বিপুলা এ পৃথিবীর কতটুকু জানি
বিপুলা এ পৃথিবীর কতটুকু জানি। দেশে দেশে কত-না নগর রাজধানী-- মানুষের কত কীর্তি, কত নদী গিরি সিন্ধু মরু, কত-না অজানা জীব, কত-না অপরিচিত তরু রয়ে গেল অগোচরে। বিশাল বিশ্বের আয়োজন; মন মোর জুড়ে থাকে অতি ক্ষুদ্র তারি এক কোণ। সেই ক্ষোভে পড়ি গ্রন্থ ভ্রমণবৃত্তান্ত আছে যাহে অক্ষয় উৎসাহে-- যেথা পাই চিত্রময়...
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
বিরাম
বিরাম কাজেরই অঙ্গ এক সাথে গাঁথা, নয়নের অংশ যেন নয়নের পাতা। (কণিকা কাব্যগ্রন্থ)...
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
বিদায় (চৈতালি কাব্যগ্রন্থ)
হে তটিনী, সে নগরে নাই কলস্বন তোমার কণ্ঠের মতো; উদার গগন, অলিখিত মহাশাস্ত্র, নীল পত্রগুলি দিক হতে দিগন্তরে নাহি রাখে খুলি; শান্ত স্নিগ্ধ বসুন্ধরা শ্যামল অঞ্জনে সত্যের স্বরূপখানি নির্মল নয়নে রাখে না নবী...
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
বিদেশী ফুলের গুচ্ছ – ১২
দেখিনু যে এক আশার স্বপন শুধু তা স্বপন, স্বপনময়– স্বপন বই সে কিছুই নয়। অবশ হৃদয় অবসাদময় হারাইয়া সুখ শ্রান্ত অতিশয়– আজিকে উঠিনু জাগি কেবল একটি স্বপন লাগি! বীণাটি আমার নীরব হইয়া গেছে গীতগান ভুলি, ছিঁড়িয়া...
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
বিদেশী ফুলের গুচ্ছ – ৮
নিদাথের শেষ গোলাপ কুসুম একা বন আলো করিয়া, রূপসী তাহার সহচরীগণ শুকায়ে পড়েছে ঝরিয়া। একাকিনী আহা, চারি দিকে তার কোনো ফুল নাহি বিকাশে, হাসিতে তাহার মিশাইতে হাসি নিশাস তাহার নিশাসে। বোঁটার উপরে শুকাইতে তোর...
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
বাসাবাড়ি
এই শহরে এই তো প্রথম আসা। আড়াইটা রাত, খুঁজে বেড়াই কোন্ ঠিকানায় বাসা। লণ্ঠনটা ঝুলিয়ে হাতে আন্দাজে যাই চলি, অজগরের ভূতের মতন গলির পরে গলি। ধাঁধাঁ ক্রমেই বেড়ে ওঠে, এক জায়গায় থেমে দেখি পথে বাঁদিক থ...
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
বিজনে
আমারে ডেকো না আজি , এ নহে সময় — একাকী রয়েছি হেথা গভীর বিজন , রুধিয়া রেখেছি আমি অশান্ত হৃদয় , দুরন্ত হৃদয় মোর করিব শাসন । মানবের মাঝে গেলে এ যে ছাড়া পায় , সহস্রের কোলাহলে হয় পথহারা , লুব্ধ মুষ্টি যাহা ...
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
অদৃষ্টের হাতে লেখা
অদৃষ্টের হাতে লেখা সূক্ষ্ম এক রেখা, সেই পথ বয়ে সবে হয় অগ্রসর। কত শত ভাগ্যহীন ঘুরে মরে সারাদিন প্রেম পাইবার আগে মৃত্যু দেয় দেখা, এত দূরে আছে তার প্রাণের দোসর! কখন বা তার চেয়ে ভাগ্য নিরদয়, প্রণয়ী মিলিল ...
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
অনাবৃষ্টি
শুনেছিনু পুরাকালে মানবীর প্রেমে দেবতারা স্বর্গ হতে আসিতেন নেমে। সেকাল গিয়েছে। আজি এই বৃষ্টিহীন শুষ্কনদী দগ্ধক্ষেত্র বৈশাখের দিন কাতরে কৃষককন্যা অনুনয়বাণী কহিতেছে বারম্বার—আয় বৃষ্টি হানি। ব্যাকুল প্রত্...
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
বিদেশী ফুলের গুচ্ছ – ২
সারাদিন গিয়েছিনু বনে ফুলগুলি তুলেছি যতনে । প্রাতে মধুপানে রত মুগ্ধ মধুপের মতো গান গাহিয়াছি আনমনে । এখন চাহিয়া দেখি , হায় , ফুলগুলি শুকায় শুকায় । যত চাপিলাম মুঠি পাপড়িগুলি গেল টুটি — কান্না ওঠে ...
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
বিদেশী ফুলের গুচ্ছ – ১০
কেমনে কী হল পারি নে বলিতে, এইটুকু শুধু জানি– নবীন কিরণে ভাসিছে সে দিন প্রভাতের তনুখানি। বসন্ত তখনো কিশোর কুমার, কুঁড়ি উঠে নাই ফুটি, শাখায় শাখায় বিহগ বিহগী বসে আছে দুটি দুটি। কী যে হয়ে গেল পারি নে বলিত...
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর