খোকা
খোকার চোখে যে ঘুম আসে সকল - তাপ - নাশা — জান কি কেউ কোথা হতে যে করে সে যাওয়া - আসা । শুনেছি রূপকথার গাঁয়ে জোনাকি - জ্বলা বনের ছায়ে দুলিছে দুটি পারুল - কুঁড়ি , তাহারি মাঝে বাসা — সেখান থেকে খোকার চোখে করে সে যাওয়া - আসা । খোকার ঠোঁটে যে হাসিখানি চমকে ঘুমঘোরে — কোন্ দেশে যে জনম তার কে কবে তাহা মোরে ।...
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
অল্প জানা ও বেশি জানা
তৃষিত গর্দভ গেল সরোবরতীরে, ‘ছিছি কালো জল!’ বলি চলি এল ফিরে। কহে জল, জল কালো জানে সব গাধা, যে জন অধিক জানে বলে জল সাদা। (কণিকা কাব্যগ্রন্থ)...
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
গদ্য ও পদ্য
শর কহে, আমি লঘু, গুরু তুমি গদা, তাই বুক ফুলাইয়া খাড়া আছ সদা। করো তুমি মোর কাজ, তর্ক যাক চুকে— মাথা ভাঙা ছেড়ে দিয়ে বেঁধো গিয়ে বুকে। (কণিকা কাব্যগ্রন্থ)...
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
গরজের আত্মীয়তা
কহিল ভিক্ষার ঝুলি টাকার থলিরে, আমরা কুটুম্ব দোঁহে ভুলে গেলি কি রে? থলি বলে, কুটুম্বিতা তুমিও ভুলিতে আমার যা আছে গেলে তোমার ঝুলিতে। (কণিকা কাব্যগ্রন্থ)...
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ঘন্টা বাজে দূরে
ঘন্টা বাজে দূরে। শহরের অভ্রভেদী আত্মঘোষণার মুখরতা মন থেকে লুপ্ত হয়ে গেল, আতপ্ত মাঘের রৌদ্রে অকারণে ছবি এল চোখে জীবনযাত্রার প্রান্তে ছিল যাহা অনতিগোচর। গ্রামগুলি গেঁথে গেঁথে মেঠো পথ গেছে দূর-পানে নদীর ...
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
গব্বুরাজার পাতে ছাগলের কোর্মাতে
গব্বুরাজার পাতে ছাগলের কোর্মাতে যবে দেখা গেল তেলা- পোকাটা রাজা গেল মহা চ’টে, চীৎকার করে ওঠে,– “খানসামা কোথাকার বোকাটা।’ মন্ত্রী জুড়িয়া পাণি কহে, “সবই এক প্রাণী।’ রাজার ঘুচিয়া গেল ধোঁকাটা। জীবের শিবের...
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
এখনো অঙ্কুর যাহা
এখনো অঙ্কুর যাহা তারি পথ-পানে প্রত্যহ প্রভাতে রবি আশীৰ্বাদ আনে। (স্ফুলিঙ্গ)...
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
নূতন যুগের প্রত্যুষে কোন্
নূতন যুগের প্রত্যুষে কোন্ প্রবীণ বুদ্ধিমান নিত্যই শুধু সূক্ষ্ম বিচার করে— যাবার লগ্ন, চলার চিন্তা নিঃশেষে করে দান সংশয়ময় তলহীন গহ্বরে। নির্ঝর যথা সংগ্রামে নামে দুর্গম পর্বতে, অচেনার মাঝে ঝাঁপ দিয়ে...
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
নিষ্ফল উপহার
নিম্নে আবর্তিয়া ছুটে যমুনার জল-- দুই তীরে গিরিতট, উচ্চ শিলাতল। সংকীর্ণ গুহার পথে মূর্ছি জলধার উন্মত্ত প্রলাপে ওঠে গর্জি অনিবার। এলায়ে জটিল বক্র নির্ঝরের বেণী নীলাভ দিগন্তে ধায় নীল গিরিশ্রেণী। স্থির...
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
আপন শোভার মূল্য
আপন শোভার মূল্য পুষ্প নাহি বোঝে, সহজে পেয়েছে যাহা দেয় তা সহজে। (স্ফুলিঙ্গ)...
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
গভীর গভীরতম হৃদয়প্রদেশে
১ গভীর গভীরতম হৃদয়প্রদেশে, নিভৃত নিরালা ঠাঁই, লেশমাত্র আলো নাই, লুকানো এ প্রেমসাধ গোপনে নিবসে, শুদ্ধ যবে ভালোবাসা নয়নে তোমার, ঈষৎ প্রদীপ্ত হয়, উচ্ছ্বসয়ে এ-হৃদয়, ভয়ে ভয়ে জড়সড় তখনি আবার। ২ শূন্য এই মরমে...
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর