গোধূলি
এই কবিতাটি লিখেছেন যতীন্দ্রমোহন বাগচী · ১ মিনিট পড়ার সময় ·
ছায়া-ঝিকিমিকি স্বর্ণ আলোক আমি
সন্ধ্যা-রবির কিরণের অনুগামী,
প্রদোষ-নীরবে ধীরে ধীরে আমি নামি-
গোধূলি আমার নাম
পাখিদের আমি কুলায়ে ভুলায়ে আনি,
হাওয়ায় বহাই ফুলের সুরভিখানি,
ক্লান্ত গাভীরে গৃহপানে আমি টানি-
বিশ্রাম অভিরাম।
সন্ধ্যার তারা মোরে হেরি তবে ফুটে,
আরতি শঙ্খ মোরি সাথে বেজে উঠে,
দিনের ক্লান্তি আদেশে আমার টুটে
লভিতে শান্তি-ক্রোড়;
গৃহদীপখানি আমারে হেরিয়া জ্বলে,
বিরাম শয়ন রচি বাতায়ন তলে,
বিছাই তন্দ্রা ধরণীর স্থলে জলে
স্বপ্ন-পরশে মোর।
অথচ আমার ক্ষণিকের পরমায়ু;
প্রদোষ বাতাসে তাই কাঁদে মোর বায়ু:
দিয়ে যাই তবু যতটুকু আছে আয়ু
ধরার সুখের লাগি;
দিনে দিয়া ছুটি, রাত্রিরে ডেকে আনি,
শ্রান্তির পর শ্রান্তির রেখা টানি,
সন্ধ্যার বায়ে রটায়ে বিরাম বাণী
তার পরে ছুটি মাগি।
অস্তরবির হিরণ কিরণাসীনা,
সন্ধ্যার মেঘে চঞ্চলালোকলীনা,
দূর দিগন্তে বাজাই স্বর্ণ বীণা-
তন্দ্রা-বিছানো তান;
দিকে দিকে মেলি চঞ্চল কম-কায়া,
তালের বাকলে রচিয়া সোনার মায়া,
জাহ্নবী-জলে বিছায়ে রক্ত ছায়া-
তবে মোর অবসান।
লগইন করুন প্রতিক্রিয়া জানাতে
নিউজলেটার
নতুন লেখা সম্পর্কে আপডেট পেতে সাবস্ক্রাইব করুন
আপনি লগইন করে মন্তব্য করতে পারবেন।