বিভাগঃ কবিতা
মাকাল
গৌরবর্ণ নধর দেহ, নাম শ্রীযুক্ত রাখাল, জন্ম তাহার হয়েছিল, সেই যে-বছর আকাল। গুরুমশায় বলেন তারে, "বুদ্ধি যে নেই একেবারে; দ্বিতীয়ভাগ করতে সারা ছ'মাস ধরে নাকাল।" রেগেমেগে বলেন, "বাঁদর, নাম দিনু তোর মাকা...
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
মাঝারির সতর্কতা
উত্তম নিশ্চিন্তে চলে অধমের সাথে, তিনিই মধ্যম যিনি চলেন তফাতে। (কণিকা কাব্যগ্রন্থ)...
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
মানসলোক
মানসকৈলাসশৃঙ্গে নির্জন ভুবনে ছিলে তুমি মহেশের মন্দিরপ্রাঙ্গণে তাঁহার আপন কবি, কবি কালিদাস। নীলকণ্ঠদ্যুতিসম স্নিগ্ধনীলভাস চিরস্থির আষাঢ়ের ঘনমেঘদলে, জ্যোতির্ময় সপ্তর্ষির তপোলোকতলে। আজিও মানসধামে করিছ বস...
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
মান অপমান উপেক্ষা করি দাঁড়াও
মান অপমান উপেক্ষা করি দাঁড়াও, কণ্টকপথ অকুণ্ঠপদে মাড়াও, ছিন্ন পতাকা ধূলি হতে লও তুলি। রুদ্রের হাতে লাভ করো শেষ বর, আনন্দ হোক দুঃখের সহচর, নিঃশেষ ত্যাগে আপনারে যাও ভুলি। (স্ফুলিঙ্গ)...
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
মাধো
রায়বাহাদুর কিষনলালের স্যাকরা জগন্নাথ, সোনারুপোর সকল কাজে নিপুণ তাহার হাত। আপন বিদ্যা শিখিয়ে মানুষ করবে ছেলেটাকে এই আশাতে সময় পেলেই ধরে আনত তাকে; বসিয়ে রাখত চোখের সামনে, জোগান দেবার কাজে লাগিয়ে দি...
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
যুগে যুগে জলে রৌদ্রে বায়ুতে
যুগে যুগে জলে রৌদ্রে বায়ুতে গিরি হয়ে যায় ঢিবি। মরণে মরণে নুতন আয়ুতে তৃণ রহে চিরজীবী। (স্ফুলিঙ্গ)...
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
মানবহৃদয়ের বাসনা
নিশীথে রয়েছি জেগে ; দেখি অনিমেখে , লক্ষ হৃদয়ে সাধ শূন্যে উড়ে যায় । কত দিক হতে তারা ধায় কত দিকে ! কত – না অদৃশ্যকায়া ছায়া – আলিঙ্গন বিশ্বময় কারে চাহে , করে হায় – হায় । কত স্মৃতি খুঁজিতেছে শ্মশানশয়ন — অ...
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
যা পায় সকলই জমা করে
যা পায় সকলই জমা করে, প্রাণের এ লীলা রাত্রিদিন। কালের তাণ্ডবলীলাভরে সকলই শূন্যেতে হয় লীন। (স্ফুলিঙ্গ)...
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
যা রাখি আমার তরে
যা রাখি আমার তরে মিছে তারে রাখি, আমিও রব না যবে সেও হবে ফাঁকি। যা রাখি সবার তরে সেই শুধু রবে— মোর সাথে ডোবে না সে, রাখে তারে সবে। (স্ফুলিঙ্গ)...
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
যাত্রা
ইস্টিমারের ক্যাবিনটাতে কবে নিলেম ঠাঁই , স্পষ্ট মনে নাই । উপরতলার সারে কামরা আমার একটা ধারে । পাশাপাশি তারি আরো ক্যাবিন সারি সারি নম্বরে চিহ্নিত , একই রকম খোপ সেগুলোর দেয়ালে ভিন্নিত । সরকারী যা আইনকা...
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর