এই মেঘ থেকে বৃষ্টি
এই কবিতাটি লিখেছেন শক্তি চট্টোপাধ্যায় · ২ মিনিট পড়ার সময় ·
মনে হয়েছিলাে এই মেঘ থেকে বৃষ্টি হবে ঠিকই মুখপােড়া
বারান্দায় ভেসে যাবে সমস্ত নির্ভীক স্বায়ত্তশাসন রক্ত,
তার দাগ, মাত্র বলিদানে ... কলকাতায় আজ কে না জানে
মানুষের মধ্যে এক অবিমিশ্র খেলাধুলা হয়
রাত্রিদিন, সমস্ত সময়
প্রাণপণ।
ফুটপাতে বারুদ আর চাঁপার হলুদ মুখােমুখি
কে জানে কে জেতে হারে, কেবা দুঃখে সুখী
নির্জনতা ভালাে , কিন্তু কতটুকু ভালাে ?
সন্ধ্যার চৌরঙ্গী যেন রাস্তায় স্থগিত ভুল মেয়েটির
কালাে মুখশ্রী, নৈরাশা
চমৎকার রসে ভেজে পার্কে-পাতা পাশা
উড়েদের
কলকাতায় ঢের
আলুথালু বৃষ্টি হয়েছিলাে শান্তির বছরে —
ফুটপাতে বারুদ আর চাঁপার হলুদ মুখােমুখি
তবু, এবছর বৃষ্টি, বৃষ্টি হবে ঠিকই।
অলিভ কামিজ আর কার্তুজ রাঙিয়ে যায় চোখ
হােক, ক্রমাগত মৃত্যু হােক—
একদিন বাঁচাবাে নিভৃতে
সেদিন দূরত্বে নয় বড়াে
মানুষে-মানুষে মাপে কোষমুক্ত ফিতে
কার দোষ ? কে করে বিচারও ?
বশবর্তী স্নেহে আর সূত্রে আজই লেগেছে আগুন
সহসা কীভাবে।
দিন যাচ্ছে, যাবে
নতুন ইশকুলে আজ অস্ত্রশিক্ষা হয়
কী সহিংস কিশাের-হৃদয়
পাটের ফেঁসাের বাধ্য আঁটুলবাঁটুল টুকরাে লােহা
যা দিয়ে বেঁধেছে বােমা তা সবই তারুণ্য-
প্রাণঘাতী সাংঘাতিক মন্ত্র এই অকস্মাৎ বিংশশতাব্দীর
কয়েকটি বছরে ...
ঘরে ঘরে
মানুষ সর্বত্র শান্তিহীন
পথ চলে পিছনে তাকায়
কে যেন তাত্ত্বিক ছুরি নিয়ে চলে সবারই পশ্চাতে
সামনে - পিছনে ভয় , ভয় উর্ধ্বে নিচে
হাতে মাথা কেটে রাখে আবশ্যক পাগল পিরিচে
কেন ? তা প্রকৃতপক্ষে জেনে রাখা প্রয়ােজনই নয়
নতুন ইশকুলে আজ অস্ত্রশিক্ষা হয়
পােড়ে বই, ওড়ে চৈত্রে - শুকনাে পাতাগুলাে
এবং প্রাচীন বৃদ্ধ কাটামুণ্ড ধুলােয় লুটোয়
বিপ্লব এভাবে শুরু, জানি না কী অঙ্কে যবনিকা ?
অথচ আমার ঘর থেকে ও - ই বাইরে এসেছে
স্বপ্ন ও সমৃদ্ধ ওকে গড়েছিলাে বড় সাধ করে
একদিনে পালটে গেলাে, ফুলে উঠলাে রগের শিকড়
ঠাণ্ডা স্পধাভরা এক তাচ্ছিল্যে আমায় ঠেলে দিয়ে —
ও আমার প্রিয়তম সহােদর , মিশে গেলাে ভিড়ে
এবং মিশলাে না — একা পড়ে থাকলাে পাথরের মতাে নীরব,
করিতকর্ম, সমুদ্রের মৌন ও গভীর।
কেন করে? ওরা কেন করে?
স্তম্ভিত বিমূঢ় হয়ে বসে থাকি যেন এই ঝড়ে
দাঁড়াতে পারবাে না আর,
টুকরাে টুকরাে হয়ে যাবাে , ধ্বংস হবে মাথা
মেলাতে পারবাে না দুই সহােদর প্রাণের প্রণেতা
আমি ও আমার ভাই
দুজনের স্বাতন্ত্র্যও চাই, দুজনের দুই রাজনীতি
দুটি পথ — দুজনেই যাবাে
ও পথে করবে না দেরি , আমি দ্রুত যাবাে
যদি পারি।
দিন যাচ্ছে, যাবে
প্রকৃত কি যাচ্ছে দিন? থেমে নেই?
স্থবিরতা নেই?
মৃত্যুর মহান আসে জীবনের তুচ্ছতার কাছে॥
কাব্যগ্রন্থ প্রকাশকাল :
' যুগলবন্দী ' শ্রাবণ - ১৩৭৯
লগইন করুন প্রতিক্রিয়া জানাতে
নিউজলেটার
নতুন লেখা সম্পর্কে আপডেট পেতে সাবস্ক্রাইব করুন
আপনি লগইন করে মন্তব্য করতে পারবেন।