দিদিমণি– অফুরান সান্ত্বনার খনি
দিদিমণি– অফুরান সান্ত্বনার খনি। কোনো ক্লান্তি কোনো ক্লেশ মুখে চিহ্ন দেয় নাই লেশ। কোনো ভয় কোনো ঘৃণা কোনো কাজে কিছুমাত্র গ্লানি সেবার মাধুর্যে ছায়া নাহি দেয় আনি। এ অখণ্ড প্রসন্নতা ঘিরে তারে রয়েছে উজ্জ্বলি, রচিতেছে শান্তির মণ্ডলী; ক্ষিপ্র হস্তক্ষেপে চারি দিকে স্বস্তি দেয় ব্যেপে; আশ্বাসের বাণী সুমধুর আব...
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
এ জীবনে সুন্দরের পেয়েছি মধুর আশীর্বাদ
এ জীবনে সুন্দরের পেয়েছি মধুর আশীর্বাদ, মানুষের প্রীতিপাত্রে পাই তাঁরি সুধার আস্বাদ! দুঃসহ দুঃখের দিনে অক্ষত অপরাজিত আত্মারে লয়েছি আমি চিনে। আসন্ন মৃত্যুর ছায়া যেদিন করেছি অনুভব সেদিন ভয়ের হাতে হয় নি দ...
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
সজ্ঞান আত্মবিসর্জন
বীর কহে, হে সংসার, হায় রে পৃথিবী, ভাবিস নে মোরে কিছু ভুলাইয়া নিবি— আমি যাহা দিই তাহা দিই জেনে-শুনে ফাঁকি দিয়ে যা পেতিস তার শতগুণে। (কণিকা কাব্যগ্রন্থ)...
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
শ্রাবণের কালো ছায়া
শ্রাবণের কালো ছায়া নেমে আসে তমালের বনে যেন দিক্ললনার গলিত-কাজল-বরিষনে। (স্ফুলিঙ্গ)...
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ওরে চিরভিক্ষু, তোর আজন্মকালের ভিক্ষাঝুলি
ওরে চিরভিক্ষু, তোর আজন্মকালের ভিক্ষাঝুলি চরিতার্থ হোক আজি, মরণের প্রসাদবহ্নিতে কামনার আবর্জনা যত, ক্ষুধিত অহমিকার উঞ্ছবৃত্তি-সঞ্চিত জঞ্জালরাশি দগ্ধ হয়ে গিয়ে ধন্য হোক আলোকের দানে, এ মর্ত্যের প্রান্ত-...
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ঐশ্বর্য
ক্ষুদ্র এই তৃণদল ব্রহ্মান্ডের মাঝে সরল মাহাত্ম্য লয়ে সহজে বিরাজে। পূরবের নবসূর্য, নিশীথের শশী, তৃণটি তাদেরি সাথে একাসনে বসি। আমার এ গান এও জগতের গানে মিশে যায় নিখিলের মর্মমাঝখানে; শ্রাবণের ধারাপাত, বন...
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
দিবসরজনী তন্দ্রাবিহীন
দিবসরজনী তন্দ্রাবিহীন মহাকাল আছে জাগি— যাহা নাই কোনোখানে, যারে কেহ নাহি জানে, সে অপরিচিত কল্পনাতীত কোন আগামীর লাগি। (স্ফুলিঙ্গ)...
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
দিগন্তে পথিক মেঘ
দিগন্তে পথিক মেঘ চলে যেতে যেতে ছায়া দিয়ে নামটুকু লেখে আকাশেতে। (স্ফুলিঙ্গ)...
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
দুঃখ যেন জাল পেতেছে
দুঃখ যেন জাল পেতেছে চারদিকে; চেয়ে দেখি যার দিকে সবাই যেন দুর্গ্রহদের মন্ত্রণায় গুমরে কাঁদে যন্ত্রণায়। লাগছে মনে এই জীবনের মূল্য নেই, আজকে দিনের চিত্তদাহের তুল্য নেই। যেন এ দুখ অন্তহীন, ঘরছাড়া মন ...
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
একদিন তুচ্ছ আলাপের ফাঁক দিয়ে
একদিন তুচ্ছ আলাপের ফাঁক দিয়ে কোন্ অভাবনীয় স্মিতহাস্যে আমার আত্মবিহ্বল যৌবনটাকে দিলে তুমি দোলা; হঠাৎ চমক দিয়ে গেল তোমার মুখে একটি অমৃতরেখা; আর কোনোদিন তার দেখা মেলেনি। জোয়ারের তরঙ্গলীলায় গভীর থেক...
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
কাকঃ কাকঃ পিকঃ পিকঃ
দেহটা যেমনি ক’রে ঘোরাও যেখানে বাম হাত বামে থাকে, ডান হাত ডানে।...
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর