মেঘের আড়ালে হাসি
প্রবন্ধটি তারিখে শাকিল বাবু লিখেছেন · ২ মিনিট পড়ার সময় ·
এইতো সেদিনকার কথা। তখন ছোটো ছিলাম। এত কিছু ভাবতাম না। সকালে ঘুম থেকে উঠে স্কুলে যেতাম। বিকালে ফিরে এসে খেলাধূলা করার জন্য খেলার মাঠে যেতাম। সন্ধ্যা হয়ে গেলেও বাসায় ফেরার নাম থাকতো না। অতঃপর, আম্মু গিয়ে ডেকে নিয়ে আসতো। মাঝে মাঝে বকাও খেতে হতো। তবে পড়াশোনার জন্য খুব বেশি বকা খেতে হয়নি। আমি বকা খেতাম দুষ্টামি করার জন্য। প্রাইমারি স্কুলে বেত্রাঘাত আর হাই-স্কুলেও ক্লাসে দাড়িয়েও থেকেছি অনেক। তবে ঐসময়গুলোকে এখন অনেক মিস করি। কলেজে পা রাখার পর থেকে দুষ্টামি কমিয়ে দিয়েছিলাম। তবে একেবারে যে ছেড়ে দিয়েছিলাম তা কিন্তু নয়। তবে কলেজে একটু পড়াশোনার চাপে থাকতাম। কেন যেন সময়ই পেতাম না। আমি পড়াশোনার প্রতি বরাবরই ছিলাম সিরিয়াস। আর এতটাই সিরিয়াস ছিলাম যে একারণে আমাকে প্রেমের প্রস্তাব পেয়েও এড়িয়ে যেতে হয়েছে। তখন ক্লাস নাইনের শেষের দিকে। সামনেও বার্ষিক পরীক্ষা ছিল। এসময়ই এক ক্লাস জুনিয়র আমাকে পছন্দ করে ফেলে। আমার এক বান্ধবীর মাধ্যমে প্রস্তাব এসেছিল। তখন অতকিছু বুঝতাম না। নতুন নতুনতো বান্ধবী হেল্প করছিল ভালোই। সে কিন্তু আবার এসব বিষয়ে এক্সপার্ট ছিল। যাইহোক, আমরা দেখাও করেছিলাম কোনো একজায়গায়। কিন্তু কিছুদিন কথা বলার পর দেখছিলাম আমার পড়ালেখার বারোটা বাচ্ছে। সাথে বাসার ফোন থেকে কথা বলছি। বাসায় থেকে হয়তো টেরও পেয়েছিল। বাসা থেকে বলেছে, এত কার সাথে কথা? আমি বলেছিলাম ঐ সামনে পরীক্ষাতো স্যারের কাছে সাজেশন নেই মাঝে মাঝে। এভাবে আর কয়দিন পড়াশোনার পারফর্ম্যান্স খারাপ হয়ে যাচ্ছিল জন্য আমাকে বাধ্য হয়েই তাকে না করে দিতে হয়েছিল। তবে না করে হয়তোবা ভালোই করেছিলাম। কারণ, আজকে যে অবস্থানে আছি এখানে আসা হয়তো আমার সম্ভব হতো না। আমি জানতাম কলেজ লাইফ হলো জীবনের টার্নিং পয়েন্ট। এই জন্য এইসময় সবসময় প্রেম-ভালোবাসা থেকে একটু দূরে থাকার চেষ্টা করতাম। কারণ, প্রেম আমার কাছে তখন মানষিক টর্চারের মতো মনে হতো। পরবর্তীতে কলেজ লাইফ পার করে এসে হাতে প্রচুর টাইম। তাই কোচিং করাতাম। সেখানেই এক মেয়ের সাথে পরিচয়। কোনো এক কারণে, ফেসবুকে রিকুয়েষ্টও দিয়েছিল সে। আমি কোচিং বাদ দিয়ে ক্যাম্পাসে চলে আসি। আমরা আস্তে আস্তে ফেসবুক মেসেঞ্জারে কথা বলা শুরু করি। অনেক দিন কথা বলেছি। যার কারণে ওর প্রতি মায়া জন্মে গিয়েছিলো। আর হাতে সময় থাকার কারণে আর পরাশোনার চাপ কম থাকায় তাকে প্রচুর সময় দিতাম। আমি জানতাম যে সে আমাকে পছন্দ করে। কিন্তু মেয়ে মানুষ। বুক ফাটবে কিন্তু মুখতো ফাটবে না। এটাই জানতাম। আর এরকারনেই সময়ের অপেক্ষায় ছিলাম। মেয়েই বুঝাতো যে সে আমাকে পছন্দ করে। কিন্তু সেই প্রতীক্ষিত সময়ে যখন আমি তাকে বুঝাতে চাইলাম যে আমিও তাকে পছন্দ করি। ঠিক সেই সময়েই আমার ভুল ভেঙ্গে গেল। আহা! কার সাথে কথা বললাম এতোদিন। কাকে সময় দিলাম আমি। এটাই কি তার পরিণাম হওয়ার কথা ছিল। নিজেকে যেন তুচ্ছ মনে হচ্ছিল। তাহলে কি নিতান্তই সময় কাটানোর জন্য আমার সাথে কথা বললো সে। প্রেম কি? তার শুধু উপলব্ধি করালো আমাকে। এইসব ভেবেই নিজেই নিজেকে দায়ী করতে থাকলাম। সত্যিইতো একজন পুঁচকে মেয়ের কাছে এভাবে ধোঁকা খেলি। কত বোকাই না রয়েগেছিস তুই। বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ছেলে হয়ে এক নগণ্য মেয়ের কাছে এইভাবে হেরে গেলি। এসব ভাবতে ভাবতে হঠাৎ ঘুম ভেঙ্গে গেল। দেখলাম সকাল হয়েছে। কিন্তু সূয্যিমামা এখনো জাগেনি। আর জাগলেও মেঘের কারণে আলোর হাসি পড়তে পারছে না। মেঘের আড়ালেই যেন লুকোচুরি খেলছে। ভাবলাম পরিবেশ এখন সুন্দর যাই হাত-মুখ ধুয়ে পড়তে বসি।
লগইন করুন প্রতিক্রিয়া জানাতে
নিউজলেটার
নতুন লেখা সম্পর্কে আপডেট পেতে সাবস্ক্রাইব করুন
আপনি লগইন করে মন্তব্য করতে পারবেন।