মূল বিষয়বস্তুতে যান
কবিতা

সাঙ্গ হয়েছে রণ

সাঙ্গ হয়েছে রণ। অনেক যুঝিয়া অনেক খুঁজিয়া শেষ হল আয়োজন। তুমি এসো এসো নারী, আনো তব হেমঝারি। ধুয়ে-মুছে দাও ধূলির চিহ্ন, জোড়া দিয়ে দাও ভগ্ন-ছিন্ন, সুন্দর করো সার্থক করো পুঞ্জিত আয়োজন। এসো সুন্দরী নারী, শিরে লয়ে হেমঝারি। হাটে আর নাই কেহ। শেষ করে খেলা ছেড়ে এনু মেলা, গ্রামে গড়িলাম গেহ। তুমি এসো এসো নারী, আ...

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

কবিতা

সম্মিলন

সেথায় কপোত-বধূ লতার আড়ালে দিবানিশি গাহে শুধু প্রেমের বিলাপ । নবীন চাঁদের করে একটি হরিণী আমাদের গৃহদ্বারে আরামে ঘুমায় । তার শান্ত নিদ্রাকালে নিশ্বাস পতনে প্রহর গণিতে পারি স্তব্ধ রজনীর । সুখের আবাসে ...

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

কবিতা

জন্মদিন আসে বারে বারে

জন্মদিন আসে বারে বারে মনে করাবারে— এ জীবন নিত্যই নূতন প্রতি প্রাতে আলোকিত পুলকিত দিনের মতন। (স্ফুলিঙ্গ)...

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

কবিতা

চাই গো আমি তোমারে চাই

চাই গো আমি তোমারে চাই তোমায় আমি চাই– এই কথাটি সদাই মনে বলতে যেন পাই। আর যা-কিছু বাসনাতে ঘুরে বেড়াই দিনে রাতে মিথ্যা সে-সব মিথ্যা ওগো তোমায় আমি চাই। রাত্রি যেমন লুকিয়ে রাখে আলোর প্রার্থনাই– তেমনি গভীর ...

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

কবিতা

শ্যামল ঘন বকুলবন

শ্যামল ঘন বকুলবন- ছায়ে ছায়ে যেন কী সুর বাজে মধুর পায়ে পায়ে। (স্ফুলিঙ্গ)...

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

কবিতা

চিরজনমের বেদনা

চিরজনমের বেদনা, ওহে চিরজীবনের সাধনা। তোমার আগুন উঠুক হে জ্বলে, কৃপা করিয়ো না দুর্বল ব’লে, যত তাপ পাই সহিবারে চাই, পুড়ে হোক ছাই বাসনা। অমোঘ যে ডাক সেই ডাক দাও আর দেরি কেন মিছে। যা আছে বাঁধন বক্ষ জড়ায়ে ...

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

কবিতা

শ্বশুরবাড়ির গ্রাম

শ্বশুরবাড়ির গ্রাম, নাম তার কুলকাঁটা, যেতে হবে উপেনের– চাই তাই চুল-ছাঁটা। নাপিত বললে, “কাঁচি খুঁজে যদি পাই বাঁচি– ক্ষুর আছে, একেবারে করে দেব মূল-ছাঁটা। জেনো বাবু, তাহলেই বেঁচে যায় ভুল-ছাঁটা।’ (খাপছাড়া ...

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

কবিতা

শেষের কবিতা

কালের যাত্রার ধ্বনি শুনিতে কি পাও? তারি রথ নিত্য উধাও। জাগিছে অন্তরীক্ষে হৃদয় স্পন্দন চক্রে পিষ্ট আঁধারের বক্ষ-ফাটা তারার ক্রন্দন। ওগো বন্ধু, সেই ধাবমান কাল জড়ায়ে ধরিল মোরে ফেলি তার জাল তুলে নিল দ্রুত...

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

কবিতা

শেষের অবগাহন সাঙ্গ করো, কবি, প্রদোষের

শেষের অবগাহন সাঙ্গ করো, কবি, প্রদোষের নির্মল তিমির তলে। ভৃতি তব সেবার শ্রমের সংসার যা দিয়েছিল আঁকড়িয়া রাখিয়ো না বুকে; এক প্রহরের মূল্য আরেক প্রহরে ফিরে নিতে কুণ্ঠা কভু নাহি তার; বাহির দ্বারের যে দ...

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

কবিতা

চির-আমি

যখন পড়বে না মোর পায়ের চিহ্ন এই বাটে, বাইব না মোর খেয়াতরী এই ঘাটে, চুকিয়ে দেব বেচা-কেনা, মিটিয়ে দেব লেনা-দেনা বন্ধ হবে আনাগোনা এই হাটে - আমায় তখন নাই বা মনে রাখলে, তারার পানে চেয়ে চেয়ে নাই বা আ...

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

কবিতা

শ্যামা

উজ্জ্বল শ্যামল বর্ণ , গলায় পলার হারখানি । চেয়েছি অবাক মানি তার পানে । বড়ো বড়ো কাজল নয়ানে অসংকোচে ছিল চেয়ে নবকৈশোরের মেয়ে , ছিল তারি কাছাকাছি বয়স আমার । স্পষ্ট মনে পড়ে ছবি । ঘরের দক্ষিণে খোলা ...

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

Loading...