বেলা আটটার কমে
বেলা আটটার কমে খোলে না তো চোখ সে। সামলাতে পারে না যে নিদ্রার ঝোঁক সে। জরিমানা হলে বলে,– “এসেছি যে মা ফেলে, আমার চলে না দিন মাইনেটা না পেলে। তোমার চলবে কাজ যে ক’রেই হোক সে, আমারে অচল করে মাইনের শোক সে।’ (খাপছাড়া কাব্যগ্রন্থ)...
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
বেদনায় সারা মন
বেদনায় সারা মন করতেছে টনটন্ শ্যালী কথা বলল না সেই বৈরাগ্যে। মরে গেলে ট্রাস্টিরা করে দিক বণ্টন বিষয়-আশয় যত– সবকিছু যাক গে। উমেদারি-পথে আহা ছিল যাহা সঙ্গী– কোথা সে শ্যামবাজার কোথা চৌরঙ্গি– সেই ছেঁড়া ছ...
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ভুত হয়ে দেখা দিল
ভুত হয়ে দেখা দিল বড়ো কোলাব্যাঙ, এক পা টেবিলে রাখে, কাঁধে এক ঠ্যাঙ। বনমালী খুড়ো বলে, — “করো মোরে রক্ষে, শীতল দেহটি তব বুলিয়ো না বক্ষে।’ উত্তর দেয় না সে, দেয় শুধু “ক্যাঙ’। (খাপছাড়া কাব্যগ্রন্থ)...
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
প্রভাত-উৎসব
হৃদয় আজি মোর কেমনে গেল খুলি! জগত আসি সেথা করিছে কোলাকুলি! ধরায় আছে যত মানুষ শত শত আসিছে প্রাণে মোর,হাসিছে গলাগলি। এসেছে সখা সখী বসিয়া চোখাচোখি, দাঁড়ায়ে মুখোমুখি হাসিছে শিশুগুলি। এসেছে ভাই বোন পুল...
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
প্রাইমারি ইস্কুলে
প্রাইমারি ইস্কুলে প্রায়-মারা পণ্ডিত সব কাজ ফেলে রেখে ছেলে করে দণ্ডিত। নাকে খত দিয়ে দিয়ে ক্ষয়ে গেল যত নাক, কথা-শোনবার পথ টেনে টেনে করে ফাঁক; ক্লাসে যত কান ছিল সব হল খণ্ডিত, বেঞ্চিটেঞ্চিগুলো লণ্ডিত ভণ্ড...
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
আদর ক’রে মেয়ের নাম
আদর ক’রে মেয়ের নাম রেখেছে ক্যালিফর্নিয়া, গরম হল বিয়ের হাট ঐ মেয়েরই দর নিয়া। মহেশদাদা খুঁজিয়া গ্রামে গ্রামে পেয়েছে ছেলে ম্যাসাচুসেট্স্ নামে, শাশুড়ি বুড়ি ভীষণ খুশি নামজাদা সে বর নিয়া– ভাটের দল চেঁচিয়ে...
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
বোঝাপড়া
মনেরে আজ কহ যে, ভালো মন্দ যাহাই আসুক সত্যেরে লও সহজে। কেউ বা তোমায় ভালোবাসে কেউ বা বাসতে পারে না যে, কেউ বিকিয়ে আছে, কেউ বা সিকি পয়সা ধারে না যে, কতকটা যে স্বভাব তাদের কতকটা বা তোমারো ভাই, কতকটা এ ...
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
বৈরাগ্য
কহিল গভীর রাত্রে সংসারে বিরাগী— “গৃহ তেয়াগিব আজি ইষ্টদেব লাগি। কে আমারে ভুলাইয়া রেখেছে এখানে?” দেবতা কহিলা, “আমি।”—শুনিল না কানে। সুপ্তিমগ্ন শিশুটিরে আঁকড়িয়া বুকে প্রেয়সী শয্যার প্রান্তে ঘুমাইছে সুখে।...
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
প্রবাসী
হে প্রবাসী, আমি কবি যে বাণীর প্রসাদ-প্রত্যাশী অন্তরতমের ভাষা সে করে বহন। ভালোবাসা তারি পক্ষে ভর করি নাহি জানে দূর। রক্তের নিঃশব্দ সুর সদা চলে নাড়ীতন্তু বেয়ে, সেই সুর যে ভাষার শব্দে আছে ছেয়ে বাণীর অ...
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
প্রভেদ (কণিকা কাব্যগ্রন্থ)
অনুগ্রহ দুঃখ করে, দিই, নাহি পাই। করুণা কহেন, আমি দিই, নাহি চাই। (কণিকা কাব্যগ্রন্থ)...
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
প্রকৃতির খেদ (দ্বিতীয় পাঠ)
বিস্তারিয়া ঊর্মিমালা, সুকুমারী শৈলবালা অমল সলিলা গঙ্গা অই বহি যায় রে। প্রদীপ্ত তুষাররাশি, শুভ্র বিভা পরকাশি ঘুমাইছে স্তব্ধভাবে গোমুখীর শিখরে। ফুটিয়াছে কমলিনী অরুণের কিরণে। নির্ঝরের এক ধারে, দুলিছে ...
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর