দেবদূত
এই কবিতাটি লিখেছেন শক্তি চট্টোপাধ্যায় · ১ মিনিট পড়ার সময় ·
যে-বৃক্ষ নির্মাণ করে
সেই বীজ অনব্যবহিত কর হতে তােমাতেই ফিরে যায়,
গাঁথা বুকে বাগানের দাগ।
সেই বৃক্ষ তুমি, তব কণিকারে কেমন প্রভেদ
দেবে ? বিস্ময়ের মাঝে দুই চিত্ত সমভগ্ন ভূমি।
একদা তুমিই বৃক্ষ, অনুপস্থিতি কি পল্লব,
শাখায় পাতায় ভরা বৃদ্ধি তার তােমার আভাস?
মনে হয় অদৃশ্যের কোনাে শাখা ছুঁলাে বনে মেঘ
কোনােটি নিস্ক্রান্ত যেন আকাশের অতল নিরিখে।
বুঝি, ব্যাপ্ত তব জ্ঞান, মনে হয় জানো না কিছুই
আরাে অন্তরঙ্গভাবে,
কোনাে পাতা মানুষের মতাে ভােলালাে
মুখােশে, রূপে, কাল্পনিক নৈরাজ্যে নিজেরে--
তারপরে মুখে মৃত্যু, বুকে পচে সন্নিধান-আশা।
সব, সব জানাে তুমি, তােমায় অদেয় কিছু নেই ;
আছাে সঙ্গ হতে দূরে, কোথায় হে জননী জনক
প্রেমের সর্বস্ব ধন? বাঁধি মাের খড়-মূলে পাতা,
সাজাই তােমার বৃক্ষ, অনুপম মিলন-বিন্যাসে।
ভুলে থাকি শিল্পে, মােহে, নীচতায়, রুগ্ন জড়দেহী ;
কোথা তুমি , কোথা তুমি হে দেবতা যদি সখা তার?
কাব্যগ্রন্থ -- প্রকাশকাল :
'হে প্রেম হে নৈঃশব্দ্য' -- ফাল্গুন-১৩৬৭
[ কবিতা পত্রিকা ॥ চৈত্র ১৩৬৫ ]
লগইন করুন প্রতিক্রিয়া জানাতে
নিউজলেটার
নতুন লেখা সম্পর্কে আপডেট পেতে সাবস্ক্রাইব করুন
আপনি লগইন করে মন্তব্য করতে পারবেন।