মূল বিষয়বস্তুতে যান
কবিতা

আলোকের অন্তরে যে আনন্দের পরশন পাই

আলোকের অন্তরে যে আনন্দের পরশন পাই, জানি আমি তার সাথে আমার আত্মার ভেদ নাই এক আদি জ্যোতি-উৎস হতে চৈতন্যের পুণ্যস্রোতে আমার হয়েছে অভিষেক, ললাটে দিয়েছে জয়লেখ, জানায়েছে অমৃতের আমি অধিকারী; পরম-আমির সাথে যুক্ত হতে পারি বিচিত্র জগতে প্রবেশ লভিতে পারি আনন্দের পথে। (আরোগ্য কাব্যগ্রন্থ)...

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

কবিতা

অচেনা

তোমারে আমি কখনো চিনি নাকো, লুকানো নহ, তবু লুকানো থাকো। ছবির মতো ভাবনা পরশিয়া একটু আছ মনেরে হরষিয়া। অনেক দিন দিয়েছ তুমি দেখা, বসেছ পাশে, তবুও আমি একা। আমার কাছে রহিলে বিদেশিনী, লইলে শধু নয়ন মম জিনি...

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

কবিতা

আশিষ-গ্রহণ

চলিয়াছি রণক্ষেত্রে সংগ্রামের পথে। সংসারবিপ্লবধ্বনি আসে দূর হতে। বিদায় নেবার আগে, পারি যতক্ষণ পরিপূর্ণ করি লই মোর প্রাণমন নিত্য-উচ্চারিত তব কলকণ্ঠস্বরে উদার মঙ্গলমন্ত্রে—হৃদয়ের ‘পরে লই তব শুভস্পর্শ, কল...

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

কবিতা

অনন্ত পথে

বাতায়নে বসি ওরে হেরি প্রতিদিন ছোটো মেয়ে খেলাহীন, চপলতাহীন, গম্ভীর কর্তব্যরত, তৎপরচরণে আসে যায় নিত্যকাজে; অশ্রুভরা মনে ওর মুখপানে চেয়ে হাসি স্নেহভরে। আজি আমি তরী খুলি যাব দেশান্তরে; বালিকাও যাবে কবে কর...

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

কবিতা

অনন্ত জীবন

অধিক করি না আশা, কিসের বিষাদ, জনমেছি দু দিনের তরে-- যাহা মনে আসে তাই আপনার মনে গান গাই আনন্দের ভরে। এ আমার গানগুলি দু দণ্ডের গান রবে না রবে না চিরদিন-- পুরব-আকাশ হতে উঠিবে উচ্ছ্বাস, পশ্চিমেতে হইবে বিল...

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

কবিতা

অনন্ত প্রেম

তোমারেই যেন ভালোবাসিয়াছি শত রূপে শতবার জনমে জনমে যুগে যুগে অনিবার। চিরকাল ধরে মুগ্ধ হৃদয় গাঁথিয়াছে গীতহার– কত রূপ ধরে পরেছ গলায়, নিয়েছ সে উপহার জনমে জনমে যুগে যুগে অনিবার। যত শুনি সেই অতীত কাহিনী...

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

কবিতা

নবীন অতিথি

ওহে নবীন অতিথি, তুমি নূতন কি তুমি চিরন্তন। যুগে যুগে কোথা তুমি ছিলে সংগোপন। যতনে কত কী আনি বেঁধেছিনু গৃহখানি, হেথা কে তোমারে বলো করেছিল নিমন্ত্রণ। কত আশা ভালোবাসা গভীর হৃদয়তলে ঢেকে রেখেছিনু বুকে, কত হ...

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

কবিতা

অভিলাষ

১ জনমনোমুগ্ধকর উচ্চ অভিলাষ! তোমার বন্ধুর পথ অনন্ত অপার । অতিক্রম করা যায় যত পান্থশালা , তত যেন অগ্রসর হতে ইচ্ছা হয় । ২ তোমার বাঁশরি স্বরে বিমোহিত মন — মানবেরা , ওই স্বর লক্ষ্য করি হায় , যত অগ্রসর হ...

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

কবিতা

অনন্ত মরণ

কোটি কোটি ছোটো ছোটো মরণেরে লয়ে বসুন্ধরা ছুটিছে আকাশে, হাসে খেলে মৃত্যু চারিপাশে। এ ধরণী মরণের পথ, এ জগৎ মৃত্যুর জগৎ। যতটুকু বর্তমান, তারেই কি বল’ প্রাণ? সে তো শুধু পলক, নিমেষ। অতীতের মৃত ভার পৃষ্ঠেতে...

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

কবিতা

আর আমায় আমি নিজের শিরে বইব না

আর আমায় আমি নিজের শিরে বইব না। আর নিজের দ্বারে কাঙাল হয়ে রইব না। এই বোঝা তোমার পায়ে ফেলে বেড়িয়ে পড়ব অবহেলে– কোনো খবর রাখব না ওর, কোনো কথাই কইব না। আমায় আমি নিজের শিরে বইব না। বাসনা মোর যারেই পরশ করে স...

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

কবিতা

অনাবশ্যকের আবশ্যকতা

কী জন্যে রয়েছ, সিন্ধু তৃণশস্যহীন— অর্ধেক জগৎ জুড়ি নাচো নিশিদিন। সিন্ধু কহে, অকর্মণ্য না রহিত যদি ধরণীর স্তন হতে কে টানিত নদী? (কণিকা কাব্যগ্রন্থ)...

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

Loading...