কোনোমতে নাহি তার জীবনের আশা ।। নিশাযোগে নলিনী যেরূপ হয় ক্ষীণা। বঙ্গভাষা সেইরূপ দিন দিন দীনা।। অপমান অনাদর প...

ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত

নিদ্রাকালে শঠ উপকারী

পরের অহিতকারী নীচ যেই খল। নিজ লাভ বিনা শুধু খুঁজে মরে ছল॥ কথন জানে না মনে হিত বলে কারে। উপকার লাভ করে পর অপকারে॥ সদা ভাবে কার কবে কিসে মন্দ হবে। মুষলের সাজা পায় কুশলের রবে॥ নিয়তই মনে পায় অতিশয় দুখ...

ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত

আচার ভ্রংশ

কালগুণে এই দেশে বিপরীত সব। দেখে শুনে মুখে আর, নাহি সরে রব এক দিকে দ্বিজ তুষ্ট, গোল্লাভোগ দিয়া। আর দিকে মোল্লা বোসে, মুর্গি মাস নিয়া॥ একদিকে কোশাকুলী, আয়োজন নানা। আর দিকে টেবিলে, ডেবিলে খায় থানা॥ ভ...

ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত

স্নানযাত্রা

গুণে বলি হারি যাই সাধু সাধু সাধু ভাই ধরাবাসী যত ধুতি পরা। আমাদের এই বঙ্গ, কোন ক্রমে নহে ভঙ্গ নানা রাগ-রঙ্গ-রসভরা।। বৃষপূর্ণিমার দিবা, অপার আনন্দ কিবা মাহেশে সুখের মহামেলা। স্নানযাত্রা প্রতি বর্ষে, এই ...

ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত

কবি

চিত্রকরে চিত্র করে,করে তুলি তুলি। কবিসহ তাহার তুলনা, কিসে তুলি? চিত্রকর দেখে যত, বাহ্য অবয়ব তুলিতে তুলিয়া রঙ্গ, লেখে সেই সব ফলে সে বিচিত্র চিত্র, চিত্র অপরূপ। কিন্তু তাহে নাহি দেখি, প্রকৃতির রূপ॥ চা...

ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত

ঋতু

বসন্ত নিদাঘ বর্ষা শরৎ নীহার। কাল ক্রমে ক্রমে সব করে অধিকার। ছয় কালে ছয় খতু ছয় রূপ ভাব। ছয় কালে ছয় ভাবে শোভিত স্বভাব॥ থাকে না অন্যের বোধ একের সময় এইরূপে কত কাল গত করি ছয়॥ এই শীত ক্ষণ পরে গ্রীষ্ম...

ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত

পাঁটা

রসভরা রসময় রসের ছাগল। তোমার কারণে আমি হয়েছি পাগল॥ স্বর্ণকুঁকী রত্নগর্ভা জননী তোমার। উদরে তোমার ধরে ধন‍্য গুণ তার॥ তুমি যার পেটে যাও সেই পুণ‍্যবান্। সাধু সাধু সাধু তুমি ছাগীর সন্তান॥ ত্রিতাপেতে তরে লোক...

ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত

স্বদেশ

জাননা কি জীব তুমি, জননী জনমভূমি সে তোমায় হৃদয়ে রেখেছে। থাকিয়া মায়ের কোলে, সন্তানে জননী ভোলে, কে কোথায় এমন দেখেছে॥ ভূমিতে করিয়ে বাস, ঘুমেতে পুরাও আশ, জাগিলে না দিবা বিভাবরী। কতকাল হরিয়াছ, এই ধরা ধরিয়াছ...

ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত

বাক্য অপেক্ষা কার্য্য ভাল

কাজে যদি করা হয় করো তবে ভাই মিছামিছি মুখে বলে কোনো ফল নাই। শরতের মিছা মেঘ ডাকডোক সার ছিটে ফোঁটা নাহি তায় জলের সঞ্চার সেইরূপ মিছা তব মুখে আড়ম্বর ফলে যদি না হইলে কার্য্য হিতকর। তখনি করিবে তাহা যখন যা হয়...

ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত

ভারতের ভাগ্য-বিপ্লব

পূর্বকার দেশাচার কিছুমাত্র নাহি আর অনাচারে অবিরত রত। কোথা পূর্ব রীতি নীতি, অধর্মের প্রতি প্রীতি, শ্রুতি হয় শ্রুতিপথহত।। দেশের দারুণ দুখ দেখিয়া বিদরে বুক, চিন্তায় চঞ্চল হয় মন। লিখিতে লেখনী কাঁদে ম্লানম...

ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত

গুনের আদর

মহৎ যে হয় তার, সাধু ব্যবহার, উপকার বিনা নাহি জানে অপকার। দেখ কুঠার করে, চন্দন ছেঁদন, চন্দন সুবাস তারে, করে বিতরণ। কাক কারো করে নাই, সম্পদ হরণ, কোকিল করেনি কারে, ধন বিতরণ। কাকের কঠোর রব, বিষ লাগে কানে...

ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত

কৌলীন্য

মিছা কেন কুল নিয়া কর আঁটাআঁটি। এ যে কুল কুল নয় সার মাত্র আঁটি।। কুলের গৌরব কর কোন্ অভিমানে। মূলের হইলে দোষ কেবা তারে মানে।। ঘটকের মুখে সুধু কুলীনের চোপা। রস নাই যশ কিসে কুল হল টোপা।। আদর হইত তবে ভাঙ...

ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত

মাতৃভাষা

মায়ের কোলেতে শুয়ে ঊরুতে মস্তক থুয়ে খল খল সহাস্য বদন। অধরে অমৃত ক্ষরে আধ আধ মৃদু স্বরে আধ আধ বচনরচন।। কহিতে অন্তরে আশা মুখে নাহি কটু ভাষা ব্যাকুল হয়েছে কত তায়। মা-ম্মা-মা-মা-বা-ব্বা-বা-বা আবো আবো ...

ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত

মানুষ কে?

নিয়ত মানস ধামে একরূপ ভাব। জগতের সুখ-দুখে সুখ দুখ লাভ।। পরপীড়া পরিহার, পূর্ণ পরিতোষ। সদানন্দে পরিপূর্ণ স্বভাবের কোষ।। নাহি চায় আপনার পরিবার সুখ। রাজ্যের কুশলকার্যে সদা হাস্যমুখ।। কেবল পরের হিতে প্রে...

ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত

কে

বল দেখি এ জগতে ধার্মিক কে হয়, সর্ব জীবে দয়া যার, ধার্মিক সে হয়। বল দেখি এ জগতে সুখী বলি কারে, সতত আরোগী যেই, সুখী বলি তারে। বল দেখি এ জগতে বিজ্ঞ বলি কারে, হিতাহিত বোধ যার, বিজ্ঞ বলি তারে। বল দেখি এ...

ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত

তপসে মাছ

কষিত-কনককান্তি কমনীয় কায়। গালভরা গোঁফ-দাড়ি তপস্বীর প্রায়॥ মানুষের দৃশ্য নও বাস কর নীরে। মোহন মণির প্রভা ননীর শরীরে॥ পাখি নও কিন্তু ধর মনোহর পাখা। সমধুর মিষ্ট রস সব-অঙ্গে মাখা॥ একবার রসনায় যে পেয়...

ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত

Loading...