কে
আমার প্রাণের 'পরে চলে গেল কে বসন্তের বাতাসটুকুর মতো ! সে যে ছুঁয়ে গেল নুয়ে গেল রে, ফুল ফুটিয়ে গেল শত শত । সে চলে গেল , বলে গেল না , সে কোথায় গেল ফিরে এল না , সে যেতে যেতে চেয়ে গেল , কী যেন গেয়ে গেল-- তাই আপন মনে বসে আছি কুসুম-বনেতে । সে ঢেউয়ের মতো ভেসে গেছে , চঁদের আলোর দেশে গেছে , যেখান দিয়...
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
কৃপণা
এসেছিনু দ্বারে ঘনবর্ষণ রাতে, প্রদীপ নিবালে কেন অঞ্চলাঘাতে। কালো ছায়াখানি মনে পড়ে গেল আঁকা, বিমুখ মুখের ছবি অন্তরে ঢাকা, কলঙ্করেখা যেন চিরদিন চাঁদ বহি চলে সাথে সাথে। কেন বাধা হল দিতে মাধুরীর কণা হায়...
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
কেবল তব মুখের পানে চাহিয়া
কেবল তব মুখের পানে চাহিয়া, বাহির হনু তিমির-রাতে তরণীখানি বাহিয়া। অরুণ আজি উঠেছে– আশোক আজি ফুটেছে– না যদি উঠে,না যদি ফুটে, তবুও আমি চলিব ছুটে তোমার মুখে চাহিয়া। নয়নপাতে ডেকেছ মোরে নীরবে। হৃদয় মোর নিমেষ...
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
মনের আকাশে তার
মনের আকাশে তার দিক্সীমানা বেয়ে বিবাগি স্বপনপাখি চলিয়াছে ধেয়ে। (স্ফুলিঙ্গ)...
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
বাহির হতে বহিয়া আনি
বাহির হতে বহিয়া আনি সুখের উপাদান। আপনা-মাঝে আনন্দের আপনি সমাধান। (স্ফুলিঙ্গ)...
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
বাতাসে তাহার প্রথম পাপড়ি
বাতাসে তাহার প্রথম পাপড়ি খসায়ে ফেলিল যেই, অমনি জানিয়ো, শাখায় গোলাপ থেকেও আর সে নেই। (স্ফুলিঙ্গ)...
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
সত্যের আবিষ্কার
কহিলেন বসুন্ধরা, দিনের আলোকে আমি ছাড়া আর কিছু পড়িত না চোখে, রাত্রে আমি লুপ্ত যবে শূন্যে দিল দেখা অনন্ত এ জগতের জ্যোতির্ময়ী লেখা।। (কণিকা কাব্যগ্রন্থ)...
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
বসন্তের আসরে ঝড়
বসন্তের আসরে ঝড় যখন ছুটে আসে মুকুলগুলি না পায় ডর, কচি পাতারা হাসে। কেবল জানে জীর্ণ পাতা ঝড়ের পরিচয়— ঝড় তো তারি মুক্তিদাতা, তারি বা কিসে ভয়। (স্ফুলিঙ্গ)...
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
বশীরহাটেতে বাড়ি
বশীরহাটেতে বাড়ি বশ-মানা ধাত তার, ছেলে বুড়ো যে যা বলে কথা শোনে যার-তার। দিনরাত সর্বথা সাধে নিজ খর্বতা, মাথা আছে হেঁট-করা, সদা জোড়-হাত তার, সেই ফাঁকে কুকুরটা চেটে যায় পাত তার। (খাপছাড়া কাব্যগ্রন্থ)...
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
বর্ষাযাপন
রাজধানী কলিকাতা; তেতালার ছাতে কাঠের কুঠরি এক ধারে; আলো আসে পূর্ব দিকে প্রথম প্রভাতে, বায়ু আসে দক্ষিণের দ্বারে। মেঝেতে বিছানা পাতা, দুয়ারে রাখিয়া মাথা বাহিরে আঁখিরে দিই ছুটি, সৌধ-ছাদ শত শত ঢাকিয়া র...
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
বন-ফুল (ষষ্ঠ সর্গ)
‘কমলা ভুলিবে সেই শিখর কানন, কমলা ভুলিবে সেই বিজন কুটীর— আজ হতে নেত্র! বারি কোরো না বর্ষণ, আজ হতে মন প্রাণ হও গো সুস্থির। অতীত ও ভবিষ্যত হইব বিসমৃত। জুড়িয়াছে কমলার ভগন হৃদয়! সুখের তরঙ্গ হৃদে হয়েছে ...
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর