মূল বিষয়বস্তুতে যান

বিভাগঃ কবিতা

১৯৪৬-৪৭

দিনের আলোয় ওই চারিদিকে মানুষের অস্পষ্ট ব্যস্ততা: পথে ঘাটে ট্রাক ট্রাম লাইনে ফুটপাতে; কোথাও পরের বাড়ি এখুনি নিলেম হবে-মনে হয়, জলের মতন দামে। সকলকে ফাঁকি দিয়ে স্বর্গে র্পৌছুবে সকলের আগে সকলেই তাই। অনেকে...

জীবনানন্দ দাস

পৃথিবী

তুমি ডেকেছিলে, আমি চলে এসেছিলাম একা । কোনো কিছু সঙ্গে নিইনি, সঙ্গে করে নিইনি পানীয়, তিল-তিসি-তামা বা বিছানা বালিশ, তুমি বলেছিলে সব পাওয়া যাবে, --এ শহর নেশার ও নারীর । তুমি ডেকেছিলে, জননীর কোমল বিছানা ...

নির্মলেন্দু গুণ

তুমি চলে যাচ্ছো

তুমি চলে যাচ্ছো, নদীতে কল্লোল তুলে লঞ্চ ছাড়ছে, কালো ধুঁয়ার ধস ধস আওয়াজের ফাঁকে ফাঁকে তোমার ক্লান্ত অপস্রিয়মাণ মুখশ্রী,-সেই কবে থেকে তোমার চলে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে রয়েছি। তুমি চলে যাচ্ছো, তোমার চল...

নির্মলেন্দু গুণ

তুলনামূলক হাত

তুমি যেখানেই স্পর্শ রাখো সেখানেই আমার শরীর৷ তোমার চুলের ধোয়া জল তুমি যেখানেই খোঁপা ভেঙ্গে বিলাও মাটিকে; আমি এসে পাতি হাত, জলভারে নতদেহ আর চোখের সামগ্রী নিয়ে ফিরি ঘরে, অথবা ফিরি না ঘরে, তোমার চতুর্দি...

নির্মলেন্দু গুণ

তোমার চোখ এতো লাল কেন

আমি বলছি না ভালোবাসতেই হবে, আমি চাই কেউ একজন আমার জন্য অপেক্ষা করুক, শুধু ঘরের ভেতর থেকে দরজা খুলে দেবার জন্য। বাইরে থেকে দরজা খুলতে খুলতে আমি এখন ক্লান্ত। আমি বলছি না ভালোবাসতেই হবে, আমি চাই কেউ আমাক...

নির্মলেন্দু গুণ

বাৎস্যায়ন ০৬

সাদা আকাশ কালো মেঘের ধর্ষণে কম্পিত । নগরে সে বর্ষা কোথায় ? সে ছিল ঐ গ্রামে । আমি তাকে পেয়েছিলাম জন্মদিনের দামে । জন্মেছিলাম সাত আষাঢ়ের বর্ষাডাকা ভোরে, আঁতুর ঘরে তুষ ভিজেছে উশ্যিলারই তোড়ে । সে-দাবী...

নির্মলেন্দু গুণ

নাম দিয়েছি ভালবাসা

আমরা মিশিনি ভালবেসে সব মানুষ যেভাবে মেশে, আমরা গিয়েছি প্রাজ্ঞ আঁধারে না-জানার টানে ভেসে। ভাসতে ভাসতে আমরা ভিড়িনি যেখানে নদীর তীর, বুনোবাসনার উদবেল স্রোতে আশ্লেষে অস্থির। আমরা দুজনে রচনা করেছি একে অপরে...

নির্মলেন্দু গুণ

দুজনের ভাত

গত রাত্রির বাসী ভাত খেতে খেতে মনে কি পড়ে না? পড়ে । ভালো কি বাসি না? বাসি । শ্লথ টেপ থেকে সারা দিন জল ঝরে, সেই বেনোজলে এঁটো মুখ ধুয়ে আসি । গত রাত্রির বাসী ভাত খেতে খেতে প্রেম কি জাগে না? জাগে । কিছু...

নির্মলেন্দু গুণ

নখের বকুল

হাত ভেবে যেই ছুঁতে গেছি, তুমি বললে, ছি! ওটা আমার পা। একটুখানি থমকে গেলাম। গুণে দেখলুম পাঁচটি আঙ্গুল, পাঁচখানি নখ, পাঁচটি বকুল; হাতের মতই ভাগ্যরেখা, লাল টুকটুক গা। আমি যতই হাত বলছি, তুমি বলছো “না”।...

নির্মলেন্দু গুণ

প্রথম অতিথি

এরকম বাংলাদেশ কখনো দেখোনি তুমি, মুহুর্তে সবুজ ঘাস পুড়ে যায়, ত্রাসের আগুন লেগে লাল হয়ে জ্বলে উঠে চাঁদ, নরম নদীর চর হা করা কবর হয়ে গ্রাস করে পরম শত্রুকে, মিত্রকে জয়ের চিহ্ন, পদতলে প্রেম, ললাটে ধুলো...

নির্মলেন্দু গুণ

Loading...