মূল বিষয়বস্তুতে যান
কবিতা

শূন্য ছিল মন

না-কোলাহলে-ঢাকা নানা-আনাগোনা-আঁকা দিনের মতন। নানা-জনতায়-ফাঁকা কর্মে-অচেতন শূন্য ছিল মন। জানি না কখন এল নূপুরবিহীন নিঃশব্দ গোধূলি। দেখি নাই স্বর্ণরেখা কী লিখিল শেষ লেখা দিনান্তের তুলি। আমি যে ছিলাম একা তাও ছিনু ভুলি। আইল গোধূলি। হেনকালে আকাশের বিস্ময়ের মতো কোন্‌ স্বর্গ হতে চাঁদখানি লয়ে হেসে শুক্লসন্ধ...

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

কবিতা

শূন্য পাতার অন্তরালে

শূন্য পাতার অন্তরালে লুকিয়ে থাকে বাণী, কেমন করে আমি তারে বাইরে ডেকে আনি। যখন থাকি অন্যমনে দেখি তারে হৃদয়কোণে, যখন ডাকি দেয় সে ফাঁকি— পালায় ঘোমটা টানি। (স্ফুলিঙ্গ)...

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

কবিতা

চাও যদি সত্যরূপে

চাও যদি সত্যরূপে দেখিবারে মন্দ– ভালোর আলোতে দেখো, হোয়ো নাকো অন্ধ। (স্ফুলিঙ্গ)...

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

কবিতা

জীবনরহস্য যায়

জীবনরহস্য যায় মরণরহস্য-মাঝে নামি, মুখর দিনের আলো নীরব নক্ষত্রে যায় থামি। (স্ফুলিঙ্গ)...

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

কবিতা

শেষ বেলা

এল বেলা পাতা ঝরাবারে; শীর্ণ বলিত কায়া, আজ শুধু ভাঙা ছায়া মেলে দিতে পারে। একদিন ডাল ছিল ফুলে ফুলে ভরা নানা-রঙ-করা। কুঁড়ি ধরা ফলে কার যেন কী কৌতূহলে উঁকি মেরে আসা খুঁজে নিতে আপনার বাসা। ঋতুতে ঋতুতে আ...

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

কবিতা

শেষ বসন্তরাত্রে

শেষ বসন্তরাত্রে যৌবনরস রিক্ত করিনু বিরহবেদনপাত্রে। (স্ফুলিঙ্গ)...

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

কবিতা

শেষ খেয়া

দিনের শেষে ঘুমের দেশে ঘোমটা-পরা ওই ছায়া ভুলালো রে ভুলালো মোর প্রাণ। ও পারেতে সোনার কূলে আঁধারমূলে কোন্ মায়া গেয়ে গেল কাজ-ভাঙানো গান। নামিয়ে মুখ চুকিয়ে সুখ যাবার মুখে যায় যারা ফেরার পথে ফিরেও নাহ...

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

কবিতা

শেষ চিঠি

মনে হচ্ছে শূন্য বাড়িটা অপ্রসন্ন, অপরাধ হয়েছে আমার তাই আছে মুখ ফিরিয়ে। ঘরে ঘরে বেড়াই ঘুরে, আমার জায়গা নেই-- হাঁপিয়ে বেরিয়ে চলে আসি। এ বাড়ি ভাড়া দিয়ে চলে যাব দেরাদুনে। অমলির ঘরে ঢুকতে পারি নি বহুদিন মোচ...

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

কবিতা

চিত্ত তোমায় নিত্য হবে

আমার চিত্ত তোমায় নিত্য হবে সত্য হবে - ওগো সত্য, আমার এখন সুদিন। ঘটবে কবে। সত্য সত্য সত্য জপি, সকল বুদ্ধি সত্যে সঁপি, সীমার বাঁধন পেরিয়ে যাব নিখিল ভবে - সত্য তোমার পূর্ণ প্রকাশ দেখব কবে। তোমায় দূরে ...

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

কবিতা

চিরায়মানা

যেমন আছ তেমনি এসো, আর কোরো না সাজ। বেণী নাহয় এলিয়ে রবে, সিঁথি নাহয় বাঁকা হবে, নাই-বা হল পত্রলেখায় সকল কারুকাজ। কাঁচল যদি শিথিল থাকে নাইকো তাহে লাজ। যেমন আছ তেমনি এসো, আর করো না সাজ।। এসো দ্রুত চরণ...

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

কবিতা

সর্দিকে সোজাসুজি সর্দি ব’লেই বুঝি

সর্দিকে সোজাসুজি সর্দি ব’লেই বুঝি মেডিকেল বিজ্ঞান না শিখে। ডাক্তার দেয় শিষ, টাকা নিয়ে পঁয়ত্রিশ ভাবনায় গেল ঘুম, ওষুধের লাগে ধুম, শঙ্কা লাগালো পারিভাষিকে। আমি পুরাতন পাপী, শুনেই কাঁপি, ডরিনেকো সাদাসিধে ...

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

Loading...