মানুষ ভিখারী হতে ভালোবাসে
এই কবিতাটি লিখেছেন শক্তি চট্টোপাধ্যায় · ১ মিনিট পড়ার সময় ·
হেমন্তের শেষ কিছু চিঠিপত্র, পুরানো কাগজ, জঞ্জাল মূলতানে
তাহার নকল সাজ ব্যর্থপ্রাণ জেরেমির মতো
জানালায় আলোয়ান আপেল রোদ্দুর—
গরম জ্বরের প্রতি, কাশ্মীর, চুম্বন
সোনার ধূলার মাঝে ভেসে যায় কৃষ্ণহীন দেহতত্ত্ব গান
হেমন্তের আঁচলের থেকে রাখা পাতার ভিতরে, সন্ন্যাস আগুনে জ্বলে ধিকিধিকি
ভিখারি মরম রাজনর্তকীর মতো নৃত্য করে, চঞ্চল চেতন
কোনোদিন ভালোবেসে দেখি নাই সৌম্য প্রাকৃতিক— বিদায়, রহস্য, মৃত্যু
কোনোকিছু
কোনোদিন ভালোবাসি নাই তাকে, সৌজন্য তাহার হেমন্তের শেষ কিছু চিঠিপর
ওয়ারিশান বলে আমার ড্রয়ার ভরা হতে থাকে।
একটি ভেড়ার পিছু-পিছু হেঁটে পেয়েছি তোমায়, ডেলফির মন্দিরে নয়,
অন্টারিও হ্রদের ভিতরে
একটি ভেড়ার পিছুপিছু হেঁটে পেয়েছি সাইকেল
ক্যাম্পের ভিতরে আমি সাইকেলে ঘুরেছি সময়ের বাজার, বুকশপ, স্টোর্স, কত কিছু —
অটোমোবিলের মতো দামি প্রেমে ভাসি নাই আমি হেমন্তের স্টেশনের মোবিল
তুলি নি কৃষ্ণ ভরে
সবুজ ভেড়ার পিছু পিছু আমি গিয়েছি তৃণের সজল সার্থক স্তব সমাধিরও
ভেড়ার ভিতরে আমি জ্যোৎস্না, ধর্ম, সর্বজনহিতকর প্রতিষ্ঠান জানিয়াছি খুব
দেখিয়াছি আলোয়ান আপেল রোদ্দুর বায়ুতাড়িতের মতো ভাসিতেছে ঘরের ভিতরে
ঘরের ভিতরে নাই মৌসুমীর নিবিড় ক্রন্দন
স্বর্গের দেবতা তাকে বারংবার সংক্রামিত করে
বিরহ-নগরে যাও, বিরহ–নগরে ব্যবধান
আপেলের সীমান্তের ভিতরেও মাংস বাস করে—
মানুষ ভিখারি হতে ভালোবাসে কবিতার মতো।
'অগ্রন্থিত কবিতা'
০৮–০২–১৯৬৩
লগইন করুন প্রতিক্রিয়া জানাতে
নিউজলেটার
নতুন লেখা সম্পর্কে আপডেট পেতে সাবস্ক্রাইব করুন
আপনি লগইন করে মন্তব্য করতে পারবেন।