মূল বিষয়বস্তুতে যান

বিভাগঃ কবিতা

আমার খেলা যখন ছিল তোমার সনে

আমার খেলা যখন ছিল তোমার সনে তখন কে তুমি তা কে জানত। তখন ছিল না ভয়, ছিল না লাজ মনে, জীবন বহে যেত অশান্ত। তুমি ভোরের বেলা ডাক দিয়েছ কত যেন আমার আপন সখার মতো, হেসে তোমার সাথে ফিরেছিলাম ছুটে সেদিন কত-না...

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

ইছামতী নদী

অয়ি তন্বী ইছামতী, তব তীরে তীরে শান্তি চিরকাল থাক কুটিরে কুটিরে— শস্যে পূর্ণ হোক ক্ষেত্র তব তটদেশে। বর্ষে বর্ষে বরষায় আনন্দিত বেশে ঘনঘোরঘটা-সাথে বজ্রবাদ্যরবে পূর্ববায়ুকল্লোলিত তরঙ্গ-উৎসবে তুলিয়া আনন্দধ...

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

মনে মনে দেখলুম

মনে মনে দেখলুম সেই দূর অতীত যুগের নিঃশব্দ সাধনা যা মুখর ইতিহাসকে নিষিদ্ধ রেখেছে আপন তপস্যার আসন থেকে। দেখলেম দুর্গম গিরিব্রজে কোলাহলী কৌতূহলী দৃষ্টির অন্তরালে অসূর্যম্পশ্য নিভৃতে ছবি আঁকছে গুণী গুহাভি...

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

আমার ফুলবাগানের ফুলগুলিকে

আমার ফুলবাগানের ফুলগুলিকে বাঁধব না আজ তোড়ায়, রঙ-বেরঙের সুতোগুলো থাক্‌, থাক্‌ পড়ে ঐ জরির ঝালর। শুনে ঘরের লোকে বলে, "যদি না বাঁধ জড়িয়ে জড়িয়ে ওদের ধরব কী করে, ফুলদানিতে সাজাব কোন্‌ উপায়ে?" আমি বল...

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

আমার নামটা দিয়ে ঢেকে রাখি যারে

আমার নামটা দিয়ে ঢেকে রাখি যারে মরছে সে এই নামের কারাগারে। সকল ভুলে যতই দিবারাতি নামটারে ওই আকাশপানে গাঁথি, ততই আমার নামের অন্ধকারে হারাই আমার সত্য আপনারে। জড়ো করে ধূলির ‘পরে ধূলি নামটারে মোর উচ্চ করে ...

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

কোপাই

পদ্মা কোথায় চলেছে দূর আকাশের তলায়, মনে মনে দেখি তাকে। এক পারে বালুর চর, নির্ভীক কেননা নিঃস্ব, নিরাসক্ত,- অন্য পারে বাঁশবন, আমবন, পুরোনো বট, পোড়ো ভিটে, অনেক দিনের গুড়ি-মোটা কাঁঠালগাছ- পুকুরের ধারে ...

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

আমার মাঝে তোমার লীলা হবে

আমার মাঝে তোমার লীলা হবে, তাই তো আমি এসেছি এই ভবে। এই ঘরে সব খুলে যাবে দ্বার, ঘুচে যাবে সকল অহংকার, আনন্দময় তোমার এ সংসার আমার কিছু আর বাকি না রবে। মরে গিয়ে বাঁচব আমি, তবে আমার মাঝে তোমার লীলা হবে। ...

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

আমার শেষ বেলাকার ঘরখানি

আমার শেষবেলাকার ঘরখানি বানিয়ে রেখে যাব মাটিতে, তার নাম দেব শ্যামলী। ও যখন পড়বে ভেঙে সে হবে ঘুমিয়ে পড়ার মতো, মাটির কোলে মিশবে মাটি; ভাঙা থামে নালিশ উঁচু করে বিরোধ করবে না ধরণীর সঙ্গে; ফাটা দেয়ালের...

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

আমার মাঝারে যে আছে কে গো সে

আমার মাঝারে যে আছে কে গো সে কোন্‌ বিরহিণী নারী? আপন করিতে চাহিনু তাহারে, কিছুতেই নাহি পারি। রমণীরে কে বা জানে– মন তার কোন্‌খানে। সেবা করিলাম দিবানিশি তার, গাঁথি দিনু গলে কত ফুলহার, মনে হল সুখে প্রসন্ন...

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

আমারে যদি জাগালে আজি নাথ

আমারে যদি জাগালে আজি নাথ, ফিরো না তবে ফিরো না, করো করুণ আঁখিপাত। নিবিড় বন-শাখার ‘পরে আষাঢ়-মেঘে বৃষ্টি ঝরে, বাদলভরা আলসভরে ঘুমায়ে আছে রাত। ফিরো না তুমি ফিরো না, করো করুণ আঁখিপাত। বিরামহীন বিজুলিঘাতে নি...

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

Loading...