পার্শ্ব চরিত্র
এই কবিতাটি লিখেছেন শক্তি চট্টোপাধ্যায় · ১ মিনিট পড়ার সময় ·
অরণ্যের মতো তোর নোটন পায়রাকে ঢেকে রাখি।
অন্ধকার জলে দুটি বাহু ফেরে মাছের মতন,
হিংস্র শীতল হাসি শৃগালের মুখ থেকে গলে
কাঁপায় সর্বত্র শাস্তি। পরিতৃপ্ত রাত্রেও পাগলে
অঙ্ক কষে নাজেহাল। আমি তোর চন্দনের বন
পার হতে পরাজিত, ফিরেছি যৌবন বেচে হাটে
উদাস হওয়ার মতো কণ্ঠে এক ক্লান্তির তামাটে মাদুলিতে
রক্ষা করি নাম-ধাম অন্ধকার মেঘে
বিপন্ন পাখির মতো ফিরি তোর যন্ত্রণায় জেগে।
সারাদিন ধান খুঁটি, ফিরে আসি সন্ধ্যাবেলা ঘরে।
জানলার শার্সিতে একা শালিখ হাজার বার নড়ে ;
পায়ে পায়ে পার্কে আসি মুখ তার হেমন্তের বেলা
অন্তিম রোদের রেণু মেখে নিয়ে দুষ্ট যত খেলা
নিজহাতে ভেঙে দেয় পুষ্পহারে বাঁধা কারো খোঁপা,
মাছরাঙা শাড়িতে ঢেকে রাধাচূড়া গাছের ছায়ায়
মেয়েটি দুরন্ত ঝড় রক্ষা করে, মনে বড়ো বোকা
সঙ্গের যুবক বন্ধু, মুগ্ধবোধ ব্যাকরণে ঠায়
কোথায় কি ভ্রান্তি আছে চঞ্চল জলের মতো স্বরে
অনর্গল কথা কয়।
আমি সেই মৃত্যুর বিবরে
ধুলোর ছোঁয়ায় অঙ্ক, পাখাপোড়া কান্নার জোনাকি।
অরণ্যে বাতাসে তোর নোটন পায়রাকে তুলে রাখি॥
কাব্যগ্রন্থ - দেশ, ১৫ জুন ১৯৫৭
'ছবি আঁকে , ছিঁড়ে ফ্যালে'
লগইন করুন প্রতিক্রিয়া জানাতে
নিউজলেটার
নতুন লেখা সম্পর্কে আপডেট পেতে সাবস্ক্রাইব করুন
আপনি লগইন করে মন্তব্য করতে পারবেন।