পরম সুন্দর আলোকের স্নানপুণ্য প্রাতে
পরম সুন্দর আলোকের স্নানপুণ্য প্রাতে। অসীম অরূপ রূপে রূপে স্পর্শমণি রসমূর্তি করিছে রচনা, প্রতিদিন চিরনূতনের অভিষেক চিরপুরাতন বেদীতলে। মিলিয়া শ্যামলে নীলিমায় ধরণীর উত্তরীয় বুনে চলে ছায়াতে আলোতে। আকাশের হৃৎস্পন্দন পল্লবে পল্লবে দেয় দোলা। প্রভাতের কন্ঠ হতে মণিহার করে ঝিলিমিলি বন হতে বনে। পাখিদের অকারণ গ...
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
পর ও আত্মীয়
ছাই বলে, শিখা মোর ভাই আপনার, ধোঁওয়া বলে, আমি তো যমজ ভাই তার। জোনাকি কহিল, মোর কুটুম্বিতা নাই, তোমাদের চেয়ে আমি বেশি তার ভাই। (কণিকা কাব্যগ্রন্থ)...
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
পরের কর্ম-বিচার
নাক বলে, কান কভু ঘ্রাণ নাহি করে, রয়েছে কুণ্ডল দুটো পরিবার তরে। কান বলে, কারো কথা নাহি শুনে নাক, ঘুমোবার বেলা শুধু ছাড়ে হাঁকডাক। (কণিকা কাব্যগ্রন্থ)...
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
পরিচিত সীমানার
পরিচিত সীমানার বেড়াঘেরা থাকি ছোটো বিশ্বে; বিপুল অপরিচিত নিকটেই রয়েছে অদৃশ্যে। সেথাকার বাঁশিরবে অনামা ফুলের মৃতুগন্ধে জানা না-জানার মাঝে বাণী ফিরে ছায়াময় ছন্দে। (স্ফুলিঙ্গ)...
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
পরিত্যক্ত
চলে গেল , আর কিছু নাই কহিবার । চলে গেল , আর কিছু নাই গাহিবার । শুধু গাহিতেছে আর শুধু কাঁদিতেছে দীনহীন হৃদয় আমার , শুধু বলিতেছে , “ চলে গেল সকলেই চলে গেল গো , বুক শুধু ভেঙে গেল দলে গেল গো । ” বসন্ত চল...
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
পরিচয় (কণিকা কাব্যগ্রন্থ)
দয়া বলে, কে গো তুমি মুখে নাই কথা? অশ্রুভরা আঁখি বলে, আমি কৃতজ্ঞতা। (কণিকা কাব্যগ্রন্থ)...
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
পশ্চিমে রবির দিন
পশ্চিমে রবির দিন হলে অবসান তখনো বাজুক কানে পুরবীর গান। (স্ফুলিঙ্গ)...
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
পলাশ আনন্দমূর্তি জীবনের ফাগুনদিনের
পলাশ আনন্দমূর্তি জীবনের ফাগুনদিনের, আজ এই সম্মানহীনের দরিদ্র বেলায় দিলে দেখা যেথা আমি সাথিহীন একা উৎসবের প্রাঙ্গণ-বাহিরে শস্যহীন মরুময় তীরে। যেখানে এ ধরণীর প্রফুল্ল প্রাণের কুঞ্জ হতে অনাদৃত দিন মোর নি...
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
পশ্চাতের নিত্যসহচর, অকৃতার্থ হে অতীত
পশ্চাতের নিত্যসহচর, অকৃতার্থ হে অতীত, অতৃপ্ত তৃষ্ণার যত ছায়ামূর্তি প্রেতভূমি হতে নিয়েছ আমার সঙ্গ, পিছু-ডাকা অক্লান্ত আগ্রহে আবেশ-আবিল সুরে বাজাইছ অস্ফুট সেতার, বাসাছাড়া মৌমাছির গুন গুন গুঞ্জরণ যেন ...
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
পাড়াতে এসেছে এক
পাড়াতে এসেছে এক নাড়িটেপা ডাক্তার, দূর থেকে দেখা যায় অতি উঁচু নাক তার। নাম লেখে ওষুধের, এ দেশের পশুদের সাধ্য কী পড়ে তাহা এই বড়ো জাঁক তার। যেথা যায় বাড়ি বাড়ি দেখে যে ছেড়েছে নাড়ী, পাওনাটা আদায়ের মেলে না ...
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
পাড়ায় আছে ক্লাব
পাড়ায় আছে ক্লাব, আমার একতলার ঘরখানা দিয়েছি ওদের ছেড়ে। কাগজে পেয়েছি প্রশংসাবাদ, ওরা মীটিং করে আমাকে পরিয়েছে মালা। আজ আট বছর থেকে শূন্য আমার ঘর। আপিস থেকে ফিরে এসে দেখি সে ঘরের একটা ভাগে টেবিলে পা...
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর