মূল বিষয়বস্তুতে যান

বিভাগঃ কবিতা

বলিয়াছিনু মামারে

বলিয়াছিনু মামারে– তোমারি ঐ চেহারাখানি কেন গো দিলে আমারে। তখনো আমি জন্মিনি তো, নেহাত ছিনু অপরিচিত, আগেভাগেই শাস্তি এমন, এ কথা মনে ঘা মারে। হাড় ক’খানা চামড়া দিয়ে ঢেকেছে যেন চামারে। (খাপছাড়া কাব্যগ্রন্থ)...

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

বর্ষার দিনে

এমন দিনে তারে বলা যায় এমন ঘনঘোর বরিষায় - এমন মেঘস্বরে বাদল-ঝরঝরে তপনহীন ঘন তমসায়।। সে কথা শুনিবে না কেহ আর, নিভৃত নির্জন চারি ধার। দুজনে মুখোমুখি গভীর দুখে দুখি, আকাশে জল ঝরে অনিবার - জগতে কেহ যেন ...

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

পাহাড়ের নীলে আর দিগন্তের নীলে

পাহাড়ের নীলে আর দিগন্তের নীলে শূন্যে আর ধরাতলে মন্ত্র বাঁধে ছন্দে আর মিলে। বনেরে করায় স্নান শরতের রৌদ্রের সোনালি। হলদে ফুলের গুচ্ছে মধু খোঁজে বেগুনি মৌমাছি। মাঝখানে আমি আছি, চৌদিকে আকাশ তাই দিতেছে ন...

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

আমার একলা ঘরের আড়াল ভেঙে

আমার একলা ঘরের আড়াল ভেঙে বিশাল ভবে প্রাণের রথে বাহির হতে পারব কবে। প্রবল প্রেমে সবার মাঝে ফিরব ধেয়ে সকল কাজে, হাটের পথে তোমার সাথে মিলন হবে, প্রাণের রথে বাহির হতে পারব কবে। নিখিল আশা-আকাঙক্ষা-ময় দুঃখে...

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

বিধাতা দিলেন মান

বিধাতা দিলেন মান বিদ্রোহের বেলা। অন্ধ ভক্তি দিনু যবে করিলেন হেলা। (স্ফুলিঙ্গ)...

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

বিদেশী ফুলের গুচ্ছ – ৯

ওই আদরের নামে ডেকো সখা মোরে! ছেলেবেলা ওই নামে আমায় ডাকিত– তাড়াতাড়ি খেলাধুলা সব ত্যাগ করে অমনি যেতেম ছুটে, কোলে পড়িতাম লুটে। রাশি-করা ফুলগুলি পড়িয়া থাকিত। নীরব হইয়া গেছে যে স্নেহের স্বর– কেবল স্তব্ধতা ...

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

বিদেশী ফুলের গুচ্ছ – ৭

বেঁচেছিল, হেসে হেসে খেলা করে বেড়াত সে– হে প্রকৃতি, তারে নিয়ে কী হল তোমার! শত রঙ-করা পাখি, তোর কাছে ছিল না কি– কত তারা, বন, সিন্ধু, আকাশ অপার! জননীর কোল হতে কেন তবে কেড়ে নিলি! লুকায়ে ধরার কোলে ফুল দিয়ে...

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

মিলন-সুলগনে

মিলন-সুলগনে, কেন বল্‌, নয়ন করে তোর ছল্‌ছল্‌। বিদায়দিনে যবে ফাটে বুক সেদিনও দেখেছি তো হাসিমুখ। (স্ফুলিঙ্গ)...

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

ভীরুতা

গভীর সুরে গভীর কথা শুনিয়ে দিতে তোরে সাহস নাহি পাই। মনে মনে হাসবি কিনা বুঝব কেমন করে? আপনি হেসে তাই শুনিয়ে দিয়ে যাই-- ঠাট্টা করে ওড়াই সখী, নিজের কথাটাই। হাল্কা তুমি কর পাছে হাল্কা করি ভাই, আপন ব্যথাটাই...

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

প্রেয়সী

হে প্রেয়সী, হে শ্রেয়সী, হে বীণাবাদিনী, আজি মোর চিত্তপদ্মে বসি একাকিনী ঢালিতেছ স্বর্গসুধা; মাথার উপর সদ্যস্নাত বরষার স্বচ্ছ নীলাম্বর রাখিয়াছে স্নিগ্ধহস্ত আশীর্বাদে ভরা; সম্মুখেতে শস্যপূর্ণ হিল্লোলিত ধর...

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

Loading...