আনুষ্ঠানিকভাবে অমলকে আক্রমণ
এই কবিতাটি লিখেছেন শক্তি চট্টোপাধ্যায় · ১ মিনিট পড়ার সময় ·
অনন্তসমুদ্রে এসে খোঁজ পাবো, অমল অমল
চতুর্দ্দোলা–বধু আছে দক্ষিণ দিগন্তে কোনোখানে,
নিভৃত আসনে, যতো কোলাহলহীন মঞ্জুরীর
শেষ দেখা হয়ে গেল ফলগুলি নষ্ট হতে থাকে
মানুষের মেধা, প্রাণ এইভাবে নষ্ট হতে থাকে
পুনরাবৃত্তির দ্বারা শুধু কুৎসা হয়েছে সফল
প্রেম নয়, ভ্রান্তি নয়, নূতন নাটকও নয় কোনো।
অনন্ত সমুদ্রে এসে খোঁজ পাবো? অমল অমল
তুমি সেই আগেকার অমলের কথাগুলি বলো—
বাহ্য নক্ষত্রের মাঝে নগরীর স্বাধীন আলোয়—
সেদিনের অমলের মুখখানি লুটাতেছে কোলে-
পারদ কাচের কোনো ভবিষ্যৎ মৌনের মতন পুরাতন
প্রাসাদেরও নির্বাসন লোকালয়ে হয়—
যা থেকে বর্মার কাঠ ভেঙে আনো মূল্যবান বলে
যা থেকে দেয়ালগিরি তুলে আনো ভাষায় মুখর
যা থেকে কিশোরী মৃগী তুলে আনো সম্পর্কস্থাপন
করো জন্ম-জন্মান্তর, ছেলেখেলা,
বাঘের আসন পাতো কুঞ্জবনে, ঘন অনুসার ভ্রমরে শোনাতে।
অমল অমল ডাকে দুপুরের সাহারাণপুর
সেখানে সমুদ্রে পাবো খোঁজ কিনা?
সাহারাণপুরে টুরিস্টগাইড বলে রীতিমতো সমুদ্র তো নাই ।
আমাদের বাল্যকালে অবান্তর সাহারানপুরের
আওয়াজ, একজন আর কিছু নয়—ওরা বাল্যকাল
ওরাই কেবল ডাকে,
মনে ধরানোর পশমের সবুজ সোনালি নীল জামাগায়ে
ওরা উপদ্রুত করে তোমার সাফল্য বিবাহেরও!
এখন তোমার মতো ভদ্রলোক যাবে হনিমুন, কখনো
মৃগয়া নয় রোমান্টিক যুবকের মতো
বন্ধুবান্ধবের সাথে বাৎসরিক মিলন হলেও
তুমি আর সেরকম ভাবে নাকি হবে আন্দোলিত?
অর্থাৎ, তুমিই তার উত্তর শোনাবে এরপর—
লটারির অসম্ভব ভাগ্য পেলে মানুষে কী করে?
কিংবা রত্নখনি পেলে কে করে কাচের কারবার?
আমাদের এইসব প্রশ্নেরে বিমূঢ় করে দিয়ে
তুমি কোনো ‘সৈয়দী-আদর্শ স্থাপন করে যাবে!
এছাড়া অগণ্য আছে প্রশ্ন ও বক্তব্য, রাশিরাশি—
যা থেকে অন্তত আজ তোমায় নিষ্কৃতি দিতে চাই।
কাব্যগ্রন্থ - প্রকাশকাল :
'কিছু মায়া রয়ে গেলো' জানুয়ারি-১৯৯৭
লগইন করুন প্রতিক্রিয়া জানাতে
নিউজলেটার
নতুন লেখা সম্পর্কে আপডেট পেতে সাবস্ক্রাইব করুন
আপনি লগইন করে মন্তব্য করতে পারবেন।