মূল বিষয়বস্তুতে যান

বিভাগঃ কবিতা

বিশ্বধরণীর বিপুল কুলায়

বিশ্বধরণীর এই বিপুল কুলায় সন্ধ্যা-- তারি নীরব নির্দেশে নিখিল গতির বেগ ধায় তারি পানে। চৌদিকে ধূসরবর্ণ আবরণ নামে। মন বলে, ঘরে যাব-- কোথা ঘর নাহি জানে। দ্বার খোলে সন্ধ্যা নিঃসঙ্গিনী, সম্মুখে নীরন্ধ্র অ...

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

অসমাপ্ত

বোলো তারে, বোলো- এতদিনে তারে দেখা হল। তখন বর্ষণশেষে ছুঁয়েছিল রৌদ্র এসে উন্মীলিত গুল্মোরের থোলো। বনের মন্দির-মাঝে তরুর তম্বুরা বাজে, অ নন্তের উঠি স্তবগান- চক্ষে জল বহে যায়, নম্র হল বন্দনায় আমার বিস্...

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

অমলধারা ঝরনা যেমন

অমলধারা ঝরনা যেমন স্বচ্ছ তোমার প্রাণ, পথে তোমার জাগিয়ে তুলুক আনন্দময় গান। সম্মুখেতে চলবে যত পূর্ণ হবে নদীর মতো, দুই কূলেতে দেবে ভ’রে সফলতার দান। (স্ফুলিঙ্গ)...

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

অবিচার

নারীর দুখের দশা অপমানে জড়ানো এই দেখি দিকে দিকে ঘরে ঘরে ছড়ানো। জানো কি এ অন্যায় সমাজের হিসাবে নিমেষে নিমেষে কত হলাহল মিশাবে? পুরুষ জেনেছে এটা বিধিনির্দিষ্ট তাদের জীবন-ভোজে নারী উচ্ছিষ্ট। রোগ-তাপে সে...

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

অলস সময়-ধারা বেয়ে

অলস সময়-ধারা বেয়ে মন চলে শূন্য-পানে চেয়ে। সে মহাশূন্যের পথে ছায়া-আঁকা ছবি পড়ে চোখে। কত কাল দলে দলে গেছে কত লোকে সুদীর্ঘ অতীতে জয়োদ্ধত প্রবল গতিতে। এসেছে সাম্রাজ্যলোভী পাঠানের দল, এসেছে মোগল; বিজয়রথের ...

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

বেজি

অনেকদিনের এই ডেস্কো — আনমনা কলমের কালিপড়া ফ্রেস্কো দিয়েছে বিস্তর দাগ ভুতূড়ে রেখার । যমজ সোদর ওরা যে সব লেখার — ছাপার লাইনে পেল ভদ্রবেশে ঠাঁই , তাদের স্মরণে এরা নাই । অক্সফোর্ড ডিক্সনারি , পদকল্পতরু...

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

সময় চলেই যায়

“সময় চ’লেই যায়’ নিত্য এ নালিশে উদ্‌বেগে ছিল ভুপু মাথা রেখে বালিশে। কব্‌জির ঘড়িটার উপরেই সন্দ, একদম করে দিল দম তার বন্ধ– সময় নড়ে না আর, হাতে বাঁধা খালি সে, ভুপুরাম অবিরাম- বিশ্রাম-শালী সে। ঝাঁ-ঝাঁ করে ...

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

সাধ

অরুণময়ী তরুণী উষা জাগায়ে দিল গান। পুরব মেঘে কনকমুখী বারেক শুধু মারিল উঁকি, অমনি যেন জগৎ ছেয়ে বিকশি উঠে প্রাণ। কাহার হাসি বহিয়া এনে করিলি সুধা দান। ফুলেরা সব চাহিয়া আছে আকাশপানে মগন-মনা, মুখেতে মৃ...

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

সুখ

আজি মেঘমুক্ত দিন; প্রসন্ন আকাশ হাসিছে বন্ধুর মতো; সুন্দর বাতাস মুখে চক্ষে বক্ষে আসি লাগিছে মধুর-- অদৃশ্য অঞ্চল যেন সুপ্ত দিগ্‌বধূর উড়িয়া পড়িছে গায়ে। ভেসে যায় তরী প্রশান্ত পদ্মার স্থির বক্ষের উপরি...

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

মেছুয়াবাজার থেকে পালোয়ান চারজন

মেছুয়াবাজার থেকে পালোয়ান চারজন পরের ঘরেতে করে জঞ্জাল-মার্জন। ডালায় লাগিয়ে চাপ বাক্সো করেছে সাফ, হঠাৎ লাগালো গুঁতো পুলিসের সার্জন। কেঁদে বলে, “আমাদের নেই কোনো গার্জন, ভেবেছিনু হেথা হয় নৈশবিদ্যালয়– নিখর...

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

Loading...