মূল বিষয়বস্তুতে যান

বিভাগঃ কবিতা

ভোর ও ছয়টি বমারঃ ১৯৪২

কোথাও বাইরে গিয়ে চেয়ে দেখি দু'চারটে পাখি। ঘাসের উপরে রোদে শিশিরে শুকায় নিজেদের ক্ষেতে ধান- চার পাঁচজন লোক মানবের মতন একাকী। মাটিরও তরঙ্গ স্বর্গীয় জ্যামিতির প্রত্যাশায় মিশে গেছে অতীত ও আজকের সমস্ত আকাশ...

জীবনানন্দ দাস

বলিল অশ্বত্থ সেই

বলিল অশ্বত্থ ধীরে: ‘কোন দিকে যাবে বলো- তোমরা কোথায় যেতে চাও? এতদিন পাশাপাশি ছিলে, আহা, ছিলে কত কাছে: ম্লান খোড়ো ঘরগুলো-আজও তো দাঁড়ায়ে তারা আছে; এই সব গৃহ মাঠ ছেড়ে দিয়ে কোন দিকে কোন পথে ফের তোমরা যেতেছ...

জীবনানন্দ দাস

মাঘসংক্রান্তির রাতে

হে পাবক, অনন্ত নক্ষত্রবীথি তুমি, অন্ধকারে তোমার পবিত্র অগ্নি জ্বলে। অমাময়ী নিশি যদি সুজনের শেষ কথা হয়, আর তার প্রতিবিম্ব হয় যদি মানব-হৃদয়, তবুও আমার জ্যোতি সৃষ্টির নিবিড় মনোবলে জ্ব’লে ওঠে সময়ের আকাশের...

জীবনানন্দ দাস

মরীচিকার পিছে

ধূম্র তপ্ত আঁধির কুয়াশা তরবারি দিয়ে চিরে সুন্দর দূর মরীচিকাতটে ছলনামায়ার তীরে ছুটে যায় দুটি আঁখি! -কত দূর হায় বাকি! উধাও অশ্ব বগ্লাবিহীন অগাধ মরুভূ ঘিরে পথে পথে তার বাধা জমে যায়-তবু সে আসে না ফিরে! দূ...

জীবনানন্দ দাস

গল্পে আমি পড়িয়াছি কাঞ্চী কাশী বিদিশার কথা

গল্পে আমি পড়িয়াছি কাঞ্চী কাশী বিদিশার কথা কোনদিন চোখে দেখি নাই একদিন ভাবিলাম মাঠে মাঠে কুয়াশায় যদি আমি কোনোদিন বিদিশায় যাই— মাঠে মাঠে কুয়াশায় ভাবিলাম এই কথা বহু দিন বহু বহু রাত ধ’রে আমি যদি আমি—কোনোদি...

জীবনানন্দ দাস

কোথাও চলিয়া যাবো একদিন

কোথাও চলিয়া যাব একদিন;-তারপর রাত্রির আকাশ অসংখ্য নক্ষত্র নিয়ে ঘুরে যাবে কতকাল জানিব না আমি; জানিব না কতকাল উঠানে ঝরিবে এই হলুদ বাদামী পাতাগুলো-মাদারের ডুমুরের-সোঁদা গন্ধ-বাংলার শ্বাস বুকে নিয়ে তাহাদের...

জীবনানন্দ দাস

এই পৃথিবীর

এই পৃথিবীর বুকের ভিতরে কোথাও শান্তি আছে; অঘ্রাণ মাস রাত্রি হ’লে অনেক বিষয়াবিষের সমাধান মাঠে জলে পাখির নীড়ে নক্ষত্রেতে থাকে; অমেয় গোলকধাঁধাঁয় ঘুরে প্রাণ চেষ্টা করে সমাজ জাতি সময় সৃষ্টি সঠিক বুঝে নিতে। ...

জীবনানন্দ দাস

কোনোদিন দেখিব না তারে আমি

কোনোদিন দেখিব না তারে আমি: হেমন্তে পাকিবে ধান, আষাঢ়ের রাতে কালো মেঘ নিঙড়ায়ে সবুজ বাঁশের বন গেয়ে যাবে উচ্ছ্বাসের গান সারারাত, — তবু আমি সাপচরা অন্ধ পথে — বেনুবনে তাহার সন্ধান পাবো নাকে: পুকুরের পাড়ে সে...

জীবনানন্দ দাস

কখন সোনার রোদ নিভে গেছে

কখন সোনার রোদ নিভে গেছে — অবিরল শুপুরির সারি আঁধারে যেতেছে ডুবে — প্রান্তরের পার থেকে গরম বাতাস ক্ষুধিত চিলের মতো চৈত্রের এ অন্ধকার ফেলিতেছে শ্বাস; কোন চৈত্রে চলে গেছে সেই মেয়ে — আসিবে না করে গেছে আড়ি...

জীবনানন্দ দাস

কবিতা

আমাদের হাড়ে এক নির্ধূম আনন্দ আছে জেনে পঙ্কিল সময়স্রোতে চলিতেছে ভেসে; তা না হ'লে সকলি হারায়ে যেতো ক্ষমাহীন রক্তের- নিরুদ্দেশে। হে আকাশ, একদিন ছিলে তুমি প্রভাতের তটিনীর; তারপর হ'য়ে গেছ দূর মেরুনিশীথের স...

জীবনানন্দ দাস

Loading...