আষাঢ়সন্ধ্যা ঘনিয়ে এল
আষাঢ়সন্ধ্যা ঘনিয়ে এল, গেল রে দিন বয়ে। বাঁধনহারা বৃষ্টিধারা ঝরছে রয়ে রয়ে। একলা বসে ঘরের কোণে কী ভাবি যে আপন-মনে, সজল হাওয়া যূথীর বনে কী কথা যায় কয়ে। বাঁধনহারা বৃষ্টিধারা ঝরছে রয়ে রয়ে। হৃদয়ে আজ ঢেউ দিয়েছে, খুঁজে না পাই কূল; সৌরভে প্রাণ কাঁদিয়ে তুলে ভিজে বনের ফুল। আঁধার রাতে প্রহরগুলি কোন্ সুরে আজ ভরি...
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
বড়োই সহজ
বড়োই সহজ রবিরে ব্যঙ্গ করা, অাপন আলোকে আপনি দিয়েছে ধরা। (স্ফুলিঙ্গ)...
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
নূতন ও সনাতন
রাজা ভাবে, নব নব আইনের ছলে ন্যায় সৃষ্টি করি আমি। ন্যায়ধর্ম বলে, আমি পুরাতন, মোরে জন্ম কেবা দেয়— যা তব নূতন সৃষ্টি সে শুধু অন্যায়। (কণিকা কাব্যগ্রন্থ)...
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
নারী তুমি ধন্যা
নারী তুমি ধন্যা– আছে ঘর, আছে ঘরকন্না। তারি মধ্যে রেখেছ একটুখানি ফাঁক। সেথা হতে পশে কানে বাহিরের দুর্বলের ডাক। নিয়ে এসো শুশ্রূষার ডালি, স্নেহ দাও ঢালি। যে জীবলক্ষ্মীর মনে পালনের শক্তি বহমান, নারী তুমি ...
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
কোন্ খ'সে-পড়া তারা
কোন্ খ'সে-পড়া তারা মোর প্রাণে এসে খুলে দিল আজি সুরের অশ্রুধারা। (স্ফুলিঙ্গ)...
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ক্যামেলিয়া
নাম তার কমলা, দেখেছি তার খাতার উপরে লেখা। সে চলেছিল ট্রামে, তার ভাইকে নিয়ে কলেজের রাস্তায় । আমি ছিলেম পিছনের বেঞ্চিতে। মুখের এক পাশের নিটোল রেখাটি দেখা যায়, আর ঘাড়ের উপর কোমল চুলগুলি খোঁপার নীচে। কোলে...
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ক্ষণিক ধ্বনির স্বত-উচ্ছ্বাসে
ক্ষণিক ধ্বনির স্বত-উচ্ছ্বাসে সহসা নির্ঝরিণী আপনারে লয় চিনি। চকিত ভাবের ক্বচিৎ বিকাশে বিস্মিত মোর প্রাণ পায় নিজ সন্ধান। (স্ফুলিঙ্গ)...
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
খবর পেলেম কল্য
খবর পেলেম কল্য, তাঞ্জামেতে চ’ড়ে রাজা গাঞ্জামেতে চলল। সময়টা তার জলদি কাটে; পৌঁছল যেই হলদিঘাটে একটা ঘোড়া রইল বাকি, তিনটে ঘোড়া মরল। গরানহাটায় পৌঁছে সেটা মুটের ঘাড়ে চড়ল। (খাপছাড়া কাব্যগ্রন্থ)...
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ক্ষণিক মিলন
আকাশের দুই দিক হতে দুইখানি মেঘ এল ভেসে , দুইখানি দিশাহারা মেঘ — কে জানে এসেছে কোথা হতে ! সহসা থামিল থমকিয়া আকাশের মাঝখানে এসে। দোঁহাপানে চাহিল দুজনে চতুর্থীর চাঁদের আলোতে । ক্ষীণালোকে বুঝি মনে পড়ে দুই...
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
নীলুবাবু বলে শোনো নেয়ামৎ দর্জি
নীলুবাবু বলে, “শোনো নেয়ামৎ দর্জি, পুরোনো ফ্যাশানটাতে নয় মোর মর্জি।’ শুনে নিয়ামৎ মিঞা যতনে পঁচিশটে সম্মুখে ছিদ্র, বোতাম দিল পৃষ্ঠে। লাফ দিয়ে বলে নীলু, “এ কী আশ্চর্যি!’ ঘরের গৃহিণী কয়, “রয় না তো ধর্যি।’...
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ইস্কুল-এড়ায়নে সেই ছিল বরিষ্ঠ
ইস্কুল-এড়ায়নে সেই ছিল বরিষ্ঠ, ফেল-করা ছেলেদের সবচেয়ে গরিষ্ঠ। কাজ যদি জুটে যায় দুদিনে তা ছুটে যায়, চাকরির বিভাগে সে অতিশয় নড়িষ্ঠ– গলদ করিতে কাজে ভয়ানক দ্রঢ়িষ্ঠ। (খাপছাড়া কাব্যগ্রন্থ)...
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর