মূল বিষয়বস্তুতে যান
কবিতা

একটি খোলা কবিতা

আসুন আমরা আগুন সম্পর্কে বৃথা বাক্য ব্যয় না করে একটি দিয়াশলাইয়ের কাঠি জ্বালিয়ে দিয়ে বলিঃ 'এই হচ্ছে প্রকৃত আগুন । মীটসেফ খোলা রেখে, বিড়ালকে উপদেশ দিয়ে অযথা সময় নষ্ট ক'রে লাভ নেই, আসুন আমরা মীটসেফের দরোজাটা বন্ধ করে দেই ।' পুঁজিবাদী শোষণের পথ খোলা রেখে সম্ভব নয় প্রকৃত মুক্তির স্বপ্ন দেখানো । ফুঁটো চৌবা...

নির্মলেন্দু গুণ

কবিতা

শেষ হ’ল জীবনের সব লেনদেন

শেষ হ’ল জীবনের সব লেনদেন, বনলতা সেন। কোথায় গিয়েছ তুমি আজ এই বেলা মাছরাঙা ভোলেনি তো দুপুরের খেলা শালিখ করে না তার নীড় অবহেলা উচ্ছ্বাসে নদীর ঢেউ হয়েছে সফেন, তুমি নাই বনলতা সেন। তোমার মতন কেউ ছিল কি ...

জীবনানন্দ দাস

কবিতা

আমার জলেই টলমল করে আঁখি

নিজের জলেই টলমল করে আঁখি, তাই নিয়ে খুব বিব্রত হয়ে থাকি। চেষ্টা করেও রাখতে পারি না ধরে- ভয় হয় আহা, এই বুঝি যায় পড়ে। এমনিই আছি নদীমাতৃক দেশে, অশ্রুনদীর সংখ্যা বাড়াবো শেষে? আমার গঙ্গা আমার চোখেই থাক্ আসু...

নির্মলেন্দু গুণ

কবিতা

আমার বসন্ত

এ না হলে বসন্ত কিসের? দোলা চাই অভ্যন্তরে, মনের ভিতর জুড়ে আরো এক মনের মর্মর, পাতা ঝরা, স্বচক্ষে স্বকর্ণে দেখা চাঁদ, জ্যোৎস্নাময় রাতের উল্লাসে কালো বিষ । এ না হলে বসন্ত কিসের ? গাছের জরায়ু ছিঁড়ে বেরিয়েছ...

নির্মলেন্দু গুণ

কবিতা

আত্মকেন্দ্রিক স্বপ্ন

প্রাণে জ্বলে ওঠে গগনচুম্বী বাসনা ঢেউ, তোমাকে পাবে না পরান ভরিয়া আমি ছাড়া কেউ । তাই বুঝি এই ঘটনাটি কত ধ্রুব, অবশ্য; আমাকেও দ্রুত হতে হবে জানি দৃঢ়, স্ববশ্য । আমি চলে যাব পার হয়ে নদী থামব না মোটে, দে...

নির্মলেন্দু গুণ

কবিতা

আকাশ ও মানুষ

কবে থেকে আকাশ দাঁড়িয়ে আছে একা, তার বুক থেকে খসে পড়েছে কত তারা। বেঁচে থাকলে আরো কত তারাই খসবে, তা নিয়ে আকাশ কি দুঃখ করতে বসবে? না, বসবে না, আমি বলছি, লিখে নাও, আকাশকে তো মহান মানি এ-কারণেই। মনুষ্যবৎ হল...

নির্মলেন্দু গুণ

কবিতা

আসমানী প্রেম

নেই তবু যা আছের মতো দেখায় আমরা তাকে আকাশ বলে ডাকি, সেই আকাশে যাহারা নাম লেখায় তাদের ভাগ্যে অনিবার্য ফাঁকি ! জেনেও ভালোবেসেছিলাম তারে , ধৈর্য ধরে বিরহ ভার স’বো ; দিনের আলোয় দেখাবো নিষ্প্রভ জ্বলবো...

নির্মলেন্দু গুণ

কবিতা

বাৎস্যায়ন ০৮

এক ডাকে অরণ্যের বাঘও যায় না ছুটে, আমি যাই, আমি ছুটে যাই ; আমি কামভিখিরির মত কপর্দকশূন্য করপুটে তোমার অগ্নির টানে ছুটে যাই, হাওয়া । রাজৈশ্বর্যের চেয়েও ঢের বেশী মূল্যবান মণিরত্ন ছিল আমার সুবর্ণ-অর্ণবপে...

নির্মলেন্দু গুণ

কবিতা

যাত্রাভঙ্গ

হাত বাড়িয়ে ছুঁই না তোকে মন বাড়িয়ে ছুঁই, দুইকে আমি এক করি না এক কে করি দুই। হেমের মাঝে শুই না যবে, প্রেমের মাঝে শুই তুই কেমন করে যাবি? পা বাড়ালেই পায়ের ছায়া আমাকেই তুই পাবি। তবুও তুই বলিস যদি যাই, দেখব...

নির্মলেন্দু গুণ

কবিতা

মনের পৃথিবী নিয়ে

বাইরের পৃথিবীটা বড় বেশি ছোটো, তার চারপাশে চাঁদ-তারা, গ্রহর দেয়াল। আমি বাঁচি আমার মনের পৃথিবী নিয়ে। বাইরের পৃথিবীটা বড় বেশি কুৎসিত, তার মৃগনাভি কৃমি-কীটে ভরা। আমি বাঁচি আমার মনের পৃথিবী নিয়ে। বাইরের পৃ...

নির্মলেন্দু গুণ

কবিতা

দুঃখ করো না বাঁচো

দুঃখকে স্বীকার করো না, –সর্বনাশ হয়ে যাবে । দুঃখ করো না, বাঁচো, প্রাণ ভ’রে বাঁচো । বাঁচার আনন্দে বাঁচো । বাঁচো, বাঁচো এবং বাঁচো । জানি মাঝে-মাঝেই তোমার দিকে হাত বাড়ায় দুঃখ, তার কালো লোমশ হাত প্রায়ই তোম...

নির্মলেন্দু গুণ

Loading...