অন্যময়ের স্মৃতি
এই কবিতাটি লিখেছেন শক্তি চট্টোপাধ্যায় · ১ মিনিট পড়ার সময় ·
দরজা বন্ধ থাকলে তোমাকে ডাকতে পারতুম,
বলতুম ভিতরে নেইই যদি—তবে সাড়া দিচ্ছে না কেন ?
তোমাকে মনে পড়লেই আমার এই ওলোট -
পালোট পঙক্তি দুটো কাছে আসে
ভয় হয়, তুমি আবার না আসো—এখন তোমাকে দেখলে আমি
ভয় পেতে পারি
অন্ধকারে, আমাদের উঠোনের শিউলিগাছের উঁচু-নিচু দু -পথেই দুটো
এরোপ্লেন যেতে দেখেছি আমি ভয় পেয়েছি
আমার মুখের উপর দিয়ে পদ্য - র পাতাগুলো উড়ে যাচ্ছে
হাওয়া নেই, ভাদ্রের শেষে হাওয়া থাকার কথা নয়, হাওয়া নেই—
তবু তোমাকে মনে পড়া মাত্র সেই হাকুচ্ - তেতো পাতাগুলো, সেই
পাতাগুলো
সব কিছু তুমি চিনতে— আঃ আমাকে শেষ করতে দাও, কলম কেড়ে
নিও না দোহাই অনু—
তোমার সমালোচনা পরে শুনবো আমার শেষ কবিতাটা (?) শেষ
করতে দাও
যেভাবে তুমি নিজেই শেষ হয়েছো, সেভাবে এই —
জানো শক্তি, অন্যময় মারা গেছে—এই বলে সুনীল বাসের মধ্যে দৌড়ে
দুপুরে— কিংবা
কে? মারা গেছে? কোথায়? ভর দুপুরে? তারাদের তো কুলুঙ্গি
ভর্তি করে থাকার কথা এখন হাত আড়াল করে, তারা
ছিঃ শক্তি, অনাময়, অনাময় দত্ত গত পরশু ( কোন হাসপাতালে?) থেকে
আর নেই, তন্ময়ের ভাই
তোমার শোক সভায় আমি যাইনি, তোমাদের নতুন বাড়ি শ্যামবাজার
মোড় থেকে বাসে, হেঁটে—জানি না কোথায়
তাই আগে যেখানে থাকতে, আমাদের বাড়ির কাছে আর রেলব্রিজের
কাছে, যেখানে আজ শান্তি বহুবার গেলাম–কালো
খোলা নর্দমার পাশ দিয়ে স্কুলবয় হেঁটে যাচ্ছে
রাস্তার ওপাশে তন্ময় আর আমি কাঠগুঁড়োর চা খাচ্ছি
তক্তপোশে বসে ...
তোমাদের সেই বাড়িটা সেখানেও ভেঙে গেছে, গত পরশু থেকে আর
নেই, তন্ময়ের ভাই, তন্ময়ের কালোপাথর,
পাথরের জঠর মেঘে ঢাকা
ভাইয়ের বাড়ি শুধু শাদা থান –মেঘে ঢাকা কালোপাথর,
পাথরের জঠর —
—যিনি ছোটবেলায় আমাকে ‘ ঠাকুর ' বলতেন ,
তাঁর কাছে কেবলি ক্ষমা চাইছি,
—অনাময়ের শূন্যতার উপর
কবিতা লেখার ইচ্ছা আমার ছিলো না॥
কাব্যগ্রন্থ
'পাড়ের কাঁথা মাটির বাড়ি'
লগইন করুন প্রতিক্রিয়া জানাতে
নিউজলেটার
নতুন লেখা সম্পর্কে আপডেট পেতে সাবস্ক্রাইব করুন
আপনি লগইন করে মন্তব্য করতে পারবেন।