মিলন
এই কবিতাটি লিখেছেন যতীন্দ্রমোহন বাগচী · ১ মিনিট পড়ার সময় ·
কাল রজনীতে উঠে নাই চাঁদ, ফুটেনি একটি তারা,
বিরহী বাতাস আঁধারের মাঝে হয়েছিল দিশাহারা। জোনাকি জ্বলেনি যুথি-মালঞ্চে, ঝিঁঝিটি ডাকেনি ঝাড়ে, টিটিপাখি শুধু টিকারি দিয়া কেঁদেছে দীঘির পাড়ে;
তারি মাঝে আমি ইমন-বেহাগে সেধেছিনু বাঁশিখানি-
কেহ না শুনুক্ তুমি শুনেছিলে, আমি তাহা মনে জানি!
আজ রাতে যবে ঝর-ঝর ধারে বাদর ঝরিছে মেঘে,
হরষ-সরস কণ্ঠ তুলিয়া ভেকেরা উঠিছে জেগে,
ঘরে ঘরে ঘরে শিকল বাজিয়ে বায়ু দিয়ে যায় নাড়া,
আর্দ্র-পাখায় সিক্ত-শাখায় পাখিরা না দেয় সাড়া;
কাহার হৃদয় কাঁপিছে সেতারে মল্লারে মীড় টানি-
সে ব্যথা কাহার, কেহ না জানুক, আমি তাহা মনে জানি!
কোথায় কাঁপিছে করুণ সেতার, কোথায় কাঁদিছে বাঁশি, দুটি অন্তর কত দূর থেকে তবু কত পাশাপাশি!
দুটি হৃদয়ের ইঙ্গিত দিয়া হৃদয়ের বিনিময়,
দুটি সুকরুণ সংগীত মাঝে সুনিবিড় পরিচয়!
কোথা পড়ে আছে দেহের সীমানা, কোথা মিলে আসি প্রাণ, অন্তরায়ের অন্তর টুটি মিলনের মহাগান।
এমনি যেন গো চিরদিন ধরে দূরে থেকে থাকি কাছে;
এর বেশি যেন চেয়ে কোনো দিন কাঁদিতে না হয় পাছে; অন্তর মাঝে থাকিতে আলোক, দূরেন তারে খুঁজি;
ভালো করে যেন বুঝিবারে গিয়ে মূলেই ভুল না বুঝি!
দূরে থেকে যেন চিরদিনরাত দু-জনারে বাসি ভালো-
দু-খানি হৃদয় উজলিয়া রাখে প্রেমের অমৃত আলো।
লগইন করুন প্রতিক্রিয়া জানাতে
নিউজলেটার
নতুন লেখা সম্পর্কে আপডেট পেতে সাবস্ক্রাইব করুন
আপনি লগইন করে মন্তব্য করতে পারবেন।