খেয়া-ডিঙি
এই কবিতাটি লিখেছেন যতীন্দ্রমোহন বাগচী · ১ মিনিট পড়ার সময় ·
(ভাদ্রে)
পাটের ক্ষেতের ভিতর দিয়ে ঘাটের ডিঙা বাই-
তবু আমার হাটের সাথে কোনো বাঁধন নাই;
শিরা-ওঠা ফাটা-হাতে হালের গোড়া ধরি
আমি শুধু আপন মনে এপার-ওপার করি।
তোমরা ভাবো ক্ষেত আর ফসল, বৃষ্টি বাদল বান,
ডুবল কত, বাঁচল কত ভরা ভাদুই ধান,
আমার কিন্তু সে সব দিকে খেয়াল-খবর নাই-
আমি আমার নিয়ম মতন ঘাটের ডিঙা বাই।
ভাদর আসে মরা গাঙে ভরা বন্যা নিয়ে-
রাঙা জলে এপার-ওপার এক্সা করে দিয়ে;
লগির গোড়া পায়না তলা, মিলে না আর থই,
দিনে রাতে তবু আমার ঘাটের ডিঙা বই।
হঠাৎ যেদিন বানের জলে ছাপিয়ে উঠে মাঠ,
হাঁটু নাগাল ধানের জমি, গলা-নাগাল পাট
কানাকানি বানের জলে ধানের আগা দোলে,
টলমলিয়ে ডিঙা আমার চলে তারি কোলে।
কোথায় বা সে আলের রেখা, কোথায় বা সে বাঁধ,
বাবলা গাছের বেড়া নিয়ে কোথায় বা বিবাদ!
বাঁধন-হারা বানের মুখে বিধি-বিধান নাই-
সীমাবিহীন সাঁতার ক্ষেতে ঘাটের ডিঙা বাই।
কোমর-জলে দাঁড়িয়ে কসে কাস্তে চালায় চাষি,
ধানের শিষের সোঁদা গন্ধে হাওয়ায় উঠে ভাসি:
কাজল-কটা ধানের ডগা নুইয়ে জলের তলে
মসমসিয়ে তারি মাঝে ডিঙা আমার চলে!
আঁটি বাঁধা ধানের রাশি এপার-ওপার করি,
পালা বাঁধা পাটের গাদা বোঝাই করে মরি;
দিনে রাতে কত লোকের কত কথা শুনি-
আমি বসে আপন মনে খেয়ার কড়ি গুনি।
জলের গায়ে সিঁদুর ঢেলে সুয্যি উঠে পুবে,
দিনের খেয়া সেরে আবার পশ্চিমেতে ডুবে;
বারোমাসে একটি দিনও ছুটি কামাই নাই,
তারি সাথে আমি আমার ঘাটের ডিঙা বাই।
লগইন করুন প্রতিক্রিয়া জানাতে
নিউজলেটার
নতুন লেখা সম্পর্কে আপডেট পেতে সাবস্ক্রাইব করুন
আপনি লগইন করে মন্তব্য করতে পারবেন।