মূল বিষয়বস্তুতে যান

বিভাগঃ কবিতা

অভিলাষ

১ জনমনোমুগ্ধকর উচ্চ অভিলাষ! তোমার বন্ধুর পথ অনন্ত অপার । অতিক্রম করা যায় যত পান্থশালা , তত যেন অগ্রসর হতে ইচ্ছা হয় । ২ তোমার বাঁশরি স্বরে বিমোহিত মন — মানবেরা , ওই স্বর লক্ষ্য করি হায় , যত অগ্রসর হ...

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

অনন্ত মরণ

কোটি কোটি ছোটো ছোটো মরণেরে লয়ে বসুন্ধরা ছুটিছে আকাশে, হাসে খেলে মৃত্যু চারিপাশে। এ ধরণী মরণের পথ, এ জগৎ মৃত্যুর জগৎ। যতটুকু বর্তমান, তারেই কি বল’ প্রাণ? সে তো শুধু পলক, নিমেষ। অতীতের মৃত ভার পৃষ্ঠেতে...

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

আর আমায় আমি নিজের শিরে বইব না

আর আমায় আমি নিজের শিরে বইব না। আর নিজের দ্বারে কাঙাল হয়ে রইব না। এই বোঝা তোমার পায়ে ফেলে বেড়িয়ে পড়ব অবহেলে– কোনো খবর রাখব না ওর, কোনো কথাই কইব না। আমায় আমি নিজের শিরে বইব না। বাসনা মোর যারেই পরশ করে স...

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

অনাবশ্যকের আবশ্যকতা

কী জন্যে রয়েছ, সিন্ধু তৃণশস্যহীন— অর্ধেক জগৎ জুড়ি নাচো নিশিদিন। সিন্ধু কহে, অকর্মণ্য না রহিত যদি ধরণীর স্তন হতে কে টানিত নদী? (কণিকা কাব্যগ্রন্থ)...

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

আকাশে সোনার মেঘ

আকাশে সোনার মেঘ কত ছবি আঁকে, আপনার নাম তবু লিখে নাহি রাখে। (স্ফুলিঙ্গ)...

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

চাতুরী

আমার খোকা করে গো যদি মনে এখনি উড়ে পারে সে যেতে পারিজাতের বনে । যায় না সে কি সাধে। মায়ের বুকে মাথাটি থুয়ে সে ভালোবাসে থাকিতে শুয়ে, মায়ের মুখ না দেখে যদি পরান তার কাঁদে। আমার খোকা সকল কথা জানে। কিন্তু ত...

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

জাগি রহে চাঁদ

জাগি রহে চাঁদ আকাশে যখন সারাটি রজনী! শ্রান্ত জগত ঘুমে অচেতন সারাটি রজনী! অতি ধীরে ধীরে হৃদে কী লাগিয়া মধুময় ভাব উঠে গো জাগিয়া সারাটি রজনী! ঘুমায়ে তোমারি দেখি গো স্বপন সারাটি রজনী! জাগিয়া তোমারি দেখি গ...

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

জাগিবার চেষ্টা

মা কেহ কি আছ মোর , কাছে এসো তবে , পাশে বসে স্নেহ ক’রে জাগাও আমায় । স্বপ্নের সমাধি – মাঝে বাঁচিয়া কী হবে , যুঝিতেছি জাগিবারে — আঁখি রুদ্ধ হায় , ডেকো না ডেকো না মোরে ক্ষুদ্রতার মাঝে , স্নেহময় আলস্যেতে র...

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

অনবচ্ছিন্ন আমি

আজি মগ্ন হয়েছিনু ব্রহ্মাণ্ড‐মাঝারে, যখন মেলিনু আঁখি হেরিনু আমারে। ধরণীর বস্ত্রাঞ্চল দেখিলাম তুলি, আমার নাড়ীর কম্পে কম্পমান ধূলি। অনন্ত আকাশতলে দেখিলাম নামি, আলোকদোলায় বসি দুলিতেছি আমি। আজি গিয়েছিনু চল...

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

অনাগতা

এসেছিল বহু আগে যারা মোর দ্বারে, যারা চলে গেছে একেবারে, ফাগুন-মধ্যাহ্নবেলা শিরীষছায়ায় চুপে চুপে তারা ছায়ারূপে আসে যায় হিল্লোলিত শ্যাম দুর্বাদলে। ঘন কালো দিঘিজলে পিছনে-ফিরিয়া-চাওয়া আঁখি জ্বলো জ্বল...

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

Loading...