বিভাগঃ কবিতা
যে করে ধর্মের নামে
যে করে ধর্মের নামে বিদ্বেষ সঞ্চিত ঈশ্বরকে অর্ঘ্য হতে সে করে বঞ্চিত। (স্ফুলিঙ্গ)...
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
কুসুমের শোভা
কুসুমের শোভা কুসুমের অবসানে মধুরস হয়ে লুকায় ফলের প্রাণে (স্ফুলিঙ্গ)...
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
কুটুম্বিতা-বিচার
কেরোসিন-শিখা বলে মাটির প্রদীপে, ভাই ব’লে ডাক যদি দেব গলা টিপে। হেনকালে গগনেতে উঠিলেন চাঁদা— কেরোসিন বলি উঠে, এসো মোর দাদা! (কণিকা কাব্যগ্রন্থ)...
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
কুয়াশার আক্ষেপ
‘কুয়াশা, নিকটে থাকি, তাই হেলা মোরে— মেঘ ভায়া দূরে রন, থাকেন গুমরে!’ কবি কুয়াশারে কয়, শুধু তাই না কি? মেঘ দেয় বৃষ্টিধারা, তুমি দাও ফাঁকি। (কণিকা কাব্যগ্রন্থ)...
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
কুমার
কুমার, তোমার প্রতীক্ষা করে নারী, অভিষেক-তরে এনেছে তীর্থবারি। সাজাবে অঙ্গ উজ্জ্বল বরবেশে, জয়মাল্য-যে পরাবে তোমার কেশে, বরণ করিবে তোমারে সে-উদ্দেশে দাঁড়ায়েছে সারি সারি। দৈত্যের হাতে স্বর্গের পরাভবে ব...
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
কুঁজো তিনকড়ি ঘোরে
কুঁজো তিনকড়ি ঘোরে পাড়া চারিদিককার, সন্ধ্যায় ঘরে ফেরে নিয়ে ঝুলি ভিক্ষার। বলে সিধু গড়গড়ি রাগে দাঁত কড়মড়ি, “ভিখ্ মেগে ফের’, মনে হয় না কি ধিক্কার?’ ঝুলি নিজে কেড়ে বলে, “মাহিনা এ শিক্ষার।’ (খাপছাড়া কাব্যগ...
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
কৃষ্ণকলি
কৃষ্ণকলি আমি তারেই বলি, কালো তারে বলে গাঁয়ের লোক। মেঘলাদিনে দেখেছিলেম মাঠে কালো মেয়ের কালো হরিণ-চোখ। ঘোমটা মাথায় ছিলনা তার মোটে, মুক্তবেণী পিঠের 'পরে লোটে। কালো? তা সে যতই কালো হোক, দেখেছি তার কালো...
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
কেউ চেনা নয়
কেউ চেনা নয় সব মানুষই অজানা। চলেছে আপনার রহস্যে আপনি একাকী। সেখানে তার দোসর নেই। সংসারের ছাপমারা কাঠামোয় মানুষের সীমা দিই বানিয়ে। সংজ্ঞার বেড়া-দেওয়া বসতির মধ্যে বাঁধা মাইনের কাজ করে সে। থাকে সাধা...
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ঘট ভরা
আমার এই ছোটো কলসখানি সারা সকাল পেতে রাখি ঝরনাধারার নিচে। বসে থাকি একটি ধারে শেওলাঢাকা পিছল কালো পাথরটাতে। ঘট ভরে যায় বারে বারে-- ফেনিয়ে ওঠে, ছাপিয়ে পড়ে কেবলি। সবুজ দিয়ে মিনে-করা শৈলশ্রেণীর নীল আক...
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
কেন
জ্যোতিষীরা বলে, সবিতার আত্মদান-যজ্ঞের হোমাগ্নিবেদিতলে যে জ্যোতি উৎসর্গ হয় মহারুদ্রতপে এ বিশ্বের মন্দিরমণ্ডপে, অতিতুচ্ছ অংশ তার ঝরে পৃথিবীর অতিক্ষুদ্র মৃৎপাত্রের 'পরে। অবশিষ্ট অমেয় আলোকধারা পথহারা, আ...
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর