মূল বিষয়বস্তুতে যান

বিভাগঃ কবিতা

বলের অপেক্ষা বলী

ধাইল প্রচণ্ড ঝড়, বাধাইল রণ— কে শেষে হইল জয়ী? মৃদু সমীরণ (কণিকা কাব্যগ্রন্থ)...

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

সেই আমাদের দেশের পদ্ম

সেই আমাদের দেশের পদ্ম তেমনি মধুর হেসে ফুটেছে, ভাই, অন্য নামে অন্য সুদূর দেশে। (স্ফুলিঙ্গ)...

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

পিলসুজের উপর পিতলের প্রদীপ

পিলসুজের উপর পিতলের প্রদীপ, খড়কে দিয়ে উসকে দিচ্ছে থেকে থেকে। হাতির দাঁতের মতো কোমল সাদা পঙ্খের কাজ-করা মেজে; তার উপরে খান-দুয়েক মাদুর পাতা। ছোটো ছেলেরা জড়ো হয়েছি ঘরের কোণে মিটমিটে আলোয়। বুড়ো মো...

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

কালো অন্ধকারের তলায়

কালো অন্ধকারের তলায় পাখির শেষ গান গিয়েছে ডুবে। বাতাস থমথমে, গাছের পাতা নড়ে না, স্বচ্ছরাত্রের তারাগুলি যেন নেমে আসছে পুরাতন মহানিম গাছের ঝিল্লি-ঝংকৃত স্তব্ধ রহস্যের কাছাকাছি। এমন সময়ে হঠাৎ আবেগে আম...

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

কষ্টের জীবন (মানুষ কাঁদিয়া হাসে)

মানুষ কাঁদিয়া হাসে, পুনরায় কাঁদে গো হাসিয়া। পাদপ শুকায়ে গেলে, তবুও সে না হয় পতিত, তরণী ভাঙিয়া গেলে তবু ধীরে যায় সে ভাসিয়া, ছাদ যদি পড়ে যায়, দাঁড়াইয়া রহে তবু ভিত। বন্দী চলে যায় বটে, তবুও তো রহে কারাগার...

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

কল্পনামধুপ

প্রতিদিন প্রাতে শুধু গুন্ গুন্ গান , লালসে অলস-পাখা অলির মতন । বিকল হৃদয় লয়ে পাগল পরান কোথায় করিতে যায় মধু অন্বেষণ । বেলা বহে যায় চলে — শ্রান্ত দিনমান , তরুতলে ক্লান্ত ছায়া করিছে শয়ন , মুরছিয়া পড়িতেছে...

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

কৃতীর প্রমাদ

টিকি মুণ্ডে চড়ি উঠি কহে ডগা নাড়ি, হাত-পা প্রত্যেক কাজে ভুল করে ভারি। হাত-পা কহিল হাসি, হে অভ্রান্ত চুল, কাজ করি আমরা যে, তাই করি ভুল। (কণিকা কাব্যগ্রন্থ)...

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

কুমারসম্ভবগান

যখন শুনালে, কবি, দেবদম্পতিরে কুমারসম্ভবগান, চারি দিকে ঘিরে দাঁড়ালো প্রমথগণ—শিখরের ‘পর নামিল মন্থর শান্ত সন্ধ্যামেঘস্তর স্থগিত-বিদ্যুৎ-লীলা, গর্জনবিরত, কুমারের শিখী করি পুচ্ছ অবনত স্থির হয়ে দাঁড়াইল পার...

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

কুঁড়ির ভিতর কাঁদিছে গন্ধ অন্ধ হয়ে

কুঁড়ির ভিতর কাঁদিছে গন্ধ অন্ধ হয়ে– কাঁদিছে আপন মনে, কুসুমের দলে বন্ধ হয়ে করুণ কাতর স্বনে। কহিছে সে,”হায় হায়, বেলা যায় বেলা যায় গো ফাগুনের বেলা যায়।’ ভয় নাই তোর, ভয় নাই ওরে ভয় নাই, কিছু নাই তোর ভাবনা। ...

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

কালের প্রবল আবর্তে প্রতিহত

কালের প্রবল আবর্তে প্রতিহত ফেনপুঞ্জের মতো, আলোকে আঁধারে রঞ্জিত এই মায়া, অদেহ ধরিল কায়া। সত্তা আমার,জানি না, সে কোথা হতে হল উত্থিত নিত্যধাবিত স্রোতে। সহসা অভাবনীয় অদৃশ্য এক আরম্ভ-মাঝে কেন্দ্র রচিল স...

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

Loading...