শোনো, এই পাথর পুড়েছে
এই কবিতাটি লিখেছেন শক্তি চট্টোপাধ্যায় · ১ মিনিট পড়ার সময় ·
মাটির উপরে স্তম্ভ মাটির উপরে গূঢ় গাছ,
তলায় শিকড় দুটি, আমি মুঠি ভরে নিই সে-শিকড় থেকে
রস বড় দেহপরবশ এই সন্ধ্যা মাটির ভিতরে,
খোলা খঞ্জনির মতো—
তালভাঙা মাতালের জিভ তাকে পৃথক করেছে।
টেবিলের নিচে দুই শিকড় পাথর খুঁজে ফেরে
নিওলিথ বর্শার প্রসন্ন কোপের চোটে রস
ঝরে, খাস লালা ঝরে, চক্ষু ভ'রে ঘুম নেমে আসে
কোমরে চিক্কুর দেয়, জগদম্বা দু থালা মেঘের
ভিতরে অশ্রুর রেখা । কান্না কেন ?
পুচ্ছের বিপুল খাদে গুয়েমাছি কি সুদুঃশোভা!
পাশে ধনুর্ধর, তার বাম কাঁধ বুক ছুঁয়ে আছে।
বাতাসার মতো স্তনে দুটি ডেয়োপিঁপড়ের সোহাগ
মাখা, এই কিছুদিন আগে ওকে আঁচিল বলেছি!
ঝর্নার জলে-ধোয়া পিছল পাথরে উবু হয়ে
নিজের ইজের ধুতে, মনে আছে ? উপদ্রবময়
কাশের ডগায় চড়ে গিরগিটি মোরগ হয়ে গেলো—
আছে মনে?
কলার মান্দাস দেহে পাহাড়তলির উঁচুনিচু পথ নেই,
সমতলে তবুও কি থলকমলের বিলাপ,
ব্রীড়া ও কাঁসি বেজে যেতো ! ছাগলের শিশু
যখন দৌড়োয় আর ঘুরে-ফিরে তাকায় পিছনে,
পাশে যেন আসে ঐ মেঘ থেকে আলপিনের মতো
ছুট বৃষ্টি।
অনাছিষ্টি এই শিকড়ের অভ্যর্থনা এলো,
অনেক দেরিতে-
বাস্তবিকই দেরি হলো—চল্লিশ বছর ধরে, শোনো,
এই পাথর পুড়েছে !
কাব্যগ্রন্থ – প্রকাশকাল :
'মানুষ বড়ো কাঁদছে' অগাষ্ট-১৯৭৮
লগইন করুন প্রতিক্রিয়া জানাতে
নিউজলেটার
নতুন লেখা সম্পর্কে আপডেট পেতে সাবস্ক্রাইব করুন
আপনি লগইন করে মন্তব্য করতে পারবেন।