বিভাগঃ কবিতা
সোনালি অগ্নির মতো
সোনালি অগ্নির মতো আকাশ জ্বলছে স্থির নীল পিলসুজে; পৃথিবীর শেষ রৌদ্র খুঁজে কেউ কি পেয়েছে কিছু কোনো দিকে? পায় নি তো কেউ। তারপর বাদুড়ের কালো কালো ঢেউ উড়ায়ে শঙ্খচিল কোথায় ডুবল চোখ বুজে। অনেক রক্তাক্ত সোনা ...
জীবনানন্দ দাস
হেমন্ত কুয়াশায়
সকাল-সন্ধ্যাবেলা আমি সেই নারীকে দেখেছি জেনেছি অনেক দিন- তারপর তবুও ভেবেছি। তারপর ঢের দিন পৃথিবীর সেই শাদা সাধারণ কথা ছোট বড় জিনিসের বিস্মরণে ক্রমে ভুলে গেছি। আকাশ আমাকে বলেঃ 'সে না তুমি আত্মসমাহিতি?' ...
জীবনানন্দ দাস
হৃদয়ে প্রেমের দিন
হৃদয়ে প্রেমের দিন কখন যে শেষ হয় — চিতা শুধু পড়ে থাকে তার, আমরা জানি না তাহা; — মনে হয় জীবনে যা আছে আজো তাই শালিধান রূপশালি ধান তাহা… রূপ, প্রেম… এই ভাবি… খোসার মতন নষ্ট ম্লান একদিন তাহাদের অসারতা ...
জীবনানন্দ দাস
হঠাৎ-মৃত
অজস্র বুনো হাঁস পাখা মেলে উড়ে চলেছে জ্যোৎস্নার ভিতর কাউকে মৃত্যু ফেলে দিলো নিচে- অন্ধকারের অচল অভ্যাসের ভিতর। রূপসী প্রথম প্রেমের আস্বাদ পেতে যাচ্ছিলো : শোনো- গলার ভিতরে তার মৃত্যুর গোঙরানি; সে নিজেও ...
জীবনানন্দ দাস
ঊনিশশো চৌত্রিশের
একটা মোটরকার খটকা নিয়ে আসে। মোটরকার সব-সময়েই একটা অন্ধকার জিনিস, যদিও দিনের রৌদ্র-আলোর পথে রাতের সুদীপ্ত গ্যাসের ভিতর আলোর সন্তানদের মধ্যে তার নাম সবচেয়ে প্রথম। একটা অন্ধকার জিনিস : পরিষ্কার ভোরের বেল...
জীবনানন্দ দাস
গভীর এরিয়েলে
ডুবলো সূর্য; অন্ধকারের অন্তরালে হারিয়ে গেছে দেশ। এমনতর আঁধার ভালো আজকে কঠিন রুক্ষ শতাব্দীতে। রক্ত-ব্যথা ধনিকতার উষ্ণতা এই নীরব স্নীগ্ধ অন্ধকারের শীতে নক্ষত্রদের স্থির সমাসীন পরিষদের থেকে উপদেশ পায় না ...
জীবনানন্দ দাস
সৌরকরোজ্জ্বল
পরের ক্ষেতের ধানে মই দিয়ে উঁচু করে নক্ষত্রে লাগানো সুকঠিন নয় আজ; যে-কোনো পথের বাঁকে ভাঙনের নদীওর শিয়রে তাদের সমাজ। তবুও তাদের ধারা- ধর্ম অর্থ কাম কলরব কুশীলব- কিংবা এ-সব থেকে আসন্ন বিপ্লব ঘনারে- ফসল ফ...
জীবনানন্দ দাস
এই ডাঙা ছেড়ে হায়
এই ডাঙা ছেড়ে হায় রূপ কে খুঁজিতে যায় পৃথিবীর পথে। বটের শুকনো পাতা যেন এক যুগান্তের গল্প ডেকে আনে: ছড়ায়ে রয়েছে তারা প্রান্তরের পথে পথে নির্জন অঘ্রানে;- তাদের উপেক্ষা ক’রে কে যাবে বিদেশে বলো- আমি কোনো-মত...
জীবনানন্দ দাস
সেই দিন এই মাঠ স্তব্ধ হবে নাকো জানি
সেই দিন এই মাঠ স্তব্ধ হবে নাকো জানি— এই নদী নক্ষত্রের তলে সেদিনও দেখিবে স্বপ্ন– সোনার স্বপ্নের সাধ পৃথিবীতে কবে আর ঝরে! আমি চলে যাব ব’লে চালতাফুল কি আর ভিজিবে না শিশিরের জলে নরম গন্ধের ঢেউয়ে? লক্ষ্মীপ...
জীবনানন্দ দাস
কেন মিছে নক্ষত্রেরা
কেন মিছে নক্ষত্রেরা আসে আর? কেন মিছে জেগে ওঠে নীলাভ আকাশ? কেন চাঁদ ভেসে ওঠেঃ সোনার ময়ূরপঙ্খী অশ্বত্থের শাখার পিছনে? কেন ধুলো সোঁদা গন্ধে ভরে ওঠে শিশিরের চুমো খেয়ে- গুচ্ছে গুচ্ছে ফুটে ওঠে কাশ? খঞ্জনারা...
জীবনানন্দ দাস