মূল বিষয়বস্তুতে যান
কবিতা

কোহিনূর

তোমারে ঘেরিয়া জাগে কত স্বপ্ন–স্মৃতির শ্মশান, ভুলুণ্ঠিত লুব্ধ অভিযান; সাম্রাজ্যের অশ্রু, রক্ত, সমাধি, পতন হে হীরক, একে একে করেছ চুম্বন! স্পর্শে তব অনাদি অতীত যেন নিরন্তর মর্মে ওঠে ধ্বনি! মাধবের বক্ষে তুমি ছিলে কি গো স্যমন্তক মণি! শ্ৰীহরির বনমালা চুমি দিব্য গন্ধে অকলঙ্ক অঙ্ক তব ভরেছিলে তুমি ওগো কোহিনূ...

জীবনানন্দ দাস

কবিতা

আশা অনুমিতি

সূর্যের আকাশের মত মানুষেরা অনুভাবনায় স্থির এক আশ্বাস রয়ে গেছে পৃথিবীতে, রয়ে গেছে আমাদের হৃদয়ে যে এই ইতিহাস পৃথিবীর রক্তাক্ত নদীর কেবলি আয়ত উৎসারণ অন্ধকারে নিজেরে প্রচুর ক’রে তবু স্তিমিত হয়ে পড়ে; মতুন ...

জীবনানন্দ দাস

কবিতা

কোথাও দেখিনি আহা এমন বিজন ঘাস

কোথাও দেখিনি, আহা, এমন বিজন ঘাস – প্রান্তরের পারে নরম বিমর্ষ চোখে চেয়ে আছে-নীল বুকে আছে তাহাদের গঙ্গাফড়িঙের নীড়, কাঁচপোকা, প্রজাপতি, শ্যামাপোকা ঢের, হিজলের ক্লান- পাতা,- বটের অজস্র ফল ঝরে বারে বারে তা...

জীবনানন্দ দাস

কবিতা

আমাকে তুমি

আমাকে তুমি দেখিয়েছিলে একদিন; মস্ত বড় ময়দান — দেবদারু পামের নিবিড় মাথা — মাইলের পর মাইল; দুপুরবেলার জনবিরল গভীর বাতাস দূর শূন্যে চিলের পাটকিলে ডানার ভিতর অস্পষ্ট হয়ে হারিয়ে যায়; জোয়ারের মতো ফিরে আসে আব...

জীবনানন্দ দাস

কবিতা

রজনীগন্ধা

এখন রজনীগন্ধা-প্রথম-নতুন- একটি নক্ষত্র শুধু বিকেলের সমস্ত আকাশে; অন্ধকার ভালো বলে শান্ত পৃথিবীর আলো নিভে আসে। অনেক কাজের পরে এইখানে থেমে থাকা ভালো; রজনীগন্ধার ফুলে মৌমাছির কাছে কেউ নেই, কিছু নেই, তবু ...

জীবনানন্দ দাস

কবিতা

রবীন্দ্রনাথ

অনেক সময় পাড়ি দিয়ে আমি অবশেষে কোন এক বলয়িত পথে মানুষের হৃদয়ের প্রীতির মতন এক বিভা দেখেছি রাত্রির রঙে বিভাসিত হয়ে থেকে আপনার প্রাণের প্রতিভা বিচ্ছুরিত ক'রে দেয় সঙ্গীতের মত কণ্ঠস্বরে! হৃদয়ে নিমীল হয়ে অন...

জীবনানন্দ দাস

কবিতা

সে কামনা নিয়ে

যে কামনা নিয়ে মধুমাছি ফেরে বুকে মোর সেই তৃষা! খুঁজে মরি রূপ, ছায়াধূপ জুড়ি, রঙের মাঝারে হেরি রঙডুবি! পরাগের ঠোঁটে পরিমলগুঁড়ি- হারায়ে ফেলি গো দিশা! আমি প্রজাপতি-মিঠা মাঠে মাঠে সোঁদালে সর্ষেক্ষেতে; ...

জীবনানন্দ দাস

কবিতা

আছে

এখন চৈত্রের দিন নিভে আসে- আরো নিভে আসে; এখানে মাঠের 'পরে শুয়ে আছি ঘাসে; এসে শেষ হ’য়ে যায় মানুষের ইচ্ছা কাজ পৃথিবীর পথে, দু-চারটে- বড়ো জোর একশো শরতে; উর ময় চীন ভারতের গল্প বহিঃপৃথিবীর শর্তে হ’য়ে গেছে শ...

জীবনানন্দ দাস

কবিতা

ভোর ও ছয়টি বমারঃ ১৯৪২

কোথাও বাইরে গিয়ে চেয়ে দেখি দু'চারটে পাখি। ঘাসের উপরে রোদে শিশিরে শুকায় নিজেদের ক্ষেতে ধান- চার পাঁচজন লোক মানবের মতন একাকী। মাটিরও তরঙ্গ স্বর্গীয় জ্যামিতির প্রত্যাশায় মিশে গেছে অতীত ও আজকের সমস্ত আকাশ...

জীবনানন্দ দাস

কবিতা

বলিল অশ্বত্থ সেই

বলিল অশ্বত্থ ধীরে: ‘কোন দিকে যাবে বলো- তোমরা কোথায় যেতে চাও? এতদিন পাশাপাশি ছিলে, আহা, ছিলে কত কাছে: ম্লান খোড়ো ঘরগুলো-আজও তো দাঁড়ায়ে তারা আছে; এই সব গৃহ মাঠ ছেড়ে দিয়ে কোন দিকে কোন পথে ফের তোমরা যেতেছ...

জীবনানন্দ দাস

কবিতা

মাঘসংক্রান্তির রাতে

হে পাবক, অনন্ত নক্ষত্রবীথি তুমি, অন্ধকারে তোমার পবিত্র অগ্নি জ্বলে। অমাময়ী নিশি যদি সুজনের শেষ কথা হয়, আর তার প্রতিবিম্ব হয় যদি মানব-হৃদয়, তবুও আমার জ্যোতি সৃষ্টির নিবিড় মনোবলে জ্ব’লে ওঠে সময়ের আকাশের...

জীবনানন্দ দাস

Loading...