বিভাগঃ কবিতা
অবসান
জানি দিন অবসান হবে, জানি তবু কিছু বাকি রবে। রজনীতে ঘুমহারা পাখি এক সুরে গাহিবে একাকী- যে শুনিবে, সে রহিবে জাগি সে জানিবে, তারি নীড়হারা স্বপন খুঁজিছে সেই তারা যেথা প্রাণ হয়েছে বিবাগী। কিছু পরে করে যা...
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
অবসান হল রাতি
অবসান হল রাতি। নিবাইয়া ফেলো কালিমামলিন ঘরের কোণের বাতি। নিখিলের আলো পূর্ব আকাশে জ্বলিল পুণ্যদিনে; এক পথে যারা চলিবে তাহারা সকলেরে নিক্ চিনে। (স্ফুলিঙ্গ)...
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
এ জন্মের সাথে লগ্ন স্বপ্নের জটিল সূত্র যবে
এ জন্মের সাথে লগ্ন স্বপ্নের জটিল সূত্র যবে ছিঁড়িল অদৃশ্যঘাতে, সে মুহূর্তে দেখিনু সম্মুখে অজ্ঞাত সুদীর্ঘ পথ অতি দূর নিঃসঙ্গের দেশে নিরাসক্ত নির্মমের পানে। অকস্মাৎ মহা একা ডাক দিল একাকীরে প্রলয় তোরণ চ...
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ছোটোবড়ো
এখনো তো বড়ো হই নি আমি, ছোটো আছি ছেলেমানুষ বলে। দাদার চেয়ে অনেক মস্ত হব বড়ো হয়ে বাবার মতো হলে। দাদা তখন পড়তে যদি না চায়, পাখির ছানা পোষে কেবল খাঁচায়, তখন তারে এমনি বকে দেব! বলব, ‘তুমি চুপটি করে পড়ো। ' ...
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
জটিল সংসার
জটিল সংসার, মোচন করিতে গ্রন্থি জড়াইয়া পড়ি বারংবার। গম্য নহে সোজা, দুর্গম পথের যাত্রা স্কন্ধে বহি দুশ্চিন্তার বোঝা। পথে পথে যথাতথা শত শত কৃত্রিম বক্রতা। অণুক্ষণ হতাশ্বাস হয়ে শেষে হার মানে মন। জীবনে...
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
জড়িয়ে গেছে সরু মোটা দুটো তারে
জড়িয়ে গেছে সরু মোটা দুটো তারে জীবনবীণা ঠিক সুরে তাই বাজে না রে। এই বেসুরো জটিলতায় পরান আমার মরে ব্যথায়, হঠাৎ আমার গান থেমে যায় বারে বারে। জীবনবীণা ঠিক সুরে আর বাজে না রে। এই বেদনা বইতে আমি পারি না যে,...
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ঊর্মি, তুমি চঞ্চলা
ঊর্মি, তুমি চঞ্চলা নৃত্যদোলায় দাও দোলা, বাতাস আসে কী উচ্ছ্বাসে— তরণী হয় পথভোলা। (স্ফুলিঙ্গ)...
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ঋতুসংহার
হে কবীন্দ্র কালিদাস, কল্পকুঞ্জবনে নিভৃতে বসিয়া আছ প্রেয়সীর সনে যৌবনের যৌবরাজ্যসিংহাসন-’পরে। মরকতপাদপীঠ-বহনের তরে রয়েছে সমস্ত ধরা, সমস্ত গগন স্বর্ণরাজছত্র ঊর্ধ্বে করেছে ধারণ শুধু তোমাদের-’পরে; ছয় সেবাদ...
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উপকথা
মেঘের আড়ালে বেলা কখন যে যায়। বৃষ্টি পড়ে সারাদিন থামিতে না চায় । আর্দ্র - পাখা পাখিগুলি গীতগান গেছে ভুলি , নিস্তব্ধে ভিজিছে তরুলতা । বসিয়া আঁধার ঘরে বরষার ঝরঝরে মনে পড়ে কত উপকথা । কভু মনে লয় হেন এ - সব...
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
অপরাহ্নে এসেছিল জন্মবাসরের আমন্ত্রণে
অপরাহ্নে এসেছিল জন্মবাসরের আমন্ত্রণে পাহাড়িয়া যত। একে একে দিল মোরে পুষ্পের মঞ্জরি নমস্কারসহ। ধরণী লভিয়াছিল কোন্ ক্ষণে প্রস্তর আসনে বসি বহু যুগ বহ্নিতপ্ত তপস্যার পরে এই বর, এ পুষ্পের দান, মানুষের জ...
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর