বিভাগঃ কবিতা
যাত্রাপথ
মনে পড়ে , ছেলেবেলায় যে বই পেতুম হাতে ঝুঁকে পড়ে যেতুম পড়ে তাহার পাতে পাতে । কিছু বুঝি , নাই বা কিছু বুঝি , কিছু না হোক পুঁজি , হিসাব কিছু না থাক্ নিয়ে লাভ অথবা ক্ষতি , অল্প তাহার অর্থ ছিল , বাকি ...
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
যাওয়া-আসার একই যে পথ
যাওয়া-আসার একই যে পথ জান না তা কি অন্ধ। যাবার পথ রোধিতে গেলে আসার পথ বন্ধ । (স্ফুলিঙ্গ)...
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
যে আঁধারে ভাইকে দেখিতে নাহি পায়
যে আঁধারে ভাইকে দেখিতে নাহি পায় সে আঁধারে অন্ধ নাহি দেখে আপনায়। (স্ফুলিঙ্গ)...
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
মা-লক্ষ্মী
কার পানে মা, চেয়ে আছ মেলি দুটি করুণ আঁখি। কে ছিঁড়েছে ফুলের পাতা, কে ধরেছে বনের পাখি। কে কারে কী বলেছে গো, কার প্রাণে বেজেছে ব্যথা— করুণায় যে ভরে এল দুখানি তোর আঁখির পাতা। খেলতে খেলতে মায়ের আমার আর বুঝ...
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
মাস্টারবাবু
আমি আজ কানাই মাস্টার, পোড়ো মোর বেড়ালছানাটি। আমি ওকে মারি নে মা, বেত, মিছিমিছি বসি নিয়ে কাঠি। রোজ রোজ দেরি করে আসে, পড়াতে দেয় না ও তো মন, ডান পা তুলিয়ে তোলে হাই যত আমি বলি ‘শোন্ শোন্'। দিনরাত খেলা খে...
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
মানিক কহিল পিঠ পেতে দিই দাঁড়াও
মানিক কহিল, “পিঠ পেতে দিই দাঁড়াও। আম দুটো ঝোলে, ওর দিকে হাত বাড়াও। উপরের ডালে সবুজে ও লালে ভরে আছে, কষে নাড়াও। নিচে নেমে এসে ছুরি দিয়ে শেষে ব’সে ব’সে খোসা ছাড়াও। যদি আসে মালি চোখে দিয়ে বালি পারো যদি ত...
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
মুক্ত যে ভাবনা মোর
মুক্ত যে ভাবনা মোর ওড়ে ঊর্ধ্ব-পানে সেই এসে বসে মোর গানে। (স্ফুলিঙ্গ)...
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
মুকুলের বক্ষোমাঝে
মুকুলের বক্ষোমাঝে কুসুম আঁধারে আছে বাঁধা, সুন্দর হাসিয়া বহে প্রকাশের সুন্দর এ বাধা। (স্ফুলিঙ্গ)...
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
মুক্তবাতায়নপ্রান্তে জনশূন্য ঘরে
মুক্তবাতায়নপ্রান্তে জনশূন্য ঘরে বসে থাকি নিস্তব্ধ প্রহরে, বাহিরে শ্যামল ছন্দে উঠে গান ধরণীর প্রাণের আহ্বান; অমৃতের উৎসস্রোতে চিত্ত ভেসে চলে যায় দিগন্তের নীলিম আলোতে। কার পানে পাঠাইবে স্তুতি ব্যগ্র এই ...
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
মিলের চুমকি গাঁথি ছন্দের পাড়ের মাঝে মাঝে
মিলের চুমকি গাঁথি ছন্দের পাড়ের মাঝে মাঝে অকেজো অলস বেলা ভরে ওঠে শেলাইয়ের কাজে। অর্থভরা কিছুই-না চোখে ক’রে ওঠে ঝিল্মিল্ ছড়াটার ফাঁকে ফাঁকে মিল। গাছে গাছে জোনাকির দল করে ঝলমল; সে নহে দীপের শিখা, রাত্র...
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর