যাবার সময়
এই কবিতাটি লিখেছেন শক্তি চট্টোপাধ্যায় · ১ মিনিট পড়ার সময় ·
শামপানে ফেড়েছে, ও কে কলকাতার গলি?
গলিভর্তি কালাে জল, শক্ত যেন সিংভূমের মাটি
মাটি ঠিক নয়, কষ্টিপাথরের বুক ভরে জল ...
পড়ে শাদা পৈতে কোনাে ব্রাহ্মণের কাঁধ থেকে নিচে
আকাশের দিকে চোখ তােলাে, দেখবে কাঁধের উপরে
দু’চোখের সর্বনাশ মুছে বাঘ দাঁড়িয়ে রয়েছে।
কী বিস্ময় সেই চোখে, হিংসা নয়, বিমূঢ় বিস্ময় ...
সুন্দর মানুষ কিছু খেলা করে প্রপাতে, প্রত্যয়ে
প্রপাতে পাথর আছে, ফেনা আছে, বাঘা -
ঘাস আছে গষের মতাে জল স্থির আছে এখানে - সেখানে
উচ্ছিত জলের মুখে দুহাত বাড়িয়ে দোলা খায়
সুন্দর মানুষ কিছু, বাঘ দ্যাখে কাঁধ থেকে ঝুঁকে ব্রাহ্মণের,
পাথরের, আকাশের পটভূমি জুড়ে —
এই দেখা হিংস্রতার সঙ্গে সেই সুন্দরকে মেলায় শামপানে ফেড়েছে,
ও কে, কলকাতার গলি ?
উন্মাদ, বােঝেনি আজো পিচের কঠোর
আলিঙ্গন ! বােঝেনি কি, কোন অভ্যর্থনা তাতে ছিলাে যে বুকে ঢুকিয়ে জল,
নিরুদ্দেশ, যাও
শুধু চলে যাও, কাছে দাঁড়িয়ে থেকো না।
তুমি তাে গাছের মতাে মৃত নও , চাঞ্চল্য তােমারই ... যাও, চলে যাও,
একা, দাঁড়িয়ে থেকো না।
যেতে - যেতে পথে পাবে পরিত্রাণহীন আলাে–কালাে যেতে -
যেতে পথে পাবে পথের দুপাশ থেকে–আসা দুর্গন্ধ, জঞ্জাল,
ভেঁড়া কাঁথাকানি, চটকানাে বিড়াল এইসব। আরাে কিছু পাবে ...
যেতে - যেতে পথে পাবে পথের উপরে ভাঙাবাড়ি মানুষের ভাঙাবুক,
রক্তাক্ত কপাল, চিতাধূম
জীবনের শেষ গন্ধ, মানুষের সমাপ্ত সুবাস
এইসব। আরাে কিছু পাবে …
ভেবে দ্যাখাে, আর যাবে কিনা ?
অত্যন্ত সহজ যাওয়া, শুধু বুকে হেঁটে ...
ভেবে দ্যাখাে আর যাবে কিনা—
যাওয়ায় তােমার নেশা ছিলাে না বিখ্যাত
তবে ?
যেতে হবে।
বেঁচে, বুঝি থেমে থাকা ভালাে।
তুমি না জমকালাে ভাবে জীবন আরম্ভ করেছিলে— একদিন!
কাব্যগ্রন্থ
'আমি চলে যেতে পারি'
লগইন করুন প্রতিক্রিয়া জানাতে
নিউজলেটার
নতুন লেখা সম্পর্কে আপডেট পেতে সাবস্ক্রাইব করুন
আপনি লগইন করে মন্তব্য করতে পারবেন।