অচলা বুড়ি
অচলবুড়ি, মুখখানি তার হাসির রসে ভরা স্নেহের রসে পরিপক্ক অতিমধুর জরা। ফুলো ফুলো দুই চোখে তার, দুই গালে আর ঠোঁটে উছলে-পড়া হৃদয় যেন ঢেউ খেলিয়ে ওঠে। পরিপুষ্ট অঙ্গটি তার, হাতের গড়ন মোটা, কপালে দুই ভুরুর মাঝে উল্কি-আঁকা ফোঁটা। গাড়ি-চাপা কুকুর একটা মরতেছিল পথে, সেবা ক'রে বাঁচিয়ে তারে তুলল কোনোমতে। খ...
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
অক্ষমা
যেখানে এসেছি আমি, আমি সেথাকার, দরিদ্র সন্তান আমি দীন ধরণীর। জন্মাবধি যা পেয়েছি সুখদুঃখভার বহু ভাগ্য বলে তাই করিয়াছি স্থির। অসীম ঐশ্বর্যরাশি নাই তোর হাতে, হে শ্যামলা সর্বসহা জননী মৃন্ময়ী। সকলের মুখে...
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
বাদরবরখন নীরদগরজন
বাদরবরখন নীরদগরজন বিজুলী চমকন ঘোর , উপেখই কৈছে আও তু কুঞ্জে নিতি নিতি , মাধব মোর । ঘন ঘন চপলা চমকয় যব পহু , বজরপাত যব হোয় , তুঁহুক বাত তব সমরয়ি প্রিয়তম , ডর অতি লাগত মোয় । অঙ্গবসন তব ভীঁখত মাধব ,...
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
অনুরাগ ও বৈরাগ্য
প্রেম কহে, হে বৈরাগ্য, তব ধর্ম মিছে। প্রেম, তুমি মহামোহ—বৈরাগ্য কহিছে— আমি কহি, ছাড়্ স্বার্থ, মুক্তিপথ দেখ্। প্রেম কহে, তা হলে তো তুমি আমি এক। (কণিকা কাব্যগ্রন্থ)...
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
বাউল
দূরে অশথতলায় পুঁতির কণ্ঠিখানি গলায় বাউল দাঁড়িয়ে কেন আছ ? সামনে আঙিনাতে তোমার একতারাটি হাতে তুমি সুর লাগিয়ে নাচো ! পথে করতে খেলা আমার কখন হল বেলা আমায় শাস্তি দিল তাই । ইচ্ছে হোথায় নাবি কিন্তু ঘরে বন্ধ ...
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
এই সে পরম মূল্য
এই সে পরম মূল্য আমার পুজার— না পূজা করিলে তবু শাস্তি নাই তার। (স্ফুলিঙ্গ)...
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
অতি দূরে আকাশের সুকুমার পান্ডুর নীলিমা
অতি দূরে আকাশের সুকুমার পান্ডুর নীলিমা। অরণ্য তাহারি তলে ঊর্ধ্বে বাহু মেলি আপন শ্যামল অর্ঘ্য নিঃশব্দে করিছে নিবেদন। মাঘের তরুণ রৌদ্র ধরণীর ‘পরে বিছাইল দিকে দিকে স্বচ্ছ আলোকের উত্তরীয়। এ কথা রাখিনু লিখ...
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
বাণী-বিনিময়
মা , যদি তুই আকাশ হতিস , আমি চাঁপার গাছ , তোর সাথে মোর বিনি - কথায় হত কথার নাচ । তোর হাওয়া মোর ডালে ডালে কেবল থেকে থেকে কত রকম নাচন দিয়ে আমায় যেত ডেকে । মা ব'লে তার সাড়া দেব কথা কোথায় পাই , পাতায় পাতা...
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
সবুজের অভিযান
ওরে নবীন , ওরে আমার কাঁচা, ওরে সবুজ ওরে অবুঝ , আধ মরাদের ঘা মেরে তুই বাঁচা । রক্ত আলোয় মদে মাতাল ভোরে আজকে যে যা বলে বলুক তোরে, সকল তর্ক হেলায় তুচ্ছ ক'রে পুচ্ছটি তোর উর্দ্ধে তুলে নাচা । আয় দুরন্ত ,আয় ...
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
অপযশ
বাছা রে, তোর চক্ষে কেন জল। কে তোরে যে কী বলেছে আমায় খুলে বল্। লিখতে গিয়ে হাতে মুখে মেখেছ সব কালি, নোংরা ব ' লে তাই দিয়েছে গালি? ছি ছি, উচিত এ কি। পূর্ণশশী মাখে মসী— নোংরা বলুক দেখি। বাছা রে, তোর সবাই...
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
অজ্ঞাত বিশ্ব
জন্মেছি তোমার মাঝে ক্ষণিকের তরে অসীম প্রকৃতি! সরল বিশ্বাসভরে তবু তোরে গৃহ ব’লে মাতা ব’লে মানি। আজ সন্ধ্যাবেলা তোর নখদন্ত হানি প্রচন্ড পিশাচরূপে ছুটিয়া গর্জিয়া, আপনার মাতৃবেশ শূন্যে বিসর্জিয়া কুটি কুটি...
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর