মনে রেখাে, ভালােবাসা বাঁচায় ও মারে
এই কবিতাটি লিখেছেন শক্তি চট্টোপাধ্যায় · ২ মিনিট পড়ার সময় ·
তপসিয়া আকাশের নীল শাদা পরিপ্রেক্ষিতের একাংশ দখল ক 'রে
গােদাচিল, অসংখ্য অজস্র চিল ছাই মেখে ঘুরে ঘুরে ওড়ে।
হয়তাে ধাপার কোনও নালার ভিতরে হুমড়ি খেয়ে পড়েছে হরিণ –
রঙের গাই, টের পাই গােদার ওড়ায়।
ঘয়লার স্যাঙাতি নিয়ে কাৎ হয়ে উদাসীনতায়
যেন ভেসে আছে জলে, চুলখােলা পরীর সাঁতারে—
অসংখ্য অজস্র গােদা, গােদাচিল তপ্ সের আকাশে।
নিমডালে কাক কাকী চূড়ান্ত চিল্লায়
মেঘ করে আসে।
যে-মেঘে বৃষ্টির ছুতাে নামমাত্র,
সেই মেঘ কলকাতার স্কাইলাইটের পাশে শ্মশানের ফুল।
আশ্বিন এখন,
হাঁসের পায়ের মতাে শেফালি ফুলের দেখা নেই।
শুধু ভােরবেলা
ট্রামের চলনশব্দে শরতের জামাকাপড়ের
আশ্চর্য নতুন এক আক্রমণকারী চাপা বাস
নাকে লাগে।
জান্ লায় কিশােরী মুখ তালকানা সংস্পর্শকাতর ...
সবটাই হঠাৎ, শরতের ভাবই এই অকারণে থতমতাে-খাওয়া।
রাজমহলের দিকে যাবাে ভাবি তিন পাহাড় ছুঁয়ে
দু-চার দিনের জন্যে।
ছুটি কম, কাজ থৈ থৈ
দিনগুলি পাথরের মতাে পথ জুড়ে।
প্রকৃত কি কোথা যাবাে ?
না কি শুয়ে বসে থেকে মনসা মথুরা !
যাবার কথায় কেন বুকে লাগে টান
আমন্ত্রণময় হয়ে ওঠে দ্বিগ্বিদিক।
যে কোনাে দিকেই যেন ভেসে যাওয়া চলে
যাবার সন্ন্যাসে।
ঢাকে কাঠি পড়ে।
কাঁসর ক্রন্দন করে ওঠে,
গােঠে চাঁদোয়ার নিচে দেবদারু পাতা
বাঁশের বল্লায় বাঁধা,
রঙিন শিলিতে করে ঝলমল ঝলমল
পুজোর মণ্ডপ।
পুজো - আচ্চা নিয়ে এই জীবনের আনন্দের ক্ষণ মাঝেমধ্যে আসে।
বাকি একটানা দিন, রং-এ বর্ণে মাটো।
ছােটোখাটো সুখদুঃখ, ছােটোখাটো হিসাব-নিকাশ
দিয়ে গড়া।
জীবনে ঘুলঘুলি বেশি,
সিং - দরজা সড়কের কথা
বচ্ছরান্তে একবার —
স্বাভাবিক গেলে !
ফিরে এলে
তােমাকে বসাবাে প্রেম রাজসিংহাসনে।
এই স্তোকবাক্যে প্রেম ফেরে নাকি ?
ফেরার তাড়সে
দূর থেকে দূরে চলে যায়।
স্মৃতির ব্যথায়
নীল হতে-হতে শূন্য দূরে চলে যায়।
এটাই নিয়ম।
সবজির সবুজ নিয়ে প্রেম চলে যায়
খড় হতে, স্তব্ধ হতে,
অপ্রাসঙ্গিক হাতে তুলে দিতে বিচ্ছেদ, বিচ্যুতি।
যে কোনাে মৃত্যুর মধ্যে বেঁচে থাকা আছে
স্মরণীয় নও ব’লে মৃত্যুর চালুনি দিয়ে গলে যাবে কাঁকরের মতাে
একথা দিও না ঠাঁই মনে
মনে রেখাে, ভালােবাসা বাঁচায় ও মারে
একাধারে
বাঁচায় ও মারে।
কাব্যগ্রন্থ -
'কোথাকার তরবারি কোথায় রেখেছো'
লগইন করুন প্রতিক্রিয়া জানাতে
নিউজলেটার
নতুন লেখা সম্পর্কে আপডেট পেতে সাবস্ক্রাইব করুন
আপনি লগইন করে মন্তব্য করতে পারবেন।