শক্তি চট্টোপাধ্যায় এর রচনাবলি
এখন, ছুটির দিনে
এখন, ছুটির দিনে ভালােবাসা ভিড় করে আসে একদিন আসতাে না, আমি ছড়িয়ে পা বসেছিলাম ঘাসে যেন এক কলঙ্কী মেয়ে, মেঘ দেখে হতাে বারমুখী ... এখন, ছুটির দিনে ভালােবাসা ভিড় করে আসে একাকী আসে না, তার ভয় করে, কে ...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
চতুর্দশপদী কবিতাবলী —৪০
যেবার ওদের সঙ্গে যেতে হলো বেড়াতে পশ্চিমে — মানুষ বেড়ায় ! তাই বহুদিন সাহাবাবুদের কালাে ছেলেটির কাছে ছিলে তুমি, মােটে ফরসা নয় আমার মতন, আহা প্লাতেরাে, তােমারই কষ্ট হলাে! পশ্চিমের থেকে কিছু ঘাস আমি ত...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
সহজ
এতো কঠিন পাথর ভেঙে করলে তুমি সহজ নদী তোমার হাতে যাদুদণ্ড- সুসময়ের সঙ্গে আসো। সঙ্গে চলো : এই কথাটি তুমি আমায় বললে যদি--- তোমার সঙ্গে আকাশ-পাতাল ; বললে আজো ভালোই বাসো। কতোকালের ইচ্ছে ছিলো তোমার সঙ্গে কই...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
আমাকে সেই সঙ্গে
আমাকে সেই সঙ্গে যদি ডুবিয়ে দিতে তাহলে আর এমনি দুহাত শূন্য, ফাঁকায় চলতে থাকা ঘটতো না আর আমাকে সেই সঙ্গে যদি ডুবিয়ে দিতে! তোমার মতন একলষেঁড়ে,নিরতিশয় ইচ্ছে -সাঁতার দিচ্ছো এখন,ও চাঁদ সাক্ষী আমায় কিছু আপ্ত...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
পার্শ্ব চরিত্র
অরণ্যের মতো তোর নোটন পায়রাকে ঢেকে রাখি। অন্ধকার জলে দুটি বাহু ফেরে মাছের মতন, হিংস্র শীতল হাসি শৃগালের মুখ থেকে গলে কাঁপায় সর্বত্র শাস্তি। পরিতৃপ্ত রাত্রেও পাগলে অঙ্ক কষে নাজেহাল। আমি তোর চন্দনের বন...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
স্টেশন ভাসিয়ে বৃষ্টি
মনে পড়ে স্টেশন ভাসিয়ে বৃষ্টি রাজপথ ধ’রে ক্রমাগত সাইকেল ঘন্টির মতো চলে গেছে, পথিক সাবধান… শুধু স্বেচ্ছাচারী আমি, হাওয়া আর ভিক্ষুকের ঝুলি যেতে-যেতে ফিরে চায়, কুড়োতে-কুড়োতে দেয় ফেলে যেন তুমি, আলস্যে এলে ...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
চতুর্দশপদী কবিতাবলী - ৫
একবছর ধরে একটি শেফালিতলায় শুয়েছিলাম কেমন মনে পড়ে । গরমের দিনগুলি মদের ঢাকায় চৈতন্যবিহীন বহু তীব্রতর স্বপ্ন দেখেছিলাম— সেইসব দিনগুলি বৃষ্টিতে নরম হয়ে গেছে। একবছর ধরে সেই শেফালিতলায় অর্ধস্ফুট ময়ূ...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
টিলার উপর সেই বাড়িটির কথা
টিলার উপরে সেই বাড়িটির কথা মনে পড়ে ? সামনে ঘোড়ানিমগাছ, পিছনে ইঁদারা একপাশে নাবাল মাঠ, অন্যপাশে টেবিল পাহাড় তাতে বাগিচার ফুল ছোটখাট ওঁরাও-পল্লীর ঠাস-চাপা ছবি ভেঙে সূর্য ডুবে যায় লাল রবারের বল হারান...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
কে আর তেমন ভালোবাসে?
কে আর হৃদয় বেঁধে রাখে হৃদয় নয়তো দূর - ঘুড়ি ওড়ে শূন্যে পশমের ফাঁকে কে আর হৃদয় বেঁধে রাখে? কে আর &nbs...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
ভালোবাসার শিকড়
ঘরেতে তার একটি দুয়ার অনেকগুলি জানালা ঘরের মধ্যে আলমারি খাট পোষাক-বোঝাই আলনা সে যে মানুষ, শুধুই মানুষ, তাই এ হেন সজ্জা মনের ভিতর জানালাবিহীন অনেকগুলো দরজা কপাট খোলা সপাট তাদের মধ্যে দিয়ে আসছে আকাশ বাতা...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
সামনে মানুষ
পিছনে ফিরলেই দেখি কুশ্রী কুশ্রী কুশ্রী একতাল প্রকৃতি-পাগল মেঘে লেগে আছে বিদ্যুতের ছটা যেন গুড়ো চুল কোনো উড়ন্ত বিধবা চাঁদের পিছল স্নেহ কিংবা নৃত্যে বেসামাল জল হাওয়ায় পাটের ফেঁসো অবিশ্রান্ত ওড়াউড়ি ক...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
মানুষ সিন্ধুর মনে
পাহাড়ে সমতা বেশি … কিছু তারা জানেন ইঁদুর কিছুবা স্বপ্নের মধ্যে সত্য হয় যেমন জোনাকি নক্ষত্রের হালচাল নিয়ে চলাফেরা করে দূর মানুষ সিন্ধুর মনে দাম কি সেখানে পাবো? হক্-কথা বিক্রিতে বানাবো বৃদ্ধের চৌদিকে স্...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
কুয়াশায়
ছিলাে টিলা, হয়ে ওঠে মেঘ। যদি নামি, যদি আমি ভূপৃষ্ঠে দাঁড়াই তার মানে টিলা থেকে নিচে আছে আকাড়া খােয়াই-- মাঠ, আলপথ, জল, আলপথ, জল মাঝেমধ্যে গম-নাড়া, মাঝেমধ্যে ওঁরাও বসতি, তার মধ্যে দিয়ে যেতে হবে কুয়...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
আবার সেই
আবার সেই গলা তাক্ করে আঁশবটি এগিয়ে আসছে যুদ্ধ একটা বাধাবেই তবে একতরফা। এভাবে কেন? এমনভাবে কেন? কেন এলােমেলাে অপমানের কাদা মেখে, কেন কবিতাপাঠ? গলায় মালা, হাতে গােলাপকুঁড়ির আলােয় ডুবতে-ডুবতে বেঁচে থ...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
পিছনে চলেছে, থাকে দূর
পিছনে চলেছে সে - ও, ভদ্রতাসম্মত দূর থেকে আমাকে রেখেছে চোখে ; ভিড়ে ঢুকে দিতে চাই ধোঁকা সহজে হজম করে যেন অন্যমনস্ক ও বোকা কিছুটা সে, যথাসাধ্য আর করে নিজেকে আলাদা। পিছনে চলেছে সে - ও, আমি চুপকি দিই, সরে...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
আজ কালের পার্থক্য
আজ ধ্বনি দিলে কোনো প্রতিধ্বনি পাওয়া অসম্ভব। কীভাবে যে বদলে গেলো বিজ্ঞানসম্মত খেলাধুলো— বাস্তবিক বুঝি, কিন্তু ভয় পাই অবস্থা যা ঘটে, আজ ধ্বনি দিলে কোনো প্রতিধ্বনি পাওয়া অসম্ভব। অন্তত যেভাবে আমি দাঁড়...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
ব্লীডিং হার্ট
কৃষ্ণচুড়ায় এখনাে ফোটেনি ফুল হৃদয় ছিলাে কি অকাট্য নির্ভুল পায়ে পায়ে ভাঙে যেখানে পাতার রাশি শব্দ সেখানে ওঠেনি কি ভালােবাসি? কে তার খবর রেখেছে শহরে -গ্রামে ডিসেম্বরের বৃষ্টিও যদি নামে অকালে সকাল হয়...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
বয়ঃসন্ধি
বয়ঃসন্ধি, কাপড় ছিঁড়ত ভোরবেলাতেই— এ তো এমন বয়ঃসন্ধি, কাপড় ছিঁড়ত ভোরবেলাতেই ! না যদি সে পোহাত রাত, দু’হাতে তার আগলে ব’সে আল্ সে বা ছাদ যেখানে থাক্, দু’হাতে এক নখের জব্দ ক’রে মারতাম আধকপালে, কুমারী স...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
দুঃখের সমুদ্র
দুঃখের সমুদ্র থেকে তার ভালোবাসা নিতে পারো? যে আছো গভীরে? কোনোদিকে প্রেম নেই, পরিশোধ নেই। ইন্দ্রিয়ের দ্বার বন্ধ, কে সে বন্ধ করেছে একাকী? তার কোনো নাম আছে, ভালোমন্দ সমাবেশ আছে? কী আছে নূতন যার বৃদ্ধি আছ...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
ভালোবাসা আমি চাই
ভালোবাসা, আমি চাই তাকে ফিরে চাই যে আছে দাঁড়িয়ে ফেরিঘাট হবে পার দূরে চলে যাবে --আমি যত কাছে যাই হৃদয় করেছে কে তার ব্যথার ভার? ভালোবাসা, আমি একদিন নির্জনে শুধু করতলে স্থাপন করেছি পা বলেছি তোমার প্রতিষ্ঠ...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
আমি দিনে দিনে
এই রৌদ্র,হাওয়া এই নিশ্চিন্ত পাগল ধুলোবালি... এই আবশ্যক জাল সুন্দরের, কাগজফুলের আমাকে বেঁধেছে ঋণে আমি দিনে দিনে বাঁধা পড়ি হারাই সুবর্ণঘড়ি শুঁড়ির দোকানে প্রকৃত যা মানে মুখোমুখি দু-জীবন তারও কিছু জানে ...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
প্রতিধ্বনি, তাও দরজা ভাঙে
নদী খাতে এলোমেলো জল একধারে হেলে পড়ে আছে গত বছরের বজ্রসেতু পাহাড়ি নদীর বাহুবল বালুতলে লুকিয়ে রয়েছে শীতের সন্ত্রস্ত সাপঘুমে রোদ সেই নদীকে জাগাবে জলকাঁটা উষ্ণ করতলে বাঁশের কভারে হিংস্রচোখ সীতানদী বাং...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
রাতের নির্জনে
তোমাকে সান্ত্বনা দিতে ডেকেছিলো পাখি— ‘আমিও এখানে একা থাকি বারান্দার কোণে কে তুমি নিঃসঙ্গ, মনে-মনে?' সন্ধ্যা হলে চারিদিকে খেলা-করা বিষণ্ণ বাতাসে সে কোন চঞ্চলা ভেসে আসে বলে ‘আছো ভালো?' অদূরে, গাছের ফাঁক...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
বিরহ
সংলগ্ন যা কিছু ছিলো মিলালো সন্ধ্যায় ক্ষণপরে এবার নিশ্চিন্ত একা, আবছায়া নিয়েছে আমায় স্পন্দনবিহীন মঞ্চে সুদূর সতত-ভ্রান্ত রেখা মায়াবী চিত্রেরে ঢাকে স্রষ্টাছাড়া নীলান্তরালে সকল বিন্যাসে, মূলে সেকি ...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
ঐ সমস্ত নদী
ঐ সমস্ত নদী আমায় কাছে ডাকতো যদি আমি হতাম হিরণ্ময় আমার নদীর উপর আলো আমায় মানুষ বাসতো ভালো। তার বদলে ডাঙা, আমার হাত দুখানি রাঙা আমি জোর করে হই জয়ী সারাদিনের পরও আমি পাই না অবসর… শুধুই বেঁচে থাকতে হয...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
চতুর্দশপদী কবিতাবলী - ১২
হৃদয়দ্বীপের ফুলে ফুটেছে সুরভি, তুমি জানাে তুমি অন্তরীক্ষ হতে মদপূর্ণ মেঘেরে ফাটাও আমাদের মর্ম' পরে, ওই দ্বীপে সকলে স্বাধীন— কেবল একাকী হাঁস ঘুরে যায়, ঘুরে-ঘুরে যায়। দ্বীপের প্রকৃতি তার জানা নাই, ও ...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
কবিতার কাছে
কবিতার খুব কাছে এসে গেছে নষ্ট ফুলগুলো যন্ত্রণায় ভারি হয়ে,মৃত্যুতে পাথর হয়ে গেছে মাটিতে পড়েছে ঢলে ধুলোবালি যা কিছু স্নেহের কথা বলে, মহিমায় একদিন ও ছিলো আত্মীয়। কবিতার খুব কাছে এসে গেছে নষ্ট ফুলগুলো যে ...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
তোমায় আমি অল্প একটু ভাবাতে চাই
তোমায় আমি অল্প একটু ভাবাতে চাই, যেমন ভাবো - দু-চোখে দুই জব্দ ঠুলি কোন্ গগনে খুঁজলে পাবো গন্ধবিহীন দ্বন্দ্ববিচার? সেই সুযোগে কিয়দ্দুরে দশ-বারোটি মন-মরা বুক সাধ করে আজ রাখছি খুঁড়ে কোন্ গোপনে মুখ লুকোবে,...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
যে-পথে যাবার
যদি সারাদিন তাঁকে কাছে পাওয়া যেতো শুনেছি ছিলেন তিনি গাছের বাকলে গা এলিয়ে যতটুকু ছায়া তাঁর প্রয়োজন, ছিলো ততটুকু দক্ষিণ হাওয়ায় উড়ে শুকনো পাতা আসে তাঁর কাছে যেন নিবেদন, যেন মন্ত্র ভাষা ছিন্নভিন্ন মালা তা...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
চিঠি লিখি
নিরুত্তর, তবু চিঠি লিখি পাটনায় চন্দ্রের তাপে বাতায়ন সরে যায় বেগে লোলুপ বসন্ত নয় জু-গার্ডেনে ইন্দ্রিয় অপার পোস্টম্যান বহে তারই ভার নতুবা চিঠির চাপে ক্লীব হতো কবিতারচনা। চন্দ্রের দারুণ স্তব তোমারে কি কর...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
তুমি একা থেকো
দেবদারু বীথি শুধু তােমাকেই টানে গভীর শিকড়ে তার, তুমি স্তন্যপায়ী। ওখানে দুধের রং, রসবর্ণ পছন্দ তােমার একথা পােস্টারে লিখে এঁটে দিয়ে গেছো- কোনােদিন, মধ্যরাতে, জ্যোৎস্নার ভিতরে? সত্যি কথা বললাে, আমি চ...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
এলিজি ৪
ঊষারাণী দত্ত চিরস্মরণীয়াসু মাতৃসমা ছিলে তাই ভূগর্ভে ধরেছো আমাদের, ছিলে মাতা, তাই শেষ দেখা হয়েছিলো আমাদের মহাপ্রয়াণের পূর্বদিনে গড়েছিলে বসুন্ধরা, আমরা সেই কাজ অক্ষুণ্ণ রাখবো বলে অঙ্গীকার করি । ফসল ...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
অসচরাচর
সময়ের সাগরের তীরে আমরা এসেছি ফিরে ফিরে নৌকায়, শাম্পানে— সেকথা এদেশে কে না জানে ? যেভাবে এসেছে ফুলে আলো সেভাবে বিন্যস্ত থাকা ভালো অসচরাচর আমাদেরই বুকে আছে ঘর সে তবু বাগানে প্রকৃতিকে মানুষের কথা বলে আ...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
চতুর্দশপদী কবিতাবলী —১৮
আজো কি যাবে না ভােলা অসম্ভব মর্মরস্তবক- তালবীথিকার পার্শ্বে তােমার মুরতি আজো রবে? আজো কি যাবে না ভােলা হে প্রেয়সী, হে প্রতিবন্ধক— হে মম প্রাণের গূঢ় পরিণয়, অন্ধকারে, কবে দেখেছিলে ? সব দেখা প্রিয়সখি...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
সুড়ঙ্গ কোথায় যাবে?
কথা ছিল ভালােবেসে-বেসে কিছু সুড়ঙ্গ বানাবাে। একমুখ লুকিয়ে থাকবে গাছের শিকড়ে, পাতাপুতা উইটিবি দিয়ে সন্তর্পণে ঢাকবাে বিচ্ছিরি মুখ, ডালপালা দেব। পদচ্ছাপ মুখে ফিরে আসবাে বাড়িঘরে যেন আলাভােলা শিশু, মুখ...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
চিরহরিৎ
এখানে পেঁচাও ডাকে কী আশ্চর্য বলে তোমাদের সব কথা উকুটে হাওয়ায় ভেসে আসে বুনো ধুঁধুলের গন্ধ, ভাঁট.... কেয়াফুল ঝরে পড়ে গুঁড়োকরা নরম ধুলোয়। কী করে যে পেঁচা ডাকে এখানে, আশ্চর্য মনে হয় পড়ো বাড়িগুলো সব ভেঙে ...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
অন্তরে যার গেরস্থালি
[কমল প্রিয়বরেষু] অন্তরে যার গেরস্থালি, সে কোন্ ছলে পালিয়ে থাকে? জঙ্গলে যায় , কমণ্ডুলু হাতে – আমায় বুঝিয়ে রাখে এসব পথে কষ্ট ভীষণ, লোভহীনতার মোরচা দাখিল করতে হবে, সরলমতি দুই দরজার একপাশে খিল। এইভাব...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
চতুর্দশপদী কবিতাবলী - ৬৪
দিনের দুয়ার আজো খােলা দেখি। রাতের দুয়ার বন্ধ, বহুদিন বন্ধ। আমার স্থান কি খরতাপে? আমার কি স্থান আছে পৃথিবীর সমূহ সন্তাপে অশ্রুর সমান কিংবা বেগবান বিপুল জোয়ারে? দিনের দুয়ার আজো খােলা দেখি। রাতের দুয...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
একটানা একজীবনে
জলের উপর ভাসতে-ভাসতে অর্ধেক জীবন খরচ হয়ে গেলো বাকিটা ডুবেই থাকবো দেখি না কী হয় ? আগে ছিলুম জাহাজ আর নৌকো-ডিঙির সঙ্গী-সাথী আশেপাশে সাঁতারু সিন্ধুশকুন আর উড়ুক্কু মাছ ছিলো না কি আর? সক্কলে ছিলো —— তাদের ...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
বাইরে যাঁরা দাঁড়িয়ে আছেন
মুখে তোমার মুখ রেখেছি, বুক রেখেছি বুকের কাছে বাদবাকি শরীরটা তোমার হাত দুখানি জড়িয়ে আছে হৃদয় নামের শিমুল তুলো আজ হাওয়ায় ভেসে বেড়াচ্ছে মুখে তোমার মুখ রেখেছি, বুক রেখেছি বুকের কাছে। কত কথাই বলছি যে...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
কে বেশি সুন্দর
কে বেশি সুন্দর? চাঁদ, তুমি? না ঐ চাঁদের নিচে, পাগল, তোমার চেয়ে থাকা কে বেশি সুন্দর বুঝে নিতে ঐ একাকী দাঁড়ানো হরিণী, হে স্থিরচিত্র, মৃত্যুঞ্জয় শিল্পীর তুলিতে। জানি না, উতলা চাঁদ, তোমাকেই পাগল করেছে নাক...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
আমি ফিরে পাই
আজ আমি বৃষ্টিতে ভিজেছি ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে শার্ট, পরনে পাতলুন এলােমেলাে, বহুকাল পরে আজ বৃষ্টিতে ভিজেছি। যখন বেরুই পথে অসামান্য মেঘ ছিলাে কালাে। উপগলি থেকে গলি, তারপর রাস্তায় দাঁড়িয়ে কোনদিকে যেতে ভ...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
ভ্রান্তি
জল যায় রে শিলা আমার বক্ষপট দহে সলিতালতা রূপসী পোড়ে নিবিড় তরী ভ’রে ফেরা ভালো ফেরাই ভালো, বাতাসে কত সহে দহনভার ভস্মতার মরীচিকার মালা ? রাখো কোথায় ? ছন্নপট বিনা-হৃদয় জুড়ে হে শিলামালা চরণমূলে রাখিবে ধ’...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
ঝর্না
সারঙ্গ, যদি ঝর্না ফোটাই তুমি আসবে কি তুমি আসবে কি সন্তর্পন পল্লব দোলে এত অজস্র বন্ধু হাওয়া গাছের শিরায় ফেটেছে নূপুর অমর নূপুর জলে ভাসবে কি | পাহাড়খণ্ড পাহাড়খণ্ড ওর নৃত্যের দোষ নিয়ো না হে | অলস-অলস ভ...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
মনে হয়, কিছুই দেবে না
কখনো দেখিনি তাকে, কিন্তু, তার মুখময় পরিত্রাণ লেখা হয়ে আছে পথের ধূলোতে তীব্র হয়েছে ও-মুখ অর্জুনের ছায়া-ফেলা সংশ্লিষ্ট অসুখ তাকে বন্দী করে মনে হয় সুখী হবে ঝড়ে বৃষ্টিতেও কিছুটা স্বাধীন সম্ভ্রান্ত পোশাক ছ...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
জীবনের কোলে বসে মরণের এই অবসাদ
অতি দূরে — মাথার উপরে ওঠে চাঁদ জীবনের কোলে বসে মরণের এই অবসাদ সহনীয় কবে? বলে যাও — এ - পৃথিবী তোমার মতন সত্য হবে। পাহাড়ে মালার মতো জ্বেলো না আগুন আমায় যে করেছিলো খুন তাকে তুমি অযথা জানাবে কর্কশ ছুর...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
সোনালি কাজের ফল
সমস্ত সোনালি কাজ একদিন পুড়ে হবে কালো বিন্যাস, ঘরের কোণে লেগে যাবে ধুলো-ঝুল সবই যেন বাড়িঅলা আজ মানুষের আড়ালে বসালো গেরস্ত বাদুড় আর সঙ্গভীরু শূন্যতার কবি। এই বাড়ি সামনের ফটকে এখন নিশ্চিন্তে গরু ঢোক...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
বাগান কি তার প্রতিটি গাছ চেনে?
আমার ভাবনা হ'লো বিশাল বাগান কেমন ক'রে মনে রাখবে প্রতিটি গাছে পাখিরা আসছে, প্রতিটি দুঃখ আলোর মান্য উষ্ণতায় মেওয়া ফলের মতন স্বাদু। ভাবনা হ'লো গাছের-খাই-তলার-কুড়াই মানসিকতা সুখের যত বিপুল জড়ো কুড়িয়ে নিতে...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
বাসনা আছিলো কিছু, তিলে তিলে শুখায়েছে
বাসনা ভয়ার্ত রশ্মি, মুহুর্মুহু আঁধারের প্রেত লোভায় মন্দিরে...মর্মে, অস্থিরতা, স্থির পদরেখা এসো, ধোয়া চূড়া, চাঁদ, এসো ধোয়া ফেনায় গভীর পুণ্যের মূর্ছিত গ্রীবা উন্মাদনাবিহীন পাণ্ডুরে তুমিই আরক্ত করো...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
মন্দিরে, ঐ নীল চূড়া
মন্দিরে ঐ নীল চূড়াটির অল্প নিচে তিনি থাকেন একমুঠি আতপের জন্যে ভিক্ষাপাত্র বাড়িয়ে রাখেন দিন-ভিখারি অদূরে দেবদারুর সারি ঘন ছায়ার গুহার দ্বারায় আকাশ ঢাকেন মন্দিরে, ঐ নীল চূড়াটির অল্প নিচে তিনি থাকেন |...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
মনে-বনে জানি না কিছুই
ভালোবাসা দিয়েছিল বিধিমতো ছাপানো কাপাস। এখন সে রং কেটে গেছে, কেটেছেঁটে গেছে রাঙা সুতো, অথিরবিজুরি মাকু পড়ে আছে শামুকের মতো খোলে। কম্বলের কোণা থেকে অদ্ভুত আগুন আজ বুক জুড়ে বসে আছে আরেক কম্বলে... অর্থ হয়...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
তােমার জামা
নূতন একটি জামায় আমি ঢেকেছিলাম দেহ চারিদিকেই প্রবল সন্দেহ — ঐ জামাটি তেমন নূতন নয়। হতেও পারে, সকল পরাজয় যখন নিকটবর্তী — তখন অবলা এই দেহ জামার দর্পে জয়ী হবার স্বপ্ন দ্যাখে যদি তখনও নয় — আমার ভীষণ জ...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
চতুর্দশপদী কবিতাবলী —৭৮
বারােটি বছর স্নান কবিতার খাতাখানি খুলে অনুধাবনীয় আলাে অনুধাবনীয় অন্ধকারে নিরপেক্ষতার সীমা লঙ্ঘন না করে বসেছিলাম— প্লানচেট-পাথরে মগ্ন আত্মা এসে বিদায় জানায় : আমরা মিলনে নয়, বিরহে জমেছি স্বর্গে এসে...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
চতুর্দশপদী কবিতাবলী -৮৪
একটি গ্রন্থের মতাে জানি তারে, বিক্রয়বর্জিত কবিতার গ্রন্থসম। তথাপি যােগ্যতা বারে—বারে পুনরভ্যুত্থিত চিত্তে বাগিচার হৈমন্তীলতায় আনে বিস্ময়ের সেরা স্পন্দন আলােকে - অন্ধকারে এমন বিশ্বাসময় সুরভিরও এমন ...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
দাঁড়াও
মানুষ বড়ো কাঁদছে, তুমি মানুষ হয়ে পাশে দাঁড়াও মানুষই ফাঁদ পাতছে, তুমি পাখির মতো পাশে দাঁড়াও মানুষ বড়ো একলা, তুমি তাহার পাশে এসে দাঁড়াও | তোমাকে সেই সকাল থেকে তোমার মতো মনে পড়ছে সন্ধে হলে মনে পড়ছ...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
তোমার কথাই শুধু
তোমার কথাই শুধু ঘুরে ফিরে আসে এই মুখে এখনো কি তোমার চিবুকে আছে সেই তিল সেকালে পোশাকে ঝিলমিল তুমি যেতে গোলাপবাগানে কথা হতো সবই কানে কানে এখন সকলি এলোমেলো দোতলার করিডোরে শ্বাসরুদ্ধ কে যে করে বেলো ! মাঝে...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
অনুপস্থিত আত্মা
আহারে মন ফুটবে করুন ডালে তেলাকুচার ফলের মতো একা লাল পিমড়ে ছোট পিমড়ে জ্বালে শোভার ফোঁটায় রাতের আকাশখানি আহারে মন করুন ভাঙাবাড়ি কাল গতকাল যমের সঙ্গে দেখা দুপুর নিয়ে পায়রা কাড়াকাড়ি থান কাপড়ে শীতল দেহখানি...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
অন্ধ আমি অন্তরে বাহিরে
পাহাড়ের চূড়া থেকে আমার নিশ্বাস ঠেলে ক্রমাগত অন্ধকার পড়ে দূরে কাছে জনপদ, সিংহাসন জেগে ওঠে মানুষের হৃদয়ের কাছে দুই সিংহাসন নিয়ে মানুষের এই খেলা, মানুষের এই বর্ধমান শােক আর সাধ আর সিঁড়ি ও নরম জলরেখ...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
সমস্ত নক্ষত্র আজ নক্ষত্রের
সমস্ত নক্ষত্র আজ নক্ষত্রের ভিতরের ক্রোধ বােঝাতে না পেরে যেন আরাে দূরে চলে যেতে থাকে অভিমানই এরকম অঘটন ঘটাতে সক্ষম--- এই ভেবে, মানুষেরও বুক অভিমানে ভরে যায় মানুষ নক্ষত্র নয়, নক্ষত্রের মতাে দূরে নয় ম...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
কিছুতে মেলেনি
এরকম হয়েছে দু-দিনই। মধ্যরাত, জ্যোৎস্না উঠেছিল, কানাগলি জুড়ে বান ডেকেছিল তা থৈ তা থৈ, বাতাস মরমী ছিল, সড়কের বাতি ছিল কিছু মনমরা, ঔদাসীন্য-মাখা ছিল প্রাসাদ-দরজা। কিন্তু, বহু ভাবে চেনা নিজের বাড়িটি- ...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
প্রতিমূর্তি
যেখানেই যাই তুমি কেঁপে ওঠো, ভুলে যেতে পারি তােমার স্মৃতির সার হয়তাে, একাঁপন ভুলবাে না। বস্তুত পাবাে না বলে সে কি মিথ্যা সুষমা প্রাণের, অন্ধকারে হাওয়া লেগে স্বপ্নে - দেখা ভাঙা রাজবাড়ি? অনেক গাছের বা...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
ছেলেটা
ছেলেটা খুব ভুল করেছে শক্ত পাথর ভেঙে মানুষ ছিল নরম, কেটে ছড়িয়ে দিলে পারতো। অন্ধ ছেলে, বন্ধ ছেলে, জীবন আছে জানলায় পাথর কেটে পথ বানানো, তাই হয়েছে ব্যর্থ। মাথায় ক্যারা, ওদের ফেরা, যতোই থাক রপ্ত নিজের গলা ...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
নেমে আসে অন্ধকারে
বিষণ্ণ জলের ধারা নেমে আসে অন্ধকার মাঠে। ঘর থেকে শব্দ পাই, গন্ধ পাই, স্পর্শ পেতে পারি দূর থেকে কাছে টানে জলধারা হৃদয়ে ডোবায় আপাদমস্তক ডুবে সে রয়েছে চাঁদের মতন একা, ঐ মধ্যমাঠে, স্বজনবর্জিত রলরোলে - ভালো...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
একটি কবিতা খুঁজে
কবিতার সুতাে ঐ নাগরিক পলাশের পাংশু জিভ রক্তের মতন দোলপূর্ণিমার ছাদ ছুঁয়ে দেখে চাঁদ বহুদূর এবং যা রীতি, ছন্দ, প্রতিমার নিজস্ব গঠন তাকে করে কাচচূর্ণ, ঘুড়ির প্রকৃতপক্ষ মায়া এবং কেবলই তার পিছু নেয়, যে...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
মেনে নিতেই হয়
(আবু সয়ীদ আইয়ুব চিরস্মরণীরেধূ) আমায় অন্য একটি ঘরে নিয়ে চলো এ-ঘরে বহুদিন আছি, পুরনো গুমো গন্ধ নাকে এসে লাগছে কেমন একটা দমবন্ধ ভাব এ ঘরের সর্বত্র আমার কষ্ট হচ্ছে কেমন সহ্য করতে পারছি না পুরনো ঘরের চারদ...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
সোনালি দুঃখ
সোনালি সুতোর ঋণে পৃথিবীকে দিয়েছো অশেষ যন্ত্রণা, এখনো মরো, মরে যাও—শুনবো দূর থেকে কিছুতেই যাবো না কাছে, মুক্ত করো হে কাঙাল রাহু প্রেম, ঊর্ণাজাল ছিঁড়ে একবার অন্তত ওঠো হেঁকে : এখন যাবার বেলা ওর পৃথিবীর...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
প্রেমের মড়া
প্রেমের মড়া জলে ভাসে না, তাই বলে কি ডুবতে পারে নীল সমুদ্রে সারাটি দিন কিংবা ধবল সাত পাহাড়ে— প্রেমের মড়া জলে ভাসে না, তাই বলে কি ডুবতে পারে? চিরকালই ছিলেন তিনি বাতাসে মস্করায় দড় তাই বলে কি ধরতে পা...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
ভেবে দেখবে যাবে কি না যাবে
দুঃখের দরজা ফেলে কিছু গেলে অনির্বচনীয় উঠোন একটি পাবে। ভেবে দেখবে, যাবে কি না যাবে। উঠোনের একদিকে ছোটখাট সবজিবাগানের না-ছোঁয়া আভাস- তাকে ছেড়ে যাওয়া চলে? উঠোন সমগ্রে কথা বলে: যতদিকে ঘর-গেরস্থালি জীবনযাপ...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
শরণার্থী বাংলাভাষা, পুনর্জন্মে
কলকাতার গলি থেকে আল মাহমুদ বিদায় নিয়েছে, ওর শরণার্থী চোখ কোনোদিন দেখতেও হবে না। জানি না আহত হয়ে গেছে কিনা ভুল ব্যবহারে, আমার আড়ালে আমি হয়েছি না হয়েছি হিংসুক ! মনে পড়ে আল মাহমুদ ? কিংবা মনে প্রক...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
আমি ভাঙায় গড়া মানুষ
মায়াবী এই আলোয় ওড়ায় মায়া ভাঙার ফানুস যে জন ছিল গোড়ায়, তাকে পুড়িয়ে মারে মানুষ আর যারা সব পথিক, শুধু তার পিছনে চলে মানুষ গিয়ে ছোঁ মারে সেই এক মুঠি সম্বলে---- স্বেচ্ছাচারী স্বাধীনতায়, তার মানে, ঐকিকে জড়ি...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
অধিক বৃষ্টিপাতের খবর
শুনেছি আজ দুপুরে তার একটু আধটু বৃষ্টি ছিলো শুনেছি সব ঘুমের মধ্যে অধিক বৃষ্টিপাতের খবর শুনেছি ঐ ঘুমের মধ্যে ----এ- সংবাদে ভুল ছিলো না শুনেছি আজ দুপুরে, তাহার আসার কথা ভাসতেছিলো কে চায় সারা দুপুর? অমন স...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
সাতান্ন বছর পরে
সাতান্ন বছরে আমি ফিরে আসি জীবনের প্রাথমিক স্তরে, সেখানে প্রকৃত অর্থে প্রতিদিন ভয়ঙ্কর কর্ম ও জীবন উদ্বেলিত— কখনো দূরের কোনো জঙ্গলের পপলারের ভিতরে, কখনো লেকের পাশে ছিপ হাতে— লক্ষ্য জল, মাছ। সাতান্ন বছর...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
ঈশ্বরীসমা
এতদিন কাছে ছিলে ঈশ্বরীসমা আজকে যখন চলে যাবে, করে ক্ষমা শুধু বলে যেও রাজার বাড়ির পথ সম্মুখে পড়ে কত বীথি ইমারত 'কোন পথেই শুধু প্রকৃত রাজাই যান?' তুমি দিয়ে যেও সে পথের সন্ধান। তুমি যত কিছু শিখিয়েছো শিখি ...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
সমুদ্রের মাঝে আমি
বাদুড়ের মতাে ঝুলে আছে আছে দীর্ঘ গাছে– ডালে সবুজ শুদ্ধতা শুধু পাতার আড়ালে আমাদের মন ধানভাঙা তুঁষের মতন পুড়ে থাকে— কোনদিন পাবে না আমাকে, কোনদিনই পাবে না আমাকে। লাটাগুড়ি জঙ্গলের ভিতরে আমার আজো কাজ শী...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
মৃত্যুর মহান জাতিস্মর
সময় থেকে সময়ের বাহিরে দেখেছি তােমার উজ্জ্বল রূপ, হে নিষাদ, হে মর্মঘাতক একদিন ; আজ তার ব্যাপক বিস্ময়বহতা হিংসা, প্রতিশােধ নয় , শুধু এক একাগ্র হিংসার রূপ দেখে , কান্তি দেখে আমরা ভিতরে বহ্নিমান--- এ ...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
ভূতপ্রেত ছিলো কিংবা নারী
ওকে পথ থেকে ফিরিয়ে দিলো কে ডেকে আন ফুলের স্তবকে ওকে তোরা দুঃখ পেতে দে নিষ্ফল না হয় — যেন বেঁধে। ওকে তোরা রাজার বাগানে নিয়ে যা, দুচোখে দিয়ে ধুলি ওকে দে ঝর্নার কলতানে ধুয়ে নিতে মলিন অঙ্গুলি। ওকে তো...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
কোনোদিনই পাবে না আমাকে—
চন্দ্ৰমল্লিকার মাংস ঝরে আছে ঘাসে 'সে যেন এখনি চলে আসে' হিমের নরম মােম হাঁটু ভেঙে কাৎ পেট্রলের গন্ধ পাই এদিকে দৈবাৎ কাছাকাছি নিজের মনেরই কাছে নিত্য বসে আছি। দেয়ালে দেয়ালে হাটের কাচকড়—কুপি অনেকেই জ্ব...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
একা গেলো
চুম্বন করিনি আগে, ভুল হয়ে গেছে গ্রহণ করিনি আগে, ভুল হয়ে গেছে তেমন বাসিনি ভালাে, ভুল হয়ে গেছে বিসর্জন দিতে আজ গরম পাথর বুক ভেঙে ওঠে পাথরে পাথরে লেগে জেগেছে চিক্কুর মুখময় অই যেন জলপ্রপাতের প্রসন্ন আ...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
আমার ছায়া আমায়
আমার ছায়া আমায় করে আঘাত! ভিতরে যাই বাহিরে যাই তখন করে আঘাত, যেন সে চায়, আমার মরে যাওয়া.... যেন সে চায়, আমার ফাঁকা হাওয়ায় দুহাত তুলে একক জেগে থাকাই... আমার ছায়া আমায় করে আঘাত! ওদের ছায়া আমায়...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
বুকের কাছে
হলদে বাড়ি তোমার প্রতিবিম্ব আমার নয়তো তার আকাশ থেকে যে--বাড়িটা সরে যাচ্ছে দূরে বাঁশবাগানে,বাঁশের শান্তি নষ্ট করছে খুঁড়ে আকাশভরা তারার টর্চলাইট ভৃঙ্গার হলদে বাড়ি তোমারও নয়, আমারও নয়,যার তার কাছে চলাফেরা...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
এই বসন্তে বৃষ্টি হবে
আমার যে সব লক্ষ্যগােচর তুমি আমায় এমনি ভাবাে শিখর থেকে নখ অবধি পারলে এক লহমায় খাবাে— যেমন খেতাে বক রাক্ষস, সাল - পুরােনাে ম্যাজিকঅলা আমার বুকের ওপর ভিজছে, তাই ভেজেনি বুকের তলা— এই কি তােমার বৃষ্টিবাদ...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
ভাত নেই, পাথর রয়েছে
বছর-বিয়োনী মেঘ বৃষ্টি দেয়, বজ্রপাত দেয়– ডোবা’র রহস্য বাড়ে, পদ্মপাতা দীঘিতে তছনছ। শিকড়, কেঁচোর মত, জীবনের অনুগ্রহ পায়, পায় না মাথায় ছাতা, এত হাতা ভাতের মানুষও! মানুষ বারুদ খুবই ভালোবাসে, ধূপগন্ধ যেন আক...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
শাক্য
তন্ময়তার মধ্যে একটি গোলা–পায়রার ছানা মুখ থুবড়ে পড়লো কোলের উপর ধরবো বলে দুহাত এবং চারহাত বাড়িয়ে দিলাম বাতাস হাতড়ে ফিরলো দুহাত শূন্য কোলের উপর বাঁচতে পারলো না, শাক্য, গোলা–পায়রার ছানা কপিলাবাস্তু ছাড়লো ...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
অবসর নেই – তাই তোমাদের কাছে যেতে পারি না
তোমাকে একটা গাছের কাছে নিয়ে দাঁড় করিয়ে দেবো সারা জীবন তুমি তার পাতা গুনতে ব্যস্ত থাকবে সংসারের কাজ তোমার কম—‘অবসর আছে’ বলেছিলে একদিন ‘অবসর আছে – তাই আসি |’ একবার ঐ গাছে একটা পাখি এসে বসেছিলো আকাশ মাত...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
একটি কবিতা ছিলো
একটি কবিতা ছিলো দামি আর সব বছরের টানে-আসা দিনের মতন তুচ্ছ… যেন একটি বাড়ি আর সব বাড়ির ধারায় গড়া নয়, যেন স্বয়ংসম্ভুত প্রেমের মতন স্পষ্ট, স্পষ্ট নয়, রহস্যের বশে মরচে-পড়া দুঃখের আধুলি একটি কবিতা ছিলো দামি...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
পুরনো নতুন দুঃখ
যে-দুঃখ পুরনো, তাকে কাছে এসে বসতে বলি আজ আমি বসে আছি, আছে ছায়া, তার পাশে যদি দুঃখ এসে বসে বেশ লাগে, মনে হয়, নতুন দুঃখকে বলি যাও কিছুদিন ঘুরে এসো অন্য কোনো সুখের বাগানে নষ্ট করো কিছু ফুল, জ্বালাও সবুজ ...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
প্রিয় রামকিঙ্করদাদাকে
কোথাকার তরবারি কোথায় রেখেছে? এই হিংসা, এই পাপ মরকতমণির সংহার কে রেখেছে?--- লুকিয়ে রেখেছে। ভালােবাসা-অচ্ছােদসরসী! স্নান গান রূপবান মেঘে কার অন্ধকার থেকে কে যে চলে ঋলিত আবেগে আগুপিছু তার অন্ধকার থেকে ...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
এক দেশে সে মানুষ
এক দেশে সে মানুষ এবং অন্য দেশে পোকা দেখতে দেখতে গাছ ভরে ফুল ফুটলো থোকায় থোকায় কোন করুণায়? কার করুণার টানে? এর মানে কী মানুষ শুধুই জানে! আমার মধ্যে একবারই তার ভুলে- আপাদমাথা উন্মাদনা দাঁড়ালো চুল খুলে, ...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
মেঘ ডেকেছে
মেঘ ডাকছে, ডাকুক আমার কাছেই থাকুক ভালো থাকবো, সুখে থাকবো-- এই বাসনা রাখুক। কষ্ট হয়তো একটু হবে, এই তো ছিরির ঘর আমার কাছে অল্প সময় বাইরে অতঃপর-- বৃষ্টি ভালো লাগছে যখন, পদ্মপাতায় রাখুক। ওইটুকু তো মেয়ে ছো...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
মজা হোক
তোমায় একটা লাল বুলবুলি কিনে দেবো, ঢেউয়ের মতন ঝুঁটি তার এখন একটু চুপটি করে বসে থাকো আমি একটি হাত টেবিলের তলা দিয়ে বাড়িয়ে দিয়েছি, সেই হাতে ভুবন ধরার মতো তোমার পদতল ধরে রাখো আমিও চুপটি করে বসে থাকবো তুম...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
চাঞ্চল্য, তোমাকে আমি
চাঞ্চল্য, তোমাকে আমি রাত-ভিতের স্তব্ধ বাগানের মাটির গভীরে, নিচে রেখে আসি দিই এক টুকরো কানি, রসকরা এবং পেয় জল চাঞ্চল্য, তোমাকে আমি বাগানের নথ, শিকড়ের পাহারায় রেখে আসি,কারাগারে,ফাটকে. পুলিশে… তালকানা ব...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
সাম্প্রতিকী ১৯৬৬
১ বুকের মধ্যে চাষ করেছি একপো প্রেমের ধান তার আবার খাজনা কত কার যে সর্বনাশ করেছি স্বতই সন্দিহান সে-ভুলের বাজনা কত মিষ্টি ফলের তেষ্টা আছে, বাজারে তাই টান সে কি কেউ কিনতে পারে আলোর মধ্যে বসে দেখছি জীবন ছ...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
তুমি শুধু নহো তোমারি আপন!
চৈতন্যে আমার উড়ে পড়েছে শিমুল মন জানে — হয়েছিলো ভুল ডিসেম্বর মাসে বনের প্রতিটি পাতা মাথা নাড়ে সুদীর্ঘ বাতাসে। ' প্রকৃতির থেকে তুমি দূরে গেছো চলে '— বলেছে সে — ' শীত শেষ হলে একবার এসো তুমি ফিরে, বসন...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
ভস্ম অবশেষ
আমাকে তুমি যত চিঠি লিখতে ভালোবাসার ভাষায়, আমি সমস্ত এক পুরাতন সিন্দুকে রাখতাম তুলে। দীর্ঘ জীবন আমাদের অবশ্যই তার চেয়ে অল্প ছোটো ছিলো আমাদের ভালোবাসার কালাকাল তুমি অনেকবার অনেক অরণ্যে গিয়ে বাস করেছো বা...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
নিঃশব্দচরণে প্রেম
নিঃশব্দচরণে প্রেম এসেছিলো দুয়ার মাড়িয়ে--- ঘরে ও ঘরের বাইরে তখন ছিলো না অন্ধকার আলো ছিলো, ভালো ছিলো--ছিলো তা, যা থাকে না কখনো একটি মানুষ ছিল সুন্দরের অপেক্ষায় বসে -- নিঃশব্দ চরণে প্রেম এসেছিলো দুয়ার মা...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
আশ্চর্য নতুনভাবে দেখা হয়েছিলো
কবরখানার থেকে হিমঘুম জাপটেছে সড়ক। এখন দুপুর, রোদ - জ্বালা ধুন্ধুমার কাণ্ড করে পিছলে যায় ট্যাক্সি - গাড়ি, চোখ মুদেছিনু কেন ভুলে দু খুলে হাহাকার, ওকে বাম থেকে ডানে যেতে দেখি, হঠাৎ সুমুখ দিয়ে পার হয়...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
জানিনা কোথায় শব্দ
এ জলে নেভানো শব্দ, কার মতো আমূল, অংশের প্রসঙ্গে মেলাবে মুখ? কালো কয়লা টুকরো যে অগ্নিকে ধরে রাখে, তার মতো ? নাকি তাম্রকূট নীল বিষ নিশ্চিন্ত শিশিরে পড়ে মুছে যায় চোখের আড়ালে… মানুষের মৃত মুখ জানি পাব...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
চতুর্দশপদী কবিতাবলী - ৫৩
মানুষের পাশে দেখি শুয়ে আছে প্রিয় মানুষের সমাধি — সবার কাছে পরপার অঙ্গাঙ্গি এমন! অসংসক্ত, স্বাভাবিক মানুষ দেখেছি আমি ঢের সুখী মানুষেরে আমি দেখে গেছি অনেক, জীবনে সকল মানুষ দৃঢ়চিত্ত নয়, কিন্তুু ছায়াবাদী ...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
ইসাবেলা
সোনালি পােকাটি তুমি দেখেছাে কি অঘ্রানের মাঠে ? ধান নাই—ধানের দেহও নাই ঠিক আছে এক দেহাতীত সুষমা ধানের অর্থাৎ তােমার মতাে অঘ্রান, জন্মের মাস, তােমাকে নিজের মতাে ভালােবাসি ইসাবেলা , তুমি কত ভেঙেছাে ডালিম...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
কাটে দিন, দেয়ালে ঢুকিয়ে সিঁধ
দীর্ঘদিন তার কাছে, ছেলেবেলা থেকে তার কাছে মানুষ হয়েছি আমি, তার পাঁশঢিবির উপরে খেলেছি অনেক খেলা, কোষে বিষ করেছি লেহন মরিনি, শিখেছি বাঁচতে, জিভ দেগে-গেরস্থের ঘরে মানুষ হয়েছি আমি, একবার মানুষই থাকতে চাই।...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
কাল রাতে জাগিয়ে রেখেছিলো আমায় পুরানো চাঁদ
কাল সারারাত অতিশয় স্বপ্নে স্বপ্নে বিদ্যুচ্চমকে জাগিয়ে রেখেছিলো . আমার পুরানো চাঁদ পাল্লাদাস ক্ষণে ক্ষণে আমায় সেই স্বপ্নছায়াময়ঘুম থেকে জাগিয়ে বলেছিলো এই তো গ্রীসদেশ, এখানে কেউ ঘুমায় না— তখনই চাঁদ অস্পষ...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
দুজনের কেউ
পাতার ভিতরে আছে সবুজে - হলুদে আছে দীর্ঘ রেশারেশি। কে কাকে কখন কোন সুযোগে দাবিয়ে দিয়ে হবে নিরঙ্কুশ! এ যায় ছায়ার কাছে, এ যায় রোদ্দুরে। এ যদি পেতেছে হাত, ও হাত বাড়িয়ে দেয় দিগন্তের দিকে ... কোন হা...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
জঙ্গলের মধ্যে ঘর ঈশ্বর গড়েন
বৃষ্টিতে ডুয়ারস খুবই পর্যটনময় ! মেহগনি-বীথি পার হলে পাবে দোতলা বাংলোটি কাঁটাতার বেড়া-ঘেরা সবুজ চাদরে ঘাস বড়ো উচ্ছৃঙ্খল এখন, এখানে | তাকে ঘিরে আছে কিছু রুদ্রাক্ষের গাছ ছাতার মতন কৃষ্ণের দেহের বর্ণময় ...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
ভুলভাবে সাজিয়েছে
ভুলভাবে সাজিয়েছে রহস্যময়তা কবিতাকে! কবিতাকে কেন যেন অবিচল থাকতে দিয়েছে--- না, আমার পদ্য নয়, পদ্য জানে রহস্যের খড়, তা চিবোয় সারাদিন সারারাত নিভন্ত যৌবনে। এ-বৃদ্ধ সমান দড় কবিতা ও পদ্যকে বাঁচাতে, কুমারী ...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
আমি সুখী
ভুলে ভুলে ভুলে যাই, কোনােদিন মধ্যদুপুরের রৌদ্র পিঠে বয়ে তােমার উদ্দেশে, শুধু একঝলক বিমূঢ় চোখের পক্ষপাত পাবাে বলে একঢাল সবুজ পাতার গায়ে রক্তচক্ষু ফুলের চমক দিতে পারবাে বলে ঐ আপার চাইবাসা…চলে যাই আজ ...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
অগ্নিশিখা - রক্তাক্তহৃদয়
বাগান এখন দেয় চন্দ্রমল্লিকার উপহার। ডালিয়া ফোটেনি আজো, ছোটো গাছপালা হয়ে আছে। আরও কিছুদিন যদি শীত থাকে সে- কামনা করি— তাহলে ডালিয়া ফুটবে , ফুটবে ফুল দুচার মরসুমী, এখন বিদেশ থেকে আনা লিলি পাতা বিছিয...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
পথে যেতে কষ্ট হয়
পথে যেতে কষ্ট হয়, পথের একপাশে বসে থাকি। গভীর গাছের নীচে বসে থাকি যেন শুকনো পাতা- পাতার মতন থাকি, কষ্ট পাই, বাতাসের হাতে, উড়ে যেতে পারি বলে ভয় পাই, পুড়ে যেতে পারি। পথে যেতে কষ্ট হয়, পথের একপাশে বস...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
ইস্টুপিড
মনে মনে তার অনেক দুঃখ, এমন একটা কথা ভাবতুম আমরা। কেউ শেখায়নি ভাবতে কেউ বলেনি, ঐ যে লােকটাকে দেখছাে, ওর দুঃখের আর অন্ত নেই লােকটা কারুর কথায় রা কাড়তাে না নিজে-নিজেই কথা কইতাে? তাও না। তবে? লােকটা কথ...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
বনের মধ্যে মনের মধ্যে
সারাটা দিন টুকরাে করে ছড়িয়ে দিচ্ছি বনের মধ্যে যেমন কাগজ টুকরােগুলাে যেমন পাতা, গাছের মাথা ছড়িয়ে দিচ্ছি সারাটা দিন বনের মধ্যে রাস্তাগুলাে ঠাণ্ডা সবুজ তৃণে - ঢাকা মনের মধ্যে রাস্তাগুলাে ছড়িয়ে দিচ্...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
আমার দরকার
একটু হাওয়া আসুক, আমি গা খুলে বসি একটু বৃষ্টি আসুক, আমি হাত পেতে দাঁড়াই একটু- একটু করে তুমি এগিয়ে এসো তাহলেই আমি ঘর ছেড়ে পথে বেরিয়ে পড়তে পারি। এখন আমার এসবই করার দরকার একটু টাকা--পয়সা আসুক, আমি তার ওপর...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
বলো না অন্তত
ফুলের উপর শয্যা তাহার নামটি ফুলের মতো, কী হয় আর কী হতে পারে বলো না অন্তত। পারুল জারুল কোথায় যে হুল --- বলতে তুমি পারো? যে বাড়ি যাই সে --বাড়ি নাই বন্ধ ছিল দ্বারও! ভুলের উপর শয্যা তাহার নামটি ভুলের মতো,...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
আমাকে আর এ্যালকোহলিক
অধরে অস্পষ্ট হাসির অন্তরালের কুয়োতলায় তৃষ্ণা আমার ষোলকলার স্নান সেরেছে সর্বনেশে পাতালপুরীর রহস্যে ঠিক আর আমাকে এ্যালকোহলিক যায় কি বলা? অধরে অস্পষ্ট হাসির অন্তরালের কুয়োতলায় তৃষ্ণা আমার ষোলোকলার স...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
মানুষ আমিও নই
মানুষ আমিও নই মানুষের সমস্ত কঠোর রীতিনীতি নিয়ে আমি সাশ্রু সে-মানুষ আমি,সমস্ত বর্জিত পাছে সে হারায়! পাছে সে হারায় কিছু.... কিছু নয়,সে হারায় কিছু কী যে সে হারায়? জানিনা সে -----  ...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
জন্মে থেকেই মাটির ওপর
জন্মে থেকেই মাটির ওপর আছাড় খেয়ে পড়তো ফাটতো মাথা ছিঁড়তো হাতা জামার উঁচুয় উঠে ভয় পেতো সে নামার নামতে গিয়ে বন্ধ চোখে হোঁচট খেয়ে পড়তো। এমনি করেই ভাঙতে-ভাঙতে ভাঙতে-ভাঙতে কবে দিন ফুরোলে সন্ধ্যা যখন হবে একাক...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
হলুদ অসুখে
বারান্দার পাশাপাশি ঘর থেকে আমাকে বিদায় করেছে ঘর, এখন বাহিরে, বারান্দায় ঝরে পড়ে হলুদ অসুখ! এ-অসুখে সূর্যালোক অত্যন্ত জরুরি । সারারাত জ্বর হয়, অসহ্য কামড় গ্রন্থিতে-গ্রন্থিতে, হাড়ে, মজ্জায়-মজ্জায়...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
ধর্ম
পুবের বাতাসে নড়ে ধর্মের কল আমায় ধরেছে হিন্দুর আফজল তুই স্বাধীনতা চাস? হৃদয় , হয়নি তবু কি সর্বনাশ? উল্লোল আঙ্ রাখা রক্তের খেদ রয় কি ধূলায় ঢাকা ? মৌলানা চন্দন বললাে ‘ এ - যুগে ধর্মই প্রাণমন— আমি য...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
সন্তান বাঘিনী রক্ষা করে
সাধারণভাবে স্নেহ আমারও কাটে না। অথচ আমার মতো স্নেহহীন পিতাকে দ্যাখেনি কেউ, কোনোদিন, আহা ছিলো জ্বর অবোধ কপালে তা দেখে ওষুধ আনতে গিয়ে, আমি নিরুদ্দেশে গেছি ভেবেছি, আমায় যদি না দ্যাখে, ও পরিত্রাণ পাবে। ...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
চঞ্চল পাখায় পড়ে
চঞ্চল পাখায় পড়ে মেঘ বৃষ্টি -জল উড্ডীন সন্ন্যাস তব হলাে না সফল হে বিরহী উড়ে যাও পরপারে অস্তিত্বের বিপন্নতা বহি আমি হেথা পড়ে থাকি একা বৃষ্টিতে উচ্ছন্ন যায় দেখা গ্রাম, বনস্থলী হে সন্ন্যাসী সেদিনের ন...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
যাবার সময়
শামপানে ফেড়েছে, ও কে কলকাতার গলি? গলিভর্তি কালাে জল, শক্ত যেন সিংভূমের মাটি মাটি ঠিক নয়, কষ্টিপাথরের বুক ভরে জল ... পড়ে শাদা পৈতে কোনাে ব্রাহ্মণের কাঁধ থেকে নিচে আকাশের দিকে চোখ তােলাে, দেখবে কাঁধে...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
চতুর্দশপদী কবিতাবলী —৫০
আমার আত্মার ক্লান্তি দিতে পেরেছিলাম তােমায় হে জাহাজ ক্লান্তিহীন, হে জাহাজ অনুধাবনীয় প্রকৃত প্রসঙ্গহীন, হে জাহাজ তােমারই মায়ায় কাটাবাে এ - মনঃপ্রাণ — তুমি এসে বিবরণ দিও : কতগুলি দ্বীপ ফেলে গেছাে পা...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
রাত্রি শেষ,আসে পরদিন
টিকোমা-হলুদ আজ বাগানে একপাশে, অন্যদিকে মুসান্ডার গোলাপি সমাজ, সামনে নম্র দেবদারু, দুপাশে সুপারি, মাঝে দূর্বাঘাস যেন পেতেছে গালিচা, বিকেলে ওখানে বসে চা পান এবং সেদিনের ডাক খোলা— কাছে-দূরে দু'তরফ চিঠি র...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
আত্মচিত্র
মৃত্যুকে সমস্ত ঘরগুলোয় ঘুরিয়ে আনলে আমি একবার তোমায় দেখবো ভেবেছিলাম, প্রেম, অন্ধকার যমুনাপুলিন। আজো বাজাও পরজনবিলাসী মৃদঙ্গ ? তোমরা কি সুখে আছো ? যারা বধির ? আলোর আবর্তে যাই ভেবে উঠে দাঁড়িয়েছিলাম ---- ...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
তোমায় আমি ভোগ করেছি
শুনেছি খুব অসুখ তোমার, শুনেছি খুব যাবার সময় তোমার কাছের একটু-আধটু প্রেম-নিবেদন করবে পাছে তাই বলেছি, বয়ঃসন্ধি। তাই বলেছি শক্ত গাছের, কাছেই ছিলে, এতই নতুন, বলেছি তাই বয়ঃসন্ধি। জানতে না তো ভালোবাসার শেষ ...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
জন্ম কোনো মৃত্যুকেই
মৃত্যুর ভিতরে এক মূর্তি আছে তরুণ তাপস যে সর্বদা চক্ষু মুদে বসে থাকে স্পন্দনবিহীন চতুর্দিক ঘিরে থাকে, ক্রমাগত ছোটো হয়ে আসে ... সে -ই এক আদিম জ্যোৎস্নার মতো অপরূপ নীলাভ শ্যাওলা গাছের ছায়ার মধ্যে মিশে ...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
তরণী এবং যাত্রী চলেছে
পদ্মের পাতাও আমি সইবো না বুকের উপর। এ - ই কী তোলপাড় চলছে নদীর কনিষ্ঠে, দ্যাখো চেয়ে ব'লে, হাতে টান মারে স্বর্ণলতা, দ্যুতিময় নারী। আমরা কী বুকে নেবো। আমরা কি বলো আমি ... তুমি তো নিয়েছো স্বর্ণ, গোক্ষ...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
পঁয়ত্রিশ বছর পর, ঘুরে আসে
অঘ্রাণের দুটি তারা তেমন স্বতন্ত্র নয় তারাদের মতো নয় দূর, ব্যবধানভরা, শূন্য আকাশে, দুদিকে ... পৃথিবীর মধ্যবিত্ত ঘরে শুয়ে তারকা দুজন কথা বলে, একজন জন্মদাতা অন্যটি জাতক অঘ্রাণে, হেমস্তসূত্রে এসে খেলা ...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
বৃষ্টির বাগানে
জলভরা মেঘ ঘোরে সারাদিন আমার আকাশে। বৃষ্টি পড়ে বাগানের প্রতি পাতা ফুলে, মার্জনীয় অপরাধ করে এসে রুক্ষ খোলাচুলে, প্রেমিকও তো বৃদ্ধ হবে একদিন আমার মতন। আমার নিকটে কিছু পাবার প্রত্যাশা নেই তার--- সুতরাং চল...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
কোন পথে
একটা বিষয় গোড়া থেকেই স্থির থাকা দরকার— কোন পথে? কোন পথে গেলে আর আমাদের ফিরে আসতে হবে না। চৌকিদারির অভাবে ভিটে - মাটি ভদ্রাসন সব কিছু চুলোয় গেলে পা ছড়িয়ে কাঁদতে হবে না। আমরা, যারা একবার বেরিয়ে এস...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
নিবিড় ভালোবাসার দিনগুলো
নিবিড় ভালোবাসার দিনগুলো তোমার কাছে মেলে ধরতে ইচ্ছা হয়, ইচ্ছা হয় যাবো পাহাড় তাকে ডাকছে তাকে নদীর মতন সাপটে ধরছে বুকে। অনেকদিন একই ছন্দে পায়ের মাপে বাড়ি ফিরছো একই নৃত্যে ঘুরছো — থামছো পুরানো চেনা মেজের ...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
চাঁদ মুক্তি পেলো?
পুরনো বাড়ির আলসে খসানো হয়েছে। নিচের পাটির দাঁত খুলে নিলে মুখশ্রী তামাম বদলে যায়, মাড়ির উপরে নকল দাঁতের সারি অনিবার্যভাবে পুরাতন অনুষঙ্গ আনে না, যা পলকে বিশ্বস্ত মনে হবে। নিজের বাড়িটি আজ চেনাই মুশ...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
জন্ম কোনাে মৃত্যুকেই
মৃত্যুর ভিতরে এক মূর্তি আছে তরুণ তাপস যে সর্বদা চক্ষু মুদে বসে থাকে স্পন্দনবিহীন চতুর্দিক ঘিরে থাকে, ক্রমাগত ছােটো হয়ে আসে ... সে-ই এক আদিম জ্যোৎস্নার মতাে অপরূপ নীলাভ শ্যাওলা গাছের ছায়ার মধ্যে মিশে...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
খেলনা
পাবাে না কখনাে তারে আর, একবার পেয়েছিনু, যেন বাল্যে খুব দূরদেশে গর্ভের সমান কাছে বারেবার আসা তার হয় না কখনাে জানি তবু ডাকি-ডাকি খেলনা খেলনা দাও ভাঙি ছুঁড়ে দিয়ে দেয়ালে বা দেয়ালের অনেক উপরে। কী নীল...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
চতুর্দশপদী কবিতাবলী —৫৯
এত অপমান করো তবু কেন রয়ে যেতে চাই তোমার প্রচ্ছায়ে প্রিয়? হয়তো আষাঢ় গেছে থামি নির্জন কান্তারে আজ। জন্ম দেয় গাভী তিক্ত যীশু শতাব্দীতে একবার আপাদমস্তক হতে নামি তোমার চুম্বন পাই শেষরাতে বিদায়ের আগে। এখন ব...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
কবিতা কলকাতা খেলাঘরে
কবিতার মধ্যে খুবই উপদ্রব সম্প্রতি বেড়েছে। কোনো গুপ্তচর শব্দ মুহূর্তে ভণ্ডুল করে দেয়, উজ্জ্বলে মলিন করে ক্ষয়া ও খর্বুটে বর্ণমালা পাইকার এবং করে সমস্তরকম নাশকতা সজ্জা, সিঁড়ি, প্লীহা ফাটে, চোরাজল নিশ...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
গাছ কথা বলে
গাছের ভিতর গিয়ে বসি আমি সন্ধ্যায় সকালে--- প্রতি গাছে জল দিই, ফুল দেয় পরিবর্তে গাছ। এই দেওয়া-নেওয়া চলে অনুচ্চারিত মৃদু প্রেমে, গাছ ও মানুষে বোঝে এই প্রেম, আর কেউ নয়। গাছের ভিতর গিয়ে বসি আমি সন্ধ্যায় সক...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
তোমাকেই মনে পড়ে
তোমাকেই মনে পড়ে আজ নীল হেমন্তের রাতে মাথার উপর চাঁদের অসংখ্য চালাঘর তুমি বলেছিলে—ঐ দেশ একদিন হবে নির্বিশেষ তব রাজধানী সেদিনের কথা চাঁদ নিয়ে করে আজো কানাকানি ! তুমি কি সন্তুষ্ট নও আর এ-ভুবনে কত চমৎকা...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
বাগানে কি ধরেছিলে হাত
যবে হাত ধরেছিলে হাতে এ-প্রাণ ভরেছে অকস্মাতে সকল বিস্ময় তখনই তো ধ্বংসের সময়, তখনই তো নির্মাণের জয়। তোমার হাতের মাঝে আছে পর্যটন- একথা কি খুশি করে মন একথা কি দেশ ঘুরে আসে স্মরণীয় বসন্তবাতাসে! এবার হলো না...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
রাগের কথা
আগের কথা হয়নি তােমায় বলা আগের কথা কিছুই ছিলাে নাকি ? এমন ছিলাম সকালবেলা থেকে গভীর, মরা, ভাঙা - মেঘের মতাে ? রাগের কথা হয়নি তােমায় বলা কেবল চেয়ে অমল মুখপানে তিরস্কার নিভেছে মৃদুদীপ কোথায় হায় চলছ...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
তিন পাহাড়ের কোলে
অন্ধকারে তিনপাহাড়ে ট্রেনের থেকে নেমে, হাওয়া বিলাসী তিন জোড়া চোখ আটকে গেল ফ্রেমে। জনমানবহীন স্টেশন, আকাশ ভরা তারায়, এমন একটি বেশি আসলে সক্কলে পথ হারায়। পথ হারিয়ে যায় যেদিকে, সেদিকে পথ আছেই, ঝরনা,...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
মানুষের অক্ষমতা নিয়ে
মানুষের অক্ষমতা নিয়ে কোনো রহস্য কোরো না! কেননা , মানুষ বড়ো কষ্টে আছে , সীমাবদ্ধ আছে, মানুষের আপনার জন তাকে পিছু টেনে ধরে , এগোতে দেয় না , শুধু কাছে রাখে কৃপণের মতো | ভিখারির ভাঙা সানকি যেভাবে রেখেছে ...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
আমিই তােমাকে বসতে শিখিয়েছি
তােমার সঙ্গে তৎক্ষণাৎ সম্পর্ক ছেদ করে দেবাে— যদি দেখি দিনদুপুরেই জ্বলন্ত লণ্ঠনে ডুবিয়ে মুখ তুমি বসে আছাে বসে আছাে যেভাবে পাথর বসে থাকে গা ছড়িয়ে পাথরের ভেতর বসে আছো — আমিই তােমাকে অমনভাবে বসতে শিখিয...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
বদলে গেছি
জঙ্গল পাহাড় ডাকে, স্থির হয়ে আছি। নদী ও সমুদ্র ডাকে, স্থির হয়ে আছি॥ মনে হয়, এই বিছানা ছেড়ে আমি কোথাও যাবো না, জঙ্গল পাহাড় নদী নিয়ে আসবো আমার বাগানে — জানলা দিয়ে দেখবো রোরো, শ্বেতপলাশ সেগুনমঞ্জর...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
অবিশ্বাস্য
যেন গাছের তলার ছায়া বক্ষোদেশ স্রোতেপীড়িত ভাণ্ড আকাশে কার ধনুক আঁকা আছে আমার বাঞ্ছা শিরশ্চুড়ায় সাপ। চুম্বিত হও বিষুবরেখার নিচে অই ভূমিতল নিম্নতম গুল্ম যুগ্মতা কি গভীর আন্দোলন তােমায় দেবাে প্রিয়জন...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
এইভাবে
কলকাতার উপকণ্ঠে শুয়ে আছি যেন অবসৃত, মানুষের মূর্তি হয়ে শুয়ে আছি যেন অবসৃত, জঙ্গলের মেহগিনি, দামি, অতিমূল্যবান গাছ । শুয়ে শুয়ে মেঘ দেখি জানলার লোহা-ফ্রেমে আঁটা। অন্তরালবর্তী পর্দা মেঘ দেখলে দুহাতে...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
সাময়িকতা
ভেবেছিলাম তােমার বয়স হয়নি, ফুলের বয়স কেননা, আমি তােমায় ফুটতে দেখিনি কোনােদিন মেঘ ফুটেছে, রােদ বৃষ্টি এবং অন্যান্য ফুলগুলাে তােমায় ফুটতে দেখিনি তখনাে বুঝেছি তােমার বয়স হয়নি একদিন রাস্তা দিয়ে যে...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
বিরহে যদি দাঁড়িয়ে ওঠো
আসলে কেউ বড় হয় না, বড়র মতো দেখায়। নকলে আর আসলে তাকে বড়র মতো দেখায়, গাছের কাছে গিয়ে দাঁড়াও, দেখবে কতো ছোটো সোনার তাল তাঙড়ে ধরে পেয়েছো ধুলিমুঠো। ভালোবাসার দীঘিতে কত করেছো অবগাহন, পেয়েছো সুখ দুঃখ আর ছলে ...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
চতুর্দশপদী কবিতাবলী - ২৩
আবার জ্যোৎস্নায় ফিরে আসিব কি, আরাে একবার জ্যোৎস্নায়, আঁধারে নয় — অবাস্তব রুপালি জ্যোৎস্নায় আবার আসিব ফিরে? মনে পড়ে, মােটে সত্য নয় এমন মিথ্যারে ভালােবাসিতাম দীর্ঘকাল ধরে। সেই ভালাে হতাে যদি কোনাে...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
বলা যায়?
খিড়কিপুকুরের মতো সমুদ্র পেয়েছি এবার গোপালপুরে। বারান্দার নিচে শুরু তীর, কাঁকড়া তুলেছে কলকা সারিবদ্ধভাবে। মাখন নরম বালি মাড়াতে-মাড়াতে ছোটে একপাল শিশু সহসা জলের দিকে নৌকা নেই কাটামেরন মামানো যায়নি...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
যাবো, যেতে হলে ঠিকই যাবো
বাগানে বেগুন, আহা কোন রাঙা তরণী তোমার যদি করো আমি ভেসে যাবো কূলে ও সৈকতে কূলবাসী পাবো, যদি মনে হয়,অরণ্য যাবার প্রয়োজন,তাও যাবো, কিন্তু, কূলে দেবোও প্রণতি কিন্তু যাবো মিথ্যে নয়, যাবো, চলে যেতে হবে বলে,...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
প্রকৃতির কাছে ফেরো
প্রকৃতির কাছে ফেরো,মানুষ যেভাবে ঘাস খায় রোজ, কিছু শস্তা বলে, স্বাস্থ্যকর বলে তুমিও সেভাবে ফেরো ঘাসের গুচ্ছের ভিতরে পা মেলে বসো,লোভে-তাপে সবুজ নরম করো ঘাস, নুন খাও অবশ্য পৃথিবী ভারি নোনা — রক্তে অশ্রু...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
কষ্ট হয়
আমার ভিতরে কাঁদে বর্ণচোরা শিশু এসে মৃত্যুর আহ্লাদে কাঁদে, কথা বলে, কাঁদে। কুয়াশা, মেঘের ফাঁদে চাঁদ মানুষেরই যেন অপরাধ মানুষেরই শুধু অপরাধ! দৃষ্টি ও দর্শন আছে ব'লে মানুষের উচ্ছিষ্ট কম্বলে ধরে লোভ,হিংসা...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
সমার্থক
মায়া করবো কলঙ্কিনী বৃথাই এখন ভালোবাসতে আসা বৃষ্টি পাঠায় বদল আহা ঝড় ভাসালো শান্ত পাখির বাসা ধুলোয় ধুলোয় দুচোখ অন্ধ নাছদুয়ারে দে দোল বন্ধ পলাশ স্বার্থ পলাশ শুনি শিরায় আগুন জ্বলে বৃষ্টি আমায় ভেজায় না সই ...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
পৃথিবীরই ব্যাপকতা
এ নয় নগরে যাওয়া পথ খুঁড়ে গৃহেরই পশ্চাতে কিংবা কখনোই নয় জেগে থেকে বসন্তের রাতে কোকিলের কণ্ঠ শোনা। এ যেন সমস্ত কিছু ছেড়ে বাসনায় ভেসে-আসা, কুলাকূলে নৌকা তবু ভেড়ে! মনোভূমি ছেড়ে এসে বনভূমি আমাকে কী...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
আমরা সকলেই
সমস্ত সকালবেলা ধরে কারা আমাদের হারানো দিনের-গল্প বলে গেলো সমস্ত সকালবেলা ধরে কারা আমাদের উঠতে বললো না কেবল বললো বসে বসে শোনো তোমরা তোমাদের সেই দিনগুলি যা তোমরা পিছনে ফেলে রেখে এসেছিলে তা কেউ কুড়িয়ে ন...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
স্থায়ী
রেখেছিলাম পদচ্যুত নূপুরখানি যখন তুমি চাইবে জানি অনন্যোপায় — দিতেই হবে অনুভবে অবিনশ্বর থাকবে কেবল পা দু'খানি। নূতন জন্ম হয়েছে যার চণ্ডালিকা সে দিতে চায় লিখনিকা মরণপ্রিয় — যেতেই হবে অনুভবে আভূমিতল থ...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
যৌবন থেকে বামে
যেখান থেকে গিয়েছিলাম সেখানে ফিরে আসি পথের ধারে, পোড়ো জলার বুকের কাছে ভাসি আমি শালুক অনভিজাত ; ঝিলের বাঁকা পথে পঞ্চদশ কলসি চলে আমি সে-ফুল হতে পারিনি, আহা নীলকমল লালকমল ভাই এই যে-পথ শোলার খেত বাদামপাত...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
প্রত্যাবর্তিত
নিরস্ত্রের যুদ্ধে যাই শস্ত্র হয় মন। অন্ধকার পিতার চোখ, আকন্দের আঠা চুইয়ে পড়ে মায়ের গালে, ধাতুর দর্পণ আমাকে করো ঘাতক, বেঁধো তীক্ষ্ণধার কাঁটা চক্ষে আর জিহ্বা কাটো অঙ্কুরের বাশে আমাকে দাও হত্যা করি আমার ...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
ও গাছ, আমাকে নাও
গাছের ভিতরে যদি যেতে পারি একবার জীবনে নিজেকে লুকিয়ে রাখতে, মুহূর্তের জন্যে হলে রাজি। একটি মুহূর্ত আমি একা চাই, জল নয় কাঠ ও পাথরে প্রতিশ্রুতিহীন কাঠ আমাকে নিজের করে নেবে। বহুদিন থেকে এই সামান্য বাসনা ন...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
দুঃখের আঁধার রাতে
চোখের নিচে ধরে রাখতে পাংশু মুখচ্ছবি যেন নবীন আলাে হয় না, দোলায় না মন চতুর্দিকে এই পুরানাে দরজা বন্ধ, ঘরও বন্ধ আনন্দ হে পিছনে দ্যাখাে সুখে ছিলাম কী উজ্জ্বল সে মুখচ্ছবি। বুকের নিচে মৃদু দুলছে শােকার্ত...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
পিছনে যাবার রাস্তা নেই
শাদা বালি অব্যর্থ হাড়ের রঙ বনের ছায়ায়, মানুষের মহিমার কাছে দায়ী নদীপারে নিভৃত কঠিন বাংলাে সিঁথি-সিঁড়ি সব পড়ে আছে পিছনে যাবার রাস্তা নেই। পাহাড়চূড়ার খড় সর্ষেফুল কানাভাঙা ক্ষেত &nbs...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
বাঁচাতে পারবো না
প্রতিটি আঘাত থেকে আঘাতের বাহিরে দাঁড়ালে লাগে না আমার ভালো। অনেকে তো বলেছে দুষমন! পদ্য লেখে ? কিংবা পদ্য ফিরি করে দরজায় দরজায়— অথচ আমার দুঃখ এই যে, তোমরা হেরে গেলে! কিছুতে একটি পংক্তি সাজাতে পারলে ন...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
আঞ্চলিক প্রেম তার পথঘাট
আঞ্চলিক প্রেম, তার পথঘাট প্রশস্ত এখনো পুরোনো দিনের মতো গাড়ি চলে, শস্তায় সুদিন বিক্রি হয় ক্লাশ-ছেড়ে আসা বই 'জমে থাকে স্মৃতির গুদামে এখনো সকলে আছে ঠিকঠাক বারান্দায় বসে যেন জলে, বয়সে পা ভেজা আর তুম...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
তােমাকে আমার কাছে
তােমাকে আমার কাছে পেলে দেখি হাওয়ায় ভেসেছে নীল লাবণ্য দিগন্ত জুড়ে সে - ধারাবাহিক শান্তির মতাে তােমাকে আমার কাছে পেলে আমি নীল লাবণ্য পাহাড় - শিখরে, অগ্রগণ্য। যেন তুমি আছাে বহুদূর কোন দুর্গে অথবা পাত...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
আলেখ্য
বাহিরে যত অন্ধকার ভালােবাসার দুর্গ ভেবেছিলাম হৃদয় এ কী স্ফটিক ফ্যালাে চতুর্দিকে বিচ্ছুরিত আলাে বাহুবিলীন প্রচ্ছায়া সে ছায়ার সতীন, গােপনে যাহা দিলাম… লুটায় ফুল লুটায় মালা অবহেলার দলিত দান কালাে ভে...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
অন্ধ আতুর
যেন সে এক অন্ধ আতুর পথের মধ্যে দাঁড়িয়ে বলে : আমায় সকল বিপদ থেকে মুক্ত করাে কী কৌশলে দৃশ্যে তােমার চোখ ত ধাঁধায়, আমার মতন একমুখীনে কেমন করে করলে মানুষ , দেশান্তরী ... রাত্রিদিনে ? পথের মধ্যে দাঁড়ি...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
নরবলি
যদি পারো চলে এসো, ঘর ছেড়ে বেরুনো বারণ। বড়জোর পায়চারি করার নির্দেশ আছে ঘরের ভিতরে, দেয়ালের চারিদিক ফুটো করে ওরা চোখ রাখে যাতে না পালিয়ে যাই, মানুষের চোখে ধুলো দিয়ে রাস্তায়, ফিটনে উঠে কলুটোলা কপা...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
সন্ধ্যে হয়ে এল
সন্ধ্যে হয়ে এল আজ, এ বাড়ির থেকে যেতে হবে কেউ তো কোথাও নেই, যদি আসতো এ বৃদ্ধবয়সে দেখতাম তাদের মুখপানে কেউ চেয়ে আছে কিনা সেদিনের স্মৃতি নিয়ে ঘরে বা ছাদের পরবাসে। সামনে ইস্টিশান,আর মাস্টারেরও বাড়ি আছে দূ...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
এবার আমি ফিরি
এবার আমি ফিরি ফেরার কুতূহলে এবার আমি ফিরি ফেরায় কামনায় অনেক হলো দিন অনেক হলো বলে এবার আমি ফিরি ফেরার কুতূহলে এবার আমি ফিরি ফেরার কামনায় অনেক হলো দিন অনেক হলো হায় দিনের বেলা ঘরে, ঘরের বেলা দিন রাতের মে...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
এদেশ যাবো না ছেড়ে
বারান্দায় পড়ে আছে নারিকেল পাতার ছায়ায় তোমার আভাস দূরের সবুজ মাঠে সাঁতার দিতেছে রাজহাঁস সারাদিন ভেবে করি ঠিক এদেশ যাবো না ছেড়ে— পেলেও শালিখ ! এদেশে এসেছি বহু খুঁজে সমুদ্রে পাহাড়ে মুখ গুঁজে ক্রমবর্ধমান ...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
ওরা মানুষের থেকে বড়ো হয়ে আছে
গাছের ভিতরে কিছু ভেদাভেদ আছে। শালের জঙ্গলে নেই অন্য কোনো গাছ তা কি শুধু শোভা, শুধু সৌকর্ষ একক, নাকি শাল অন্য কোনো সংস্রবে বাড়ে না, একাকী জঙ্গলে বাড়ে, মরেও একাকী। শুধুই বার্ধক্যে নয়, বাজ প'ড়ে মরে ত...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
মন্দিরে কে জেগে আছে
মন্দিরে কে জেগে আছে একা দেবতা, না মানুষ— দুজনই? মন্দিরের বাহিরে চাতালে, হিমঘুমে অসংখ্য মানুষ । হাঁড়িকাঠ, খাঁড়া ও জহ্লাদ জেগে আছে মন্দিরে মন্দিরে রক্তের বিষণ্ণ ধারাগুলি মিশে গেছে ধুলোতে-বালিতে। মন্দিরে...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
আমি চাই
মাঝে মাঝে স্পষ্ট কোনো ধ্বংসের ভিতরে আমি ঢুকে যেতে চাই যেখানে নিষিদ্ধ যাওয়া, সেখানে সার্কাসে—ব্যর্থ, ভাগ্যহত আরেক ক্লাউন দর্শক কীভাবে বসে ? খেলা দ্যাখে, বগল বাজায় ? মাঝে মাঝে — এতো স্পষ্ট, রোদ্দুর পুড়ন...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
এখানে জন্মের
এখানে জন্মের কিছু দাগ রয়ে গেছে অত্যন্ত সহজে জলে, রেললাইনে আর পেয়ারাবনের ফাঁকে, সবেদার গাছে এখানে জন্মের কিছু দাগ রয়ে গেছে। কীভাবে উঠেছে সিঁড়ি ? এপাশে আঁতুড় অন্যদিকে সিঁড়িঘর সটান উঠেছে তন্নিষ্ঠ ছাদে...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
বস্তুর গ্রন্থনা থেকে এইভাবে
বস্তুর গ্রন্থনা থেকেই মুক্তি পেতে হবে মুক্তি তাে দেবার নয়, নিতে হবে প্রত্যক্ষে ছিনিয়ে অথবা গােপনে কোনাে মুক্তির মাধ্যমে প্রাপ্য তার অবিসংবাদী প্রেম, উপটৌকনের মতাে মেঘ যারা ভেসে আসে কোনাে খােলা মাঠে,...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
এখনি মূৰ্ছিত হই মুখ ধ'রে
এখনি মুর্ভূিত হবাে মুখ ধরে, অবয়ব ধরে ; আচ্ছন্ন চাঁদের পিঠ, সরে সরে যেয়াে না নিয়ত। কী নিয়ে একান্তে থাকি চেতনার বাতায়ন - পারে— সে কি নিঃসরণে শূন্য মনে মনে গােলাপের মরা। সুন্দর, সুন্দর ফুল, মিছে তব ...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
একটি পরমাদ
বহুকালের সাধ ছিলো তাই কইতে কথা বাধছিলো। দুয়ার খুলে দেখিনি-ওই একটি পরমাদ ছিলো। যখন তুমি দাঁড়াও এসে আন্ধারে- রোদ্দুরে ভেসে হাসির ছটা ভুলিয়ে গেলো-ভিতরে কেউ কাঁদছিলো। বহুকালের সাধ ছিলো, তাই কইতে কথা বা...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
ধ্বনি
দুদিকের মৃত্যু তাকে টান দেয় অন্ধকারে চোর গৃহস্থ সজাগ ক'রে শুধু স্থায়ী দরজা পেতে চায়? নাকি চায় সদর-খিড়কির স্থির পার হয়ে নতুন ভাঙচুর? পাঁচিল? নিষ্ক্রান্ত ডাল - সত্যের সীমানা পার-হওয়া ? দুদিকের মৃত্যু তা...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
সাজাবে আমাকে
উত্তরের থেকে আসা সেই ধূপ আমাকে সাজাবে সাজানো কঠিন বড়ো, তবু ধূপ, সাজাবে আমাকে ধারা ও যন্ত্রণা, সেই তার মতো, জানানো কঠিন উত্তরের ধূপ আজ আমাকে সাজাবে। মানুষের খুব কাছ থেকে এই নির্যাতনময় জ্বালাতন দেখে আসি...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
নূতন করে কি বাঁচা সম্ভব হবে?
বসতি আমার ছিলো দক্ষিণ গাঁয়ে ভাঙা দেউলের পাশে আজ নির্জনে সমগ্র ভেসে আসে বরবধূ চলে ময়ূরপঙ্খী নায়ে বসতি আমার ছিলো দক্ষিণ গাঁয়ে । পুবেও গিয়েছি পশ্চিমে ছিলো বাসা— ধানের মরাই ছিলো না কি ঘরে-ঘরে ? কাছ ক...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
কেন?
কেন অবেলায় যাবে ? বেলা হোক , ছিন্ন করে যেও সকল সম্পর্ক ! যেন গাছ থেকে লতা গেছে ছিঁড়ে একটি বিষণ্ণ লোক থাকে যেন হাস্যময় ভিড়ে কেন অবেলায় যাবে ? বেলা হোক , ছিন্ন করে যেও সকল সম্পর্ক ।...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
এখনো নিঃসঙ্গ কেন?
এখনো নিঃসঙ্গ কেন ভিড়ের মাঝখানে? ভিড় তো তোমাকে চায়, অরণ্যও চায়। সেখানে কি একটি গাছ একা থাকে, অবসন্ন থাকে? বোঝো এ-থাকার মানে ভিড়ের ভিতরে? বোঝো কিছু— এরই নাম অসুস্থতা, হলুদ অসুখ, এর থেকে পরিত্রাণ পেতে গে...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
সরোজিনী বুঝেছিলো
দুপুরে আধার ঘর – মেঘে ঢাকা বিস্তৃত আকাশ সরোজিনী চুরি করে নিয়ে যায় শাদা রাজহাঁস হয়তো বা বৃষ্টি হবে, হয়তো বহিবে হাওয়া বেগে মুখের অগ্নি কি তবে সরোজিনী ঢেকে ছিলো মেঘে? মাঠের উপরে শাদা হাঁসগুলি চরেছিলো একা...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
দু’জনের জন্যে
দু’জনের জন্যে এই স্বেচ্ছানির্বাসিত বনবাস গরুমারা বাংলোখানি জঙ্গলের গভীর টিলার উপরে, ঘোমটা পরে আছে- মুখ দেখবো বলে সমতল থেকে আমরা উঠে এসে দুয়ারে দাঁড়াই। পাটাতন তুলে নাও, পরিখা সজাগ করে দাও যাতে হাতি প...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
চতুর্দশপদী কবিতাবলী - ৩৬
আশা ছিলাে সন্তানের উৎপন্ন চুলের পরে হাত রাখা যাবে, আশা ছিল —এরকমতর ছিলো আশা সংসারে ও চৌরাস্তায় ন্যাংটার মুখশ্রীখানি দেখে একদিন অন্ধকারে নিজহাত রেখেছি মাথায়। সেইদিন অন্ধকারে লক্ষ লক্ষ নারীরে জানিয়ে ...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
শেষরাতে
শেষরাতে বৃষ্টিতে গভীর শব্দ হয় গৃহপতনের পচা খড় মাটির পাঁকের মিশ্র এক গন্ধের আবেগে মানুষ সংসার করে জেগে আঁশটে দেহ টেনে এনে বুকে রাখে, তখন স্বপ্নের মশারির কোণ ছেঁড়ে, বালিশে ছারপোকা পতনের পার থেকে হেঁকে ব...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
একটি তাঁবুর মাঝে
একটি তাঁবুর মাঝে আমি কোনো মহিলার নয় দুপুরের অরণ্যের ভিতরে যখন জেব্রা ডাকে সাড়া দেয়, দূর হতে সাড়া দেয় স্কুলের ঘণ্টায় মুণ্ডাদের শ্যামল ও চিক্কণ ছেলেরা বনভাগে। কখনো জাহাজ হতে অরণ্যের অতিবৃষ্টিপাত হ...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
সন্ধে হয় না
বহুদিন হলো ঘুরে -ঘুরে এক জায়গায় যাচ্ছি ঘুরে-ঘুরেই যাচ্ছি খবর পাচ্ছি নতুন কিছু নেই ---সবই পুরানো আনো আনো দু-দশটা লোকজন সঙ্গে আনো তাহলেই জায়গাটা বদলে যাবে খাবে-দাবে লেজ ঝোলাবে ডোঙা বাইতে পারো? ডোঙা? চির...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
দুই বাংলাই রইলো না কাছাকাছি
নদী থেকে নদী পার হতে ভয় লাগে কে জানে কোথায় দ্বীপের বসতি জাগে বলে — ‘এসো আমি বহুদিন বসে আছি। গ্রাম থেকে গ্রাম পার হতে ভয় লাগে হয়তো বিদেশি যায়নি সেখানে আগে সুতরাং,‘থাকো,যেভাবে আমরা আছি।' নিজেদেরই দ...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
ধীরে ধীরে
ধীরে ধীরে যেভাবেই হোক বদলে নেবো বদলে বদলে নেবো | মানুষ মানুষে গাছে গাছ সিংদরজা আনাচ-কানাচ বদলে নেবো বদলে বদলে নেবো ধীরে ধীরে যেভাবেই হোক বদলে নেবো ছেঁড়াখোঁড়া ইজেরের ফুটো কনুই পর্যন্ত ভাঙা মুঠো বদলে ...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
মানিনী বর্তমান
ছিটেবেড়ার দেয়াল ঘিরে ঝকঝকে ঘর ছোট্ট উঠোনখানি একটু সবুজ ঢলঢলে পুঁই, তার মধ্যেই সুখ বেঁধেছো সখি নিপুণ নাবালিকার মতো, চোখের তীরে কাজলরেখা টানি, দুয়োরে পা ছড়িয়ে বসে কাপড় হতে তুলছো করুণ পাখি। একা থাক...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
মন্দিরের থেকে বহু শতাব্দীর অন্ধকার
মন্দিরের থেকে বহু, শতাব্দীর অন্ধকার আজ বেরিয়ে পড়েছে পথে এক অংশ ঢুকেছে জঙ্গলে বাদুড়ের মতো ঝুলে রয়েছে গাছের ডালে ডালে কিছুটা আঁধার গেছে মিশে ঐ সবুজ পাতায় পাতাকুড়ানিরা কিছু অন্ধকার ঝুড়িতে রেখেছে শ...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
এই বাংলাদেশ ছেড়ে
এক মুর্খ, তার কাছে মানুষের ঘনিষ্ঠ মন্দির অবিবেচনার মতো শুকনো চোখে দৃষ্টি ফেলে–রাখা দেখা নয়, শুধু কিছু দৃশ্যের মতন ক্ষিপ্র চাল চঞ্চল প্রেক্ষিত জুড়ে পড়ে আছে। এই স্নেহমাখা বাংলাদেশ ছেড়ে যদি যেতে হয়, মুর্...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
প্রেম
অবশ্য রোদ্দুরে তাকে রাখবো না আর ভিনদেশি গাছপালার ছায়ায় ঢাকবো না আর তাকে শুধুই বইবো বুকের গোপন ঘরে তার পরিচয় ? মনে পড়ে মনেই পড়ে । চিরটাকাল সঙ্গে আছে—জড়িয়ে লতা শাখার, বাহুর নিমন্ত্রণকে ব্যাপকতা ব...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
আমরা কোথায় এখন
আমরা কোথায় এখন দাঁড়িয়ে আছি জানি না কেউ এপার-ওপার পুড়ছে নীল আগুনে, নদীতে ঢেউ বলো, জোয়ার আছে? এ–এ মাঝি, জোয়ার আছে? পাল ছিঁড়ে আজ চল না সবাই চল না মাঝি পারের কাছে এ-এ চল না পারের কাছে ভয় কি আগুনে ...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
মানুষ কীভাবে মরে
মানুষ কিভাবে মৃত হয়ে আছে, নিজেও জানে না! জানে না বলেই মৃত, তার উপর বৃষ্টি দেয় মেঘ- বান দেয়, টান দেয়---কাছে থেকে দূরে নিয়ে যাবে এটুকু শপথ তার, স্মৃতি বলে রাখবে না কিছুই, ফটোগ্রাফ, পা দুখানি, কোনোভাবে আ...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
ঋত্বিক, তোমার জন্য
এখন নিশ্চিন্ত, মৃত আর ভয় দেখাতে আসবে না সুদুরের পথে ফেলে দীর্ঘ ছায়া দাঁড়াবে না দ্বারে ভিতরে ভাঙবে না অস্থি, ঘরবাড়ি – সন্ন্যাসী-সংসার কিছুই করবে না যাতে মানুষের পাপস্পর্শ আছে আছে আছে বলে তুমি, যেখানে য...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
এখনাে মানুষই পারে মানুষের শত্রুকে হারাতে
নিষ্ঠুর হিংস্ত্রের চেয়ে মানুষের প্রবৃত্তিই বড়াে আজ, এই দেশে, এই জনারণ্যে, সংস্কৃতিসংকুল চেতনার রং রক্ত সবই লাল , সবই রুদ্ধশ্বাস ... শুধু তার মধ্যে এক অনাবিল সান্ত্বনা রয়েছে এখনাে মানুষ পারে মানুষের...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
ভালোবাসার আপন সুদিন
একটা দিনের মধ্যে আমার সমস্ত দিন থুবড়ে থাকে যেমন লোকটা কবরখানার গর্তে গোপন ঢেকেছে মুখ ঠিক তেমনি জুড়ে থাকে হাজার দিনের মধ্যে দিনটি ভালোবাসার আপন সুদিন উচিত ব’লে দাও আমাকে দাও আমাকে পাতায় চেরা আকাশ থে...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
ধর্মের সোপানগুলি কাঁদে
ভক্তের পায়ের স্পর্শে ধর্মের সোপানগুলি কাঁদে। প্রতিমা একাকী থাকতে চায়— কোনো ভক্তই বোঝে না, কবিত্ব-অসুখে ভুগে প্রতিমা একাকী থাকতে চায়; অন্তত একদিন ওকে ছুটি দাও, ও ভক্তমণ্ডলী— ভক্তের পায়ের স্পর্শে ধর...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
আমি স্বেচ্ছাচারি
তীরে কি প্রচন্ড কলরব ‘জলে ভেসে যায় কার শব কোথা ছিল বাড়ি ?’ রাতের কল্লোল শুধু বলে যায় —‘আমি স্বেচ্ছাচারী |’ সমুদ্র কি জীবিত ও মৃতে এভাবে সম্পূর্ণ অকর্কিতে সমাদরণীয় ? কে জানে গরল কিনা প্রকৃত পানীয় অমৃত...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
কবিতা লেখার ক্লান্তি
কবিতা লেখার ক্লান্তি আমি আর বইতে পারবো না তার চেয়ে এই ভালো ধুলোমাখা মণ্ডপের শপ্ গুছিয়ে সনেটে তোলা, মহাপ্রভু গেছেন রোদ্দুরে জুড়োতে পাথর তাঁর ... এইমাত্র লুট হয়ে গেলো মহাপ্রভুতলা শান্ত, ভক্তেরা সুন্...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
পাতাল থেকে ডাকছি
স্পর্ধার মৃত্যুই শ্রেয়, তুমি ভ্রান্ত পুণ্যের কৌতুকে আমারে নিতেছাে টানি, আলিঙ্গনবিহীন দুর্গম … বামে বা দক্ষিণে আহা প্রেম দুঃস্থ পাংশু রসাতল উপস্থ ব্যাধির পােকা, কৃমি, পুঁজ, রক্তপাত বুকে আমারে ভালােই ব...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
মৃত্যুর ভিতরে আছে
মৃত্যুর ভিতরে আছে অদ্ভুত সাঁতার। জলের ভিতর দিয়ে ডানা দুটি ভেজা, আকাশ বিষন্ন নয়, বরং ফিরোজা, মৃত্যুর ভিতরে আছে অদ্ভুত সাঁতার। সঞ্জীবিত দুটি হাত জীবনের শ্রম ছিনিয়ে সে-হাত করে পাথর অক্ষম। স্মৃতি ভালোবাসা...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
আজো আমি
তোমার কি হয়েছে সময়– বাড়ি যাবে? কোন দেশে পৌঁছেই জানাবে বিদায় বিদায় তোমাকে তো সকলেই চায় তোমাকে তো সকলেই চায় কোন ইস্টিশানে গেলে ভালো হয় তোমার এখন কোন গাড়ি আজো আমি তেমনই আনাড়ি আজো আমি তেমনই আনাড়ি ভালোবেসে...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
দুঃখী গাছ, পাতাশূন্য গাছ
গাছে কোনাে পাতা নেই, এলােমেলাে ডালপালা আছে ছিলাে পাতা, উড়ে-পুড়ে গেছে, প্রকৃত সময়ে গেছে, ঠিকমতাে গেছে যেভাবে সমস্ত পাতা চলে যায়, সেইভাবে গেছে কোনরূপ অন্যথা করেনি। বাধ্য ছেলেটির মতাে চলে গেছে স্কুল ...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
শেষদিনে
হৃদয়ের মধ্যে ক্ষুধা , এতােদিন পর--- এতােদিন বাসযােগ্য ছিলাে না কি ঘর? হৃদয়ের মধ্যে ক্ষুধা, এতােদিন পর। দিনের দ্যোতনা শুরু, সংক্রান্তির শেষ--- ভিতরে বাহিরে ছিলে তুমি অনিমেষ। দিনের দ্যোতনা শুরু, সংক্র...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
ভালোবাসায় ভুল
প্ৰভু হে এই অবোধ চায় এবার ছেলেবেলা তেমন করে লাটিম নিয়ে ঘোরায় বটমূলে তেমন করে মাঠের পর মাঠ পেরোবে দুলে কোমর ভরে জড়িয়ে পোড়া নীল অতসীর মালা। তুমি অনেক মন্ত্র জানো, আড়াল-বনের রাজা আমার দোষের দোষ হয...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
এবার আসি
সবাই বলতো পিঠে একটা কুলো বেঁধে নাও চলো পাঁচনবাড়ি উঁচিয়েই আছে মারের ডগায় সদাসর্বদাই এগিয়ে যেতে পারবে চলো যেতে যেতেই এপাশ-ওপাশ দেখা যাবে মাঝ বরাবর রাস্তা রাস্তা বলতে সাপ-নাগালে উঠি-মুঠি আলপথ তাতে পা দি...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
অথ নয়ন-কুসুম কথা
মায়ের সঙ্গে থাকতাে ছেলে আমড়াতলায় খাপড়া চালের ছোট্ট বাড়ি, রােদ ঢােকে না। উঠোন ভ'রে থাকতাে শাদা সজনেফুলে মৌমাছিরা গুনগুনাতাে ধিন্ তা ধিনা। চক্ষু দুটি না তাহার জন্ম থেকেই কষ্ট করে হাঁটতে হতো দেয়াল ...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
অন্তত বেদনা থেকে বড়ো
অন্তত বেদনা থেকে বড়ো কিছু চাই, যাতে হাত সম্পূর্ণ আঙুলগুলো তারই মধ্যে স্বস্তি পেতে পারে মুঠির শূন্যতা পারে পূর্ণ করতে আশ্রয়-শিবির অন্তত বেদনা থেকে বড়ো চাই সংঘাত বিখ্যাত। অর্থাৎ তোমাকে চাই, তুমি বেদনার ...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
মৃত্যু পরে হবে
মৃত্যু পরে হবে। আজ এই রাত্রে মৃত্যুই হবে না। দীর্ঘদিন পরে আমি হয়েছি মৃত্যুর কাছাকাছি ---- দীর্ঘদিন বেঁচে আছি, আরো কিছুদিন যেন বাঁচি মৃত্যু পরে হবে। কিছুদিন লজ্জাহীন বেঁচে থাকা তাও তো সম্ভব? মৃত্যুতে ক...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
আমার বুকের ভিতর
মধ্যিখানে শুয়েছিলেন দুখের করাত তাতে আমার কেটেছে পা, অন্ধকারে চিড় খেয়েছে আলোর বরাত সেই ভরসায় --- জীবনযাপন এবং নৌকো টলোমলো, আমার বুকের ভিতর তোমার মুখটি তোলো।। (কাব্যগ্রন্থ: অঙ্গুরী তোর হিরণ্য জল)...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
টবের ফুলগুলোকে দাও
পুঞ্জ পুঞ্জ মেঘ করে, কার্নিশে ছড়ানো লাল জামা এইবার তোলো, নয়তো ভিজে যাবে উদ্ভূিত পশলায় ফুলের টবগুলোকে দাও সিঁড়ি থেকে ছাদে টেনে ফেলে মাটিতে ছড়াতে দাও ইতস্তত ভ্রষ্ট এর মূল : নয়তো কী দিয়ে বাঁধবে শি...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
নিমন্ত্রণ আছে
অনেক দিনের পরে তোমার দেখা পেলাম তোমার ঘরে তুমি কাজের মানুষ সিঁড়ি লাগাও চাঁদের গায়ে, ওড়াও ঘুড়ি ফানুশ এমনি কাজে নানা তোমার ঐ কুশলী হাত আমারে তালকানা করেছে, তাই ঘুরে বেড়াই নিজেরই অন্তরে তোমার কত ঘরে নিম...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
কবিতার সত্যে
কবিতার সত্যে আমি একঝলক মিথ্যের বাতাস লাগাই, কী পালটে যায় কবিতার সত্য একদিনে? তাহলে সত্যের নেই সেই বুঝ, সেই দাঁড়সাঁতার, সত্য নয় শিশু, নয় রাজনীতি, নয় মুথা ঘাস! সত্যই নিষ্ঠুর—এই শুনে আসছি নিরবধিকাল ...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
ভালো লাগে
উল্লেখযোগ্যতা তাকে নিয়ে গেলো সমুদ্রের তীরে। সেখানে রুপোলি মাছ বালুকায় ধুলোয় পেতেছে ছিন্নভিন্ন রূপ যেন ভাঙা আয়না নিকটে ও দূরে ঝাউ গাছ থেকে পাতা উড়ে আসে হেমন্তে, হাওয়ায়— উল্লেখযোগ্যতা তাকে নিয়ে ...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
এলিজি ৩
মধুক্ষরণের মতো প্ৰেম [ঋত্বিক ঘটক স্মরণীয়েষু] মৃত্যুর ভিতরে তবে পরিত্রাণ ছিলো ! বেঁচে-বর্তে থাকা নিয়ে বিড়ম্বিত ছিলে আজীবন । আলোকস্তম্ভের মতো আলো দিয়ে দেখাতে তীরের কতো কাছাকাছি আছো, পদতলে ডুবন্ত পাহ...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
মনে কি তোমার
মনে কি তোমার এখনো লাগেনি দোলা চিল্কার জলে ভাসালাম গণ্ডোলা জ্যোৎস্না হয়েছে ঘোর শুধু দাঁড় বলে—রুপোর পাহাড়–তুমি চোর আমি চোর! মনে কি তোমার এখনো ওড়েনি পাখি যতবার তাকে আনমনে বেঁধে রাখি উড়ে যায় দূর বনে...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
আমি সন্ন্যাস নিয়েছি কৌতূহলে
এই ত সময়, তুমি বলেছিলে, আজ প্রাণ হতে প্রাণে যােগাযােগ হবে শুরু তুমি যদি ধরাে টোড়ি আমি খাম্বাজ প্রিয়তমা দেখি ভাগ্যের বাঁকা ভুরু। মিলন হবে না কোনােদিন কোনাে রাত তুমি যাবে শীতে মিহিজাম, মধুপুরে গােলাপ...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
বৃষ্টি চাই
পাহাড়ের বৃষ্টি নেই। শুকিয়ে যাচ্ছে সেগুনমঞ্জরী এই খরা এই দাবদাহে এলিয়ে পড়েছে ঝোরা শুকনো ঘাসে– ঘাসে কুয়োর শীতল জল চলে গেছে সুদুর পাতালে মানুষ হাঁড়িয়া খেয়ে পিপাসা মেটায় ! জঙ্গলে এসেছি শান্তি পাব...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
চতুর্দশপদী কবিতাবলী - ২৭
একভাবে চিরদিন সমাজের সেবা করে যাওয়া অনেক আদরণীয় মনে হয় — আমার যে দিন ভেসে গেছে, ভেসে যাক; নূতন গাছের অধিপতি এসে যে- গাছের ' পরে শুয়ে রবে সে–ই তার গাছ— এরাও নিরভিমান আত্মীয়ের দেখাশুনা করে, আমাদের ...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
জরাসন্ধ
আমাকে তুই আনলি কেন, ফিরিয়ে নে । যে-মুখ অন্ধকারের মতো শীতল, চোখদুটি রিক্ত হৃদের মতো কৃপণ, তাকে তোর মায়ের হাতে ছুঁয়ে ফিরিয়ে নিতে বলি | এ-মাঠ আর নয়, ধানের নাড়ায় বিঁধে কাতর হ’লো পা | সেবন্নে শাকের শরীর ম...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
অবসর নেই-তাই তোমাদের কাছে যেতে পারি না
তোমাকে একটা গাছের কাছে নিয়ে দাঁড় করিয়ে দেবো সারা জীবন তুমি তার পাতা গুনতে ব্যস্ত থাকবে সংসারের কাজ তোমার কম---' অবসর আছে ' বলেছিলে একদিন " অবসর আছে---তাই আসি।" একবার ঐ গাছে একটি পাখি এসে বসেছিলো আকাশ ...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
শুদ্ধসীমার জন্যে
এতক্ষণে শুদ্ধসীমা থেকে যাত্রা করি--- শুরু, এতক্ষণে আমি মাঠঘাট পার হয়ে এসেছি। অশুদ্ধ সীমায় আমি ছিনু দীর্ঘদিন, দীর্ঘদিন বাদে আমি শুদ্ধসীমা পাবো। সেখানে রয়েছে সব বন্ধু পরিজন পুরনো প্রেমিকা আছে,সন্ততি সকল...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
আনুষ্ঠানিকভাবে অমলকে আক্রমণ
অনন্তসমুদ্রে এসে খোঁজ পাবো, অমল অমল চতুর্দ্দোলা–বধু আছে দক্ষিণ দিগন্তে কোনোখানে, নিভৃত আসনে, যতো কোলাহলহীন মঞ্জুরীর শেষ দেখা হয়ে গেল ফলগুলি নষ্ট হতে থাকে মানুষের মেধা, প্রাণ এইভাবে নষ্ট হতে থাকে পুনর...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
কি সেই সম্পদ, সুখ?
মানুষ অরণ্যে কিছু পেতে যায়, শুধু পাতা নয়— নির্জনতা নয় শুধু, বনফুল, হিংস্রতাও নয়। মানুষ ঝর্ণায় কিছু পেতে যায়, শুধু নয় জল— পতনের শব্দ নয়, নুড়ি ও পাথর নয়, তারো কিছু বেশি। কিন্তু ঠিক যাচ্ঞা তার ...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
ও চিরপ্রণম্য অগ্নি
ও চিরপ্রণম্য অগ্নি আমাকে পোড়াও | প্রথমে পোড়াও ঐ দুটি পা দুটি যা চলচ্ছক্তিহীন, তারপর যে-হাতে আজ প্রেম পরিচ্ছন্নতা কিছু নেই | এখন বাহুর ফাঁদে ফুলের বরফ, এখন কাঁধের ‘পরে দায়িত্বহীনতা, ওদের পুড়িয়ে এসে ...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
ঘট থেকে জল পড়ে
যেন ঘট থেকে জল, ঘট কাত হলে, সেইমতো শব্দ পড়ে অর্থবহ ঘরে বারান্দায়,--- পরতে পরতে জমে একবার পদ্য হয়ে ওঠে। জল পড়ে আঁকা বাঁকা জল পড়ে ধারাবাহিকতা মেনে, জলশব্দ পড়ে ঘরে বারান্দায়,---- হলুদ পাতায় হলুদ পাতাকে ক...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
সারা রাতের মধ্যে আমার
সারা রাতের মধ্যে আমার অন্ধ চোখ দুবার ফুটেছে তোমার মুখের ভালোবাসার নীল-হলুদ জোছছনা দেখতে সারা রাতের মধ্যে আমার অন্ধ চোখ দুবার ফুটেছে সেই ফোটা তো ফুলের মতন বকুলগন্ধ ছড়াতে নয় শোভার উৎস ঝর্নাধারা এমন কর...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
জল পড়ে
সূর্য যায়, সূর্য ডুবে যায় তখন দরজায় জল পড়ে কে যেন ছড়ায় শাঁখ বাজে ধূপধূনা পোড়ে কয়েকটি বাদলপোকা কেন যেন ওড়ে ? ওদিকের মাঠে হাঁটে চাষা আকাশেও সোনালি বাতাসা জল পড়ে বুকের ভিতরে দুরন্ত বাদলপোকা ঘুরে ঘুর...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
দেখা হলে বজ্রপাত!
লক্ষণীয় এই বজ্রপাত ! ছিলে তো কটকে তাই হয়ে উঠলে ঋণী— ঘনিষ্ঠ, আপন হয়ে ছিলে তো জঠরে অর্থাৎ পাশের খাটে । নিলাম তোমাকে, শুধু বলবে ওর কথা— কেমন প্রশান্তি তার সাগরবন্ধনে, শুধু বলবে ওর কথা, প্রকৃত কী ক্ষীণ হয়...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
একাকী পুড়ো না
দুদিন বেড়াতে এসে পুড়ন্ত বিকেলে -- কেনো পোড়ো? কথা দিয়ে কথাগুলি জোড়ো--- কেনো পোড়ো ? এদেশ তোমার খুবই চেনা, সেকথা কি জানো না? তুমি জানো। সুন্দর সন্ধ্যায় ডেকে আনো যাকে ভালোবেসেছিলাম একদিন সন্ধ্যায় ও রাতে। ...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
এখানে কবিতা পেলে গাছে-গাছে কবিতা টাঙাবো
একটি সভায় আমি গেছি বসে কাঠের চেয়ারে --- সম্ভবত টিন, যার রং লাগে প্রত্যেকের পিছে তাই দেখে পথচারী গোয়েন্দার চোখের মতন মেয়েদের চোখ হয়, মেয়েরা কী যেন ভাবে তাকে… এ বাবা গেরস্ত নয়, আলাভোলা, কবির আত্মীয় হয়তো...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
ছুটি ছুটি একান্তই ছুটি
চেতনা মেঘের মতো ভাসে দিন যায় সন্ধ্যা নেমে আসে জেগে থাকে করতল মুঠি ছুটি ছুটি একান্তই ছুটি। এবার বর্ষার জলধারে সমতল ছেড়েও পাহাড়ে যাইনি — যাবো না কোনোদিনও হৃদয় আকণ্ঠ বৃষ্টিহীন। তুমি থাকো, তুমি থাকো ক...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
এক হতচ্ছাড়া যুদ্ধ চাই
আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধেছে আমার ক্ষুধা আর প্রাণপণ গাছের শিকড় যেন আমি মাটি, যেন কলকাতার প্রধান সহ্যের রাস্তা, যেন আমি দেড়বস্তা রাক্ষুসে বাচ্চার জন্যে দুধহীন মাই খুলে রেখে বসে থাকি আর দাঁত চিবোয় চামচিকে মাংস...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
মানুষ বড় সস্তা
ছেলেটা খুব ভুল করেছে শক্ত পাথর ভেঙে মানুষ ছিলো নরম, কেটে, ছড়িয়ে দিলে পারতো । অন্ধ ছেলে, বন্ধ ছেলে, জীবন আছে জানলায় পাথর কেটে পথ বানানো , তাই হয়েছে ব্যর্থ । মাথায় ক্যারা , ওদের ফেরা যতোই থাক রপ্ত নিজের...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
নতুন হাটে
নির্লিপ্ত সোহাগ করে কবরের কুঁচগাছদুটি বৃদ্ধ ঠোঁটে পরিয়েছে নকল তেজের রং লাল সারাদিন ঝমঝম বৃষ্টি ঝরে ভুতুড়ে শাখায় ছুঁতেও আসে না কেউ মরলে লোকে সৈদাবাদ যায় কপাটে রঙের গন্ধ ঝকমকে চাঁদের কাপড়ে ফিরেছে জমির ট...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
চলো যাই তার কাছে
ভাঙা সিঁড়ি । কে ওপারে যাবে ? দুই আলুথালু ছেলে মূর্তিমান দুটো দশকের রক্ত নিয়ে, তেজ নিয়ে, নিষ্কলুষ মনুষ্যত্ব নিয়ে কথা বলে। কার কথা?কথা যেন নিজেরি ভিতরে কথা, যার মানে নেই, শব্দ—যার অত্যন্ত বন্ধুর মাঠ...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
কারনেশন
প্রভেদ জটিল, অবগুন্ঠিত সড়কে চাঁদের আলো তাকে দিয়ো অই ফুলটি কারনেশন। কতদিন তার মুখও দেখিনি, চেনা পদপাত পিছল অলক কালো ও-ফুলের কথা ব’লো না কাউকে বুড়া মালঞ্চ, মায়াবী সকাল ফিরে এনেছে কে, কে মঞ্জরীর অস্বচ্...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
একেকটি দিন আসে
একেকটি দিন আসে যাদের সঙ্গে কিছুতেই এঁটে ওঠা যায় না হাঁটতে হাঁটতে চলকে পড়ে কখনো নিঁভাজ ফিঙেটি হয়ে বসে থাকে টেলিগ্রাফ-তারের ওপর দূরে, মাঠের পরপারে দাঁড়িয়ে আছে গোরুর পালের মতো শাদা-কালো মেঘ এ মেঘে বৃষ্...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
তার ডালপালা আমার চৈতন্যে
সারাদিন আমি দিনের অন্ধকারে বসে আছি সন্ধে হলেই চাঁদ উঠবে চাঁদ উঠলে আমিও উঠবো মাঠের পাশেই নিচু আলের পথ পথের ওপর ইঁদুর- মাটি ভিজে -ভিজে তবু কেমন গা- সওয়া হয়ে গেছে। আর কিছুক্ষণ হাঁটতে হবে ঝাঁকড়া- মাথা ...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
ছুঁয়ে যাচ্ছে
ছুঁয়ে যাচ্ছে মাথা, গাছের পাতা–শিরিষ পাতায়। ঢেকে যাচ্ছে মাথা আমার কী আলস্যে— সবুজ বৃষ্টিভেজা পাতায় ঢেকে যাচ্ছে আমার মাথা কী আলস্যে! আকাশ ভরে আছে মেঘে পাতার ভিতর বাতাস স্নেহে বয়ে যাচ্ছে নিরুদ্বেগে, ...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
ছায়ামারীচের বনে
হৃদয়ে আমার গন্ধের মৃদুভার, তুমি নিয়ে চলো ছায়ামারীচের বনে স্থির গাছ আর বিনীত আকাশ গাঢ় সহিতে পারি না, হে সখি, অচল মনে | হারা-মরু-নদী কী দুঃখ অনিবার ভরসা ফলের পাত হৃদে বড়ো বাজে গহন শোকের হাওয়া ঘেরে মরি...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
একটি দুটি ঝিনুক আছে
একটি দুটি ঝিনুক আছে আমার করতলে! বিবাহে যাকে বন্দী করে সুনিশি এক হাওয়ায়, ছেড়ে যাওয়ার গ্রন্থে থাকে চারদিকের পাওয়া, প্রেমের আর অপ্রেমের সমস্ত সম্বলে একটি দুটি ঝিনুক আছে আমার করতলে! কী করে আছাে? চিরক...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
বাকি
পাথরের জন্যে নয়, নদী ঝর্না—তারও জন্যে নয় আমি আসি ডালপালা ভালোবাসি বলে তার নিচে দাঁড়িয়ে দেখার লোভ থেকে, আসি ভালোবাসি সবুজ পাতার মুখে ধুলো ফুলগুলো। যখনই সময় পাই, আসি টের পাই পাতা ঝরে গেছে গজিয়েছে ...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
পরমেশ্বর তুমি
আমার জিরাফই শুধু লাগে ভালাে, তােমারে লাগে না। স্বপ্নে প্রতিদিন আমি দশ বারাে বছরে জিরাফের অতিরিক্ত কিছুই দেখিনি ঐ জিরাফের মতাে উঁচু গলা থেকে নভােজায়মান চিলের নীলিমা অপরিবর্তনপ্রিয়, সহচরকরহস্তে ঝর্নাপ...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
এক পাত্র সুধা দাও
এক পাত্র সুধা দাও আমি পান করি। বড় তৃষ্ণা যেন কাক খুলেছে দুঠোঁট, হাঁ খোলে কাঁকুরে মাটি কোথা সোঁতা দীর্ঘ নীল জল- এক পাত্র সুধা দাও আমি পান করি। তৃষ্ণায় ফেটেছে ছাতি, এক হাতি বালুকা সরাও, অন্তঃশীলা জল পাব...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
চলে গেলো
সেই প্রতিষ্ঠান ভেঙে ফিরে আসে পাগল কিশোর যেখানে অনেকে ছিলো, শিকড় বসিয়ে তীব্র ভূমি দখল করে ও সুখ অনুভব করেছে বিস্তৃত— স্বাভাবিক অগ্নি-বৃষ্টি-বাতাসের বন্ধুতা ছিনিয়ে। প্রতিষ্ঠানে কেন গেলো? একাকিত্ব অসহ...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
সভ্যতা আমারো মধ্যে আছে
সিংহের সমুদ্র, নীল মাছি এসে তাও ভোগ করে কবিতার পাণ্ডুর প্রতিভা যেন দূরদেশে সামাজিক দাবি আদায় - তশিলে ব্যস্ত মোট বয় আগ্নেয় হলুদ ধর্মতলা, সেবাশ্রম ঠুটো করতালি দেয়, প্যান্ থেয়িস্ট মনোভাব চাই নতুবা অ...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
শব্দের ভিতরে ছিলে
শব্দের ভিতরে ছিলে, কিন্তুু আমি বাহিরে এনেছি। এতো দীর্ঘ প্রাণ ছিলো,বস্তুত তা আধো–অন্ধকারে এখন জীবম্মৃত মনে হয়, সে-দুঃখ মেনেছি, শব্দের ভিতরে ছিলে, কিন্তুু আমি বাহিরে এনেছি। বাহিরে দেখেছি তার কংকাল, সুষম...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
শবযাত্রী সন্দিগ্ধ
মড়া পোড়াতে যাবো না বৈকুণ্ঠ, আমরা কি মরবো না। খোল ভেঙে দে বেতাল ঠেকায় চোখে টলছে হাজার চন্দ্রবোড়া কালরাতে যে-সাতপহর গাওনা হ'লো, তর্জা কাপ কবি বিলেতবাতি ঝুললো, পোকা, লোকলস্কর। কেউ ডেকেছে। কেন আমরা কেউ ম'...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
রাহু
তুমি তখন পলিত হেমন্তের ভোরে তুষারের সমুদ্রে পা মুড়ে বসেছো পর্বতের মতো শূন্যতার রুচিতে বেঁধে সর্বাঙ্গের কটি। কঠিন শীতে শিলা হয়েছে শরীর, রোমাঞ্চিত তনুরুহে চেয়েছে দেহের মৃণ্ময় গোচর, স্তনশীর্ষ তীক্ষ্ণ...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
তুমি জানো
তোমাকে দেখেছি বিবাহের উৎসবে সন্ধ্যায়, মার্চমাসে বসন্ত যায়, বসন্ত ফিরে আসে। হারা - মরু - নদীতটে নোঙর ফেলার সময় হয়েছে বটে ‘দোলপূর্ণিমা কবে?’ তোমাকে দেখেছি বিবাহের উৎসবে। গ্রামে ছিলো বাড়ি ঈশানী - গো...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
ভেবেছিলাম
ইস্টিশান নতুন –রেলগাড়ি ভেবেছিলাম শূন্যে দেবো পাড়ি হঠাৎ এসে বল্লে — তুমি যাবে। বিদেশ-বিভুঁই, কেউ কি জানে ঘর? শুধোই, যাতে শুন্যে অতঃপর তোমার স্পর্শাবে ভয়ের থরোথরো কনকরাঙা তুমি আমার চুম্বনে আধ-ভাঙা পা...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
কেন নেবে
দুঃখের মুখের দিকে তাকাতে পারিনা কষ্ট হয়,বহুকাল কষ্ট নিভে থাকে বহুকাল কষ্ট পেতে অকষ্ট যন্ত্রণা নেবে তোমাকেই, তুমি এ-ভেবেই আছো। দুঃখের মুখের দিকে তাকাতে পারিনা যদি পাই, তুমি, তাই কষ্ট করে নেবে কেন নেবে?...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
বালুকায় ভেঙে পড়ে সমুদ্রের...
বালুকায় ভেঙে পড়ে সমুদ্রের ফসফরাসের আবিল নক্ষত্রপুঞ্জ— মাছ জানে, বালুকা জানে না, দূরের দৈনিক চাঁদ চোর-পুলিশ খেলেছে কতই ও-পাড়ার কদম্বের তল ছেড়ে, সমুদ্রে তোমার। তোমাকে কি ভালোবাসে চাঁদ ঐ বালকের মতো? ...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
ঝরাপালক
জন্মমাত্র খুঁজেছিলাম ঝরাপালক রাতের গাড়ি ফিরে আসেন ইস্টিশানে শুধু ফকির চলছে দিবারাত্র কোথা? কেবা জানে কেবা জানে কেবা জানে! সিঁড়ি থেকেই তোমার জীবন শুরু হলো তিনতলায় যৌবনের দুটি ঘরে তুমি থাকো, নির্জনতা তি...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
মেঘরূপ শুয়েছে পাথরে
মেঘ এসে শুয়েছে পাথরে সেভাবে ছাগল শোয় আলপথে ঘুরে-ঘুরে -ঘুরে সোনাদানা ছড়ানো রোদ্দুরে হেঁটে ও স্থগিত হয়ে বহুকাল ধরে মেঘ এসে শুয়েছে পাথরে শুতেও জানেনা ব'লে, ছড়িয়ে রেখেছে পা-দুখানি স্পষ্ট ও অস্পষ্টভাবে জান...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
বাঘ
মেঘলা দিনে দুপুরবেলা যেই পড়েছে মনে চিরকালীন ভালোবাসার বাঘ বেরুলো বনে— আমি দেখতে পেলাম, কাছে গেলাম, মুখে বললাম : খা আঁখির আঠায় জড়িয়েছে বাঘ, নড়ে বসছে না । আমার ভয় হলো তাই দারুণ কারণ চোখ দুটো কৌতুকে উ...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
নিমন্ত্রণ
কোথায় থেকে তোমার ডাক শুনতে পেয়ে এলাম গতকাল আমায় কেন ডেকেছো তাই বললে হেসে-হেসে এমন সময় আবার এলো তেমন বৃষ্টি মাঠে ক্ষেতের পর ক্ষেতে ফুরালো, খামার, জঞ্জাল । এবার তোমার পিছনপানে আকাশ, আমি বৃষ্টি ফেলে তুমি...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
শান্তিনিকেতনে দোল
বল্লভপুরের বাংলো, তার সামনে বসেছি দশ জন। গান পান সবই হচ্ছে, পলাশের মালা পড়ে তুমি - অন্ধকার থেকে এলে আলো নিয়ে,কলকন্ঠ নিয়ে, আজ দোল স্মরণীয়,তুমি অন্ধকার ঘরে চুম্বন করেছো। বিজয়া দশমী নয় , তবু শারীরি...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
ফুলঝুরি, তোমার নাম
ছেলেবেলার ফুলঝুরি, তোমার নাম আমার এখনো মনে আছে। বলো তো আমার মন ভালো কিনা? মোরগঝুঁটি ডাকবাক্সে শাদা পাতা ফেলবা মাত্তর কি তুখোড় সব চিঠি- নিচে লেখা : প্রণাম জানবেন, ভালোবাসা নেবেন। আরে বাপু, আমি তো ওইটুক...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
চতুর্দশপদী কবিতাবলী - ৯
ভালােবাসা ছাড়া কোনাে মােগ্যতাই নাই এ - দীনের দয়াময়ি, দয়া করাে, ভিখারিরে অন্নবস্ত্র দাও রাখিও না মানহীন উলঙ্গ আলােকে প্রকাশিয়া লােল তরবারি—বাহ্যপ্রাকৃতিক, নৈরাশে, হাওয়ায়। লাে নিবিড় দিনগুলি বৃথা...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
ফিরে এসো মালবিকা
মালবিকা অইখানে যেওনাকো তুমি, কথা কয়োনাকো অই যুবকের সাথে, কী কথা তাহার সাথে? তার সাথে? মালবিকা জানো তুমি ঘাসে কি লবণ? সামনে দেওদার বন, আমি বসে আছি। ফিরে এসো মালবিকা কী সুস্বাদ এখানে, জীবনে - ফিরে এসো ম...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
শৈশবস্মৃতি
বর্ষার ভ্রু-লতা দুলতো, কনীনিকা দৃষ্টপাতমালা মুখখানি কে ভাসাও জলজ লতার মতো স্নিগ্ধ পদতলে বিপর্যন্ত প্রেমাচ্ছন্ন দুঃখী গাছপালা প্লাবন ভাসাও মুখ চারিদিকে সমুদ্র-সন্দিগ্ধ। একজন প্রেমারূঢ় অন্যে পোড়ে কর্কশ ...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
কলকাতায়, ভােরে
ভােরের ট্রামের মতাে প্রেমের সঞ্চার মানুষের দেহে-মনে। শীত সরে গেছে। দক্ষিণে ধানের বােঝা নামিয়ে গােলায় ট্রাক ছুটে চলে যায় দুঃখভরা খড় নিয়ে শুধু উত্তরের দিকে। ক্রমাগত। ধীর আলাে ফুটে ওঠে ফুলের মতন টবে...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
চতুর্দশপদী কবিতাবলী - ১৬
সময়ের প্রতি নাই অনিশ্চয় সংশয় আমার জানি, সে আমারে তার সবই দেবে, রাখিবে না ঢেকে কোনাে মূল্যবান তৃণ। সময়, সময় কত আশা আমাদের থাকে প্রিয় ভ্রান্তিগুলি, ক্ষমার অধীন। তুমি মাের প্রিয়তম, তুমি মাের যােগ্...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
কখনো বুকের মাঝে ওঠে গ্রীস
কখনো বুকের মাঝে ওঠে গ্রীস শিল্পের দক্ষিণপার্শ্ব ভ’রে কালো নীরব তুহিন জ’মে যায় | রুদ্ধ অভিমান করস্পর্শে যে মোছাতে পারে সেই অনাবশ্যকতা আমায় একাগ্র রেখে একদিকে চ’লে গেছে | অতগুলি বাগানের তীব্র ফল, আমি এক...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
গাছের শিকড়গুলি দাঁড়িয়ে আছে
গাছের শিকড়গুলি মাটি ধরে কী তীব্র ক্ষুধায় প্রতিষ্ঠিত হবে বলে দাঁড়িয়ে রয়েছে দীর্ঘদিন মানুষের মতো তার প্রতিষ্ঠাও চাই, মনে ক’রে- দাঁড়িয়ে রয়েছে একা-একা, ঐ জঙ্গলের মাঝে। জঙ্গল মিলিত-বৃক্ষে, পাতায় স...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
আজ–কালের গপপো
ধুলোতে ওই ঘুর্ণি, ঘোরে সুদর্শন পোকা দূরের চিঠি কাছে আনাও সুদর্শন পোকা শুভ খবর কাছে আনাও, দাবার চালে দোলা বানাও হা-পিত্যেশ নোলা বানাও দর্শন পোকা। আঙুল চেলে গণ্ডি করি সুদর্শন পোকা নিখাকি হাতে গড় করেছি ...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
যাকে চেয়েছিলাম
যাকে চেয়েছিলাম তাকে পেলাম না যে-ঘাট ছাড়ে নৌকা তাতে গেলাম না কপাল আমার মন্দ তাতে সন্দেহ কি চোখ বুজলে প্রিয় কেবল তোমায় দেখি ফুলগাছে জল দিলাম তাতে ধরেছে ফল যে-ঘরে পৌঁছুলাম দেখি ভাঙ্গা আগল অমূল্য রাখবো না...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
সময় হয়েছে
সুন্দরের হাত দুটি বেঁধে দাও, সময় হয়েছে। বাগানে অজস্র ফুল ফুটে আছে পাতাগুলো ভালো রং-এর বাহারে তার কোনোটি জমকালো কেউ সাধাসিধে সুন্দরের হাত পড়ে অগ্নি ও সমিধে তার সবই চাই সে হাত বাড়ায় চারিদিকে লোলুপ অগ্নি...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
আমি দাঁড়িয়ে আছি
তার স্থিরতার কাছ - বরাবর এখন আমি দাঁড়িয়ে আছি সর্বনাশা চঞ্চলতা ওলােট-পালােট হয় আঁধারে আমার মধুচক্র জুড়ে মৌমাছি নয়, গৌরী মাছির জমকালাে ভিড়, বসত আমার ঠিক সমতল শেষ পাহাড়ে। বহুকালের আবর্জনার মধ্যে ছ...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
দুঃখ কি সহজে যায়
দুঃখ কি সহজে যায়?তাকে ধুতে নদী-ভরা জল লাগে ও বাতাস লাগে সেই ভেজা অঞ্চল শুকাতে। দুঃখ কি সহজে যায়?তাকে মুছতে দুপুর-রোদ্দুর লাগে ও বাতাস লাগে, ধুলো লাগে, বালুকণা লাগে। দুঃখ ধুয়ে মুছে গেলে থাকে তার অনি...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
দুজন স্বামী স্ত্রী, তন্ময় ঝিল
কখন একটি ভোরবেলায় ঝিলের কাছে গিয়েছিলাম শীতের সময় বনের মধ্যে ঠাণ্ডা গন্ধ কোমল টানে টানছে আমার সারা দামাল রাত্রের পরে কিছুক্ষণের শ্রান্ত অবসর। এখন আমার ঝিল ভাসছে গুঁড়ো পানার নিবিড় জলরাশি, ঘাটের কাছ...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
দীর্ঘদিন পরে তার করস্পর্শ
ভালোবাসা দীর্ঘদিন পরে তার করস্পর্শ করে। ধুন্ধুমার লেগে যায়, মাংসের ভিতরে ছুঁচ ফোটে, শিরায় বারুদ ঢেলে তারপরে করেছে চুম্বন ফুটন্ত রক্তের মধ্যে এবার একমুঠি চাল ঢালো। ভালোবাসা দীর্ঘদিন পরে তার করস্পর্শ ...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
মনে রেখাে, ভালােবাসা বাঁচায় ও মারে
তপসিয়া আকাশের নীল শাদা পরিপ্রেক্ষিতের একাংশ দখল ক 'রে গােদাচিল, অসংখ্য অজস্র চিল ছাই মেখে ঘুরে ঘুরে ওড়ে। হয়তাে ধাপার কোনও নালার ভিতরে হুমড়ি খেয়ে পড়েছে হরিণ – রঙের গাই, টের পাই গােদার ওড়ায়। ঘয়...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
জুলেখা ডব্ সন
ছিলো অনেক রাজার বাড়ি চকমিলানো হাজার গাড়ি এবং হ্রদে সোনালি অগণন হাঁসের দল দোলায় পাখা তবু তোমার সঙ্গে থাকা চমত্কার জুলেখা ডব্ সন। ঈশানকোণে অমনোযোগে মেঘের ঝুঁটি ধরেছে রোগে দুমড়ে পড়ে প্রবলা শালবন চাঁদ...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
সবুজের মধ্যে আছে
সবুজের মধ্যে আছে আকর্ষক প্রেম ও তৃষ্ণার জোড়া ভুরু, প্রেম আছে সর্বত্রে জড়িয়ে, যেও না ছড়িয়ে কেউ কালবৈশাখীর হাওয়া মেঘে ছড়িয়ে দিও না আলো, এই ঘাস এই লুকোচুরি মানুষ যেমন থাকে পারম্পর্যহীন পৃথিবীর এক...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
কেউ নও
শূন্যতার সব বােধ আমার সম্পর্কে থেকে গেছে যেভাবে মানুষ থাকে দেয়ালের উপরে দাঁড়িয়ে কিছু দেখবে বলে নয় — এমনি, খেলার প্রতি প্রেমে দেয়ালে দাঁড়ায় আর ছুটোছুটি করে, ভুল করে — নিজের ছায়াকে ভাবে অন্য কেউ...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
সুদর্শন পোকা!
ধূলোতে ওই ঘূর্ণী, ঘোরো সুদর্শন পোকা দূরের চিঠি কাছে আনাও সুদর্শন পোকা শুভ খবর কাছে আনাও, দাবার চালে দোলা বানাও হা পিত্যেশ নোলা বানাও সুদর্শন পোকা! আঙুল চেলে গণ্ডি করি সুদর্শন পোকা নিখাকি হাতে গড় করেছ...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
চিত্রশিল্প অনন্তকাল
খুকু, আমি সাধ্যমতো ছবিগুলো একেছিলাম... দুয়ার, জ্যোৎস্না, তাঁবুর পাশে ইতস্তত পোড়া কয়লা, কাঁটার লতা, আমরুলের পুঞ্জ-পুঞ্জ নীল অম্লতা সমস্তই এঁকেছিলাম... বৃষ্টি জোঁক পুনর্জন্ম ম্লান আভাস কয়েকজন গরিব ভালোব...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
দুটি হাতের স্পর্শ দিয়ে
দুটি হাতের স্পর্শ দিয়ে আমায় করো জীবন্মৃত এইটুকুনি অসীম প্রীতি— দিয়ে, আমায় কেবল করো জীবন্মৃত। ইচ্ছে ছিলাে বেঁচে থাকার, সুখে থাকার, তার বদলে ভােগ করেছি কেবলি শীত ; অতল বরফ টানে আমায় অন্য কোথায়! দু...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
সকলের চেয়ে বেশি অহংকার নিয়ে
কেউ কি প্রকৃত ঠিক করে দিয়েছিলাে? নাকি বাহুবলে তাকে বাগানের ভ্রূ-মধ্যে রেখেছি এবং নিশ্চিন্ত আছি, কিছুদিন — জানি দাঁড়াবে না পা দিয়ে চৌকাঠে যেন বলবে না, এখন তােমার বাগানে যাবার পালা — কিছুদিন গাছ হয়ে...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
চতুর্দশপদী কবিতাবলী –১৩
এখন পাতার শব্দে জেগে উঠি, পাতার পতনে মনে হয় ওতপ্রােত বক্ষোপরে তােমার পতন হয় নাথ ! দাবানল জ্বলে প্রতি বৃক্ষেরে ঘেরিয়া— মালা ব্যক্তিগত অয়ি, শুধু জাগে গােলাপের ফাঁকি সমর্পণে। যদি যাও, আমারে মাড়ায়ে ...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
বিরহে যদি দাঁড়িয়ে ওঠো
আসলে কেউ বড়াে হয় না, বড়াের মতাে দেখায়। নকলে আর আসলে তাকে বড়াের মতাে দেখায়, গাছের কাছে গিয়ে দাঁড়াও, দেখবে কতাে ছােটো, সােনার তাল তাংড়ে ধরে পেয়েছাে ধূলিমুঠো। ভালবাসার দীঘিতে কতাে করেছাে অবগাহন...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
কেউ কি যাবে
কেউ কি যাবে ? কেউ কি চলে যাবে ? যেভাবে জল জলের মতো যায় যেভাবে ফুল ফুলের দিকে চায় সেভাবে কেউ নিজেকে ফিরে পাবে! কেউ কি যাবে ? কেউ কি চলে যাবে ? ভালো থাকার ভিতরে ভাঙে ঘর সর্বনাশ হবে স্বয়ম্বর অন্ধকার হ...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
মানুষ যেভাবে কাঁদে
মানুষ যেভাবে কাঁদে, তেমনি কি কাঁদে পশুপাখি? একা থাকি বড়ো একা থাকি। ভিতরে ভিতরে একা, অরণ্যের মধ্যিখানে একা ঘরে ও বাহিরে একা, দিনে-রাতে, দুঃখে ও সুখে ছায়া নেই, মায়া নেই, ফুলের বাগানে নেই ফুল ঝর্নার মতন ...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
মিষ্টিগুড়ের ইস্টিশানে
এক পাড়াগাঁ থেকে আরেক পাড়াগাঁয় উঠে এলুম রেলগাড়ি থামলো এসে মিষ্টিগুড়ের ইস্টিশানে হাতে রইলো টোপর-ঝোপর, বড়ি-বেগুন, দাদুর লাঠি লটবহর বলতে আরশুলা আর পোকায় কাটা প্রচ্ছদছেঁড়া নোংড়া বই মনে রইলো টেঁ-টুঁই...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
নদী
মানুষগুলাে পুড়ছে কাঠের টেবিল জুড়ে মানুষগুলাে পুড়ছে কেবল একা - একা মানুষগুলাে লুকোচ্ছে মুখ গর্ত খুঁড়ে একটি পাখি ঠিক পেয়েছে নদীর দেখা। নদী, কিন্তু, আছেই পড়ে বনের ধারে পাথরগুলাে সেই নদীটি দিচ্ছে চা...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
দেবদূত
যে-বৃক্ষ নির্মাণ করে সেই বীজ অনব্যবহিত কর হতে তােমাতেই ফিরে যায়, গাঁথা বুকে বাগানের দাগ। সেই বৃক্ষ তুমি, তব কণিকারে কেমন প্রভেদ দেবে ? বিস্ময়ের মাঝে দুই চিত্ত সমভগ্ন ভূমি। একদা তুমিই বৃক্ষ, অনুপস্থি...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
আমারও চেতনা চায়
সব শেষ, আমারও চেতনা চায় ডুবে যেতে — মন্থর আত্মার মতাে, অথবা কাঁথার মতাে ছেঁড়া। রােগের কাঁটা ও গাছ মূলশুদ্ধ, চেয়ে, হাত পেতে আমারও চেতনা চায় ডুবে যেতে, আরােগ্যের সেরা, জলে। কী রােগ তােমার? তাই ফুলবাগ...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
ভুলে আছো
কেবল অকারণে নিজেরে ভুলে আছো কেবল অকারণে আমারে ভুলে যাও দুবার হলো আমি ডেকেছি দ্বারে আসি তোমার অভিমানও আমারে জানাবে না। ফুলের বনে ফুল আপনি জাগিতেছে মরণবেলা আসি নৌকা চাপি ধরে ‘তফাৎ যাও’ হাঁকে পাগল মেহেরা...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
এই মেঘ থেকে বৃষ্টি
মনে হয়েছিলাে এই মেঘ থেকে বৃষ্টি হবে ঠিকই মুখপােড়া বারান্দায় ভেসে যাবে সমস্ত নির্ভীক স্বায়ত্তশাসন রক্ত, তার দাগ, মাত্র বলিদানে ... কলকাতায় আজ কে না জানে মানুষের মধ্যে এক অবিমিশ্র খেলাধুলা হয় রাত্...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
সে কবে বৈশাখ পাবে
গোধূলির আলো এসে পড়েছে টেবিলে আজই তুমি শেষ চিঠি দিলে ইশারায় ভরা এ-প্রেম তোরঙ্গ বুঝি হলো বন্ধ করা! পৌষের শেষে প্রাণের প্রয়াণ, তাও ব্যথারই উদ্দেশে ব্রাহ্মী লিপি মাখা সে কবে বৈশাখ পাবে স্নিগ্ধ হাতপাখা?...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
ঘুরে বেড়ায়, শুধু ঘুরতেই ভালােবাসে
ঘুরে বেড়ায়, শুধু ঘুরতেই ভালােবাসে অকৃতজ্ঞতা —গানের মতন তাল - লয় থেকে ফাঁক পেলেই ঘুরে বেড়ায়, শুধু ঘুরতেই ভালােবাসে অকৃতজ্ঞতা —সেই পাখি ডানা যার কর্তালের মতন বাতাস ভাঙছে তেমন কিছুর দিকে চোখ নেই ঘুর...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
ক্ষ- এর মহড়া
তক্ষক তক্ষক তক্ষক তক্ষকের ধন সামলাই আমি তক্ষক। যক্ষ যক্ষ যক্ষ যক্ষের ধন সামলাই আমি যক্ষ। ভক্ষক ভক্ষক ভক্ষক ভক্ষ্যের ধন সামলাই আমি ভক্ষ্য। রক্ষ রক্ষ রক্ষ রাখুয়ার ধন সামলাই আমি রক্ষক। কাব্যগ্রন্থ -- "সে...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
আজ আমি
আজ আমার সারাদিনই সুর্যাস্ত, লাল টিলা-- তার ওপর গড়িয়ে পড়ছে আলখাল্লা- পরা স্মৃতির মেঘ গড়িয়ে পড়ছে উস্কোখুস্কো ভেড়ার পাল, পিছনে পাঁচন জলও বা হঠাৎ-ফাটা পাহাড়তলির কিংবা বৃষ্টি-শেষের রাতে যেমন আসে কবিতার আলু...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
বিষের মধ্যে সমস্ত শোক
ভেবেছি এই আলোর মধ্যে ঢোকাবো সেই অন্ধকারের কীট পতঙ্গ। সারাজীবন, ভেবেছিলাম আলোর মধ্যে ঢোকাবো সেই প্রতিচ্ছবি, ভেবেছিলাম আলোর মধ্যে ঢোকাবো সেই প্রতিচ্ছবি। কে যে মনে তোমায় রাখলো ? ভিতর-বাহির সমস্ত দিন কে য...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
যেতেই হবে চলে
একটি দিন ফুরােলে ভয় করে একটি পাতার মতন ঝরে যাওয়া। কিছুই নয়, তেমন কিছু নয় ... শুধুই পাতা ঝরিয়ে গেলাে হাওয়া। একটি রাত ফুরিয়ে গেলে ভয়, ভােরের হাতে ফুটতে হবে ব 'লে ফুলের মতাে মধুর পরাজয় ... যেতেই...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
তার মৃত্যু : নবেন্দুর স্মৃতি
শস্যক্ষেত্র থেকে ফিরে তার মৃত্যু দেখেছে প্রত্যেক পায়রা, সে উপরে থাকে, স্বর্গে নয়, প্রাসাদের খােপে বিষণ্ণ বাঘের মতাে অগ্নি এসে তার নীল ঝােপে কবিকে টেনেছে আজ, ঐ তার আশ্রয় বা ঠেক্, যেখানে মৃত্যুর হিম ...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
অর্বাচীন নায়িকা
অঙ্গেতে চন্দনগন্ধ, কণ্ঠে শোভে নীল চন্দ্রহার, মৃণাল বলয়ে যুগ্ম স্বর্ণবিছা, অঙ্গুরী হীরকে বাঁধে সে সম্মানমূল্য, হংসীর গমনে দোলে তার অঙ্গার আকুল কেশ, দৃষ্টি দূর স্নিগ্ধ কুরুবকে। প্রাচীন রূপসী চলে বিলাসি...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
বিষ-পিঁপড়ে
সারা শরীর জুড়ে তোমার বিষ-পিঁপড়ে ছড়িয়ে দিলুম আস্তে, যেমন জামরুলে, ঐ নীল ভিজানো গাছের ছালে ছড়িয়ে দিলুম যেমন চাষা ছড়িয়েছিলো পুরুষ্টু বীজ ক্ষেত ভরে যার শষ্য ওঠে, তোমার শষ্য শরীর ভরে কুড়িয়ে নিয়ে হঠাৎ...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
হারাতে হারাতে তাকে
আমার শিকড় নেই, ডালপালা নেই পাতা নেই মাংসে ঘোর দুঃখ আর হাড়ে আছে বাতাস বহতা আমার বাগান নেই, মাটি নেই, মাতৃভূমি নেই আমার স্বপ্নের মধ্যে ওড়ে শুধু ধুলো ও পাথর। এই আমি,পৃথিবীর মানুষের মধ্যে একজনই যার সব ছিল...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
কিশোরবেলার ঘুম
কিশোর বেলার ঘুম ভেঙে গেছে হঠাৎ সন্ধ্যায়, তোমাকে সহস্র নামে ডেকেছি সন্ধ্যায়, ধরেছি ও মুখসাজ করতলে, চুম্বন করেছি, সেই স্মৃতি মনে করে হয়েছি পাগল। হয়েছি অশ্বের মতো তেজী আর স্বেদেও ডাগর, ধরেছি তোমার দু...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
মিনতি মুখচ্ছবি
যাবার সময় বোলো কেমন করে এমন হলাে, পালিয়ে যেতে চাও? পেতেও পারাে পথের পাশের নুড়ি আমার কাছে ছিলাে না মুখপুড়ি ভালােবাসার কম্পমান ফুল। তােমায় দেবাে, বাগান দ্যাখাে ফাঁকা তােমায় নিয়ে যাবাে রােরাের ধার...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
এই বিদেশে
এই বিদেশে সবই মানায় - পা-চাপা প্যান্ট, জংলা জামা ধোপদুরস্ত গলার রুমাল, সঙ্গে থাকলে অশ্বত্থামা এই বিদেশে সবই মানায়। ব্রায়ার-পাইপ, তীক্ষ্ণ জুতো নাকের গোড়ায় কামড়ে-বসা কালো কাঁচে রোদের ছুতো এই বিদেশে সবই ...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
অন্ধকার দেয় তারো বেশি
উজ্জ্বলতা কতটুকু দিতে পারে, যা দেয় আঁধার যা দেয় আঁধার, পাপ, ছিন্নমুণ্ড, নরকের ধোঁয়া উজ্জ্বল দিতে পারে সেই সব ? দিতে পারে নাকি ? রোদ্দুর অনেক দেয়, অন্ধকার দেয় তারো বেশি— ছিন্ন ও বিচ্ছিন্ন মাংস রেখ...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
দশ বছর আগে-পরে
দশ বছর আগে দেখা বল্লভপুরের ঘাট স্মৃতিতে জ্বলছিলো। তাই ধুন্ধুমার বৃষ্টি তুচ্ছ করে, ভিজতে-ভিজতে সেখানে পৌঁছুই; কানালের বাঁধ ধরে সেখানে পৌঁছনো কষ্টকর, তাই পথ ধরে গেছি। সেবার রোদ্দুর ছিলো। ঠা ঠা রোদ, অসহ্...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
তোমার দ্যোতনা আছে—আমি উপদ্রব
নতুন বাড়িতে গিয়ে কথা তুমি কয়েছো অনেক অর্কিডের ফুল কত এঁকে দেখিয়েছো তোমারই দ্যোতনা আছে—আমি উপদ্রব আমি পেঁপেগাছ পুঁতি পালেদের টবে আমাকে বলেছো তুমি—'ও বাড়িতে যাও— ঐ পুরাতন বাড়ি—পিতৃপুরুষের মিউজিয়ম...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
ভালোবাসা সব জানে
যাবার সময় হলো, তাই এ-উচ্চণ্ড ভালোবাসা — ভালোবাসা ঘরে-বাইরে, ভালোবাসা দ্বিধাহীন জ্বর। ভালোবাসা থেকে আসে রমণী-কিশোরী পরস্পর, চুম্বনে কী মমতল তৃপ্ত করে আশা— ভালোবাসা সব জানে, গোপনে আকণ্ঠ ভালোবাসা। শুয়ে...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
এইটুকু তো জীবন
চলো যাই, রোদ্দুর পা উঠিয়েছে, এখানে লাঙলের ফালে উঠছে মাটি, এখানে তেমন পরিপাটি মানুষ নেই কেউ, আদুল গায়ে লোকে চলছে-ফিরছে, আলো বাতাসের মতো স্বাভাবিক ; বিষণ্ণ কবির পাশে জোলা, শহরের মতো জল ঘোলা করতেও নেই কে...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
অন্ধকারের বন্ধনে
অন্ধকারের বন্ধনে ভয় আমার আছে আলোক চাইতে তোমার কাছে যেতে হবেই বিড়ম্বনা হয়তো তখন রইবে হাতে আলোক মাত্র একটি কণা। তোমাকে দোষ দেওয়ার অর্থ অন্যতরো কথায় কথা করবে জড়ো আভাসে কি স্পষ্টভাষায় তিরস্কৃত করবে...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
আগুন লেগেছে
কম্বলের একপ্রান্তে আগুন লেগেছে। একপ্রান্ত পুড়ছে, হাওয়া উড়ছে ধুলো পাতা নিয়ে দূরে এদিকের চেনা গলি, কাছে আসবে বুকে হেঁটে, ঘুরে- পোড়াবে, ওড়াবে সব কম্বলের ছাই। দেখা পাই ভিতরে-বাইরে কম্বলের মতো পুড়ে ...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
এমনভাবে কেউ ডাকে না
হারিয়ে যাবার অনেকগুলি পথের ছিলো নেমন্তন্ন। জংলা সুরি পথগুলো সব লতার মধ্যে লুকিয়ে রাখছে মুখচ্ছবি দারুণ। কেমন আলো-ছায়া বাঘের মতো! হারিয়ে যাবার অনেকগুলি পথের ছিলো নেমন্তন্ন। এমনভাবে কেউ ডাকে না, কেউ ডাকে...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
ভিতরে আমার
কে যেন আমায় ডেকেছে , দুয়ারে দিয়েছে নাড়া ওঁরাও - পাড়া ঝর্নার জল , করে ছলােছল— দূর ইঁদারা। কে যেন আমায় ডেকেছে — দুয়ার দিয়েছে নাড়া। কে যেন আমায় বলেছে , ' এখন বাইরে দাঁড়া ’ রােদের খাঁড়া ভাঙছে ...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
নিজস্ব অন্তরে
বনের ভিতর একটি দুটি ঝিনুক এসে নাচে একটি দুটি ফুল ধরেছে বনের সকল গাছে। মন ভালো নেই বন ভালো নেই ঝর্না ছিলো ফাঁকা কোথাও কিছু ভুল হয়েছে আমায় মনে রাখায়। তাই পৃথিবী যথেষ্ট নয়, যৎসামান্য দিয়ে আমার চোখের সম্ম...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
কেবল মানুষই পারে
সুষমার মধ্যে গ্লানি পাত্র ভরে আছে। জানি না বলেই ভাবি সুষমাই শান্ত অধীশ্বর সকল প্রাণের, জানি না বলেই ভাবি সুষমাই হৃদয়ে বসেছে সমস্ত গানে, সুষমার মধ্যে গ্লানি পাত্র ভরে আছে। কেবল মানুষই পারে বিষমুক্ত করে...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
সেই ফেলে-আসা রুমাল
কালই তো তোমার কথা উঠেছিলো তুমি নাকি শীতকালে কেবল বেড়াতে ভালোবাসো তুমি চিরদিন নাকি ছিলে না এমন শ্রাবণের মেঘ যবে ভরেছিলো শান্তিনিকেতন তুমি ছিলে তোমার আড়ালে হৃদয়-জড়ানো কার মাকড়সার জালে তুমি ধরা পড়েছিলে ন...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
এখন আমার কোনো অভিমান নেই
ভিতরে তো কতো জল, তবু অভিমান! মাটির কলস কেন অভিমান করে? গা-ভরা জলের ফোঁটা নামে এঁকেবেঁকে– নিচে যেন নদী পাবে, প্রিয়মুখ পাবে, বুকের দীঘিটি নোনা জলেই ভাসাবে আজ। কেন? সুযোগ মিলেছে? সব নয়, কিছু গাছ বড়ো অ...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
আমার অসুখ
ভেবেছি খবর দেবো: আমার অসুখ তোমায় বিপন্ন করে, ঘর থেকে বাহির করবার চেষ্টা করবো বারান্দায় ঝুঁকে পড়ে কখনো-সখনো উত্তর আকাশে দৃষ্টি মেলে দিতে পারো অজান্তে নিজের, কিশোর প্রেসিডেনসি হাওয়া সপ্তপর্ণী ছুঁয়ে আরো ...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
পাখি
পাখি যেমন ওড়ে, যেমন ওড়ায় তার স্মৃতি এক সহাস্য ধুপ পোড়ায় গন্ধ গেলে আর যা কিছু থাকে বিষণ্ণ, সেই নাম কি মনে রাখে - একাকী ফুল তুচ্ছ ফুলের তোড়ায়? পাখি যেমন ওড়ে, যেমন ওড়ায় তার স্মৃতি এক সহাস্য ধূপ পোড়ায়। বি...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
অন্যময়ের স্মৃতি
দরজা বন্ধ থাকলে তোমাকে ডাকতে পারতুম, বলতুম ভিতরে নেইই যদি—তবে সাড়া দিচ্ছে না কেন ? তোমাকে মনে পড়লেই আমার এই ওলোট - পালোট পঙক্তি দুটো কাছে আসে ভয় হয়, তুমি আবার না আসো—এখন তোমাকে দেখলে আমি ভয় পেতে প...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
বেড়িয়ে ফিরলুম
বেড়িয়ে ফিরলুম–আঙুলের গলি ভর্তি ভিজে ঘাস-মাটির নাছোড়বান্দা আদর বাইরে থেকে জোঁকের জীবনসুদ্দু উপড়ে এনেছি লাইব্রেরি লোপাট করে বই আনিনি হাতে খন্তা ওই ঘাসের টুকরোগুলোকে পুনর্বাসন দেবো এবার ফুল ফোটাবো বলেই...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
মানুষ তুমি একটি জীবন
পথ দেখানো সোজা, কিন্তুু পথটি ভোলাই কঠিন, মানুষ তুমি একটি জীবন তেমন কাজ করে বেড়ালে! ভালোই ছিল মাটির জীবন, ভালোই ছিল কালো, মানুষ তুমি বদল চেয়ে সেই কথাটি মনে রাখোনি। তুমি ভীষণ আলাভোলা, তুমি ভীষন ভয়ংকরী, ...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
সূর্যমুখী
সে যদি আমাকে বলে ঈশ্বর আমি হতে পারি বনতলে সুসজ্জিত অন্ধকার শবরের মতো আমি যন্ত্রণার পুষ্পে সর্বশুক্ল প্রভায় প্রণত এবং সন্ধ্যার ছলে সে আমার নদী হোক নারী সে যদি আমাকে বলে ঈশ্বর তাও হতে পারি আকাশে প্রসন্...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
আকাশে চিক্কুর দিচ্ছে
আকাশে চিক্কুর দিচ্ছে থেকে থেকে, মেঘে ধরেছে ফাট ঘরদোরের চৌকাট মাড়িয়ে, টলোমলো, মানুষ ফিরছে অন্দরে বাইরের ঘাস পাতা, জুতোর নিচের কাদা বারান্দার পেট মোটা জোঁকের মতন রক্ত ঢালছে, ঝোপের নীচে ঘুমকাতর সেন্ট্রি...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
বৃষ্টিতে
বৃষ্টি পড়ে আমার বাগানে। অসংখ্য ফুলের গাছ মুখাপেক্ষী হয়েছিলো তার, জীবনে এসেছে তার ফুলের ঝংকার, বাগানের ; অজস্র পাতাও তার মুখাপেক্ষী ছিলো ; ধুলো মুছে সবুজাভা বেরিয়ে পড়েছে, বেরিয়ে পড়েছে সব স্মৃতির ...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
দক্ষিণে তাকালে অন্ধ
দক্ষিণে তাকালে অন্ধ, অন্যদিকে এখনো বন্ধুতা— এভাবে কি বাঁচা যাবে ? যা নিষিদ্ধ তাকে দেখতে প্রাণ বালকেরও ছুটে যায়, আমি তো প্রৌঢ় ও পারঙ্গম! দক্ষিণে তাকালে অন্ধ, অন্যদিকে তবুও, বন্ধুতা.... মানুষের কাছে আ...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
চতুর্দশপদী কবিতাবলী -২০
সেদিন খেলারও ছিলাে কত সজ্জা, কত সরঞ্জাম— মাঠের বাহার ছিলো। আজকাল জীবনেও নাই তেমন বাহাস্ফোট। জীবনের শাসনপ্রধান তালিবনে জ্যোৎস্না মেখে ধবল মার্বেল পড়ে আছে। তুমি চিরদিন যদি খোঁজো তাঁকে, পাবেই একদা তুমি ...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
আমরা কোথায় এখন
আমরা কোথায় এখন দাঁড়িয়ে আছি জানি না কেউ এপার-ওপার পুড়ছে নীল আগুনে, নদীতে ঢেউ বলো,জোয়ার আছে? এ--এ মাঝি,জোয়ার আছে? পাল ছিঁড়ে আজ চল না সবাই চল না মাঝি পারের কাছে এ-এ চল না পারের কাছে ভয় কি আগুনে ঢেউ.? আমর...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
একাত্ম
কী তুমুল বৃষ্টি হলো শান্তিনিকেতনে… ডুবে গেলো কাশফুল, ভেসে গেলো ঝরা শিউলি তলা। আমরা খোয়াই- এ, জলে কান পেতে শুনছিলাম তার আকাশের গুরু গুরু মেঘডাক, বিদ্যুৎ-চিক্কুর, দিনের আলোর মতো ফুটে উঠেছিলো কাঁকর লেগে...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
কিসের জন্যে
সমস্ত যন্ত্রণার চেয়ে বড়াে ধরনের যন্ত্রণা পাই আঁচড়ে কামড়ে নিজেই মরি গা-ভর্তি ঘা, রক্ত পড়ে, জিউলি গাছের আঠার মতন রক্ত আমার রক্ত পড়ে - বড়াে ধরনের যন্ত্রণা পাই কিসের জন্যে নিজে জানি না! মেঘের আড়াল...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
স্বপ্ন, তোমাদের প্রতি আর
স্বপ্নের কোথায় শেষ ? স্বপ্ন, তোমাদের প্রতি আর চোখ ফেরাবো না, আমি কোনোদিনও চোখ ফেরাবো না। হাতের অনর্থ হাতই ভেঙে দিয়ে করে সমাহার, জীবনই জীবন ভাঙে, মৃত্যু তারে কখনো ভাঙে না। তোমরা আমার দোষই দাও বারেবার...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
তীক্ষ্ণ তরবারি
মানুষের মধ্যে থেকে মানুষের কাছাকাছি থেকে একটি সম্ভাব্য ক্ষতি হয়ে গেছে যখন আমার— মনে হয়, আর তার কাছে থাকা নিরর্থক হবে হয়তো বা দূরে গেলে তাকে ভালোবাসাও সম্ভব একদিন, তা না হলে উভয়ত সম্পর্ক স্থাপনে জটিলতা...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
আমাকে পোড়াও
ও চির প্রণম্য অগ্নি আমাকে পোড়াও প্রথমে পোড়াও ওই পা দুটি যা চলচ্ছক্তিহীন । তারপর যে হাতে আজ প্রেম পরিচ্ছন্নতা কিছু নেই এখন বাহুর ফাঁদে ফুলের বর এখন কাঁধের পরে দায়িত্বহীনতা ওদের পুড়িয়ে এসো , এসো হৃদয়ের ...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
তুমি আছো-ভিতরে উপরে আছে দেয়াল
আমার হাতের উপর ভারি হ’য়ে বসেছে প্রেত . ফুটপাতে শব্দ হয় ক্রমাগত বৃষ্টির মুখ-ঝোঁকা মেঘ দূরে সরিয়ে দিলো হাওয়া আমরা বিকেলবেলা চাঁদ দেখেছিলাম তরমুজের লাল কাটা ফলার মতন ধরণী-সবুজ চাঁদ পৃথিবীতে যতো কঠিন সমস্...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
ইচ্ছে করে
ইচ্ছে করে জীবনের জামাকাপড়ের মতো যন্ত্রণাগুলোকে একে একে নীল সমুদ্রের পারে খুলে রেখে আসি তারপর?তারপরে তো লোকালয়ে ঢোকার কথা নয়, বনবাস.... সেখানে কোনো যন্ত্রণা নেই ,গ্রাসাচ্ছাদন, জানালা দরজা , তালাচাবি ....
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
চলে যায়
ঘুম থেকে উঠে দেখি, রোদ্দুর উঠেছে— জানলা গলে রোদ এই বিছানায় ভেঙে ভেঙে পড়ে। অগুরুর গন্ধ কেন? মেঘ কেন করিডোর জুড়ে? কেউ গেলো? কেউ চলে গেলো? পাট-করা তোশক, শুধু তেল-কাপড় কলঘরে ছড়ানো— ধোয়া হবে। আবার জী...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
ছড়িয়ে রইলে
পুকুর হয়ে ছড়িয়ে রইলে। কচুরিপানার বেগ্ নি ফুল, নালের সুতো শালুক দুল কলমিলতার মালায় তুমি অপেক্ষমান হয়ে রইলে। দূর পথের ঢোলক দ্রুত বেজে সবুজে হলো আড়াল, চাঁদের আলো খুঁচিয়ে তোলে রাংচিতার কাঙাল ডাল— পুকুর হয়...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
হেমন্তের অরণ্যে আমি পোস্টম্যান
হেমন্তের অরণ্যে আমি পোস্টম্যান ঘুরতে দেখেছি অনেক তাদের হলুদ ঝুলি ভরে গিয়েছিলো ঘাসে আবিল ভেড়ার পেটের মতন কতকালের পুরোনো নতুন চিঠি কুড়িয়ে পেয়েছে ওই হেমন্তের অরণ্যের পোস্টম্যানগুলি আমি দেখেছি, কেবল অনব...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
আগুনের ফলা টেনে
ডুরেকাটা সিলকপাতা মনস্বী পড়ুয়া দেবদারু পিছনে তামাম মাঠ বড়োসড়ো সবুজ পাপোষ এই প্রতিষ্ঠানে সিং-দরজা, মধুবনী গোঁফ, বাঁধানো চাতাল জুড়ে দেশলাই-বাক্সর মধ্যে দিয়ে চোখ চলে যায় শূন্য করিডোর, আলো, ভাঙা বর...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
এখন উঠে দাঁড়াও
এখন উঠে দাঁড়াও তোমায় দেখতে– দেখতে ফুরিয়ে যাবো যেমন বাতির চিবুক, যেমন পাতার শিশির শুকোয় রোদে উঠে দাঁড়াও এখন তোমায় দেখতে– দেখতে কুড়িয়ে খাবো গাছ থেকে যা ঝরছে নিচে, দান–মাখা ঐ শুকনো ধুলো উঠে দাঁড়াও এখন নয়...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
মনে রেখো
কাছে যতো যেতে চাই, তত পিছে ফেরো। কখনো লুকিয়ে ফেরো মুখ ঢেকে জামার আস্তিনে কখনো প্রকৃত এক দৌড়বীর, পশ্চাদ্ধাবক আমার দুচোখে দিয়ে ধুলো, তুমি কোথায় লুকোলে? বিশেষত রাতে, ঘরে-ফেরার সময়, দূরে যাও তুমি তো খরগোশ...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
চেয়ে থাকো
কিছুদিন আমার অসুখী মুখপানে তুমি চেয়ে থাকো কিছুদিন আমার সুখের মুখপানে তুমি চেয়ে থাকো চেয়ে থাকো, চোখ ফিরিও না,অন্ধ হবে,যদি বন্ধ করো চেয়ে-থাকা,দুঃখী মুখপানে, চেয়ে-থাকা পলক না ফেলে কিছুদিন আমার ভোগের মুখপ...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
পোকায় কাটা কাগজপত্র
পোকায় কাটা কাগজপত্র দেখলে শব্দ মনে পড়ে – ফ্যান্ জোলেঙ্গা অর্থবিহীন, কিংবা অর্থে জবরদস্ত উলঙ্গ কিশোরী তোমার মাই দুটো সন্ন্যাসেই মস্ত হেন্ করেঙ্গা, তেন্ করেঙ্গা ! ‘ফ্যান্ জোলেঙ্গা’ শব্দ যেন হাঁ-করা রমণ...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
জলের উপর
জলের উপর খোলামকুচির মতন পত্পত্ করে ভেসে যাচ্ছে আমাদের দিনগুলো ওপারে যাবে। ওপারে যাবে কিংবা মাঝপুকুরেই মরবে ডুবে রানায় দাঁড়িয়ে আবার একটা ছুঁড়ে মারবো জলের মুখে জলের হাসি খেজুরের দাঁড়ে বসে গণৎকার মা...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
ভালোবাসা তার একমুঠি শস্যের
ভালোবাসা তার একমুঠি শস্যের ভিতরে পোকার মতন সংক্রমিত, নিরন্ত ছুঁচে সংক্ষেপ করা ঘের পাড়ের কাঁথায় ময়ূরটি ঈপ্সিত। ভালোবাসা তার একমুঠি শস্যের ভিতরে পোকার মতন সংক্রমিত। কাছে রাখে, যেন শ্বাপদে না পায় টের...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
এই খেলাটি একলা আমার
এই খেলাটি একলা আমার, খেলবো—যেমন চিরকালের চক্মিলানো খেলছে বাড়ি, যার মানুষে আলোক-কানা এই খেলাটি একলা আমার, খেলবো—যেন তার কপালের কাচপোকাটি তেমনি থাকে, চারদিকে জল, খন্দ-খানা কেশ করেছি আবোল-তাবোল, চুম্বন...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
প্রেমশূন্য
ভালোবেসেছিলাম একদা, তাও কি হাওয়ায় ভেসে যাবে? তাও কি উৎপন্ন করবে স্রোত? আমার চাওয়ায় এবং প্রাপ্তিতে হবে ধন্য? একী ভিখিরীর ভিক্ষা নয়, একী ভগ্ন ভঙ্গিমা তোমার - ভূত, ভয়, অন্ধকার-হারা? ভালোবেসেছিলাম একদা, ত...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
রক্তের দাগ
বিষণ্ণ রক্তের দাগ রেখে গেছে অন্ধকারে ফেলে মুণ্ডুহীন তরুণের উজ্জ্বল বিমূঢ় এক দেহ। খোলা ছিলো গলির গৃহস্থ জানলা আর কোষমুক্ত তরবারি ঘাতকের হিংস্র সাংঘাতিক ... একটি জিজ্ঞাসা নেই ওই দৃষ্টিহীন দর্শকের চোখে ...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
এখানে নিঃশব্দ তুমি
শাদা কাপাসের তৃষ্ণা, বনের আড়ালে রঙের রােমাঞ্চ, দাগ ... নীল ছই, তাঁবু টম্ টমের শব্দ হয় ঝুঁকে-পড়া শুকতারকায়! এখানে নিঃশব্দ তুমি সজারুর নৃত্যে কি তুফান? রটনা নেহাৎ অল্প ; কর্মক্ষম চাবি সিন্দুকের ডালা...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
আসতে পারে
খুব সহজেই আসতে পারে কাছে ওই, যা কিছু – বুকের ভিতর আলগা হয়ে আছে । পাতার ফাঁকে উঠছে শামুক, শিকড় কাটে উই আমার মতন একলা মানুষ দুখান হয়ে শুই । চোখের পাতা বন্ধ, -- কেবল একটি – দুটি নাচে খুব সহজেই আসতে পারে ...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
তোমার জীবন নিতে
তোমার জীবন নিতে আমি আর নেবো না সময় অনেক সময় তুমি পেয়েছিলে অনেক সময় বাইশ বছর ধরে একই ঘরে পরেছো কাপড় বাইশ বছর ধরে ছাপ পড়ে গেছে বাথরুমে তোমার উলঙ্গ বুক, পেট, পদতল আগাগোড়া অথচ আমার কানে তুমি বলেছিল...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
চতুর্দশপদী কবিতাবলী - ৮২
কখনাে যাইনি কাছে, মনে হয় তােমার প্রতিমা কৃত্তি কুমােরের গড়া, চালচিত্রে আপাদমস্তক গ্রামের বাংলার ঐ অতসীকুসুমে - ভরা সীমা তােমার, প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশ, নিশ্চিন্ত স্তাবক। ছেড়ে এলে যে বেদনা, আমি তার অং...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
দেখেছিলাম
দেখেছিলাম স্বপ্নে তাকে, একটু নষ্ট হয়নি কী স্বাভাবিক মূর্তি, সে তো গুঁড়িয়ে গেলো ঝড়ে, আমার চোখের সামনে, কিন্তু কী উপায়ে উঠলো, মূর্তিমন্ত এলো আমার ঘরের নিচে জানলায়, বললো, এতো বাঁচা কঠিন, কে সেরকম জানতো! ...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
ভালােবাসার পদ্য
যন্ত্রণাব মতো দীর্ঘ পথ পড়ে আছে। সম্মুখে অরণ্য যার মধ্যে নেই স্বাধীন চিন্তার পরিবেশ, গাছ আছে-- বিকল্প রয়েছে। যন্ত্রণার মতাে দীর্ঘ পথ পড়ে আছে। কে জানে কোথায় আছে এলােমেলাে মেঘ আকাশে? কে জানে, কেন হৃদ...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
একা একা আমার কলকাতা
গঙ্গার উপরে ব্রিজ, নিচে নৌকা, সিন্ধুর শকুন ওঠানামা করে যেন মিথ্যে হাওয়া পরদায় লেগেছে গাঁয়ে নাট্য চলে ঘোর, ডায়নামো মণ্ডপে শব্দ করে ভেসে যায় গাঁদা ফুল ঘোলা জলে শুদ্ধতার টানে— সমুদ্রে, গেঁওখালি বাংল...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
দুই চড়ুই
জালির নিচে স্থিতিস্থাপক তেমন কিছু নেই। দুই চড়ুই কুড়িয়ে আনে সমানে খড়কুটো, বেশির ভাগ ছড়িয়ে পড়ে শীতল মেজেতেই, গৃহগড়ার শুরুর, মুখে জালির শত ফুটো! সহসা ডিম ভাঙবে, শেষ কামনা অভিলাষ - দুই চড়ুই জালির ফাঁকে কর...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
চতুর্দশপদী কবিতাবলী - ২১
অনন্তসাগরে ভেসে যায় আজি সকালে-ভাসানাে তরী, হে আমার তরী — আমারে কে বিকালবেলায় বলে গেলাে, ক্ষয়হীন নিবিড় সুষমা ঘরে আনাে প্রান্তরে তােমার একী বসে থাকা, স্মরণ-অতীত? আমি কি তােমারই প্রতি ভাসিয়েছিলাম তর...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
আসলে ঐ হাতটি তোমার
আসলে ঐ হাতটি তোমার ধরে আমায় তীব্রভাবে যেন শিকড় জলবাতাসে শক্ত শিকড় ধরছে মাটি কামড়ে ধরছে, রাত দুপুরে সোনার মধুপর্ক বাটি পুরুতমশাই, মন্ত্র পড়ে দেবতার কি কলঙ্ক যাবে ? আসলে ঐ হাতটি তোমার ধরে আমায় তীব...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
যে যায় সে দীর্ঘ যায়
একজন দীর্ঘ লোক সামনে থেকে চলে গেলো দূরে — দিগন্তের দিকে মুখ, পিছনে প্রসিদ্ধ বটচ্ছায়া কে জানে কোথায় যাবে— কোথা থেকে এসেছে দৈবাৎ-ই এসেছে বলেই গেলো, না এলে যেতো না দূরে আজ। সমস্ত মানুষ, শুধু আসে বলে, যেত...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
হাত বাড়ালে ধরতে পারি
হাত বাড়ালে ধরতে পারি ছায়ার চেয়ে ঘনান্ধকার আরেক ছায়া, পথ জুড়ে আজ নাচ দেখাতে ব্যস্ত ভারি হাত বাড়ালে ধরতে পারি। সাত সমুদ্র তীরের কাছে, ঝাউ-বীথিকা থমকে আছে চাঁদ চলেছে মেঘ ঝেটিয়ে রাজার বাড়ি হাত বাড...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
আলোকসমস্যা
রোদ্দুরে এসেছো প্রভু অন্ধকারে কে আলো জ্বালায়? একমুঠো অতসীফুল হাতে নিয়ে ভেবেছো সমৃদ্ধি জীবিত স্মৃতির কুঞ্জে আলোকের বিন্দু চমকে ওঠে কেউ কেউ ভালোবাসে দুঃখ, মৃত্যু, পরবাস, অতিথির মতো প্রেম। রোদ্দুর বড়ই...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
পোড়াতে চাই
দরজায় কয়েকটা ফুটো, কুঠো কিছু লোক ভিতরের আধো অন্ধকারে বসে পোড়াচ্ছে কী যেন। গন্ধবাস গুমোট হাওয়ায়... ফুলগুলো ছড়িয়ে রয়েছে পাক হচ্ছে। ইটের মাথায় চাপা বক্নোয় সেদ্দ হচ্ছে কিছু কাঠকুটো নেই, কবিতার ...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
আমি দেখি
গাছগুলাে তুলে আনাে, বাগানে বসাও আমার দরকার শুধু গাছ দেখা গাছ দেখে যাওয়া গাছের সবুজটুকু শরীরে দরকার আরােগ্যের জন্যে ঐ সবুজের ভীষণ দরকার। বহুদিন জঙ্গলে কাটেনি দিন বহুদিন জঙ্গলে যাইনি বহুদিন শহরেই আছি শ...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
ভুলে যাই
ভালো নেই, ভালো থাকা, এত অসম্ভব ভালো থাকা কে বলে চুকেছে কাল? ইন্দ্রিয়ের, রুদ্ধ সাহসের— কে বলে চুকেছে কাল? ভালো থাকা ভালো-মন্দে থাকা ঈষৎ ঐশ্বর্য তারই, লোকালয়ে এবং বিমানে উড়ে যেতে যেতে যদি নিষিদ্ধ সুব...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
জানলা থেকে মুখ বাড়ালে
জানলা থেকে মুখ বাড়ালে নদী আমার ছোট্ট নদী গঙ্গা থেকে ছুটে আসছো বাড়ির পাশে থাকবে ব’লে আকাশ ভেঙে পড়লো হঠাৎ শহরে ময়দানের ঘাসে জানলা থেকে মুখ বাড়ালে নদী আমার ছোট্ট নদী হারিয়ে গেছে গলির শহর, বাস ডুবেছ...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
পাগল ঘণ্টা
পাগল ঘণ্টা পাগল ঘণ্টা বাজিয়ে দাও আর আমার বুকে লাফিয়ে ওঠে নকল হাহাকার যেন শব্দ থেমে গেলেই হারিয়ে যাবাে দূরে অতর্কিত হায় বেদনা তােমায় ভুলে যাবাে ভুলে যাবাে প্রসঙ্গতি বিষয়বস্তু খুঁজে এই বেদনার কপট ...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
পিছনে চলেছে, থাকে দূর
পিছনে চলেছে সে - ও, ভদ্রতাসম্মত দূর থেকে আমাকে রেখেছে চোখে ; ভিড়ে ঢুকে দিতে চাই ধোঁকা সহজে হজম করে যেন অন্যমনস্ক ও বোকা কিছুটা সে, যথাসাধ্য আর করে নিজেকে আলাদা। পিছনে চলেছে সে - ও, আমি চুপকি দিই, সরে...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
সবার কাছে
সবার কাছে একটি নতুন বিদায় নেবার বার্তা আছে ... যাই? চঞ্চলতার আড়ালে তার সবখানি না পাই, পাচ্ছি কিছু। আমার মতন নম্র শামুক, ঐখানে তো মুখটি নিচু ! &nb...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
অধর্ম
ভালোবাসা, আমি অযোগ্যতার কানে বারবার বলি-- ভুল করো, ভুল করো তোমার ক্ষতি কী? ক্ষতি সবই নিষ্প্রাণে-- আবক্ষ-থরোথরো। ভালোবাসা, আমি নির্জন দ্বীপে কাশ ফুটিয়ে দেখেছি -- ফাঁকি তোমার ক্ষতি কী? আমার সর্বনাশ আমাক...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
একটি সমাজ
একটি সমাজ বৃত্তমধ্যে , একটি সমাজ বাইরে আছে , এর খানিকটা অংশ আপন,ওর খানিকটা আমার কাছে , একটি সমাজ নকলনবিশ , অন্যটি তার তুল্যে খাঁটি , দুই সমাজে ঝগড়া করে পদোন্নতি করছে মাটি । একটি সমাজ আয়ত্তাধীন , অন্য ...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
শোনো, এই পাথর পুড়েছে
মাটির উপরে স্তম্ভ মাটির উপরে গূঢ় গাছ, তলায় শিকড় দুটি, আমি মুঠি ভরে নিই সে-শিকড় থেকে রস বড় দেহপরবশ এই সন্ধ্যা মাটির ভিতরে, খোলা খঞ্জনির মতো— তালভাঙা মাতালের জিভ তাকে পৃথক করেছে। টেবিলের নিচে দুই শ...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
তোমাকে আমার
কোনোদিন তোমাকে আমার, আশা করি, প্রয়োজন হবে কবে? তা নিতান্ত শক্ত বলা, শুধু বিবেচনাধীন অন্তর কখনো বলে, ঐ গাছের পাতারা নবীন যতদিন কাছে থাকবে… পরদিন তোমাকে আমার, আশা করি প্রয়োজন হবে এখন কঠিন নয়, একা-একা দু...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
মানুষ বিষয়ে
মানুষ হেসে খেলে বেড়ায়, মানুষ কেবল কাঁদে মানুষ দুঃখে-সুখে থাকে অনন্ত আহ্লাদে মানুষ বড়ো একলা এবং মানুষ শুধুই দুজন মানুষ ঘৃণা করে এবং মানুষ করে পুজন মানুষ থাকে জঙ্গলে আর মানুষ থাকে ঘরে মানুষ যেমন কাঁদায়,...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
বহুদিন বেদনায় বহুদিন অন্ধকারে
বহুদিন বেদনায়, বহুদিন অন্ধকারে হয় হৃদয়ের উদ্ ঘাটন সে-সময়ে পর্দা সরে যায় প্রাচী দিগন্তের দিকে— যে-সময়ে মেহগনি খাট ডুবে যায় মেঘে-মেঘে যে-সময়ে মনোহর প্রত্যভিবাদন নিতে ধানক্ষেতে নেমে আসে চাঁদ অন্ধকার অবহে...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
চতুর্দশপদী কবিতাবলী - ৩২
সাধ নাই হে সুন্দরি , সাধ নাই পরান ভরিয়া— অথবা ঝরিয়া গেছে সব সাধ হেমন্তের মতাে; তবে আর দিবসের সম্ভাবনা ঝরিলে প্রান্তরে কেন রাঙা বেদনায় এ-প্রাণ ব্যথিত হয় ঘাের? প্রান্তর ও মনের মাঝে হয়তাে অতিদ্রুত ও...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
চতুর্দশপদী কবিতাবলী - ১০০
পরিকল্পনা, এই গ্রন্থ তাকে আপাদমস্তক ডোবাবে অক্ষরে, জলে — শব্দ হবে সাক্ষাৎ তরণী ভরসার পারাপার দেখাবে যে নিশ্চিত আপন ভেসে যাওয়া পাল তুলে, ঝংকার, ঝড়ের মুখোমুখি! পিছনের জানলা এই গ্রন্থ, তাকে আজন্মসম্প্রতি...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
বাহির থেকে
বেরিয়ে পড়ো হাওয়ায় ও-যে পায়ে পড়ছে এসে এমন রাতে ঘুম ভাঙাতো স্বপ্নাতুর চোখ ঘরের ভিতর হাওয়া খেলতো আলুল কালো কেশে ফুটে উঠতো ফুলের বাগান, যেতে হ'তো না। জানতাম না চূড়া পাঠায় হাওয়ার শান্ত সৈন্য কেয়ার নিচে যদি...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
এখনো তোমার নাম
এখনো তোমার নাম, এখনো তোমার আনাগোনা এখনো তোমার সেই কথাগুলি কান পেতে শোনা 'প্রিয়তম দেখা হলো কবে ' মনে পড়ে, বিবাহ-উৎসবে বারান্দার কোণ থেকে উড়ে গেলে পাখি বিষয়ে নিবিষ্ট হলো যে-মন বৈরাগী। ছিলাম নৌকায় ভাসি শ...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
তোমার পথ কি আমার পথেই পড়ে?
যবে কাছে পাই সমুদ্র হলে পার সে থাকে সুদূর মনে ঘাটে বসে করি ব্যর্থ - সফলতার তুলনা সংগোপনে ততোধিক জ্বলে নির্জন সন্ধ্যায় ফসফরাসের সিঁড়ি যমুনা - ব্রিজের তলের মরীচিকায় দেখেছিলে হারাকিরি তবু প্রাণ থেকে ছ...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
শূন্যতাই সব
শূন্যতাই সব, তবু আশা থাকে পরিপূর্ণ হবে বসন্তে ভরবে বক্ষ, কায়ক্লেশ ঘুচে যাবে যবে শূন্যতাই সব,তবু আশা থাকে পরিপূর্ণ হবে আমরা পূর্ণতা চাই, মনে জানি হারানো বৈভব মুষ্টিভরা ভাগ্য রেখে মাটিতে লুকালো নীল সব আ...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
একটি কবিতা যেন
একটি কবিতা যেন মারা গেছে অর্থাৎ ক্রমিকে সাজানো হয় নি তাকে ফেলে আসা পার্থিব যেমন গাছ যার মুণ্ডে মাটি, শিকড় হয়েছে ঊর্ধ্ববাহু তেমনি, কবিতা যেন মারা গেছে অর্থাৎ শুরুর সাধ্য মোটে পারে নি গোছাতে শেষ ... ...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
প্রকৃতির আলো-আঁধারে
প্রকৃতির আলোয় আঁধারে সাঁতার দিতে-দিতে কবিতার দোয়াতে ডুবিয়ে কলম যেন মাছরাঙা, জলে ছোঁ আকাশে বাহু তুলে কাঙাল লাফ 'তুমি আমারি — তুমি আমারি ' এই শেষ বোধে সতত ভেসে-যাওয়া কাদাজল মাঠ ভেদ ক'রে চন্দন-ছিটোনো কচু...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
ঊরু
নিরুপম ও যুগ্ম ঢাল লতাগুল্ম শিকড়ের দাগ লঘু প্রিয় শিল্পকাজে চিত্রিত মাটির পুষ্পপাত্র উষ্ণ, গোল, পূর্ণাধার, সংযুক্তি কি আমার প্রয়াগ ? ঝর্না করো মুগ্ধধারা আমি শেষ লম্পট অমাত্য নিশ্চিন্ত চতুর মুদ্রা শর...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
মৃত্যুর বিষয়ে
হত্যা করে আমাকে পাথরে অথচ কোলের কাছে ঝর্না ছিলাে, মায়াকাননের ফুল ছিলাে ফুটে, ছিলাে করপুটে পাগল শিকড় যা ধরে এ-দেহ-প্রাণ আবার বাতাস নিয়ে সংসার সাজাবে ভেবেছিলাে এই হাসি, শিশুমুখ, ফুল ফুটে-ওঠা আরাে কিছ...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
বলাে, ভালােবাসাে
এই হাসপাতালে এসে দেখি শুধু আমার অসুখ। আর সবাই সুস্থ, প্রাণবন্ত, শুধু করিডােরে হাঁটে- এদিক-ওদিক যায়, জানলায় দাঁড়ায়, পাখি দ্যাখে, পাখিদের সঙ্গে কিছু কথা বলে, খবরকাগজ এখানে আসে না। কে আর তােয়াক্কা ক...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
সদর স্ট্রিট
যে - শিল্প ঐকিক নয়, তারে করো দান শুদ্রাণীরে চাঁড়ালের হাত দিয়া পোড়াও পুস্তকে, যদি কারো সাধ্য থাকে। গালো পিত্ত, গালো চোখ, বেটে করো কিমা, কলকাতায় ভেসে ওঠে আঞ্চলিক দুফী-র নীলিমা। তুমি পারো মেলে ধরতে ...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
চতুর্দশপদী কবিতাবলী - ৭৪
হাতে ধরে শিখায়েছাে বালুকায় হাঁটিব কেমনে দয়াময়! শেফালির ফুলে ও পাতায় ভরে আছো— কোমলতা দেখে দেখে চোখগুলি হয়েছে কঠোর যা ধরা দেবে না তারে ধরিব না, দেখিতে থাকিব ফলের স্বকীয় রসে কেমন শৌখিন হয় বেলা নগ...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
বিমানবন্দরে বিদায়
দুই কিশােরীর এই হাসি এই কান্না মুখের ধরা পড়ছে বৃদ্ধ চোখে কঠোর দুটি চক্ষে ফাটে জল-দোপাটি নিমন্ত্রণের সীমান্তে খেদ ... বিদায় বিদায়। মাঝখানে এক স্বচ্ছ কাচের পাঁচিল আড়াল যাচ্ছে এবং যাচ্ছেনাদের মধ্যে খ...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
নাম জীবন
চোখ ফেলে মাটি কুপিয়ে বেড়াই। হাওয়ায় ওঠে ফুরফুরিয়ে প্রজাপতির মতন পাখনা -ভরা নরম রােদ্দুরে পােড়া মাটি, ঘেঁস, বালি আর কাঠগুঁড়াে, —সব জায়গার মাটি তাে আর সমান নয়! তাকে জো–সাে করতে দুটো–একটা চন্দন–স...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
অনন্ত কুয়ার জলে চাঁদ পড়ে আছে
দেয়ালির আলো মেখে নক্ষত্র গিয়েছে পুড়ে কাল সারারাত কাল সারারাত তার পাখা ঝরে পড়েছে বাতাসে চরের বালিতে তাকে চিকিচিকি মাছের মতন মনে হয় মনে হয় হৃদয়ের আলো পেলে সে উজ্জ্বল হতো। সারারাত ধরে তার পাখাখসা শব্দ ...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
দুঃসময়ে তোমায় আমি
দুঃসময়ে তোমায় আমি ডাকতে পারি নিজের ঘরে বলতে পারি সুখের কথা, দুঃখ সুদূর সরিয়ে রেখে বলতে পারি, আর কখনও যেমন করে কথা বলিনি দুঃসময়ে তোমায় আমি ডাকতে পারি নিজের ঘরে। আমার ঘর তো চতুর্দিকেই, চতুর্দিকেই উদার দ...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
দুঃখের বাগানখানি
দুঃখের বাগানখানি সুখ এসে বেড়ায় ঘিরেছে, ফেলেছে, রোদ্দুর ছায়া একাধারে ফুলের উপরে। পাতায় পতিত রোদ, নিচের পাতায় পড়ে গিয়ে — হৃদয় শুকিয়ে দেয় অবয়ব — তাও ত শুকোয়! এইসব দেখেশুনে, আমি আর বাগানে বেড়াতে যাইনা, বা...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
আকাশে-বাতাসে
আকাশে বাতাসে ছড়ায় অন্ধকার নিভে যায় ঘর-দুয়ারে সোনার আলো যা কিছু গেয়েছি—তাহাতে হয় নি ভার এবার, হে প্রিয়, মরি যদি সেও ভালো। এমনও দেখেছি—আকাশের উজ্জ্বলা শামিয়ানা ছুঁতে উদ্ধত কিংশুকে এমনও দেখেছি—শে...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
তরুণ শিল্প
তখনো তার ফুলের বিকাশ বাকি ছিলো আমি একটা ধূর্ত চোরের মতন সদর খিড়কি দেখে চারপাশের সীমানা দেখে মৃদু একটি আলোর মতন বসেছিলাম পাশে হাত তুললাম, পা তুললাম, মুখটি ছুঁলাম শব্দহীন ভঙ্গিতে নিজের পোড়ো দেহখানার দিক...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
শীত আসছে
আকাশে তৈরি হচ্ছে পেঁজা তুলার লেপ আসছে শীত, আমলকি পাতায় লাগছে হাওয়া পাতা ঝরছে, তুলাের হাওয়ায় বিদ্যুৎ, বিদ্যুতের কশাঘাত, আঙুলে ছুঁচ উঠছে নামছে কাঁথা শেলাই করছে জলের মধ্যে পানকৌড়ি জলে তেমন জোর নেই, ...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
যদি পারো দুঃখ দাও
যদি পারো দুঃখ দাও, আমি দুঃখ পেতে ভালোবাসি দাও দুঃখ, দুঃখ দাও – আমি দুঃখ পেতে ভালোবাসি। তুমি সুখ নিয়ে থাকো, সুখে থাকো, দরজা হাট-খোলা। আকাশের নিচে, ঘরে , শিমূলের সোহাগে স্তম্ভিত আমি পদপ্রান্ত থেকে সেই স...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
শ্রেয়সী
কতদিন গান গাইবাে বলে ভেবেছিলাম কতদিন গান গাইবাে নদী চলেছে সাগরে জোর হাওয়া চলেছে সাগরে ঝড় নাইগাে পরিত্যক্ত মাঠে শান্ত শস্য ফোটে সবুজ শান্ত শস্য ফুটে আছে তেমন করে নাইবা এলে খানিক এসে দাঁড়াও আমার কাছে...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
অঙ্গুরী তোর, হিরণ্য জল
তোমার হাত ছুঁয়েই আমি ঠান্ডা জলের স্পর্শ পেলাম বিদায় নেবার অনেক আগে কিছুক্ষন কি হেসেছিলাম? তুমিই জানো - দূরত্ব আর মুখবোজা শাঁস পড়ে রয়েছে মধ্যে আমার। তবু চলেছে সময় বহে, সভ্যতা নীল, পক্ষী ভালো বিশ্বাসিনী...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
মুখখানি
ফুঁ দিয়ে উড়িয়ে ধুলাে, দেখি মুখখানি পাতার আড়াল থেকে দেখি মুখখানি, একা একা, মুখখানি লক্ষবার দেখা, মুখখানি কোটিবার দেখা একা একা, মুখখানি লক্ষবার দেখা। কাব্যগ্রন্থ 'কিছু মায়া রয়ে গেলো' প্রগতি , ১৩৯৩...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
চতুর্দশপদী কবিতাবলী - ৭০
তােমারে আবহমান কাল থেকে চেয়েছি জানাতে আমি ভালােবাসি, আমি সব চেয়ে তােমারই অধীন— রটেছে, শুনেছাে কানে — প্রবঞ্চনা, চাতুরি ও হীন নিশ্চিত শঠতা কত। আদালতে বােবা ও কানাতে সাক্ষ্য দেয়, কাজি শুধু এ -পাপের শ...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
আলাে জ্বলতে পারলে
মােটামুটি, দেহের পিদিমে তেল থাকলেই হলো তেল আর সল্ তে দেয়ালণ্ঠন আর খাস-গেলাস থাক বাবুর বাড়ি ওদের আছে ভিনরকম পালাপার্বণ আর শখ-সাবুদ নিদেন আলােটুকু না হলেই নয়, তাই  ...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
নীল ভালোবাসায়
আমি সোনার একটি মাছি খুন করেছি রাতদুপুরে তাকে বাঁচাতে চেয়েছিলাম, আঁধার-সমুদ্রে নৌকা যেমনভাবে বেঁচে ফিরতো—তাকে বাঁচাতে চেয়েছিলাম আমি সোনার একটি মাছি খুন করেছি রাতদুপুরে | হঠাৎ ছুরি দৌড়ে এলো—হাতের মুঠো ...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
চতুর্দশপদী কবিতাবলী - ৭৩
এখনাে যায় না ভােলা, জ্যোৎস্নায় আঁধারে মনে পড়ে মনে পড়ে হৃদয়ের চলচ্ছক্তিহীন রক্তে-জলে তােমারই পায়ের ছাপ, যেন কুণ্ঠা - জড়ানাে চম্বলে ধারার দ্যোতনা তুমি, তুমি প্রাণ, উচ্ছন্ন শিখরে স্মৃতির প্রাক্তন ...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
আমার দ্বিধা
কথার অনেক মূর্তি আমার দেবতাদের ধরনে একটি জলে ডোবাই এবং একটি রাখি স্মরণে বাকি শতেক ফুটে ওঠে, জানি অপরিচিত ঠোঁটে একটি জলে ডোবাই এবং একটি রাখি স্মরণে কথার অনেক মূর্তি আমার দেবতাদের ধরনে। ভালোবাসার বর্ণ খ...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
আকাশে যখন
আকাশে যখন ভেঙেছে মেঘের বাসা তুমি কাছে এসে বসিও আমার পাশে ভয় পাই বড় ভয় পাই ভালোবাসা বাজবিদ্যুৎ মেঘগর্জিত ফাঁসে। আমারে বলার কথা তুমি ভরে আনো কপাটবিহীন ঘরের আড়ম্বরে স্থল অভিমুখে চালায়ে জাহাজ হানো বিদায় ব...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
দুদিন পরে
দুদিন পরে মনে পড়ছে তোমার সেই হলুদ চিঠিখানির উত্তর দেওয়া হয়নি উত্তর মানে, অমন একটিই কাগজ তোমাকে পাঠিয়ে দেওয়া ভাষার নির্দেশহীন, শূন্য ও অপরিসীম বেদনার মতো ফাঁকা চিঠি তোমার নিরক্ষর, মনে আছে কি ? এমন...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
তবে চলো ভাঁটিখানায় যাই
কৌলিন্যপ্রবাদরুচি রামধনু উত্তরাধিকার লাম্পট্য তবে চলো ভাঁটিখানায় যাই কলমি থানকুনির দাম মাড়িয়ে মাড়িয়ে, ভাঙা শামুকে পায়ের পাতা রক্তাক্ত করে, ভাগাড় পাশে রেখে গাভী মহিষের চলো ভাঁটিখানায় নিয়ে। ডোমপাড়ার...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
যেখানে দাঁড়াই, ভুল
যেখানে দাঁড়াই, দেখি, ভুল দাঁড়িয়েছি ! শিশুকাল থেকে এই দাঁড়ানোর জন্যে করে ত্রস্ত হাঁকুপাঁকু কেমন দাঁড়াতে শেখা ঐ মঞ্চে, ডুবোঘরে, মাঠে– মানুষের পাশাপাশি, মানুষের দূরত্বে ও কাছে, কেমন দাঁড়াতে শেখা সরূসৃপ, ...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
দেখতে হবে গোলাপ
আমি একটি সরল সুতোয় মালা গাঁথবো ভেবেছিলাম কিন্তু, সুতো বস্তা পচা! অতএব যা করতে হলো— গিঠে - গাঁটে, ফুলগুলি সব একই স্থানে রইলো ব্যাকুল, মধ্যমণি হয়তো গোলাপ প্রস্ফুটিত, একার হাতে যতেক সেনা জবুস্থবু— ডাইন...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
অজিতেশ
তোমার মুখ দেখলে মনে হয় কোথাও বৃষ্টি হচ্ছে কপালে সন্ন্যাসের নীচে কেমন দীঘির মত চোখ ছিল তোমার দীঘির পাড়ে তালপাতার বাড়িটি বড় খেটেখুটে তৈরি করা অদূর্ বিলাসী অথচ সুকুমার তালধ্বজ এই ঠুনকো জীবনচারিতায় কোন...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
দশমী ও বিসর্জনে
ভালােবাসা দিয়ে আমি তােমার সর্বাঙ্গ মুড়ে দেবাে ফুলে ও কাঁটায় আমি তােমার সর্বাঙ্গ মুড়ে দেবাে, যাতে ফুল পেতে গেলে আমিও কাঁটায় বিদ্ধ হই, অন্য কোনাে অন্ধ চোখ কেবলি কাঁটার ঝাঁটা খাবে। তুমি ছাড়া চরাচর ...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
চতুর্দশপদী কবিতাবলী - ৪৭
তােমার সংকেত শুধু তুমি জানো, হে অনন্যমনা জাহাজে এসেছে শিশু, জাহাজেই ফিরে চলে যাবে বাকি শুধু বাজা বাঁশি , অমরসংগীত বারংবার তারপর স্তব্ধতায় ক্রমাগত দিবস ফুরাবে। আমি জানিব না প্রিয়, আমি দেখিব না শিশুটি...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
ফিরে আসে
কুলিক নদীর জল বাঁধা পড়ে আলস্যে মাটির গাছের ছায়াটি গায়ে ডুবে আছে দুপুর রোদ্দুরে বৃষ্টি নেই, পাতাগুলি পুড়ে গিয়ে হয়েছে পাথর গুলমােহর ফুল আর শুকনাে পাতা লুটোচ্ছে গাছের গােড়ায়, শিকড় জুড়ে আনন্দর পা...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
আনন্দ-ভৈরবী
আজ সেই ঘরে এলায়ে পড়েছে ছবি এমন ছিলো না আষাঢ়-শেষের বেলা উদ্যানে ছিলো বরষা-পীরিত ফুল আনন্দ-ভৈরবী আজ সেই গোঠে আসে না রাখাল ছেলে কাঁদে না মোহনবাঁশিতে বটের মূল এখনো বরষা কোদালে মেঘের ফাঁকে বিদ্যুৎ-রেখা ম...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
খৈরী, আমার খৈরী :একটি এলেজি
হলুদ রোদ্দুরে-মোড়া দেহ জুড়ে কালসিটে দাগ ছায়ার চাবুক খেয়ে এই রূপ ভারি আদরের হয়ে দাঁড়িয়েছে আজ, জলে ও জঙ্গলে ভয়ংকরী..... মানুষের ঘরে-দোরে অনায়াসে ঘোরো ফেরো কন্যার মতন মানুষী মায়ের গায়ে পা তুলে...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
আমায়, পথ থেকে পথে
আমায় পথ থেকে পথে ছুটিয়ে নিয়ে চলেছিল ঐ মখমল-কোমল কুকুর তার থাবায় ঘাসে-শিশিরে-মেশা নরম আওয়াজ আমার কানে বেজেছিলে বন্ধুর মতো বিস্মরণের মতো আমার চিরপুরোনো ভালোবাসার ভিতরে আজো তোমাদের পরিপূ...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
চতুর্দশপদী কবিতাবলী-৬৩
ভালোবাসা পেলে সব লণ্ডভণ্ড করে চলে যাবো যেদিকে দুচোখ যায় _যেতে তার খুশি লাগে খুব। ভালোবাসা পেলে আমি কেন আর পায়সান্ন খাবো যা খায় গরিবে, তাই খাবো বহুদিন যত্ন করে| ভালোবাসা পেলে আমি গায়ের সমস্ত মুগ্ধকারী ...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
কান পেতে আছি
[গৌরীদির জন্যে] এত দ্রুত চলে যাবে ভাবা অসম্ভব ছিলো, দ্রুত চলে যেতে মুহূর্ত লাগে না জানি, আশা ছিলো তুমি আভাসে জানাবে প্রকৃত যাওয়ার কথা, কিন্তু তা বলো নি । ভেবেছিলে, বলে গেলে কিছুতে হতো না যাওয়া, এ-ভু...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
অতিজীবিত
বাগানের গাছটিও বাড়বে রোদ্দুরে বৃষ্টিতে আমার ফুল ফুটবে তুমি সৌরভ পাবে না পুকুর ভাসবে সবুজপানায় নিরুৎসুক দ়ৃষ্টিতে মুখ আমার ভাসবে আলোয় গৌরব পাবে না একা-একাই তোমার বোনা গাছটি দেখবো ফুলটি দেখবো বাগানে কো...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
উত্তর নেই
উত্তর নেই দূর রাজধানী থেকে রাজার যখন ফেরার সময় হলো ঘুরে ঘুরে পাখি আকণ্ঠ কারে ডেকে আকাশ হয়েছে বৃষ্টিতে উচ্ছল। তুমি বলেছিলে, চিঠি দিও মাঝরাতে তখন ঘুমায় বিরক্তি নানাঘরে এ কি টেলিফোন? প্রিয়তমা কান পাতে যব...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
শুধু বনভূমি
সমুদ্রের কাছে এসে চুপ করে বসে থাকি, পাহাড়ের কাছে গিয়ে চুপ করে বসে থাকি, শুধু বনভূমি বুকে কোলাহল করে, শুধু বনভূমি বুকে কোলাহল করে ! দিনরাত আজ একা শহরের সীমান্তে কাটাই ---- শহর সীমান্ত যেন আলস্য ঠিকানা ...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
জন্ম এবং পুরুষ
আবার কে মাথা তোলে ফুলে ফেঁপে একাকার চাঁদ সাধ হয় মাথা তোলে ফাঁসা মাথা একাকার মাথা গহ্বরে মাংসের বিড়ে মাড় মুত ফুল রক্তপাত আগায় দুপাড় পিছে – স্তম্ভ লাল ছিলা লাল, লাথি ভাঙে ঈশ্বরের মুখ, বোঁচা নাক, সহসা...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
দাও, কিছু দিয়ে যাও
ছিলে সারাদিন বসে, সন্ধে হলো আর চলে গেলে! ফিরেছি গভীর রাত্রে, পদাতিক, গুনে-গেথে কড়ি, এতােক্ষণ বসে থেকে কীভাবে সন্ধ্যায় চলে গেলে? থাকলে না কেন রাতে , উদ্ভটচেতনে, ভেবে মরি। চিঠিতে লিখেছো, কিছু এসেছিলে ...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
সে বড়ো সুখের সময় নয়
পা থেকে মাথা পর্যন্ত টলমল করে, দেয়ালে দেয়াল, কার্নিশে কার্নিশ, ফুটপাত বদল হয় মধ্যরাতে বাড়ি ফেরার সময়, বাড়ির ভিতর বাড়ি, পায়ের ভিতর পা, বুকের ভিতর বুক আর কিছু নয়— ( আরো অনেক কিছু ? ) — তারও আগে পা থে...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
স্মৃতির ভিতর
স্মৃতির ভিতর এক বাটি জল জলের মধ্য গুবরে পোকা আমায় দেখায় অন্ধ অগ্নি ফুল ফোটাচ্ছে থোকায় থোকায়। বৃষ্টি কোথাও পড়ছে আগাম বৃষ্টি কোথাও পড়ছে পিছে ছন্দমুখে বন্ধ দুয়ার  ...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
তোমার সন্তান আমি দিয়ে যাব
তোমার বুকের পাশে শুয়ে থাকবে বিপুল আক্রোশে, স্তনদুটি শঙ্খনাদ করে উঠবে ঘুমন্ত কামড়ালে, নাভিগর্তে আঙুলের রক্ত ও প্রপাত পড়বে ঝরে—- এ-বয়সে সব কাজ করতে পারি প্রেমে ও সম্মোহে | বিদায় নেবার আগে বলে যেও অধরে...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
জঙ্গলে, অন্ধকারে
কান্ হার জঙ্গলে গেছি। জঙ্গলে ঘুরেছি। বড়-বড় শাল-সেগুন পথ আটকিয়ে ছিল, তারই মধ্যে পথ গেছে ইনিয়ে-বিনিয়ে, সেই পথ ধরে গেছি মুক্কির দরজা— কান্ হার ওপ্রান্তে পড়ে, দেখেছি শুয়োর, বাঘের লেজের মতো পড়ন্ত র...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
মৃত্যুর পরেও যেন হেঁটে যেতে পারি
[ শান্তিরঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্মৃতির প্রতি ] মানুষের মৃত্যু হলে মানুষের জন্যে তার শােক পড়ে থাকে কিছুদিন, ব্যবহৃত জিনিষেরা থাকে জামা ও কাপড় থাকে, ছেঁড়া জুতাে তাও থেকে যায়, হয়তাে বা পা-দুখানি রা...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
একলা আমি
আমি একটি নদীর মতন দৌড়ে যাবো ভেবেছিলাম আমি একটি গাছের মতন স্থির দাঁড়াবো ভেবেছিলাম কিন্তু,হঠাৎ ডাকলো পাখি আমার মতন একলা পাখি তাই জানাতে, আলগা হাতে তোমার কাছে পালিয়ে এলাম আসার আগে জ্ব...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
বাগানের কেউ নয় নষ্ট ফল
নষ্ট কিছু ফল পড়ে মাটিতে গড়ায়। নিজে নয়, নিজে ও তো গড়াতে পারে না। কিছু পিঁপড়ে টেনে নিয়ে যায় ওকে খন্দে ফেলে দিতে-- ফেলে দেয়, ও কিছু বলে না। বলার উপায় নেই, ওর শুধু নষ্ট চেয়ে থাকা, চেয়ে-চেয়ে কিছু বলা, নষ্ট...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
জানিনা কে সাংকেতিক বেশি
জানিনা কে সাংকেতিক বেশি ভাস্-এ ফুল, নাকি তার নিচে মুঠি-ফেঁসে ঝরা পাপড়ি রোগে-ভরা,পতনে মলিন জানিনা কে সাংকেতিক বেশি মৃত্যু ও পাথর... &n...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
মানুষ ভিখারী হতে ভালোবাসে
হেমন্তের শেষ কিছু চিঠিপত্র, পুরানো কাগজ, জঞ্জাল মূলতানে তাহার নকল সাজ ব্যর্থপ্রাণ জেরেমির মতো জানালায় আলোয়ান আপেল রোদ্দুর— গরম জ্বরের প্রতি, কাশ্মীর, চুম্বন সোনার ধূলার মাঝে ভেসে যায় কৃষ্ণহীন দেহতত...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
সে
সে আমার প্রতিদ্বন্দ্বী পুরুষের কোলে মাথা রেখে শোনাক কবির গান বারোমাস সন্ধ্যা নদীতীর চন্দনের মতো সুখে মগ্ন হোক তার মুখ দেখে ফিরে যাক বালিহাঁস রোজ যার মায়ার কুটির ভরে থাকে এক নাম একটি নাম তার হয়ে বলি ...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
নীলপদ্ম লালপদ্ম
দুটি নীলপদ্ম ঐ সরোবরে, লালপদ্ম কই? লালপদ্ম গেছে এই খবর জানাতে প্রতিষ্ঠান ছেড়ে, নিজ মূল ছিঁড়ে পরের বাড়িতে পরের কোঠায় এক চিলতে দাবা, ছাঁচে জল পড়ে... পুরনো খড়ের রঙে রক্তের বাহার— এই দেখে তার মন উচা...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
তুমি যেন ধর্ম
স্মরণে মেলে না সব, যা পেলে দেবতা যেতাে মরে। তার রক্তে মেখে হাত, আমি কোথা লুকাই দেবতা, জানাে সব, বােঝে সব, তবু কেন ঐশ্বর্যে গভীর মনস্কামনার ফুল, বলে, হায় অ -ফোটা কোরক! পরাগের বিষে কাঁপি হলুদ বিষগ্ন কর...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
চতুর্দশপদী কবিতাবলী - ৯০
সােনালি ফলের মতাে দিন, তাকে রাত্রি টুকরাে করে শাণিত বঁটিতে, ঐ বারান্দার এককোণে ব 'সে দজ্জাল বিধবা এক, যেন তার হিংসাতে চিক্কুর দেয় থেকে-থেকে ; আর ফল পাড়ে বিষন্ন আক্রোশে। পুড়ে-পুড়ে ছাই হয়, ছাই জমে ...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
আমার মধ্যে এক যাদুকর
তােমাকে দাঁড় কিংবা পাহাড়, কোন নদীতে ভাসিয়ে আসি, ময়ূরকণ্ঠী তােমায় দিলাম, পাতার ভেলায় আপনি ভাসি… সেই আনন্দে জীবন নামক জটিলতার হিশেবনিকেশ দুদিক বন্ধ। করবাে যখন সমস্ত সংসারের মধ্যে বিস্তৃত মন ভবিষ্যত...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
হে প্রবাহিণী
কোথায় দেখ সম্মেলন?'সবাই ভাসে একা ঝরা জলের দাগ দেখেছি তোমার পাবো দেখা তোমার রূপের নদী ভাসাও দিগন্তে সবখানে রসাতলের টান বেঁধেছে ভাসবো তোমার টানে। রূপ তেমন লতাও নয়, অন্য কিছু আছে রূপ তেমন নদীও নয় ভাসায় ব...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
চেনা পাথরের জন্যে
একটি চেনা পাথর পড়ে আছে পরনে তার অসংখ্য মৌমাছি ভিতরে মৌ–কী জানি কার কাছে ভালোবাসার অমল মালাগাছি? একটি চেনা পাথর পড়ে আছে পাথর, ওকে নাম দিয়েছি ওরা ভয় ক’রে তার শক্তি আগাগোড়াই ঝর্না বলে ডাক দিলে প্রাণ বাঁচ...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
চাবি
আমার কাছে এখনো পড়ে আছে তোমার প্রিয় হারিয়ে যাওয়া চাবি কেমন করে তোরংগ আজ খোলো? থুতনিপরে তিল তো তোমার আছে এখন? ও মন নতুন দেশে যাবি? চিঠি তোমায় হঠাত্ লিখতে হলো । চাবি তোমার পরম যত্নে কাছে রেখেছিলাম, আজই ...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
এবার হয়েছে সন্ধ্যা
এবার হয়েছে সন্ধ্যা। সারাদিন ভেঙেছো পাথর পাহাড়ের কোলে আষাঢ়ের বৃষ্টি শেষ হয়ে গেলো শালের জঙ্গলে তোমারও তো শ্রান্ত হলো মুঠি অন্যায় হবে না – নাও ছুটি বিদেশেই চলো যে কথা বলনি আগে, এ-বছর সেই কথা বলো। শ্রাবনে...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
ওদিকে যেও না তুমি আর
বেজে ওঠে দূর টেলিফোনে কাঁটাতার ওদিকে যেও না তুমি আর ওদিকে যেও না তুমি আর। আছো তুমি ভালো! দুইটি বিড়াল শাদা-কালো আছে দুই হাতে কথা হবে তোমাতে-আমাতে। সে-কথা কি আজো মনে পড়ে? বেজে ওঠে দূর টেলিফোনে কাঁটাতার ...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
দুঃখকে তোমার
দুঃখকে তোমার কোনো ভয় নেই, সেও ভালোবাসে ভালোবাসা থেকে তুমি ভয় পাও? সুখ থেকে পাও? উল্লেখযোগ্যতা যদি নিয়ে যায় সমুদ্রের তীরে– সেখানে তোমার ভয় আছে নাকি? আনন্দও আছে? তীরে সারবন্দী গাছ, সেখানে ভূমিষ্ঠ ছায়াতল...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
সেই হাত
অভিনব দুটি হাতে দেয়াল দরোজা খুলে দাও। ততক্ষণে রোদ্দুর পৌচেছে গোটারাত ঘুরে ঘুরে রোদ্দুর পৌঁচেছে ঘরে। কিছুটা নড়বড়ে ছিলো ঘর। এককোণে পাথর তেমন সন্তুষ্ট নয়, ‘দখল দখল শব্দ করে। দাবি তার ঘরটি ভরাবে মানুষের ম...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
হেমন্ত যেখানে থাকে
হেমন্ত যেখানে থাকে, সেখানে কৌতুক থাকে গাছে সাড়া থাকে, সচ্ছলতা থাকে। মানুষের মতো নয়, ভেঙে ভেঙে জোড়ার ক্ষমতা গাছেদের কাছে নেই হেমন্ত বার্ধক্য নিতে আসে খসায় শুকনো ডাল, মড়া পাতা, মর্কুটে বাকল এইসব। হেমন্ত...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
জন্মদিনে
জন্মদিনে কিছু ফুল পাওয়া গিয়েছিলো। অসম্ভব খুশি হাসি গানের ভিতরে একটি বিড়াল একা বাহান্নটি থাবা গুনে গুনে উঠে গেলো সিঁড়ির উপরে লোহার ঘোরানো সিঁড়ি, সিঁড়ির উপরে সবার অলক্ষ্যে কালো সিঁড়ির উপরে। শুধু আমিই দে...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
ছিন্নবিচ্ছিন্ন-১
তুমুল বৃষ্টিতে সব পাতা ভিজে গেলো এখনই শুকাতে হবে রোদ্দুর কোথায়? তিজেলে চড়াতে হবে অন্ন, তা কোথায়? মানুষ বৃষ্টিতে ভিজে শুকাতেও জানে। এই অন্ন, পাতা-পত্র, এর অন্য মানে।...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
যদি থাকি
যদি থাকি, এলোমেলো, রুপোর সিন্দুকে কিংবা ঝুলপড়া ম্লান কুলুঙ্গির জিরের কৌটোয়.... একাকী, অব্যর্থ কোনো ছোটবেলা থেকে-খসা মাদুলির মতো তাহলে কী মানে হয় ? হয় না, সেহেতু আমি থাকি, না-ই থাকি তোমার কী আসে-যা...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
স্টেশন ভাসিয়ে বৃষ্টি
মনে পড়ে স্টেশন ভাসিয়ে বৃষ্টি রাজপথ ধ’রে ক্রমাগত সাইকেল ঘন্টির মতো চলে গেছে, পথিক সাবধান… শুধু স্বেচ্ছাচারী আমি, হাওয়া আর ভিক্ষুকের ঝুলি যেতে-যেতে ফিরে চায়, কুড়োতে-কুড়োতে দেয় ফেলে যেন তুমি, আলস্যে এলে ...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
আমাদের সম্পর্ক
ঈশ্বর থাকেন জলে তাঁর জন্য বাগানে পুকুর আমাকে একদিন কাটতে হবে। . আমি একা... ঈশ্বর থাকুন কাছে, এই চাই--জলেই থাকুন! . জলের শান্তিটি তাঁর চাই, আমি, এমনই বুঝেছি কাছাকাছি থাকলে শুনি মানুষের সঙ্গে দীর্ঘদিন স...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
সন্ধ্যায় দিলো না পাখি
শালিখের ডাকে আমি হয়েছি বাহির রোজ ঘর থেকে পাতায় লুকায় সে যে ডেকে জনশূন্য অথচ নিবিড় এ-উঠানে শালিখেরই ভিড়! দুপুরে শালিখের হাতে ভাসিয়ে দিয়েছি অকস্মাতে চেতনার পাখা– ডাকের আড়ালে তার বেদনাই রাখা। সন্ধ্যায় দি...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
ছিন্নবিচ্ছিন্ন-২
ছোট্ট হয়েই আছে আমার, না হয় তোমার, না হয় তাহার বুকের কাছে দুঃখ নিবিড় একটি ফোঁটায় – দুঃখ চোখের জলে দুঃখ থাকে ভিখারিনীর একমুঠি সম্বলে। ছোট্ট হয়েই আছে একের, না হয় বহুর, না হয় ভিড়ের বুকের কাছে। একটি ঝিনুক ...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
বিবাদ
ভালোবাসা নিয়ে কত বিবাদ করেছো! এখন, টেবিল জোড়া নিবন্ত লণ্ঠনও সহনীয়। অনুভূতি। সবজির মতন বিকোয় না হাটে। হাত কাটে, না রক্ত পড়ে না। বিভীষিকা! দুচোখের পক্ষেও নড়ে না। প্রজড় পিণ্ডের মতো আছো– আজই বিবাদ করেছো। ...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
যেতে পারি, কিন্তু কেন যাবো?
ভাবছি, ঘুরে দাঁড়ানোই ভালো। এতো কালো মেখেছি দু হাতে এতোকাল ধরে! কখনো তোমার ক’রে, তোমাকে ভাবিনি। এখন খাদের পাশে রাত্তিরে দাঁড়ালে চাঁদ ডাকে : আয় আয় আয় এখন গঙ্গার তীরে ঘুমন্ত দাঁড়ালে চিতাকাঠ ডাকে : আয় আয় ...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
প্রেম দিতে থাকো
মালবিকা স্তন দাও, দুই স্তনে মাখামাখি করি। যেভাবে পর্বতশীর্ষে টেনে আনি বুকের পাঁজরে সেইভাবে নদী আনি গহ্বরে বুকের, মালবিকা দেহ দাও আলিঙ্গন করি, যেভাবে পর্বত-নদী করি আলিঙ্গন, সেইভাবে, মালবিকা বৃদ্ধে সুখ ...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
সম্পর্ক
“সম্পর্কের বাজারে পৌঁছে পা দুটো থেমে গেল... সম্পর্ক বিক্রি হচ্ছিল ওখানে খোলা বাজারে... আমি কাঁপতে কাঁপতে জিজ্ঞেস করলাম, "কি দামে, বেচছো ভাই এই সম্পর্কগুলো ..? " দোকানদার জিজ্ঞেস করলো: "কোনটা সম্পর্ক ট...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
আনন্দ ভৈরবী
আজ সেই ঘরে এলায়ে পড়েছে ছবি এমন ছিলনা আষাঢ় শেষের বেলা উদ্যানে ছিল বরষা-পীড়িত ফুল আনন্দ ভৈরবী। আজ সেই গোঠে আসেনা রাখাল ছেলে কাঁদেনা মোহনবাঁশিতে বটের মূল এখনো বরষা কোদালে মেঘের ফাঁকে বিদ্যুৎ-রেখা মেলে। স...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
তোমার হাত
তোমার হাত যে ধরেইছিলাম তাই পারিনি জানতে এই দেশে বসতি করে শান্তি শান্তি শান্তি তোমার হাত যে ধরেইছিলাম তাই পারিনি জানতে সফলতার দীর্ঘ সিঁড়ি, তার নিচে ভুল-ভ্রান্তি কিছুই জানতে পারিনি আজ, কাল যা-কিছু আনতে ...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
প্রতিকৃতি
শুয়ো না কখনো দিনে মৃত ঝরা বাতিটার পাশে। ও কার চোখের জল ও কার মুখের মতো ম্লান; প্রতিকূল হাওয়া এসে দাঁড়ালেই শুরু বালি খসা খুঁজি সে সোনালি চুল চুল চুল তখনো আকাশে। পাই না; ঘুরায়ে তালু মুছে দেবো চোখের আভাস...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
ভুল থেকে গেছে
নিশ্চিত কোথাও ভুল থেকে গেছে.... প্রধান অসুখ নিয়ে কলকাতায় ঘোরে লক্ষ লোক আজ কিছুদিন হলো তারই মধ্যে বসন্ত এসেছে প্রত্যক্ষ পলাশে, পাশে মুচকুন্দ চাঁপার নোলক---- নিশ্চিত কোথাও কোনো ভুল থেকে গেছে ব্যবহারে। ম...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
দিন যায়
সুখের বারান্দা জুড়ে রোদ পড়ে আছে শীতের বারান্দা জুড়ে রোদ পড়ে আছে অর্ধেক কপাল জুড়ে রোদ পড়ে আছে শুধু ঝড় থমকে আছে গাছের মাথায় আকাশমনির । ঝড় মানে ঝোড়ো হাওয়া, বাদ্ লা হাওয়া নয় ক্রন্দনরঙের মত নয় ফুল...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
সে বড়ো সুখের সময় নয়, সে বড়ো আনন্দের সময় নয়
পা থেকে মাথা পর্যন্ত টলমল করে, দেয়ালে দেয়াল, কার্নিশে কার্নিশ, ফুটপাত বদল হয় মধ্যরাতে বাড়ি ফেরার সময়, বাড়ির ভিতর বাড়ি, পায়ের ভিতর পা, বুকের ভিতর বুক আর কিছু নয়— ( আরো অনেক কিছু ? ) — তারও আগে পা থে...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
ভয় আমার পিছু নিয়েছে
জঙ্গলে গিয়েছো তুমি একা একা, জঙ্গলে যেও না তুমি, মানে তুমি, মানে তুমি, ভুল বৃদ্ধ–ওহে তুমি জঙ্গলে গিয়েছো একা? হারিয়েছো পথ? সর্বস্ব হারিয়ে কোনো অন্নপূর্ণা গাছ ধরে জড়িয়ে কেঁদেছো? পাতা চেয়ে ফুলে চেয়ে রস-আঠ...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
পাবো প্রেম কান পেতে রেখে
বড় দীর্ঘতম বৃক্ষে ব’সে আছো, দেবতা আমার । শিকড়ে, বিহ্বল প্রান্তে, কান পেতে আছি নিশিদিন সম্ভ্রমের মূল কোথা এ-মাটির নিথর বিস্তারে ; সেইখানে শুয়ে আছি মনে পড়ে, তার মনে পড়ে ? যেখানে শুইয়ে গেলে ধীরে-ধীরে...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
মুহূর্তে শতাব্দী
ওই বাড়ি, শিরীষের পাতায় আহত… এ-সত্য মৃত্যুর হিম ছোঁয়া দিয়ে তাকে ব’লে যাবে, আজই নয়, কিন্তু কাল তোর মসৃণ চূড়াটি ভাঙবো, পলেস্তরা খশাবো পীযূষে ভাঙবো, ভেঙে টুকরো করবো ইট কাঠ পাথর প্রতিমা শব্দের…শিরীষ তাই ছু...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
ভাত নেই, পাথর রয়েছে
বছর-বিয়োনী মেঘ বৃষ্টি দেয়, বজ্রপাত দেয়– ডোবা’র রহস্য বাড়ে, পদ্মপাতা দীঘিতে তছনছ। শিকড়, কেঁচোর মত, জীবনের অনুগ্রহ পায়, পায় না মাথায় ছাতা, এত হাতা ভাতের মানুষও! মানুষ বারুদ খুবই ভালোবাসে, ধূপগন্ধ যেন আক...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
দিনরাত
দিনরাত মৃত্যু চলে সন্তান অবধি। দেখা তো হয়েছে ক্রূর যমের সহিত, তাকে বলা গেছে, আমি একাকীই যাবো। গঙ্গার তরঙ্গভঙ্গে নিভে যাবে আলো, আমি যাবো, সঙ্গে নিয়ে যাবো না কারুকে একা যাবো দিনরাত মৃত্যু চলে সন্তান অবধ...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
একবার তুমি
একবার তুমি ভালোবাসতে চেষ্টা কর– দেখবে, নদির ভিতরে, মাছের বুক থেকে পাথর ঝরে পড়ছে পাথর পাথর পাথর আর নদী-সমুদ্রের জল নীল পাথর লাল হচ্ছে, লাল পাথর নীল একবার তুমি ভাল বাসতে চেষ্টা কর । বুকের ভেতরে কিছু পা...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
পরস্ত্রী
যাবো না আর ঘরের মধ্যে অই কপালে কী পরেছো যাবো না আর ঘরে সব শেষের তারা মিলালো আকাশ খুঁজে তাকে পাবে না ধরে-বেঁধে নিতেও পারো তবু সে-মন ঘরে যাবে না বালক আজও বকুল কুড়ায় তুমি কপালে কী পরেছো কখন যেন পরে? সবার...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
তুচ্ছ, তুচ্ছ এইসব
তুচ্ছ এইসব–এই জানালা কপাট গোরস্থান তুচ্ছ, তুচ্ছ এইসব, ভালোবাসা, ভালো-মন্দে বাসা তুচ্ছ, তুচ্ছ, এইসব জানালা কপাট গোরস্থান… তারপর, কে আছো মন্দিরে? মন্দিরে ভিতে কি ফড়িং? ভালোবাসা মানে এক হিম অন্ধকার খুঁজে...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
মানুষটি মৃত
সাড়ে ছয় হাতে দেহ জড়াবে নিশ্চয়, থানকাপড়ের গন্ধ আর জাগাবে না মৃত্যু নয়, প্রসঙ্গত মূর্ছা মনে হবে। কিছু কাঠকুটো আমি উঠোনে রেখেছি কাচের বয়ামে আছে পুরাতন ঘৃত তাহলে তো মূর্ছা নয়, মানুষটি মৃত।...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
মৃত্যু
পুড়ছিলো ঐ শ্মশান ভরে কাঠের রাশি পুড়তে আমি ভালোবাসি, ভালোই বাসি। পুড়তে আমি চাচ্ছি কোনাে নদীর ধারে। কারণ, একটা সময় আসে, আসতে পারে যখন আগুন অসহ্য হয় নদীর ধারে। এবং মড়া চাইতে পারে এক কুষি জল! মৃত্যু ...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
যখন বৃষ্টি নামলো
বুকের মধ্যে বৃষ্টি নামে, নৌকা টলোমলো কূল ছেড়ে আজ অকূলে যাই এমনও সম্বল নেই নিকটে- হয়তো ছিলো বৃষ্টি আসার আগে চলচ্ছক্তিহীন হয়েছি, তাই কি মনে জাগে পোড়াবাড়ির স্মৃতি? আমার স্বপ্নে মেশাও দিন? চলচ্ছক্তিহীন হয়...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
যখন একাকী আমি একা
এখন সন্ন্যাসী দুইজন-- একজন আমি আর অন্যজন আমার পিতার মমতাবিহীন চক্ষু মাঝেমধ্যে রাত্রে দেন দেখা যখন একাকী আমি একা মাঝেমধ্যে রাত্রে দেন দেখা কেন তাঁর নামত সন্ন্যাস কেন তিনি মাত্র মায়াহীন মনে ভাবি এমন দেখ...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
বাগানে তার ফুল ফুটেছে
ওইখানে ওই বাগানে তার ফুল ফুটেছে কতো জানতে পারি, ওর মধ্যে কি একটি দেবার মতো? একটি কিম্বা দুটির ইচ্ছে আসতে আমার কাছে তাহার পদলেহন করতে সমস্ত ফুল আছে। সব ফুলই কি গোষ্ঠীগত, সব ফুলই কি চাঁদের একটি দুটি আমা...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন
একটি জীবন পোড়ে, শুধুই পোড়ে আকাশ মেঘ বৃষ্টি এবং ঝড় ফুলছে নদী যেন তেপান্তর চতুর্দিকে শীতল সর্বনাশে- পেয়েছে, যাকে পায়নি কোনোদিনও একটি জীবন পোড়ে, কেবল পোড়ে আর যেন তার কাজ ছিল না কোনো...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
প্রভু, নষ্ট হয়ে যাই
বার বার নষ্ট হয়ে যাই প্রভু, তুমি আমাকে পবিত্র করো, যাতে লোকে খাঁচাটাই কেনে, প্রভু নষ্ট হয়ে যাই বার বার নষ্ট হয়ে যাই একবার আমাকে পবিত্র করো প্রভু,যদি বাঁচাটাই মুখ্য, প্রভু, নষ্ট হয়ে যাই!...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
যেভাবে যায়, সক্কলে যায়
পথের উপর একটি গাছের মধ্যে আপন অন্য গাছের গভীর কাছে-থাকার দৃশ্য দেখতে-দেখতে দেখতে-দেখতে আমার মনে পড়লো, আমি আগাগোড়াই ভীষণ একা। . গাছ দুটি কি সবার দেখা? গাছটি কি নয় সবার দেখা? . এমন কথা ভাবতে-ভাবতে, আলতো...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
এপিটাফ
কিছুকাল সুখ ভোগ করে হলো মানুষের মতো মৃত্যু ওর, কবি ছিল, লোকটা কাঙালও ছিল খুব। মারা গেলে মহোৎসব করেছিল প্রকাশকগণ, কেননা, লোকটা গেছে, বাঁচা গেছে, বিরক্ত করবে না সন্ধ্যেবেলা সেজে-গুজে এসে বলবে না, ...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
কঠিন অনুভব
চারধারে তার উপঢৌকন, কিন্তু আছে স্থির, দুহাত মুঠিবদ্ধ কিন্তু ভিতরে অস্থির। কেউ তাকে দ্যাখেনি হতে, উচিত ভেবে সব ফিরিয়ে দিল, তার ছিলো এক কঠিন অনুভব।...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
ভালো, এই ভালো
ভালো, এই ভালো, এই সম্পর্কে জটিল হাওয়া লাগা। কতদিনে হবে? মুক্তি, ওই তার ছিঁড়ে দেয়াল ডিঙিয়ে ভেঙে নয় কোনকিছু, শক্তি ভেঙে নয় সম্মুখে সর্বস্ব বাধা–তাও ভেঙে নয় শুধু ডানা পেলে উড়ে অথবা ডিঙিয়ে ছিঁচকে কাজ, যা ...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
কিছু মায়া রয়ে গেলো
সকল প্রতাপ হল প্রায় অবসিত জ্বালাহীন হৃদয়ের একান্ত নিভৃতে কিছু মায়া রয়ে গেলো দিনান্তের, শুধু এই – কোনোভাবে বেঁচে থেকে প্রণাম জানানো পৃথিবীকে। মূঢ়তার অপনোদনের শান্তি, শুধু এই – ঘৃনা নেই, নেই তঞ্চকত...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
সুখে থাকো
চক্রাকারে বসেছি পাঁচজনে মাঠে, পিছনের পর্চে আলো অন্ধকার সন্ধ্যা নামে বিড়ালের মতো ধীর পায়ে তুমি এসে বসেছো আসনে অকস্মাৎ। হঠাৎই পথে ঘুরতে-ঘুরতে কীভাবে এসেছো একেবারে পাশে, তোমার গায়ের গন্ধ নাকে এসে লাগে বৃ...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
শিশিরভেজা শুকনো খর
শিশিরভেজা শুকনো খর শিকড়বাকড় টানছে মিছুবাড়ির জনলা দোর ভিতের দিকে টানছে প্রশাখাছাড় হৃদয় আজ মূলের দিকে টানছে ভাল ছিলুম জীর্ণ দিন আলোর ছিল তৃষ্ণা শ্বেতবিধুর পাথর কুঁদে গড়েছিলুম কৃষ্ণা নিরবয়ব মূর্তি ত...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
অবনী বাড়ি আছো
অবনী বাড়ি আছো অবনী বাড়ি আছো দুয়ার এঁটে ঘুমিয়ে আছে পাড়া কেবল শুনি রাতের কড়ানাড়া ‘অবনী বাড়ি আছো?’ বৃষ্টি পড়ে এখানে বারোমাস এখানে মেঘ গাভীর মতো চরে পরাঙ্মুখ সবুজ নালিঘাস দুয়ার চেপে ধরে– ‘অবনী ব...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
আমি একা, বড়ো একা
চন্দনের ধূপ আমি কবে পুড়িয়েছি মনে নেই। মন আর স্মৃতিগুলি ধরে না আদরে। সংশ্লিষ্ট চন্দন এই অবহেলা সহ্য করে গেছে। কখনো বলেনি কিছু, বলেনি বলেই পরিত্রাণ পেয়েছে সহজে, নয়তো অসহ্য কুঠারে ধ্বংস হতো। আমার সংহারমূ...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
একটি মানুষ
একটি মানুষ দেখেছিলাম, দাঁড়িয়েছিলেন একা হঠাৎ পথে দেখা আমার, হঠাৎ পথে দেখা সবাই তাঁকে দেখতে পায় না সবাই তাঁকে দেখতে পায় না কিন্তু, তিনি দেখেন– কোথায় তোমার দুঃখ কষ্ট, কোথায় তোমার জ্বালা আমায় বলো, আমারই ড...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
আমি যাই
যেখানেই থাকো এপথে আসতেই হবে ছাড়ান্ নেই সম্বল বলতে সেই দিন কয়েকের গল্প অল্প অল্পই আমি যাই তোমরা পরে এসো ঘড়ি-ঘন্টা মিলিয়ে শাক-সবজি বিলিয়ে তোমরা এসো...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
ভ্রম
ভ্রম -- শক্তি চট্টোপাধ্যায় আসলে তুমি ক্ষুদ্র ছোট, ফুলের মত বাগানে ফোটো, বিরহে যদি দাঁড়িয়ে ওঠো ভূতের মত দেখায়, আসলে কেউ বড় হয় না, বড়র মত দেখায় |...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
ভিতর-বাইরে বিষম যুদ্ধ
ইচ্ছে ছিলো তোমার কাছে ঘুরতে-ঘুরতে যাবোই আমার পুবের হাওয়া। কিন্তু এখন যাবার কথায় কলম খোঁজে অস্ত্র কোথায় এবং এখন তোমার পাশে দাঁড়িয়ে-থাকা কুঞ্জলতায় রক্তমাখা চাঁদ ঢেকেছে আকুল চোখ ও মুখের মলিন আজকে তোমার ভ...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
এক অসুখে দুজন অন্ধ
আজ বাতাসের সঙ্গে ওঠে, সমুদ্র, তোর আমিষ গন্ধ দীর্ঘ দাঁতের করাত ও ঢেউ নীল দিগন্ত সমান করে বালিতে আধ-কোমর বন্ধ এই আনন্দময় কবরে আজ বাতাসের সঙ্গে ওঠে, সমুদ্র, তোর আমিষ গন্ধ । হাত দুখানি জড়ায় গলা, সাঁড়াশি...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
ছড়ার আমি ছড়ার তুমি
ছড়া এক্কে ছড়া, ছড়া দুগুণে দুই ছড়ার বুকের মদ্দিখানে পান্সি পেতে শুই। ধানের ছড়া গানের ছড়া ছড়ার শতেক ভাই ছড়ার রাজা রবিন ঠাকুর, আর রাজা মিঠাই। আরেক রাজা রায় সুকুমার, আছেন তো স্মরণে? আর ছড়াকার ঘুমিয়ে আছেন...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
আতাচোরা
আতাচোরা পাখিরে কোন তুলিতে আঁকি রে হলুদ ? বাঁশ বাগানে যাইনে ফুল তুলিতে পাইনে কলুদ হলুদ বনের কলুদ ফুল বটের শিরা জবার মূল পাইতে দুধের পাহাড় কুলের বন পেরিয়ে গিরি গোবর্ধন নাইতে ঝুমরি তিলাইয়ার কাছে যে নদিট...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
আপন মনে
আমার ভিতর ঘর করেছে লক্ষ জনায়– এবং আমায় পর করেছে লক্ষ জনে এখন আমার একটি ইচ্ছে, তার বেশি নয় স্বস্তিতে আজ থাকতে দে না আপন মনে। লক্ষ জনে আমার ভিতর ঘর করেছে, লক্ষ জনে পর করেছে। আমার একটি ইচ্ছা, স্বগতোক্তির...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
নিয়তি
বাগানে অদ্ভুত গন্ধ, এসো ফিরি আমরা দু'জনে। হাতের শৃঙ্খল ভাঙো, পায়ে পড়ে কাঁপুক ভ্রমর যা-কিছু ধূলার ভার, মানসিক ভাষায় পুরানো তাকে রেখে ফিরে যাই দুজনে দু-পথে মনে মনে। বয়স অনেক হলো নিরবধি তোমার দুয়ার... অন...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
মনে মনে বহুদূর চলে গেছি
মনে মনে বহুদূর চলে গেছি – যেখান থেকে ফিরতে হলে আরো একবার জন্মাতে হয় জন্মেই হাঁটতে হয় হাঁটতে-হাঁটতে হাঁটতে-হাঁটতে একসময় যেখান থেকে শুরু করেছিলাম সেখানে পৌঁছুতে পারি পথ তো একটা নয় – তবু, সবগুলোই ঘুরে ফি...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
পোড়ামাটি
দূরে যাও থেকো না এখানে চিরদিন উড়ন্ত শাম্পানে ছন্নছাড়া চিঠি তো পুড়েছে একতাড়া আগুনে পুড়েছে শত পাড়া দূরে যাও থেকো না এখানে দূরে যাও থেকো না এখানে কাকে পাও?...
শক্তি চট্টোপাধ্যায়