রাহু
এই কবিতাটি লিখেছেন শক্তি চট্টোপাধ্যায় · ১ মিনিট পড়ার সময় ·
তুমি তখন পলিত হেমন্তের ভোরে
তুষারের সমুদ্রে পা মুড়ে বসেছো পর্বতের মতো
শূন্যতার রুচিতে বেঁধে সর্বাঙ্গের কটি।
কঠিন শীতে শিলা হয়েছে শরীর, রোমাঞ্চিত
তনুরুহে চেয়েছে দেহের মৃণ্ময় গোচর,
স্তনশীর্ষ তীক্ষ্ণ সুতীক্ষ্ণ নির্জন শাখার মতো
আর তোমার প্রেম বলে ভাবি যাকে
সে তখন সর্বশুক্ল কুবলয় হয়ে বিজন আকাশে ঘুরে ঘুরে ফিরছে।
আর আমি তখন আগুন আনি।
অনাধার শূন্য হাতে আগুন অনেক দূর পথ বেয়ে।
অসজল বায়ুর নখ বরাঙ্গে কেটেছে চকখড়ির দাগ,
নাকের কাছে কানের কাছে পৃথুল হয়েছে প্রশাখার প্রান্ত
এই কঠোর কঠিন শীতে, কপালের উপর মুখের উপর অনাবৃত
শরীরের পর জমেছে বালু তৃণ লবণ অন্ধকার নারী সৈন্ধবার।
আর আমি তোমার আগুন বহে আনতে দূরদেশে যাই।
আগুন পাই। অনাধার শূন্য হাতে
আগুন আনি তোমার মৃত্যুর শীতল স্নিগ্ধকে গ্রীষ্মে বিনম্র করতে।
তারপর ভন্ম হয় অগ্নাধার হাত, হৃদয়, শরীরে সফল।
তখন কেবল বাহুর প্রেমের অবশেষ মস্তিষ্ক, মুখ, ছিন্নকণ্ঠ।
তবু ভালোবাসার প্রাণ বাজতে থাকে ছিন্ন শরীরের ভূখণ্ডে।
মনে জানি তুমি যে অকিঞ্চন দানে সমৃদ্ধ করেছিলে,
অদ্বিতীয় অধরচুম্বনে অনম্বর করেছিলে আমার উত্তমাঙ্গ
তা তোমার চকিত প্রয়োজন।
প্রেম তোমার সর্বশুক্ল উপলয় হয়ে বিজন আকাশে
ঘুরে ঘুরে ঘুরে হৃদয় খুঁজছে।
অগ্রন্থিত কবিতা
লগইন করুন প্রতিক্রিয়া জানাতে
নিউজলেটার
নতুন লেখা সম্পর্কে আপডেট পেতে সাবস্ক্রাইব করুন
আপনি লগইন করে মন্তব্য করতে পারবেন।