মূল বিষয়বস্তুতে যান

বিভাগঃ কবিতা

বুধু

মাঠের শেষে গ্রাম, সাতপুরিয়া নাম। চাষের তেমন সুবিধা নেই কৃপণ মাটির গুণে, পঁয়ত্রিশ ঘর তাঁতির বসত, ব্যাবসা জাজিম বুনে। নদীর ধারে খুঁড়ে খুঁড়ে পলির মাটি খুঁজে গৃহস্থেরা ফসল করে কাঁকুড়ে তরমুজে ঐখানেতে ...

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

ভীরু

কেন এ কম্পিত প্রেম, অয়ি ভীরু, এনেছ সংসারে-- ব্যর্থ করি রাখিবে কি তারে। আলোকশঙ্কিত তব হিয়া প্রচ্ছন্ন নিভৃত পথ দিয়া থেমে যায় প্রাঙ্গণের দ্বারে। হায়, সে যে পায় নাই আপন নিশ্চিত পরিচয়, বন্দী তারে রে...

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

ফুলের ইতিহাস

বসন্তপ্রভাতে এক মালতীর ফুল প্রথম মেলিল আঁখি তার, প্রথম হেরিল চারি ধার। মধুকর গান গেয়ে বলে, ‘মধু কই, মধু দাও দাও। ' হরষে হৃদয় ফেটে গিয়ে ফুল বলে, ‘এই লও লও। ' বায়ু আসি কহে কানে কানে, ‘ফুলবালা, পরিমল দাও...

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

বঁধুয়া, হিয়াপর আওরে

বঁধুয়া, হিয়া পর আওরে, মিঠি মিঠি হাসয়ি, মৃদু মধু ভাষয়ি, হমার মুখ পর চাওরে! যুগ যুগ সম কত দিবস বহয়ি গল, শ্যাম তু আওলি না, চন্দ-উজর মধু-মধুর কুঞ্জপর মুরলি বজাওলি না! লয়ি গলি সাথ বয়ানক হাসরে, লয়ি ...

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

বহু জন্মদিনে গাঁথা আমার জীবনে

বহু জন্মদিনে গাঁথা আমার জীবনে দেখিলাম আপনারে বিচিত্র রূপের সমাবেশে। একদা নূতন বর্ষ অতলান্ত সমুদ্রের বুকে মোরে এনেছিল বহি তরঙ্গের বিপুল প্রলাপে দিক হতে যেথা দিগন্তরে শূন্য নীলিমার 'পরে শূন্য নীলিমায় ত...

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

বাঁশি (কড়ি ও কোমল কাব্যগ্রন্থ)

ওগো , শোনো কে বাজায় ! বনফুলের মালার গন্ধ বাঁশির তানে মিশে যায়। অধর ছুঁয়ে বাঁশিখানি চুরি করে হাসিখানি , বঁধুর হাসি মধুর গানে প্রাণের পানে ভেসে যায় । ওগো শোনো কে বাজায় ! কুঞ্জবনের ভ্রমর বুঝি বাঁশির মাঝে...

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

বাঁশিওয়ালা

‘ওগো বাঁশিওয়ালা, বাজাও তোমার বাঁশি, শুনি আমার নূতন নাম’- এই বলে তোমাকে প্রথম চিঠি লিখেছি, মনে আছে তো? আমি তোমার বাংলাদেশের মেয়ে। সৃষ্টিকর্তা পুরো সময় দেন নি আমাকে মানুষ ক‘রে গড়তে, রেখেছেন আধাআধি করে। ...

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

পবিত্র জীবন

মিছে হাসি , মিছে বাঁশি , মিছে এ যৌবন , মিছে এই দরশের পরশের খেলা । চেয়ে দেখো , পবিত্র এ মানবজীবন , কে ইহারে অকাতরে করে অবহেলা ! ভেসে ভেসে এই মহা চরাচরস্রোতে কে জানে গো আসিয়াছে কোন্খান হতে , কোথা হতে নি...

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

বাণীর মুরতি গড়ি

বাণীর মুরতি গড়ি একমনে নির্জন প্রাঙ্গণে পিণ্ড পিণ্ড মাটি তার যায় ছড়াছড়ি, অসমাপ্ত মূক শূন্যে চেয়ে থাকে নিরুৎসুক। গর্বিত মূর্তির পদানত মাথা করে থাকে নিচু, কেন আছে উত্তর না দিতে পারে কিছু বহুগুণে শোচ...

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

বাতাস শুধায়, "বলে তো, কমল,

বাতাস শুধায়, "বলে তো, কমল, তব রহস্য কী যে।" কমল কহিল, "আমার মাঝারে অামি রহস্য নিজে।" (স্ফুলিঙ্গ)...

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

Loading...