পাঞ্চজন্য
এই কবিতাটি লিখেছেন যতীন্দ্রমোহন বাগচী · ১ মিনিট পড়ার সময় ·
দুখে গাঁথা এই জীবনের মালা, তবু এবে ভালো লাগে;-কালো আকাশের অন্ধ বেদনা রঞ্জিত উষারাগে!
গন্ধ বিলায়ে ঝরে পড়ে ফুল সন্ধ্যার কিনারায়,
নিশি না পোহাতে মরে যায় হাওয়া দখিনের জানালায়; বৌ-কথা-কও সুরের আবেশে বধূ ধীরে মেলে আঁখি, বাতায়নপাশে ঘোস্টা খুলিতে দেখে-উড়ে গেছে পাখি! এই তো জীবন, তবু এরে, হায় ভালো লাগে, ভালো লাগে কোন্ সে বাসনা রাঙা হয়ে ফুটে বক্ষের গুলবাগে!
বর্ষার জল নামিয়া গিয়াছে, জাগিয়া উঠেছে চর,
কাঁচা রোদখানি বালুকার বুকে চিক্কণ ভাস্বর;
নূতন গজানো বাল্লার বনে বাসা বাঁধিয়াছে পাখি, চখাচখীদের চরণ-চিহ্ন তলে কে দিল রে আঁকি!
বুনো ঝাউয়েদের বুকের ঝুরিতে উদাসীন মেঠো হাওয়া, কী ধন খুঁজিতে ঘুরে মরে যেন দিবসে নিশিতে-পাওয়া, দূরে দূরে মাঠ ভরিয়া উঠেছে শ্যামল শস্যভারে,
কৃষাণের বধূ থালা লয়ে হাতে হেসে উঠে হেরি কারে! কোন্ অচেনার চপল চরণে জানাতে মিনতি তার, জেলের যুবতী জালের সঙ্গে বুনিতেছে গীতিহার!
আজি এ প্রভাতে জাগিয়াছে প্রাণ, জীবন আমার ধন্য; বুঝিয়াছি আজ জীবনের কাজ নহে সে নিজের জন্য। কালো আকাশের বুকের আঁধার দিবালোকে লভে দীপ্তি, যেন সে-ই বলে ভরি উঠে প্রেম-সবার সেবার তৃপ্তি।
ঘর করি পর, পর করি ঘর, হারায়ে আপন লক্ষ্য,
আকাশ পেয়েছে উদার চক্ষু, সাগর অপার বক্ষ।
তারি পানে চেয়ে আজি এ পরান লভিল কি মোর মুক্তি? মুক্তার মালা ঠেকিল কি হাতে ঘাটে ঘাটে ঘাঁটি শুক্তি! পাঁচজনে ডেকে পঞ্চমে তাই কাঁদে এ পাঞ্চজন্য-
সব যে আমার, আমি যে সবার-ধন্য রে আমি ধন্য।
লগইন করুন প্রতিক্রিয়া জানাতে
নিউজলেটার
নতুন লেখা সম্পর্কে আপডেট পেতে সাবস্ক্রাইব করুন
আপনি লগইন করে মন্তব্য করতে পারবেন।